Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

রবিবার ২৭ মে ২০১৮, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » নারী ও শিশু 

নড়াইলে বেড়েছে দেশি গরুর খামার স্থাপন

নড়াইলে বেড়েছে দেশি গরুর খামার স্থাপন
উজ্জ্বল রায় ১৪ মার্চ ২০১৬, ১০:২৫ পূর্বাহ্ন Print

নড়াইল: জেলায় বাণিজ্যিকভাবে দেশী গরু পালনের খামার বেড়েছে। বেড়েছে গৃহস্থ পরিবারে বিক্রির উদ্দেশ্যে গরু পালনের হার।

প্রতিনিধির পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, ভারত থেকে ঢালাওভাবে গরু আমদানি বন্ধ হওয়ায় জেলার অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এ খাতে পুঁজি বিনিয়োগ করেছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে চলতি বছর জেলায় ২১ হাজার দেশী জাতের গরু মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আগে জেলায় কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ক্ষুদ্র পরিসরে কিছু গরু পালনের খামার গড়ে উঠেছিল। এখন দেশি গরুর মাংসের চাহিদা বাড়ায় অনেক উদ্যোক্তা খামার প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে এসেছেন। জেলার কৃষকরাও বিক্রির উদ্দেশ্যে গরু পালন করছেন। জেলা সদর, কালিয়া ও লোহাগড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর জেলায় ৩৫৫টি গরু পালনের খামার রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। এর মধ্যে সদরে ২০৭, কালিয়ায় ৯৪ এবং লোহাগড়ায় ৯৬টি। গত বছরের তুলনায় এ সংখ্যা অনেক বেশি। তাছাড়া কোনও কৃষি পরিবারে ৩টির বেশি গরু পালন করা হলে সেটা পারিবারিক খামার হিসেবে ধরা হয়। জেলায় এবার রেজিস্ট্রিকৃত খামারের বাইরে অনেক গৃহস্থ পরিবারে বিক্রির জন্যই গরু পালন করা হচ্ছে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় ২১ হাজার গরুর মধ্যে খামারে ৩৫ এবং গৃহস্থ পরিবারে বাকি ৬৫ শতাংশ গরু পালন হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা যায়, জেলা সদরের মির্জাপুর, চাকই, সিংগাশোলপু, গোবরা, কমখালি, শাহবাদ, সিমানন্দপুর, জুড়ুলিয়া, লোহাগড়ার শিয়েরবর, চাচই, কোলা, কুমড়ি, দীঘলিয়া, মল্লিকপুর, মাকড়াইল, লাহুড়িয়া এবং কালিয়ার বড়দিয়া, মহাজন, টোনা, খাশিয়াল, বাবরা গ্রামে অধিকাংশ খামার গড়ে উঠেছে। এসব গ্রামের অধিকাংশ কৃষি পরিবারও গরু মোটাতাজাকরণ করছে।

কৃষকরা জানান, তারা ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে একটি দেশি প্রজাতির বাছুর ক্রয় করেছেন। কৃষিকাজের ফাঁকে ফাঁকে মাঠ ও বিল থেকে কাঁচা ঘাস কেটে এনে খাওয়ান। তাছাড়া খড়, খৈল, কুড়া এবং ভূষি খাওয়ানো হয়। বছর শেষে প্রতি গরুতে আকারভেদে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা লাভ হবে।

ব্যবসায়ীরা জানান, জেলার তিন উপজেলায় ১১টি হাটে সারা বছরই গরু বেঁচা-কেনা হচ্ছে। তারা হাটে নগদ টাকায় গরু বিক্রি করেন। তবে মাইপাড়া, লোহাগড়া, শিয়েরবর এবং পুরুলিয়া গরুর হাট বড়। ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা এসব হাট থেকে সরাসরি গরু কিনে ট্রাকে করে নিয়ে যান। আর স্থানীয় বেপারিরা ছোট হাট ও বিভিন্ন গ্রামের গৃহস্থ পরিবার থেকে গরু কিনে বড় হাটগুলোয় নিয়ে আসেন।

বিভিন্ন সূত্রের তথ্যমতে, খামারি, কৃষক ও বেপারি মিলিয়ে জেলার ১৪ হাজার মানুষ এ পেশার সঙ্গে যুক্ত। জেলার খামারিরা জানান, এখন ঢালাওভাবে গরু আমদানি না হওয়ায় দেশি গরুর চাহিদা বাড়ছে। ফলে অনেক স্বল্পপুঁজির মালিক খামার করায় এগিয়ে এসেছেন। সরকার যদি বিদেশি গরু আমদানি বন্ধ রাখে তাহলে জেলায় দেশি গরুর খামার বাড়বে। তারাও ভালো দাম পাবেন।

নড়াইল জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. অমলেন্দু ঘোষ জানান, ২-৩ বছর আগে জেলার চাষীরা ক্ষুদ্র পরিসরে বিক্রির জন্য গরু পালন করতেন। এখন দেশি গরুর মাংসের চাহিদা বাড়ায় ও বিদেশ থেকে তুলনামূলকভাবে কম গরু আমদানি হওয়ায় জেলার স্বল্পপুঁজির মালিকরা খামার প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে এসেছেন। সরকারিভাবে খামারিদের ৪৫-৫০ শতাংশ ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ করাসহ গরু মোটাতাজাকরণের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

ব্রেকিংনিউজ/ডিএইচ



আপনার মন্তব্য

নারী ও শিশু বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং