Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » অনুসন্ধান 

স্টেডিয়ামের মাঝখান দিয়ে রাস্তা নির্মাণ

স্টেডিয়ামের মাঝখান দিয়ে রাস্তা নির্মাণ
ছবি: ব্রেকিংনিউজ
চৌধুরী ইয়াসিন ইকরাম ০৩ ডিসেম্বর ২০১৫, ১:৩৫ পূর্বাহ্ন Print

চাঁদপুর: সংসদীয় স্থায়ী কমিটির একজন প্রভাবশালী চেয়ারম্যানের পিএস’র ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য জেলা শহরের আউটার স্টেডিয়ামের মাঝখানের মাঠ কেটে আরসিসি ঢালাই করে পাকা সড়ক করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এর আগে স্টেডিয়ামের দেয়াল ভেঙে বিশাল ফটক তৈরি করা হয়। এর ফলে বন্ধ হয়ে গেছে ক্রিকেট খেলোয়ারদের প্রশিক্ষণ। বিষয়টি ক্ষুব্দ করে তুলেছে সাধারণ খেলোয়ার ও এলাকাবাসীকে।

সরেজমিন চাঁদপুর আউটার স্টেডিয়ামে গিয়ে দেখা যায়, আউটার স্টেডিয়ামের দক্ষিণপাশের মাঠটির পশ্চিম অংশে ক্রিকেটারদের জন্য ৩টি পিচ, মাঝখানে ফুটবলাদের জন্য প্রশিক্ষণের স্থান ও পূর্ব অংশ বাস্কেটবল খোলোয়ারদের জন্য বাস্কেট ফিল্ড করা হয়েছে। কিন্তু মাঠের ঠিক মাঝখানে প্রায় ৩০০ মিটার লম্বা ও ৮ ফিট চওড়া মাঠ কেটে একটি আরসিসি ঢালাই সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে।

এর কিছুদিন আগে ওই সড়কের শেষ মাথায় দেয়াল ভেঙে তৈরি করা হয়েছে একটি বিশাল ফটক। এ কারণে সেখানে খেলাধুলা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। স্থানীয় কয়েকজন খোলোযাড় ও তাদের নেতৃবৃন্দ অভিযোগে করেন, স্টেডিয়ামের জায়গা এভাবে দখল করে মাঠের সৌন্দর্য্য নষ্ট করে শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির জন্য এভাবে মাঠের মধ্যখানে পাকা সড়ক ও ফটক কেউ তৈরি করতে পারেনা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে একটি সংসদীয় কমিটির সভাপতির একান্ত সচিব চাঁদপুর সদর উপজেলার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনুর শাহীন খানের নবনির্মিত বাড়িতে ঢোকার জন্য এই কাজটি করা হয়েছে। শাহীনুর শাহীন যখন চাঁদপুর সদরের ইউএনও ছিলেন তখন তিনি স্টেডিয়ামের পাশে ৫তলা বিশিষ্ট একটি বাড়ি করেন। কিন্তু ওই বাড়িতে গাড়ি ঢোকার রাস্তা না থাকায় সরকারি দলীয় নেতাকর্মীদের সহায়তায় বর্তমানে বাড়িতে ঢোকার একটি সড়ক ও নিজ খরচে দেয়াল ভেঙে একটি ফটক তৈরি করেন। এতে করে বন্ধ হয়ে গেছে ক্রিকেটারদের প্রশিক্ষণ।

ক্রিকেট প্রশিক্ষণ শামীম ফারুকী ব্রেকিংনিউজকে জানান, ‘যেখানে সড়ক তৈরি করা হয়েছে সেখানে তাদের ৩টি ক্রিকেট পিচ রয়েছে। চাঁদপুরে শতাধিক ক্রিকেটার প্রতিদিন সেখানে প্রশিক্ষণ নেয়। কিন্তু দুদিন ধরে তারা প্রশিক্ষণ নিতে পারছেনা। কারণ পাকা সড়কের ওপর দিয়ে প্রশিক্ষণ নেয়া ঝুকিপূর্ণ।’

এদিকে চাঁদপুর সোনালী অতীত ক্লাবের সভাপতি প্রবীণ জাতীয় ফুটবলার মনোয়ার হোসেন চৌধুরী ব্রেকিংনিউজকে জানান, ‘আমি জেলা ক্রীড়া সংস্থার একজন সদস্য। আমি মনে করি ক্রীড়া সংস্থার জায়গা দিয়ে কেউ এভাবে সড়ক ও দেয়াল ভেঙে ফটক তৈরি করতে পারেনা। রবিবার রাতে আমি চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে করে চাঁদপুর আসার পথে ফোন পাই স্টেডিয়ামের জায়গা দখল করে সড়ক বানানো হচ্ছে। পরদিন সোমবার এসে এ অবস্থা দেখে ক্ষুব্ধ হয়েছি।’

ওই ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক বোরহান উদ্দীন খান ব্রেকিংনিউজকে জানান, ‘আমরা এ্রটার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। অবিলম্বে এসব সরিয়ে নেয়া না হলে খেলোয়াররা আন্দোলন শুরু করবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নবীন ফুটবল খেলোয়ার ব্রেকিংনিউজকে জানান, ‘এভাবে ব্যক্তির চলাচলের জন্য মাঠ দখল করে রাস্তা করা, এটা আমাদের ক্রীড়াকে ধ্বংস করার সমতুল্য।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী ও সাধারণ খোলোয়ার অভিযোগ করেন, ‘সরকারি বন্ধের দিন শনিবার সকাল থেকে তড়িঘড়ি করে একদল সন্ত্রাসীর উপস্থিতিতে এই সড়কটি নির্মাণ করা হয়। তখন কেউই সন্ত্রাসীদের ভয়ে কথা বলেননি।’

উল্লেখিত বিষয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলার প্রাক্তন নির্বাহী কর্মকর্তা, সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারি সচিব ও বাড়ির মালিক শাহানূর খান শাহীন এর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি ক্রীড়া সংস্থা এবং পৌরসভার। তিনি এর কোন কিছুই জানেন না। তিনি কোন প্রভাব খাটিয়ে কিছু করেন নি এবং করার মনোবৃত্তিও নেই।’

চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বাবু ব্রেকিংনিউজকে জানান, ‘কারো বাড়ির জন্য ক্রীড়া সংস্থার সম্পত্তি ব্যবহার করে কোন সড়ক তৈরি করা হয়নি। জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভার মতামত নিয়ে একটি (ওয়াকওয়ে) তৈরি করা হয়। এটি করে দিয়েছে চাঁদপুর পৌরসভা। আর এই সিদ্ধান্তটি নেয়া হয়েছিল সাবেক জেলা প্রশাসকের সময়ে। চাঁদপুরের সুধীজন দীর্ঘদিন সকাল-বিকাল হাঁটার জন্য একটি ওয়াকওয়ে তৈরি করে দেবার দাবি জানিয়ে আসছিল। তারই প্রেক্ষিতে পৌরসভা তাদের পরিষদে সিদ্ধান্ত নিয়ে এই ওয়াকওয়ে তৈরির কাজ শুরু করেছে। এর জন্য ক্রিকেটার বা খেলোয়াড়দের কোন সমস্যা হওয়ার কথা নয়। একটি মহল শুধু শুধু বিষয়টি নিয়ে পানি ঘোলা করার চেষ্টা চালাচ্ছে।’

চাঁদপুর পৌরসভার সহকারি প্রকৌশলী আশুতোশ দত্তের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্রেকিংনিউজকে জানান, ‘জেলা ক্রীড়া সংস্থার অনুরোধে জনসাধারণের হাঁটাহাটির জন্য আউটার স্টেডিয়ামের সীমানা প্রাচীরের চারদিকে প্রায় ৩০০ মিটার এলাকা নিয়ে এই ওয়াকওয়েটি তৈরি করে দেয়া হচ্ছে। গত কয়েক দিন আগে এর কাজ শুরু হয়েছে। এর জন্য ব্যয় হবে আনুমানিক ১২ লক্ষ টাকা।’

চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র মো. নাছিরউদ্দিন আহমেদ ব্রেকিংনিউজকে জানান, ‘পৌরসভার নগর উন্নয়ন কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জনসাধারণের সকাল-বিকাল হাঁটাহাটির জন্য ক্রীড়া সংস্থার অনুরোধে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই সড়কটি তৈরি করে দেয়া হচ্ছে। এটা কোন ব্যক্তির অনুরোধ বা সুবিধা বা স্বার্থ রক্ষার জন্য করা হচ্ছে না।’

এ ব্যাপারে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি মো. আব্দুস সবুর মন্ডল ব্রেকিংনিউজকে জানান, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই জানিনা। আমাকে মঙ্গলবারও একজন সাংবাদিক এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছিল। আমি জানতে পেরেছি, এটা নাকি আগের জেলা প্রশাসকের আমলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল এবং পৌরসভা তা বাস্তবায়ন করছে। তবে তিনি বিষয়টি আরো খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন।’

এদিকে চাঁদপুর স্টেডিয়ামের অরুণ নন্দী সুইমিংপুলের প্রবেশ পথে সম্প্রতি জেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটির ২৫ সদস্য মাঠের বিশাল একটি জায়গা তাদের প্রত্যেকের নামে অনুমোদন এনে বিশাল দোতালা মার্কেট তৈরি করা হয়। বর্তমানে ওই মার্কেটের তৃতীয় তলার কাজও দ্রুত গতিতে চলছে।

চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক এক সাধারণ সম্পাদক ব্রেকিংনিউজকে জানান, ‘বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার কোথাও স্টেডিয়ামের ভেতর এভাবে ওয়াকওয়ে করা হয়নি। যেটা করা হয়েছে এটা একটা ব্যক্তির ব্যবহারের রাস্তা ছাড়া কিছু নয়। আর যেভাবে ক্রীড়া সংস্থার জায়গা দখল করে সদস্যদের নামে মার্কেট তৈরি হচ্ছে এটাও দেশের কোথাও নেই।’

ব্রেকিংনিউজ/প্রতিনিধি/এমই



আপনার মন্তব্য

অনুসন্ধান বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং