Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

সোমবার ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, পূর্বাহ্ন

প্রচ্ছদ » অনুসন্ধান 

সাইনবোর্ডে ঝুলছে চেম্বারের ডাক্তার

সাইনবোর্ডে ঝুলছে চেম্বারের ডাক্তার
শাফি উদ্দিন আহমদ ১০ নভেম্বর ২০১৫, ৭:৪৭ অপরাহ্ন Print

ঢাকা: সাইনবোর্ডে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের নাম লেখা অথচ হাসপাতালে একজন ডাক্তারও নেই। সার্বক্ষণিক ডাক্তার, প্রশিক্ষিত ডিপ্লোমা নার্স, ল্যাব টেকনিশিয়ান, সনোলজিস্ট এমনকি সুইপার ছাড়াই দিনের পর দিন চলছে হাসপাতাল-ক্লিনিক ব্যবসা। ডায়গনোস্টিক সেন্টারের প্যাথলজি রুমের ফ্রিজে মিষ্টি, রান্না করা তরকারি, কাঁচা মাংস ছাড়াও রাখা আছে বিভিন্ন ধরনের মুখরোচক খাবার।

অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিযোগে মঙ্গলবার রাজধানীর দক্ষিণখানে ৪টি হাসপাতাল এবং মোহাম্মদপুরে ৩টি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে এপিবিএন ও র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের পৃথক অভিযানে এমন চিত্র উঠে আসে। পরে আদালত প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিভিন্ন মেয়াদে জেল-জরিমানা করে।

সোমবার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এর ভ্রাম্যমাণ আদালত এই পৃথক অভিযান চালায়।

এপিবিএন-৫ এর সহকারী পুলিশ সুপার এএসএম হাফিজুর রহমান রহমান ব্রেকিংনিউজকে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর দক্ষিণখানে ৪টি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে এপিবিএন এর নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদ এলাহি ভ্রাম্যমাণ আদলত পরিচালনা করেন এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক ডা.মঞ্জুর অভিযানে সহায়তা করেন।

আদালত এসময় দেখতে পায়, এসব হাসপাতালের বাইরের সাইনবোর্ডে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের নাম লেখা থাকলেও অভিযানের সময় এসব হাসপাতালে একজন ডাক্তারকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি। সার্বক্ষণিক ডাক্তার, প্রশিক্ষিত ডিপ্লোমা নার্স, ল্যাব টেকনিশিয়ান, সনোলজিস্ট এমনকি সুইপার ছাড়াই দিনের পর দিন ব্যবসা করে যাচ্ছে এসব হাসপাতাল ও ক্লিনিক।

এমনই আশ্চর্যের বিষয় যে, ফাতেমা মেডিক্যাল সেন্টারের প্যাথলজি রুমের ফ্রিজে ওষুধের পরিবর্তে মিষ্টি, রান্না করা তরকারি ও কাঁচা মাংস ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের খাবার পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগে দক্ষিণখানের অনুপম ক্লিনিক ও হাসপাতালকে ৫০ হাজার টাকা, পারিবারিক স্বাস্থ্য সেবা হাসপাতালকে ১ লক্ষ টাকা, ফাতেমা মেডিক্যাল সেন্টারকে ৫০ হাজার টাকা এবং তাজ হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়গনোস্টিক সেন্টারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে এসব জরিমানা পরিশোধ করে প্রতিষ্ঠানগুলো।

এদিকে র‌্যাব-২ এর উপ-পরচিালক মো.দিদারুল আলম ব্রেকিংনিউজকে জানান, গোপন সংবাদে তার নেতৃত্বে মোহম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান ও চন্দ্রিমা মডেল টাউনে ৩টি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে অভিযান চালানো হয়। এ সময় নির্বাহী হাকিম মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ভ্রাম্যান আদালত পরিচালনা করেন ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক প্রফেসর ডা.সামিউল ইসলাম (সাদী) অভিযানে সহায়তা করেন।

অভিযানে দেখা গেছে, নিউ তরী মাদকাসক্ত সেবা ও পূর্নবাসন কেন্দ্র, শান্তি নীড় মাদকাসক্তি ও পূর্নবাসন কেন্দ্র এবং ফিউচার মাদকাসক্ত নিরাময় চিকিৎসা ও পূর্নবাসন কেন্দ্র ৩টিতে চিকিৎসা সুবিধা বলতে কিছুই নেই। নেই স্বাস্থ্য অধিদফতর ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের লাইসেন্স। পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স নেই, নেই চিকিৎসা সরঞ্জাম।

এছাড়া রোগীকে শারীরিক নির্যাতন, মাদকের ব্যবসা পরিচালনা ও রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে ইচ্ছে মতো অর্থ আদায় করা হয়। ছোট ছোট কয়েকটি ঘর নিয়ে কেন্দ্রগুলোতে নেই আলো বাতাসের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। তার মধ্যেই রান্না ও থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা। ১০১ জন শিশু, পাগল, বৃদ্ধ মাদকাসক্ত রোগী ভর্তি করে কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের মত মেঝেতে গাদাগাদি করে শুইয়ে চিকিৎসার নামে রমরমা ব্যবসা করছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

এসব অভিযোগে নিউ তরী, শান্তি নীড় ও ফিউচার মাদকাসক্ত নিরাময় চিকিৎসা ও পূর্নবাসন কেন্দ্রের মো.হেলাল উদ্দিন (৩৯), মো.শহিদ (৩২), মো.ফয়েজ আহম্মেদ ও মো.মহসিন (৪৮), প্রত্যেককে ৬ মাস করে কারাদণ্ড দেয়া হয়। মো.ইমরান (৪০) ও মো.সাইফুল্লাহ (৩০) নামে দুজনের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে ১ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

এছাড়া ১০ দিনের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদেরকে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে পরামর্শ করে মানসম্মত হাসপাতালে স্থানান্তর করে স্বাস্থ্য অধিদফতর ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরকে নিশ্চিত করার নির্দেশ প্রদান করা হয়।

ব্রেকিংনিউজ/এসইউএ/এমআর



আপনার মন্তব্য

অনুসন্ধান বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং