Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

সোমবার ২৪ জুন ২০১৯, ১০ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » খেলাধুলা 

অভিশপ্ত এক রাত!

অভিশপ্ত এক রাত!
খেলাধুলা ডেস্ক ২৫ মার্চ ২০১৬, ৩:৪৪ অপরাহ্ন Print

ঢাকা: ২৪০ বলের নাটক। এর মধ্যে ২৩৭ বলেই বাংলাদেশের আধিপত্য। শেষ তিন বলে ভেঙে চুরমার ১৬ কোটি মানুষের স্বপ্ন। অভিশপ্ত তিনটি বল আর বাংলাদেশের ট্র্যাজেডির আরও এক রাত।

মুশফিক-মাহমুদুল্লাহ-শুভাগত যেন গ্রিক ট্র্যাজেডির নায়ক। শত চেষ্টায়ও যারা নিয়তি পরিবর্তন করতে পারেন না। হাল-জমানায় বাংলাদেশ কখনও এমন নির্ঘুম রাত কাটায়নি। কত বালিশ যে ভিজেছে চোখের জলে- তার কোনো ইয়ত্তা নেই। রাতটি শুরু হয়েছিল স্বপ্ন নিয়ে। আশায় বুক বেঁধে টিভি পর্দায় চোখ রাখে কোটি কোটি জনতা। মাঠে টাইগারদের অদম্য নৈপুণ্য। সৌম্য সরকারের অসাধারণ ক্যাচটি কোনোদিনও ভোলার নয়। বাংলাদেশের ফিল্ডার-বোলারদের কাছে ভারতীয়দের আত্মসমর্পণ। নিশ্চুপ বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম । ব্যাটিংয়ে শুরুতে মিথুন আউট। একের পর এক ক্যাচ ছেড়েছেন ভারতীয় ফিল্ডাররা। বিধ্বংসী তামিম-সাব্বির। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে। উত্থান-পতন। শেষ ওভারে প্রয়োজন ১১ রান। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে চার হাঁকিয়ে বিজয় উল্লাসে মেতে ওঠেন মুশফিক। এটাই হয়তো আত্মঘাতী ছিল। জয়তো তখনও নিশ্চিত হয়নি। পরে তিন বলে তিন ব্যাটসম্যান আউট। খেলোয়াড়রা মাঠে নিজেদের ধরে রাখতে পারলেও ড্রেসিং রুমে তা আর পারেননি।

খেলোয়াড়দের চেয়েও বেশি দুঃখ যেন আমজনতার। গত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ মানেই অন্যরকম জ্বালানি। ভারতের বাংলাদেশ সফরের সময় সেই পরাজয়ের বদলা নেয়া গেছে। কিন্তু এশিয়া কাপে আবার ভারতের কাছে পরাজয়। বুধবারের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে যোগ হয় সানি-তাসকিন ইস্যু। অনেকেই মনে করেন, বাংলাদেশের এই খেলোয়াড়দের নিষিদ্ধের পেছনে ভারতের হাত রয়েছে। সবকিছুর জবাব দেয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেল এক রানের ব্যবধানে। যেন এক ইঞ্চির জন্য চন্দ্র বিজয় হলো না।

বিস্ময়বালক মুস্তাফিজের রানআউটের সঙ্গে সঙ্গে যেন ভেঙে পড়ে পুরো বাংলাদেশই। আমজনতার সবচেয়ে বেশি বলা কথাটি হচ্ছে, যেখানে তিন বলে দুই রান প্রয়োজন সেখানে কেন চার-ছয় মারতে গেলেন মুশফিক ও মাহমুদুল্লাহ। কেন তারা হিরো সাজতে গেলেন। মাশরাফিও সংবাদ সম্মেলনে স্বীকার করেছেন, মাথা ঠাণ্ডা রেখে সিঙ্গেল নিলেই জিতে যেত বাংলাদেশ। দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন মুশফিক। কিন্তু দুঃখ প্রকাশ করলেই কী আর দুঃখ কমে। দিনের আলো ফোটার পরও মানুষের যন্ত্রণা কমেনি। অনেকেই এদিন ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা থেকে দূরে থাকতে চেয়েছেন। কিন্তু চাইলেই কী তা পারা যায়। এতদিনের ভালোবাসা, ক্ষণিকের অভিমানে তো আর দূরে সরানো যায় না। তাই যথারীতি গতকাল টক অব দ্য কান্ট্রি ছিল ক্রিকেটই। কেউ মুণ্ডুপাত করেছেন মুশফিক-মাহমুদুল্লাহর। কেউ আবার পক্ষ নিয়েছেন তাদের। ফেসবুক, অফিস-আদালত, চায়ের দোকান- কোথায় ছিল না ক্রিকেট নিয়ে দুঃখবিলাসী আলোচনা। এই দুঃখ বাঙালি হয়তো বহুদিনই ভুলতে পারবে না।

তারাশঙ্করের সেই বিখ্যাত প্রশ্ন, জীবন এত ছোট ক্যানে? এই ছোট জীবনে নিষ্ঠুরতা কম দেখেনি বাংলাদেশের মানুষ। দুঃখ, কষ্ট বারবার আঘাত করেছে আমাদের। চোখের পানি মুছে আমরা আবার ঠিকই ঘুরে দাঁড়িয়েছি। আবেগী জাতি হিসেবে পরিচিত বাঙালি বিভক্তির জন্যও বিখ্যাত। শুধু ক্রিকেট তাদের জীবনকে এক সুতোয় গেঁথেছে। সেই ক্রিকেটই বুধবার রাতে তাদের হৃদয় ভেঙেছে। ৫৬ হাজার বর্গমাইল জুড়ে একই প্রশ্ন, এভাবেও হারা যায়?

বাঙালির কান্নার একটি বিবরণ পাওয়া যায় প্রখ্যাত ক্রীড়া সাংবাদিক ফরহাদ টিটোর এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে। তিনি লিখেছেন, ‘যে কাঁদতে জানে না তার হাসিতে সুখের গভীরতা থাকে না। তিন বলে দুই রান করতে না পারার দুঃখটা তো কান্না হয়েই অনর্গল ঝরলো সারা বাংলাদেশে, প্রবাসে, চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে। নিঃশ্বাসের দূরত্বে দাঁড়িয়ে এভাবে হেরে যাওয়াটা কে কবে মেনে নিয়েছে! এই বেদনা, এই কান্না আসলে ক্রিকেটেই শেষ না, এর ঠিকানা আরও গভীরে। জাতীয় অনুভবে। দেশাত্মবোধে। কোটি বাঙালি তাই যতটা কেঁদেছে না জেতার আক্ষেপে, তারচেয়ে বেশি দেশপ্রেমের তীব্রতায়! শেষ বলে এক রানে হেরে যাওয়ার এই কান্না থেকেই গড়ে উঠবে হাসির ফোয়ারা। সেদিন আর বেশি দূরে নেই। সাহস করে বলেই দিলাম, অচিরেই এই ধারার ক্রিকেটে বাংলাদেশ হয়ে উঠছে অদম্য শক্তি। দেখবেন তখন... আমরাই হাসবো বেশি, সেরা দলগুলোর মতো। শেষ বলেও যাবে না খেলা। গেলেও কী... জিতবো আমরাই। দশ দিনে ছয় কিংবা সাতদিন !’

অভিশপ্ত রাতের পর বাংলাদেশ জুড়েই একটি প্রশ্ন বারবার উচ্চারিত হচ্ছে, ক্রিকেট এত নিষ্ঠুর কেন? বাংলাদেশে কার হৃদয় কাঁদেনি? অথচ সবাই কিনা অপেক্ষায় ছিলাম উৎসবের। একের পর এক ক্রিকেট রাজনীতির শিকার বাংলাদেশ সত্যিকারের টাইগার হওয়ার লড়াইয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল বীরদর্পে। গত দেড় বছর ধরে অসাধারণ ক্রিকেট খেলছে মাশরাফি বাহিনী। ওয়ানডের পর হাল-জমানায় টি-টোয়েন্টিতেও হয়ে উঠেছে অদম্য শক্তি। এমন পরাজয়ের পর আসলে নিয়তি ছাড়া কাউকেই দায়ী করতে পারেন না আপনি। সূত্র- মানবজমিন

ব্রেকিংনিউজ/এসআই



আপনার মন্তব্য

খেলাধুলা বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং