Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » অনুসন্ধান 

অস্থায়ী নৌ-টার্মিনালের স্থায়ী সমস্যা; চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

অস্থায়ী নৌ-টার্মিনালের স্থায়ী সমস্যা; চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা
চৌধুরী ইয়াসিন ইকরাম ১১ জানুয়ারী ২০১৬, ৯:৫৯ পূর্বাহ্ন Print

চাঁদপুর: জেলার অস্থায়ী নৌ-টার্মিনালের স্থায়ী নানান সমস্যায় প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। গত দুই শতাধিক বছরেও চাঁদপুরে নির্মাণ হয়নি একটি স্থায়ী নৌ-টার্মিনাল। যেকারণে অস্থায়ী নৌ-টার্মিনালেই জোড়তালি দিয়ে চলছে কার্যক্রম। ঘাট নিয়ে যাত্রীদের নানান অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে চাঁদপুরে স্থায়ী নৌ-টার্মিনাল নির্মাণের জন্য আলাপ আলোচনা চলছে।

গত ২শ’ বছর আগে ডাকাতিয়া-মেঘনা নদী ঘিরে চাঁদপুর নদী বন্দর তৈরি হলেও আজো একটি স্থায়ী নৌ টার্মিনাল তৈরি হয়নি। চাঁদপুর মাদ্রাসা রোড অস্থায়ী নৌ-টার্মিনাল দিয়ে চাঁদপুর-ঢাকা ও চাঁদপুর-নারায়নগঞ্জ নৌ-পথে চলাচল করছে অন্তত ৫০টি ছোট বড় লঞ্চ। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এ ঘাট দিয়ে যাতায়াত করে। বন্দর কর্তৃপক্ষ ঘাটে প্রবেশ খরচ জনপ্রতি ৩ টাকা নিলেও যাত্রী সেবার মান একেবারে নিম্নমানের। টয়লেট নেই, নেই এতটুকু বসার স্থান, এমনটাই অভিযোগ যাত্রীদের।

অলকা রানী দাস, রেদওয়ান ও সাইফুদ্দিন নামের যাত্রীরা ব্রেকিংনিউজকে জানান, ‘আমরা নিয়মিত নৌ-পথে ঢাকা ও নারায়নগঞ্জে চলাচল করি। এ টার্মিনালে ন্যূনতম যাত্রীসেবা পাওয়া যায় না। লঞ্চ না আসা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ঘাট থেকে অন্তত ৪শ’ ফুট দূরে ছোট একটা অপেক্ষমাণ কক্ষ থাকলেও সেখানে রিকশা ও সিএনজি চালকরা অবসর সময়ে আড্ডা দেয়। এছাড়া বন্দর কর্তৃপক্ষের একটা পাবলিক টয়লেটও নেই। অথচ ঘাটে প্রবেশ ফি নির্ধারিত হারে আদায় করছে।’

জানা যায়, ব্রিটিশ শাসন আমলে আইজি অ্যান্ড আরসিন কোম্পানি উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে স্টিমার ঘাট এবং রেলওয়ে স্টেশন প্রতিষ্ঠা করে চাঁদপুর নৌ-বন্দরের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করে। তখন অবিভক্ত বাংলার সাথে আসাম-বেঙ্গল সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা এ নদী বন্দরকে ঘিরেই গড়ে উঠে। অথচ যুগের পর যুগ পার হলেও আজও চাঁদপুরে একটি স্থায়ী নৌ-টার্মিনাল নির্মাণ হয়নি।

পাকিস্তান শাসনামলে স্টিমার ঘাট, রেল স্টেশন সংলগ্ন স্থানে বন্দরের গুরুত্ব বিবেচনা করে চাঁদপুর লঞ্চঘাট ও নৌ-বন্দর টার্মিনাল প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু ১৯৯৮ সালের বন্যায় আকস্মিক ভয়াবহ নদী ভাঙ্গনে চাঁদপুর রেল স্টেশন ও লঞ্চঘাটের অংশ বিশেষ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এরপর থেকে নৌ ও রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তৎকালীন সরকার পুরাতন লঞ্চ টার্মিনালের কিছু দূরে পূর্ব দিকে নতুনভাবে চাঁদপুর লঞ্চঘাট নির্মাণ করে। ১৯৯৪ সালের ২০ আগস্ট মেঘনা-ডাকাতিয়া নদীর মিলনস্থলে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের কবলে কাত হয়ে দ্বিতল একটি লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটে। সেই সময় শতাধিক যাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।

তার -পর থেকে নিরাপদ নৌ-পথ এবং নৌ-দুর্ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষ শহরের মাদ্রাসা রোডে বিকল্প আরেকটি লঞ্চঘাট নির্মাণ করে। বর্ষা মৌসুমের ৩ থেকে ৪ মাস এখানেই লঞ্চঘাট স্থানান্তরিত হয়ে আসছে। এ লঞ্চ নিয়েও চলেও দীর্ঘদিন টানা-হেঁচড়া। অবশ্য শেষ পর্যন্ত গত দুই বছর যাবত মাদ্রাসা রোডে বিকল্প লঞ্চ ঘাট-ই ব্যবহার করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এখানে স্থায়ী ভাবে লঞ্চঘাট করার সিদ্ধান্ত হলেও কার্যকরী কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

কবে নাগাদ এ ঘটের আধুনিকায়ন বা স্থায়ীভাবে নির্মাণ হবে নিশ্চিত করে বলতে পারছে না খোদ বিআইডব্লিউটিএ চাঁদপুর এর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি অবশ্য যাত্রী ভোগান্তির কথা স্বীকার করে বলেন, ‘চাঁদপুরে একটি আধুনিক নৌ-টার্মিনাল নির্মাণে সরকারের পক্ষ থেকে চেষ্টা চলছে। আমরা এখনো কোনো আর্থিক বরাদ্দ না পাওয়া নৌ-টার্মিনাল উন্নয়নে কোনো কাজ করতে পারছি না। তবে জানা মতে, বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধিদের সাথে বাংলাদেশের কয়েকটি লঞ্চ ঘাটের ব্যাপারে কথাবার্তা চলছে। আশা করছি শীঘ্রই আমরা চাঁদপুরে একটা আধুনিক নৌ-টার্মিনাল নির্মাণ করতে সক্ষম হবো।

চাঁদপুর, লক্ষীপুর, নোয়াখালী, ভোলা বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ নদীপথে ভ্রমণকে নিরাপদ মনে করে। এ কারণে দিনদিন এ নদীপথের জনপ্রিয়তা বড়ছে। তাই যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনা করে শীঘ্রই চাঁদপুরে একটি স্থায়ী নৌ-টার্মিনাল স্থাপনের দাবি জানিয়েছে চাঁদপুরবাসী।

ব্রেকিংনিউজ/প্রতিনিধি/এমই



আপনার মন্তব্য

অনুসন্ধান বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং