Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » অনুসন্ধান 

জঙ্গিবাদের সাতকাহন-১

পাহাড়ে পাহাড়ে গোপন ট্রেনিং

পাহাড়ে পাহাড়ে গোপন ট্রেনিং
শাফি উদ্দিন আহমদ ০২ ডিসেম্বর ২০১৫, ৫:৫৪ অপরাহ্ন Print

ঢাকা: হঠাৎ করে দেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে জঙ্গিরা। বিছিন্ন হামলা চালিয়ে আবারো নিজেদের অস্তিত্ত্বের জানান দিচ্ছে নিষিদ্ধ ঘোষিত এই গোষ্টি। ব্রেকিংনিউজের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে পিলে চমকানো নানা তথ্য। ধারাবহিক প্রতিবেদনের আজকের পর্বটি তাদের ট্রেনিং স্থান এবং কৌশল নিয়ে।

মূলত জঙ্গি প্রশিক্ষণের জন্য বেছে নেয়া হয় দূর্গম পাহাড়গুলো। এক্ষেত্রে সীমান্তবর্তী পাহাড় থাকে তাদের প্রধান টার্গেট।

গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, হরকতুল জিহাদ (হুজি), আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, জামায়াতুল মুজাহিদিন, শহীদ হামজা ব্রিগেড ইত্যাদি জঙ্গি সংগঠনগুলো আলাদা নামে বা পৃথক নেতৃত্বে কার্যক্রম চালালেও তাদের মত আর পথ প্রায় এক। প্রত্যেকটি সংগঠনই তাদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প হিসেবে সীমান্তবর্তী দূর্গম পাহাড়কে বেছে নেয়।

সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের দুর্গম পাহাড়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনগুলোর প্রায় ১৭টি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের সন্ধান রয়েছে র‌্যাব ও কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে। প্রশিক্ষণ ক্যাম্পগুলোতে অন্তত আড়াই শতাধিক সামরিক কমান্ডার জঙ্গিদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। তাদের সদস্যদের কাছে ভারত ও দেশীয় বিস্ফোরক মজুদ রয়েছে। ফ্লাঙ গ্রেনেড, বইবোমা, কলমবোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কলাকৌশল শেখানো হচ্ছে। ২০১১ সালে গ্রেফতার হওয়া হুজির আমির শেখ ফরিদ ও মাওলানা সাব্বির গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য দিয়েছিলেন। এই তথ্যের প্রায় দু’বছর পর সিলেটের হবিগঞ্জের গহীন বনাঞ্চলে যৌথবাহিনীর সপ্তাহব্যাপী টানা অভিযানে উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমান অস্ত্র ও গোলাবারুদ।তবে সব কয়টি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প সনাক্ত করতে পারেননি গোয়েন্দারা। ফলে সিলেটের হবিগঞ্জ এবং জৈন্তিয়া এলাকার পাহাড়ে এখনো গোপনে চলে প্রশিক্ষণ।

চট্টগ্রামের কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, মাটিরাঙ্গা, নাইক্ষ্যংছড়ি, হিমছড়ি, বিলাইগাছি, মানিকছড়ি, হাটহাজারী, পটিয়া, লালখান বাজার ইত্যাদি এলাকার পাহাড়গুলো যেন প্রশিক্ষণের সর্বোচ্চ নিরাপদ আর উর্বর ভূমি।

বাঁশখালীর দূর্গম পাহাড়ে রাতের আধারে চলে প্রশিক্ষণ। এই এলাকার পাহাড়ে পাহাড়ে রয়েছে নামে বেনামে বেশকয়েকটি খামার। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে এসব খামারে কোন খামারিই নেই। মূলত এসব খামারের প্রত্যেকটি হলো প্রশিক্ষণ ক্যাম্প।চলতি বছরে র্যা বের অভিযানে বাঁশখালীর একটি খামাররূপী প্রশিক্ষণশালা থেকে তিনটি একে-২২ রাইফেল, ৬টি বিদেশি পিস্তল, ১টি ম্যাগনাম রিভলবার, ৩টি দেশীয় তৈরি বন্দুক, ৬টি একে-২২ ম্যাগাজিন, ৯টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ৭৫১ রাউন্ড বিভিন্ন প্রকারের গুলি, ১৬৬টি বিভিন্ন প্রকার গুলির খালি কার্তুজ, ৩টি চাপাতি, ১টি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বাইনোকুলার, দুটি ওয়ারলেস সেট, মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের সরঞ্জামাদি, ২ জোড়া আর্মি বুট, ৪ জোড়া পিটি সু, ৬টি টর্চ লাইট, ১৪ জোড়া জঙ্গল বুট, ৩৮ সেট প্রশিক্ষণের পোশাক উদ্ধার হয়। এসময় বেশকিছু জঙ্গি গ্রেফতার করে র‌্যাব। পরে তারা পাহাড়ে প্রশিক্ষণের বিষয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়।

বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের লটমণি দুর্গম পাহাড়ের 'জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র' সম্পর্কে স্থানীয় অধিবাসী মাখন দাস ব্রেকিংনিউজকে বলেন, প্রায় রাতেই গুলির আওয়াজ পাওয়া যেত। গুলির প্রশিক্ষণের জন্য একে-২২ রাইফেল, রিভলবার, পিস্তল ও এলজি রাখা হত সেখানে। শুনেছি সামরিক কায়দায় গড়া হয়েছিলো ফায়ারিং জোন। আর সাধারণ মানুষকে বলা হত বণ্যহাতি বা অন্য বন্যপ্রাণীর ভয়ে বাজি ফোটানো হচ্ছে। আবার অনেকেই জেনে শুনে ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পেত না। এই নিয়ে এলাকাজুড়ে এখনও চলে নানা গুঞ্জন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক গোয়ন্দা কর্মকর্তা বলেন টাঙ্গাইল, মধুপুর এবং কুমিল্লার কয়েকটি পাহড়ে চলে প্রশিক্ষণ কর্যক্রম; এমন তথ্যও আছে আমাদের হাতে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মূফতি মাহমুদ জানান, প্রত্যেকটি সীমান্ত ও সীমান্তবর্তী পাহাড়ে আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রত্যেক সদস্যই এব্যপারে সতর্ক রয়েছেন।

ব্রেকিং নিউজি/এসইউএ



আপনার মন্তব্য

অনুসন্ধান বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং