Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » অনুসন্ধান 

হাসপাতাল যেন ডাস্টবিনের করিডোর

হাসপাতাল যেন ডাস্টবিনের করিডোর
ছবি: ব্রেকিংনিউজ
মাসুদ রানা ০২ নভেম্বর ২০১৫, ৩:০০ অপরাহ্ন Print

ভোলা: জেলার চরফ্যাশনের সরকারি হাসপাতাল যেন ডাস্টবিনের করিডোরে পরিণত হয়েছে। এ ব্যাপারে চরফ্যাশন হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের নেই কোন তদারকি।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রান্না ঘরের দরজার সামনে অব্যবহৃত ওষুধের স্তুপ পড়ে আছে। আর মহিলা ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে নামাজ পড়ার স্থানের সামনে পাপসের পরিবর্তে ময়লা ও নোংরা সাদা বেডসিট দেয়া হয়েছে।

পুরুষ ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে বাথরুমের দু’টি বেসিনে পানের চিপটি লেগে আছে। এবং ফ্লোরে উপরের মেঝেতে প্লাস্টিকের বাটিতে ময়লা মাংশের হাড় পড়ে আছে। সুরক্ষিত ডায়রিয়া ওয়ার্ড ও ভিআইপি ওয়ার্ডের রুমের ফ্যান, বেডসিটে ও বাথরুমে ময়লার যেন অভাব নেই। এমনকি হাসপাতালের চারপাশে পুরনো ওষুধের বাক্স ও বোতল, ইনজেকশনের সিরিজ থেকে শুরু করে ময়লা আর্বজনার বিন্দু মাত্র কমতি নেই। চরফ্যাশনের হাসপাতালে দুর্গন্ধে ঢোকা যায় না বলে বিভিন্ন ধরনের লোকজন মন্তব্য করেন। সেই সময় চরফ্যাশন হাসপাতালের একজন সুইপারের দেখা মিলেনি।

সচেতন ও সাধারন মানুষরা ব্রেকিংনিউজকে জানান, ‘চরফ্যাশন হাসপাতালে রোগীরা ভর্তি হন সুস্থ্য হওয়ার জন্য এরকম নোংরা পরিবেশ থাকলে সুস্থ্য হওয়া তো দুরের কথা আরও মৃত্যুর দিকে ধাবিত হওয়ার উপক্রম। এমনকি কোন সুস্থ্য মানুষ হাসপাতালে রোগী দেখতে আসলে তারাও উল্টো অসুস্থ্য হয়ে পড়বে।’

রোগীরা অভিযোগ করে ব্রেকিংনিউজকে জানান, ‘আমরা গরু ও ছাগল হাস-মুরগি বিক্রি করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হই আর রাতের বেলা আমাদের টাকা ও মোবাইল চুরি হয়ে যায়। কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা কোন গুরুত্ব দেননা।’

অভিযোগ উঠেছে যে, হাসপাতালের সব ডাক্তারদের চেম্বারের সামনে বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালরা ভিড় করে থাকেন যে, কে কখন কোন সময় ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা নিরীক্ষা করাতে নেবেন বলে প্রতিযোগিতা চলছে দালালদের মধ্যে।

সূত্র থেকে আরও জানা যায়, যে চরফ্যাশন হাসপাতালের ডাক্তাররা কখন হাসপাতালের সময় পার করে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বসে রোগী দেখবো সেই চিন্তায় তাদের কাছে বড় হয়ে দেখা দেয়।। আর রোগীর পরীক্ষা নিরীক্ষা না লাগলেও তারা বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোতে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার জন্য টেস্ট দিচ্ছেন। কারণ ডাক্তাররা প্রতি মাসে বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে কমিশন পাচ্ছেন বলে জানা যায়।

চরফ্যাশন হাসপাতালের টি এস ডা. ছিদ্দিকুর রহমানের এর কাছে জানতে চাইলে জানা যায় তিনি পারিবারিক কাজে ছুটিতে গেছেন এবং চরফ্যাশন হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সিরাজউদ্দিনকে।

হাসপাতালের নোংরা পরিবেশের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, আমি হাসপাতালের পরিবেশ দেখে এসেছি। তবে ডা. ছিদ্দিকুর রহমানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি পারিবারিক কাজে ছুটিতে যাওয়ার কথা অস্বীকার করেন। এরপর হাসপাতালের ছুটির রেজিস্টার খাতা দেখতে চাইলে ভোলা সিভিল সার্জনের কাছে রেজিস্টার খাতা পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে বলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

ব্রেকিংনিউজ/প্রতিনিধি/এমই



আপনার মন্তব্য

অনুসন্ধান বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং