Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

বৃহস্পতিবার ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » অনুসন্ধান 

শিক্ষক সমিতির বিরুদ্ধে বই বাণিজ্যের অভিযোগ

শিক্ষক সমিতির বিরুদ্ধে বই বাণিজ্যের অভিযোগ
আরাফাতুজ্জামান ২৯ জানুয়ারী ২০১৬, ১:৪২ পূর্বাহ্ন Print

ঝিনাইদহ: জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা শিক্ষক সমিতির বিরুদ্ধে বই বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। একাডেমিক বুক হাউজ নামের একটি বই কোম্পানির কাছ থেকে শিক্ষক সমিতি ডোনেশনের নামে ২৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক মহল ও সচেতন জনগণের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা শিক্ষক সমিতির একাংশের সভাপতি রেজাউল ইসলাম ও নলডাঙ্গা ভুষণ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন তোতা বাধ্যতামূলকভাবে সিলেবাসে একাডেমিক বুক হাউজের বই অন্তর্ভুক্ত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি তারা ঝিনাইদহের পূবালী ব্যাংক থেকে বই কোম্পানির অগ্রিম পাঠানো ডোনেশনের নামে ৭ লক্ষ টাকা উৎকোচ উত্তোলন করেছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। বাকি টাকা চলতি বছরের জুন জুলাই মাসে পরিশোধ করবে বই কোম্পানি। এছাড়া সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিষিদ্ধ অনুপম কোম্পানির অনুপম গাইড কিনতেও বাধ্য করছেন শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলায় ৫০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীদের একাডেমিক বুক হাউজের ‘একাডেমিক স্পেশাল ইংলিশ গ্রামার অ্যান্ড কমপোজিশন এবং ‘একাডেমিক বাংলা ব্যাকরণ ও বহু নির্বাচনী ও নির্মিতি’ বই জোরপূর্বক সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

এসব ছাত্র-ছাত্রীদের বাধ্যতামূলকভাবে বই কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। উক্ত কোম্পানির বই মান সম্মত নয়। এছাড়া ছাপাও অস্পৃষ্ঠ। মূলত উক্ত বই কোম্পানির কাছ থেকে মোটা অংকের উৎকোচ নিয়ে এ বই হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে। এতে ছাত্র-ছাত্রীদের মেধার বিকাশ ঘটবে না বলে অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক ব্রেকিংনিউজকে জানান, ‘১শ’ টাকার বইয়ের মূল্য ধরা হয়েছে ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকা। প্রতিটি বই তাদের এত দাম দিয়ে বাধ্যতামূলক কিনতে হচ্ছে। কোম্পানির কাছ থেকে টাকা খেয়ে শিক্ষকরা এসব বই সিলেবাসে অন্তর্ভুক্তি করাচ্ছেন।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন শিক্ষক ব্রেকিংনিউজকে জানান, ‘শিক্ষক সমিতির শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সাথে আলোচনা করে সিলেবাসে একাডেমিক বুক হাউজের ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণীর পর্যন্ত বাংলা ও ইংরেজি গ্রামার বই কিনতে বাধ্য করাচ্ছেন। এছাড়া সরকার ছাত্র-ছাত্রী সব বই দিয়েছে। যদি কোন শিক্ষার্থী সহায়ক হিসেবে কোন বই কিনতে চায় তাহলে সে তার ইচ্ছামত যেটি ভাল সেটি কিনতে পারবে। কিন্তু সেটা সম্ভব হচ্ছে না। তাদের এসব প্রতিবাদেও কোন ফল হচ্ছে না।’

বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার উপজেলা উন্নয়ন কমিটির সভায় হৈচৈ পড়ে। একাডেমিক বুক হাউজের নিন্ম মানের বই এবং অনুপম প্রকাশনীর অনুপম গাইড বই ছাত্র-ছাত্রীদের কিনতে বাধ্য করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য উপজেলা চেয়ারম্যানকে আহ্বায়ক ও ভাইস চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান মতি, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহানাজ পারিভন, ইউপি চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম মন্টু ও আয়ুব হোসেনসহ ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করা হয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির একাংশের সভাপতি রেজাউল ইসলাম বই কোম্পানির সাথে চুক্তি করে টাকা নেয়ার বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করেন। পরে ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে বলেন, সাক্ষাতে কথা হবে।

নলডাঙ্গা ভুষণ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন তোতা ব্রেকিংনিউজকে জানান, ‘সমিতির যারা সভাপতি ও সেক্রেটারি আছেন তারাই এটি করে থাকেন। আমি তো সমিতির কোন দায়িত্বশীল পদে নেই। তারা আমাদের একটি বুকলিস্ট দিয়েছে সেই বুকলিস্টই আমরা ছাত্র-ছাত্রীদের দিয়েছি। ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।’

এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এম এ আরিফ সরকার ব্রেকিংনিউজকে জানান, ‘উপজেলা শিক্ষক সমিতি দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন কোম্পানির সাথে চুক্তি করে ডোনেশনের নামে টাকা হাতিয়ে নিয়ে এসব বই ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে বাধ্যতামূলক তুলে দিচ্ছেন। এতে আমার কিছুই করার নেই।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মানোয়ার হোসেন মোল্লা ব্রেকিংনিউজকে জানান, ‘সরকার ছাত্র-ছাত্রীদের সকল বই দিয়েছে। নোট বই বা কোম্পানির অন্য কোন বই বাধ্যতামূলক তাদের পড়ানো যাবে না। এটি অন্যায়। এছাড়া সরকার থেকে এসব বিষয় নির্দেশনা এসেছে। যদি এটি করা হয় তাহলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ব্রেকিংনিউজ/প্রতিনিধি/এমই



আপনার মন্তব্য

অনুসন্ধান বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং