Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » অনুসন্ধান 

‘আরও বেশি থাকতো, পুলিশকে না দিলে’

‘আরও বেশি থাকতো, পুলিশকে না দিলে’
ফাইল ছবি
অঞ্জন চন্দ্র দেব ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৬, ১:০৮ অপরাহ্ন Print

ঢাকা: মানুষের নিত্যসঙ্গী এখন মোবাইল ফোন। একজন মানুষ এখন একাধিক মোবাইল সেট ব্যবহার করে থাকেন। প্রত্যেকের সঙ্গে মোবাইল থাকে, আর সে সুযোগটা কাজে লাগায় চোর ও ছিনতাইকারীরা। তারা বিভিন্ন উপায়ে হাতিয়ে নিচ্ছে মানুষের দামিও প্রিয় মোবাইল ফোনটা। তাতে করে যেমন লাভবান হচ্ছে চোর-ছিনতাইকারী, তেমনি লাভবান হচ্ছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। এসব চোরাই পণ্য বিকিকিনির জন্য রাজধানীতে কিছু নির্ধারিত মার্কেটও রয়েছে।

ব্রেকিংনিউজ ডটকম ডটবিডি'র অনুসন্ধানে জানা গেছে এমন সব তথ্য।

সূত্র বলছে, মোবাইল ফোনসহ চোরাই বা ছিনতাইকৃত ইলেকক্ট্রনিক্স পণ্য বিকিকিনি হচ্ছে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র গুলিস্তান পাতাল মার্কেটে। ওই মার্কেটে চোরাই ইলেকক্ট্রনিক্স পণ্যের রমরমা বাণিজ্য চলে।

সূত্র বলছে, শুধু ঢাকায় নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে চুরি বা ছিনতাই হওয়া মোবাইল, নোটপ্যাড, ট্যাব ও ঘড়িসহ বিভিন্ন ইলেকক্ট্রনিক্স পণ্য ওই মার্কেটে স্থান পায়। অনেক নামিদামি ব্র্যান্ডের মোবাইলও ওই মার্কেটে বিক্রি হচ্ছে। তবে চোরাই এ সব পণ্য কিনে বিভিন্নভাবে প্রতারিত হচ্ছেন গ্রাহকরা।

আলী আশরাফ নামের এক ক্রেতা ব্রেকিংনিউজকে জানান, বেশ কিছু দিন আগে গুলিস্তান পাতাল মার্কেট থেকে কম দাম দিয়ে একটি ব্র্যান্ডের মোবাইল কিনেছেন। কিছু দিন না যেতেই ফোনটিতে সমস্যা দেখা দেয়। কাস্টমার কেয়ারে গেলে তাকে জানায়- ফোনটি অরজিনাল না।

গুলিস্তানের ওই মার্কেটে শুধুই ইলেকট্রনিক পণ্য নয়। শতাধিক মোবাইল ফোন মেরামতের দোকান সমৃদ্ধ মার্কেটটিতে মূলত বিক্রি হয় পুরনো ও চোরাই ফোন। মেরামতের আড়ালে চলে বেচাকেনা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছু এক ক্রেতা ব্রেকিংনিউজকে বলেন, মোবাইলের পাশাপাশি সস্তা পাওয়া যায় কম্পিউটার, প্রিন্টার, বিদেশি ঘড়ি, টিভি, ভিসিডি, লাইটার, টেলিফোন সেটসহ সব ধরনের ব্যাটারিসহ নামিদামি সব পণ্য। অনেক ক্ষেত্রে দাম কম হলেও ভালো পণ্য পাওয়া যায়। সেরা সব ব্র্যান্ডের মাল পাওয়া যায় অবিশ্বাস্য দামে। কারণ একটাই- এসব চোরাই পণ্য।

সংশ্লিষ্টররা জানান, এখানে চোরাই, ছিনতাই, পকেটমারসহ নানান ধরনের মোবাইল নিয়ে এসে কম দামে বিক্রি করেন। চল্লিশ হাজার টাকার আইপ্যাড, মোবাইল পাওয়া যায় মাত্র দশ হাজার টাকায়। ভালো ব্যান্ডের মোবাইলগুলোও পাওয়া যায় খুবই স্বল্প দামে। রাজধানি জুড়ে এদের রয়েছে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। সিন্ডিকেট সদস্যরা এখানে এনে বিক্রি করে। কিন্তু পুলিশ ও র‌্যাবসহ আইন শৃঙ্খলাবাহিনী এ তথ্য জানার পরও এসব ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এ নিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধেও রয়েছে গুরুতর অভিযোগ।

এক দোকানি নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্রেকিংনিউজকে জানান, এখান থেকে শুধু দেশের নিম্নবিত্তরা কিনেন সেটা নয়। কম দামে এখানে চোরাই পণ্য পাওয়া যায়- সেটা জেনেই সামাজের বিত্তবানরাও আসেন এ মার্কেটে।

গুলিস্তানে পাতাল মার্কেটের আশেপাশে ব্যাপক চোরাই ও ছিনতাইর ঘটনা ঘটে প্রতিনিয়ত। কারণ চুরি করতে পারলেই বিক্রি করা সহজ।

সূত্র বলছে, রাজধানীর শুধু গুলিস্তান পাতাল মার্কেট নয়, গুলিস্তানের ফুটপাত দিয়েও কেনা-বেচা হচ্ছে চোরাই ফোন।

তথ্য পাওয়া গেছে আরও ভিন্ন ধরনের। যারা ছিনতাই করা মোবাইল ফোন রাতের আঁধারে কিনে থাকেন, তাদেরকে সেখানেও ঠকায় প্রতারক চক্র।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন ইয়াছিন। তিনি ব্রেকিংনিউজকে জানান, রাতে গুলিস্তান দিয়ে আসার পথে এক তরুণ তাকে বলে মোবাইল লাগবে কিনা, খুবই কম দামে। সে ভাবে দামি ফোন কম দামে পেলে মন্দ কি! ৩০ হাজার টাকার মোবাইল কিনে মাত্র ২ হাজার ৫শ' টাকায়। তাকে ফোনটির সব কিছু দেখানো হয়। টাকা দেয়ার পর ফোনটি তার হাতে দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন ওই তরুণ।

ইয়াছিন ফোনটি হাতে নিয়ে দেখে ফোনটি আর ওপেন হচ্ছে না। পরে মোবাইল ফোনটি খুলে দেখে ভেতরে মাটি ভরা। এ ভাবেই ইয়াছিনের মতো অসংখ্য মানুষ প্রতিনিহত প্রতারিত হচ্ছেন বলে ব্রেকিংনিউজের অনুসন্ধানে জানা গেছে।

ব্রেকিংনিউজের প্রতিবেদক কাস্টমার সেজে কথা বলেন ফুটপাতে দোকান নিয়ে বাসা আজগর আলীর সঙ্গে। তার কাছ থেকে জানতে চাওয়া হয় কোথা থেকে কিনেন এই ফোন? তিনি জানান, চোরাই করে নিয়ে আসাদের (চোরদের) কাছ থেকে কম দাম দিয়ে ফোন কিনেন তিনি। মাসে কেমন টাকা থাকে জানতে চাইলে- তিনি একটু উত্তেজিত হয়ে বলেন, এতো কিছু জানতে চান কেন? কিছু কিনবেন; না হলে চলে যান।

তাকে শান্ত করে ব্রেকিংনিউজ প্রতিবেদক তার সঙ্গে অনেক সময় ধরে গল্প করেন। গল্পের ছলে জানা গেছে, তিনি চোরাই পণ্য বিকিকিনি করে মাসে ৫০ হাজার টাকার বেশি আয় করেন।

আজগর আলী বলেন, ‘তবে আরও বেশি থাকতো, যদি পুলিশকে না দিতে হতো!’

আজগর আলী আরও কিছু তথ্য দেন। তিনি জানান, শুধু গুলিস্তান না, বসুন্ধরা সিটি, আইডিবি ভবন, ফার্মগেট এমনকি যমুনা ফিউচার পার্কসহ রাজধানীর ছোট-বড় প্রায় সব মার্কেটেই চলে চোরাই ফোন বিকিকিনি।

ব্রেকিংনিউজ/এসিডিটি/এইচএস/জেএম



আপনার মন্তব্য

অনুসন্ধান বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং