Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » অনুসন্ধান 

মধুপুরে কৃষি জমির বেহাল দশা

মাটি যাচ্ছে বিভিন্ন সিরামিক কারখানায়

মাটি যাচ্ছে বিভিন্ন সিরামিক কারখানায়
মধুপুরের বলাইবাইদ গ্রাম থেকে কেটে নেয়া মাটি
আ. রশিদ তালুকদার ০২ মার্চ ২০১৬, ১:৪৮ অপরাহ্ন Print

টাঙ্গাইল: জেলার মধুপুরে কৃষি জমি নষ্ট করে মাছ চাষের কথা বলে পিরোজপুর এলাকার বলাইবাইদ থেকে মূল্যবান মাটি যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন সিরামিক কারখানায়। তৈরি হচ্ছে সিরামিক, টাইলস ও ইটসহ নানান দ্রব্য। নির্বিঘ্নে পাচার হওয়ায় কৃষি জমির সঙ্গে এলাকার জীব-বৈচিত্র্য ও পরিবেশও হুমকির মুখে পড়ছে। আর এ কাজ বিনা বাধায় করে যাচ্ছে এলাকার এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার অরণখোলা ইউনিয়নের পিরোজপুর গ্রামের বলাইবাইদ নিচু ও উর্বর আবাদি জমি থেকে প্রতিদিনই ১৫-২০ ট্রাক এঁটেল মাটি উঠিয়ে নির্বিঘ্নে পাচার করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মূল্যবান এ মাটি সিরামিক সামগ্রীসহ বিভিন্ন তৈজসপত্র তৈরির জন্য রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন এলাকার কারখানাগুলোতে যাচ্ছে।

তাৎক্ষণিক লোভ দেখিয়ে স্থানীয় এক শ্রেণীর দালাল-ব্যবসায়ী জমির মালিকদের মাছ চাষের জন্য পুকুর কেটে দেয়ার কথা বলে মাটি কেটে নিচ্ছে। এজন্য জমির ভোগ-দখলদারদের হাতে কিছু টাকাও ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে। ফলে না বুঝেই অনেকেই সহজে স্থানীয় মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীদের ফাঁদে পা ফেলে আবাদি ও উচ্চফলনের জমি হারাচ্ছে।

জানা গেছে, শেরপুর, সিলেট ও নেত্রকোনার দূর্গাপুরে এ জাতীয় মাটি কাটা শুরু হলে স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে এবং প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞায় সরে আসতে বাধ্য হন। অনুরূপ গুণ ও মানে বলাইবাইদের মাটির সন্ধান পেয়ে স্থনীয় দালাল-ব্যবসায়ীদের হাত করে তারা বলাইবাইদের এ মাটি কাটা শুরু করে।

প্রশাসনের অগোচরে স্থানীয়দের লোভ ও মাছ চাষের সুবিধা দেখিয়ে দেদার মাটি কিনে নিচ্ছে সংঘবদ্ধ একটি সিন্ডিকেট চক্র। মহোৎসব চলছে মাটি কাটা ও সংগ্রহের। ইতোমধ্যে এলাকার আজমত, মিজানুর, শাহজাহান, আনছার, হাকিমসহ প্রায় ২০ জনের জমির মাটি কেটে নেয়া হয়েছে।

আর এ সিন্ডিকেট চক্রের নেতৃত্বে আছেন এলাকারই দানেজ নামের এক দালাল। প্রতি ট্রাকে তিনি লোকজনকে সাড়ে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা দিলেও কোম্পানিতে বিক্রি করছেন টনপ্রতি সাড়ে ৩ হাজার টাকা। তিনি মাটি কেটে চাষের অযোগ্য এ জমিকে মাছ চাষের ক্ষেত্র তৈরিতে ক্ষতির কিছু দেখছেন না বলে মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে মুধুপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) আব্দুল মালেক জানান, বিষয়টি সম্পর্কে কোন লিখিত অভিযোগ তার দফতরে নেই। তবে তিনি শুনেছেন জমির মালিকরা মাটি বিক্রি করছেন। প্রকৃত বিষয়টি জেনে দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান তিনি।

ব্রেকিংনিউজ/ডিএইচ



আপনার মন্তব্য

অনুসন্ধান বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং