Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » অনুসন্ধান 

পাসপোর্ট যাত্রীরা হয়রানির শিকার

দর্শনা চেকপোস্ট সীমান্তে লাগেজ ব্যবসা জমজমাট

দর্শনা চেকপোস্ট সীমান্তে লাগেজ ব্যবসা জমজমাট
জিল্লুর রহমান রুবেল ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৬, ১০:৪৭ অপরাহ্ন Print

চুয়াডাঙ্গা: জেলার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা চেকপোস্ট সীমান্ত দিয়ে এক শ্রেণির লাগেজ ব্যবসায়ী প্রতিনিয়ত কোটি কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য লক্ষ লক্ষ টাকার শুল্ক ফাঁকি দিয়ে নিয়ে আসছে। এদিকে চেকপোস্ট কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের কতিপয় কর্মকর্তাদের কাছে বৈধ পথে যাতায়াতকারী সাধারণ পাসপোর্ট যাত্রীরা হয়রানির শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

জানা গেছে, লাগেজ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গোপন আঁতাতের মাধ্যমে ভারত থেকে আনা বিভিন্ন ধরনের পণ্যের মূল্য নির্ধারণে চলছে ঘাবলাবাজী। এসব লাগেজ ব্যবসায়ীদের প্রতি অবগত থাকা সত্ত্বেও কোন প্রকার তল্লাশি ছাড়াই এদেরকে ছেড়ে দিচ্ছে কাস্টমস কতৃপক্ষ। তাদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ কোন প্রকার ব্যবস্থা না নেয়ায় তারা এ ব্যবসার দিকে আরও উৎসাহী হচ্ছে।

ভারত থেকে আনা পণ্যের দাম নিয়মমাফিক না ধরেই অল্পমূল্যের মাধ্যমে ছাড়পত্র প্রদান করছে। পূর্বের তুলনায় এ সীমান্ত চেকপোস্ট কাস্টমসের মাধ্যমে লাগেজ পার্টির ব্যবসা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারত থেকে আনা এসব পণ্যের উপর থেকে নিয়ম অনুযায়ী রাজস্ব আদায় না করে এসব লাগেজ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার টাকার অর্থ আদায় করছে কতিপয় কর্মকর্তারা। ফলে প্রতিদিন সরকার বঞ্চিত হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব আয় থেকে। লাগেজ ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে যেসব পণ্য এনে থাকে তার হ্রাসকৃত মূল্যের উপর থেকে আদায় করা হয় রাজস্ব।

বিজিবি সদস্যরা গত রবিবার সন্ধ্যায় সীমান্ত থেকে সাড়ে ৬ লক্ষ টাকার ভারতীয় পণ্যসহ কয়েকদিনে ২৫ লক্ষ টাকার পণ্য আটক করে ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের চাপের মুখে। গত শনিবার অবৈধ লাগেজের ভারতীয় পণ্য দর্শনা হল্ট স্টেশন থেকে ট্রেনে তোলাকে কেন্দ্র করে দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, এতে ৫-৬ জন চোরাকারবারী আহত হয়।

এদিকে সাধারণ পাসপোর্ট যাত্রীরা কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের কর্মরত কর্মকর্তাদের হাতে হয়রানি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এসব পাসপোর্ট যাত্রীদের কাছ থেকে অসাধু কর্মকর্তারা পাসপোর্ট প্রতি জোরপূর্বক দেড়’শ থেকে দু’শ টাকা হারে আবার কোন কোন সময় ৪-৫শ’ টাকা করে আদায় করছে। যদি কোন যাত্রী এ অর্থ প্রদান করতে ব্যর্থ হয় তাহলে তাদেরকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়।

তথ্যনুসন্ধানে জানা যায়, এই লাগেজ ঘাটের দায়-দায়িত্ব আছে চেক পোস্ট সংলগ্ন জয়নগর গ্রামের কুখ্যাত চোরাচালানী জামাই বাবলুর নেতৃত্বে শহিদুল ও তার লোকজন। এরা এই সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে লাগেজ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে স্থানীয় প্রশাসনের নাম করে বস্তা প্রতি ৭-৮ হাজার টাকা আদায় করে থাকে। এই ঘাট থেকে প্রায় প্রতিদিনই ২-৩ লক্ষ টাকা আয় হয়।

চোরাচালানীর সাথে জড়িত বছর খানেক আগের দিন মুজুর এখনকার কোটিপতি জামাই বাবলুর কালো টাকার দাপটে সাধারণ মানুষ অসহায়বোধ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অপরদিকে যারা সাধারণ ব্যবসার সাথে জড়িত তাদের অভিযোগ দেশীয় পণ্যের বিপুল চাহিদা থাকা সত্ত্বেও চোরাচালানীরা ভারতীয় পণ্য অবাধে পাচার করে আনায় ক্রেতারা স্বাভাবিকভাবেই ভারতীয় পণ্যের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।

এব্যাপারে সাধারণ ব্যবসায়ীরা অবিলম্বে চোরাচালানের মাধ্যমে লাগেজ বন্ধের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ঊর্দ্ধতন মহলের তদন্তপূর্বক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া একান্ত প্রয়োজন বলে ভুক্তভোগী মহল দাবি জানিয়েছে।

ব্রেকিংনিউজ/প্রতিনিধি/এসআই



আপনার মন্তব্য

অনুসন্ধান বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং