Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

শনিবার ২০ অক্টোবর ২০১৮, ৪ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, পূর্বাহ্ন

প্রচ্ছদ » নারী ও শিশু 

বিশ্ব নারী দিবস

নিজেদের অধিকার সম্পর্কে জানেন না বেশিরভাগ নারী

নিজেদের অধিকার সম্পর্কে জানেন না বেশিরভাগ নারী
বিশ্ব নারী দিবসে ঢাকার নারী। ছবি: ব্রেকিংনিউজ/জর্জ
আহমদ নূর ০৮ মার্চ ২০১৬, ১২:০৫ অপরাহ্ন Print

ঢাকা: আলেয়া বেগম কাজ করেন ‘পিয়াল গার্মেন্টস কোম্পানি লিমিটেড’-এ। জীবিকার তাগিদে ৭ মাস আগে রংপুর থেকে স্বামী মনসুরের সঙ্গে ঢাকায় এসেছিলেন। স্বামী-স্ত্রীর যৌথ আয়েই তাদের সংসার চলে। দিনের ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টা শ্রম দেন কারখানায়। বিনিময়ে যে বেতন পান তা অতি সামান্য, তার পরও তা অনিয়মিত। কারখানার সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকলেও বাঁচার তাগিদেই কাজ করেন তিনি।

যা আয় হয় তা থেকে কোন সঞ্চয় নেই তার। অসুস্থ হলে চিকিৎসা পর্যন্ত করাতে হয় ধার দেনা করে।

বিশ্ব নারী দিবস নিয়ে কথা হচ্ছিল তার সঙ্গে। আশ্চর্য হয়ে বললেন, নারীদেরকে নিয়েও কি দিবস আছে? এর কি কোন সুবিধা আছে? এ দিন ছুটি পাওয়া যাবে তো?

দীর্ঘ আলাপের পর জানা গেল, যেখানে তিনি কাজ করেন, সেখান নারীদের কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। কাজের কোন নির্দিষ্ট সময়ও নেই। সর্বনিম্ন কাজ করতে হয় ১০ ঘণ্টা। নারী শ্রমিকদের জন্য আলাদা বিশ্রামেরও ব্যবস্থা নেই। অথচ এই নারীদের জন্যই কারখানা বেঁচে আছে।

আক্ষেপ করে তিনি বলেন, বেতন খুব বেশি ভালো না হওয়ায় ওভারটাইম করতে হয়। তা না হলে, না খেয়ে থাকতে হয়।

এমন আক্ষেপ বেশিরভাগ নারী শ্রমিকদেরই। বস্তুত তারা জানেনই না তাদের অধিকারের কথা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এপোরাল গার্মেন্টসের একাধিক নারী শ্রমিক বলেন, নারীরা কাজ করছে বলে দেশ এগিয়ে যাচ্ছ। অথচ সেই নারীরাই আজ নির্যাতনের শিকার।

রায়ের বাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের পাশে নারী নির্মাণ শ্রমিক রহিমা বেগমের সঙ্গেও বিশ্ব নারী দিবস প্রসঙ্গে আলাপ হয়। তিনি বলেন, নারীদের অধিকার কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সব সময়ে নারীরা নির্যাতিত। কোথাও কোন বিচার নাই।

নিজের জীবনের গল্প শোনাতে গিয়ে তিনি বলেন, ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম। বিয়ের ২ বছর পর স্বামী আরেকটি বিয়ে করেন। এরপর শুরু হয় মনোমালিন্য। বিয়ের ৫ বছরের মাথায় দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম হয়। এরপর থেকে তাদের খোঁজ-খবর রাখেন না স্বামী। সন্তানদের বড় করতেই এখন কাজ করতে হচ্ছে।

স্বামীর বিরুদ্ধে কোন আইনি ব্যবস্থা নিয়েছিলেন কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, কি আর ব্যবস্থা নিবো! তখন তো আমার কাছে কেউ ছিল না। যতটুকু পেরেছি করার চেষ্টা করেছি। এতে বিচার পাওয়া থেকে হতাশাই বেশি পেয়েছি।

এ বিষয়ে প্রগতিশীল গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রাজিয়া বেগম ব্রেকিংনিউজকে বলেন, আমরা নারীদেরকে তাদের অধিকার সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছি। তারা যেন তাদের কর্মক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে চলতে পারে। পাশাপাশি বেতন বৈষম্যের দূর করার জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি।

ব্রেকিংনিউজ/এএন/এটিআর/এইচএস



আপনার মন্তব্য

নারী ও শিশু বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং