Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » অনুসন্ধান 

উপকারীকে বাঘে খায় প্রবাদটি সত্য হল

উপকারীকে বাঘে খায় প্রবাদটি সত্য হল
মহিউদ্দিন আহামেদ ১৮ অক্টোবর ২০১৫, ১:৫৭ অপরাহ্ন Print

ঢাকা: হাজার বছরের পুরনো প্রবাদ, হঠাৎ করেই আবার সামনে চলে এল। প্রথমে ব্যাপারখানা ভোরের আলোর মতই ক্ষীন ছিল বলে হয়ত অনেকেরই চোখের আড়াল হয়েছে, কিন্তু সময় যত বেড়েছে সূর্যের কড়া আলোর মতই এটি এখন দেশের মানুষকে দগ্ধ করতে শুরু করছে।

আমাদের দেশে সেই ছেলে কবে হবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে। অদম্য বাংলাদেশ। সেই কাজে বড় হওয়া ছেলে-মেয়েদেরই সংগঠন। ওরা নিজেরাই সবাই ছাত্র, ওদের দায়িত্ব অন্যের কাঁধে। সেই ওরাই সমাজের কিছু বঞ্চিত, দু:স্থ আর অসহায় ছেলেমেয়ের দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছিল। করতে চেয়েছিল ওইসব শিশুদের থাকা, খাওয়া আর শিক্ষার ব্যবস্থা। ওদেরকে বানাতে চেয়েছিল আলোকিত মানুষ।

কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস। হাজার বছরের প্রবাদকে সত্য করে, অদম্য বাংলাদেশের সমাজ হিতৈষী ৪ তরুণ প্রাণের জীবনই এখন অন্ধকার প্রোকোষ্ঠে।

সবার মনে আছে নিশ্চয়ই, তারপরও যারা এখনো বিষয়টি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন তাদের জন্য ঘটনার ফ্ল্যাশব্যাক করছি।

গত ১২ই সেপ্টেম্বর ২০১৫,রাজধানীর রামপুরা বনশ্রীর সি ব্লকের ১০ নম্বর রোডের ৭ নম্বর বাড়ির ৬তলায় ‘অদম্য বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন’ থেকে ১০ শিশুকে উদ্ধার করে পুলিশ। তার সাথে গ্রেফতার করা হয় ৪ জনকে।

এ ৪ জন হলেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান ওরফে আরিয়ান ও সাধারণ সম্পাদক জাকিয়া সুলতানা এবং দুই কর্মকর্তা হাসিবুল ইসলাম সবুজ ও ফিরোজ আলম শুভ।

পুলিশ তাদেরকে মানবপাচারকারী সন্দেহে গ্রেফতার করে। এবং জামিন অযোগ্য মামলায় গ্রেফতার করে।ফলে প্রায় ২ মাস হয়ে গেলেও তাদের জামিন হয়নি কিন্তু রিমান্ড হয়েছে। সর্বশেষ ১৩ই অক্টোবর তাদের জামিনের শুনানি হলে, সেখানেও তাদের জামিন না মঞ্জুর করে তাদেরকে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

ইতিমধ্যে তাদেরকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে ১৭ই সেপ্টেম্বর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে অদম্য বাংলাদেশ এবং মজার স্কুলের স্বেচ্ছাসেবীরা। তারা সেখানে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড বহণ করে যেখানে লেখা ছিল, ‘আমরা মানব পাচারকারী নই, মানবের সহযোগী’, ‘আমরাই অদম্য, আমরাই বাংলাদেশ’, ‘মানবসেবা মানে কি রিমান্ড?’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’।

আটক তরুণদের মুক্তি চেয়ে প্রধানমন্ত্রী কাছে খোলা চিঠি লিখেছেন অনলাইন এ্যক্টিভিষ্ট, আসিফ এন্তাজ রবি। তিনি তাদের মুক্তির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তিনিই জানিয়েছেন আটককৃতদের মধ্যে ২জন গ্রেফতার থাকায় কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। অসহায়দের ভবিষ্যত আলোকতি করতে যেয়ে তাদের নিজেদের ভবিষ্যতই এখন অন্ধকারে ধাবিত হচ্ছে। চিঠিটি পড়তে ক্লিক করুন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমজুড়ে বিষয়টি এখন টক অব দ্য টাউনে পরিনত হয়েছে। যেহেতু তরুণরাই ভার্চুয়াল দুনিয়ায় সবচেয়ে বেশী সরব তাই বিষয়টি ভাইরাল হতে সময় লাগেনি।

সেখানে বলা হচ্ছে, প্রভাবশালীর মদ্যপ কিশোর ছেলে বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে মানুষ মারলেও তাকে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দিতে সরব পুলিশ। আর মানব কল্যাণে এগিয়ে আসা তরুণদের বিনা কারনে গ্রেফতার করলেও তাদের মুক্তির ব্যাপারে নিরব প্রশাসন। এটাই কি সোনার বাংলা?

অদম্য বাংলাদেশের ঘটনাটি সম্পর্কে ব্রেকিংনিউজের পক্ষ থেকে মন্তব্য চাওয়া হয় বিশিষ্ট সাংবাদিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেনের কাছে। তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত আছি।আমার তো মনে হয় একটি ভ্রান্তি থেকে ছেলে-মেয়ে গুলোকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কিন্তু যখনই তাদের সম্পর্কে সত্য ঘটনা জানা গেছে, তখন প্রশাসনের উচিত ছিল সসম্মানে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া। না হলে এ ঘটনা আমাদের সামাজিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ভবিষ্যত তরুণ প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছাবে।

ব্রেকিংনিউজ/এমএএস



আপনার মন্তব্য

অনুসন্ধান বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং