Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

সোমবার ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, পূর্বাহ্ন

প্রচ্ছদ » অনুসন্ধান 

ধরাছোঁয়ার বাইরে ইয়াবা গডফাদাররা

ধরাছোঁয়ার বাইরে ইয়াবা গডফাদাররা
ফারুক কামাল ২৬ অক্টোবর ২০১৫, ৭:৪১ অপরাহ্ন Print

বগুড়া: মাদকের নীল ছোবল দেশ-জাতি ও যুবসমাজকে ধ্বংস করছে। বিশেষ করে মিয়ানমারের তৈরি ইয়াবা চট্রগ্রাম ও রাজধানী ঢাকা পাড় হয়ে এখন বগুড়ার নন্দীগ্রামে একেবারে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। যেন দেখার কেউ নেই? মাঝে মধ্যে র‌্যাব-পুলিশ ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অভিযানে কিছু ইয়াবা উদ্ধার ও বহনকারীরা আটক হলেও রাঘব বোয়ালরা রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজা বিভিন্ন চোরাচালানি সিন্ডেকেট পৌঁছে দিচ্ছে নন্দীগ্রাম উপজেলায়। সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারে তৈরি ইয়াবা বিভিন্ন ক্যাটাগরির। স্বল্প মূল্য ও বেশি মূল্যের বিভিন্ন জাতের এসব ইয়াবা ক্রেতা-বিক্রেতা সমাজের যুবসমাজ থেকে অভিজাত শ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে, বর্তমানে ঢাকা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নকল ইয়াবা তৈরি হচ্ছে। অভিজ্ঞ মহলের ধারণা, চাহিদার কারণে নকল ইয়াবা তৈরি হচ্ছে দেশে। এতো কিছুর পরেও ইয়াবার চাহিদা বাড়ছে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, ৯০’র দশকের শেষ দিকে ইয়াবা ট্যাবলেট বাংলাদেশে আসতে শুরু করে। শুরুতেই এটির ব্যাপক চাহিদা ছিল রাজধানী ঢাকায়। পরে তা বিস্তৃতি হয়ে পড়েছে বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। বর্তমানে সড়ক পথ ছাড়াও ট্রেন পথে কৌশলে ইয়াবার চালান আসছে বগুড়ায়।

বিভিন্ন সূত্র মতে, ভারতের তৈরি ইয়াবা জয়পুরহাট-দিনাজপুরের হিলি বর্ডার হয়ে চালান আসছে বগুড়া সদরসহ পুরো উপজেলায়। এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছে বেশ কয়েকটি সিন্ডিকেট। তারা প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় লক্ষ লক্ষ টাকার ব্যবসা করছে। এসব ব্যবসায়ি অনেকেই রাজনৈতিক মিছিল মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করে থাকে। তথাকথিত ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন ব্যবসায়িরা এখনও অধরা রয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, কক্সবাজার উখিয়া টেকনাফ সীমান্ত এলাকা যেমন মাদক ইয়াবার ভয়াবহতায় চরমভাবে বিপর্যস্ত। বগুড়ার নন্দীগ্রাম, শেরপুর, শাজাহানপুর, ধনুট এখন ইয়াবার ব্যবসা জমজমাট। মরণনেশা ইয়াবার ছোবলে আসক্ত বগুড়া জেলার হাজার হাজার যুবক। ওরা ইয়াবা সেবন করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুমিয়ে সময় পার করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইয়াবা সেবনকারী জানায়, ‘সে প্রতিদিন রাত ৮টার দিকে ২/৩টি ইয়াবা সেবন করে বিছানায় ঘুমিয়ে পড়ে। পরের দিন বিকাল পর্যন্ত সে ঘুমায়। বিকালে ঘুম থেকে উঠে আবার সে আড্ডায় বসে। শুধু ঘুম আর আড্ডা তার পছন্দ।’

ইয়াবার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে চিকিৎসকরা বলেন, ‘নিয়মিত ইয়াবা সেবনে মস্তিকে রক্তক্ষরণ, নিদ্রাহীনতা, খিঁচুনি, ক্ষুধামন্দা, মস্তিঙ্ক বিকৃতি, হার্ডঅ্যাটাক, রক্তচাপ বৃদ্ধি, কিডনি বিকল, চিরস্থায়ী যৌন অক্ষমতাসহ ক্যান্সার হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে ইয়াবা সেবনকারীরা হঠাৎ করে নেশা বন্ধ করলে তাদের হতাশা ও আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ে।’

সচেতন মহলের ধারণা, মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর হস্তক্ষেপ গ্রহণ না করলে যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে। দেশ হবে মেধাশূন্য।

এ প্রসঙ্গে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান শামীম ইকবাল ব্রেকিংনিউজকে জানান, ‘মাদক প্রসঙ্গে আমাদের কোনো আপোস নাই। মাদক ব্যবসায়িদের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া প্রতিদিন মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

ব্রেকিংনিউজ/প্রতিনিধি/এমই



আপনার মন্তব্য

অনুসন্ধান বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং