Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » অনুসন্ধান 

ভৈরবে জন্ম নিবন্ধনে অবৈধ অর্থ আদায়

ভৈরবে জন্ম নিবন্ধনে অবৈধ অর্থ আদায়
মো. আল আমিন টিটু ১৩ জানুয়ারী ২০১৬, ৪:৩২ অপরাহ্ন Print

ভৈরব: কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বছরের প্রথম দিন থেকেই প্রাথমিক ও কিন্ডারগার্ডেন স্কুলে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সেই সাথে শুরু হয়েছে পৌরসভাসহ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে জন্ম নিবন্ধন পক্রিয়া। এ সুবাদে গ্রামের সহজ সরল অভিভাবকদের জিম্মি করে তথ্য ও সেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তারা জন্ম নিবন্ধনে মনগড়া ফি আদায় করছেন। এর মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।

জানা গেছে, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী পৌরসভা ও ইউনিয়ন ফি হিসাবে জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ হতে দুই বছর পর কোন ব্যক্তির নিবন্ধনের ক্ষেত্রে প্রতি বছরের জন্য ৫ টাকা হারে জমা দিতে হবে। কিন্তু নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ভৈরবের উদ্যোক্তারা বিভিন্ন অযুহাতে ও বেকায়দায় ফেলে প্রতি নিবন্ধনে এক’শ থেকে শুরু করে হাজারেরও অধিক টাকা আদায় করছেন বলে অভিযোগ মিলেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার গজারিয়া, শিমুলকান্দি, শ্রীনগর, শিবপুর ও আগানগর ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্রে প্রতিদিন এলাকার লোকজন ৬ থেকে ৮ বছরের শিশুরা নিবন্ধনের জন্য ভিড় করছেন। ফলে গেল ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ৩ হাজারের অধিক শিশুর জন্ম নিবন্ধন করিয়েছেন অভিভাবকরা।

আইন অনুযায়ী শিশুর নিবন্ধনের ক্ষেত্রে জন্মের তারিখ হতে দুই বছর পর্যন্ত কোনো ফি আদায়ের বিধান না থাকলেও তাদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো ফি আদায় করছেন উদ্যোক্তারা। এছাড়া সরকার নির্ধারিত ফি’র বাইরে সার্ভিস চার্জ ও হোল্ডিং টেক্স’র নামে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। ফলে সেবা নিতে গিয়ে উদ্যোক্তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছেন অভিভাবকরা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মানিকদী গ্রামের শাহ আলমের দেড় বছর বয়সের ছেলে তাফির মিয়ার নিবন্ধন করতে গেলে গজারিয়া ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা তার কাছ থেকে এক’শ টাকা আদায় করেন।

বাশঁগাড়ী গ্রামের সুমন মিয়া তার ৬ বছর বয়সের মেয়ের জন্ম নিবন্ধন করতে গেলে দিতে হয় এক’শ টাকা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক ব্রেকিংনিউজকে বলেন, প্রথমে ভুল করায় পরে প্রকৃত বয়স উল্লেখ করে নিবন্ধন করতে গেলে বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন উদ্যোক্তা।

অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে গজারিয়া ইউপি সদস্য মো. ইকবাল হোসেন ব্রেকিংনিউজকে বলেন, সঠিক না হলেও জনগণের পিরাপিরিতে তার এসব কাজ করতে হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তথ্য কেন্দ্রের উদ্যোক্তা বাতেন নিয়াজী ব্রেকিংনিউজকে বলেন, পরিষদের সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো অতিরিক্ত টাকা নেয়া হয় না।

শিমুলকান্দি ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্রে গেলে দেখা মেলে চানপুর গ্রামের মোবারক হোসেন নামে এক অভিভাবকের সঙ্গে। তিনি ছেলের নিবন্ধনের জন্য সেখানে এসেছেন। কিন্তু ইউপি সচিব মো. আতিকুর রহমান তাকে বলছেন বাড়ির হোল্ডিং নম্বর নিয়ে আসতে।

এছাড়া বেশ কয়েকজন অভিভাবক উদ্যোক্তার চাহিদা মত টাকা দিয়ে নিবন্ধন কপিতে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। ফলে তাদের দুর্ভোগের যেন অন্দ নেই।

এদিকে শ্রীনগর, আগানগর ও শিবপুর ইউনিয়ন তথ্য কেন্দ্রের চিত্র একই হলেও উল্টোপথে কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র। সেখানে সরকারি নির্দেশনা না মেনে ১৮ বছরের নিচে নিবন্ধনের জন্য মাত্র ২০টাকা আর তদোর্ধদের জন্য ৫০টাকা আদায় করছেন উদ্যোক্তা।

এবিষয়ে ইউপি সদস্য মুজিবর রহমান ব্রেকিংনিউজকে বলেন, এটা পরিষদের সিদ্ধান্ত। একই কথা জানান, ইউপি সচিব ইমদাদুল হক।

তবে সু-কৌশলী ও অর্থলোভী উদ্যোক্তাদের হাত থেকে গ্রামের সহজ সরল অভিভাবকরা রেহাই পেতে চান। পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবিও তাদের।

ব্রেকিংনিউজ/এইচএস



আপনার মন্তব্য

অনুসন্ধান বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং