Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » অনুসন্ধান 

বিভিন্ন দফতরে এলাকাবাসীর অভিযোগ

বস্তিতে চলছে বেআইনি ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড

 বস্তিতে চলছে বেআইনি ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড
আবু হোসাইন সুমন ১৪ অক্টোবর ২০১৫, ৫:৩৩ অপরাহ্ন Print

মংলা, বাগেরহাট: জেলা শহরের মংলার দিগরাজে হাইওয়ে সড়কের পাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বস্তিতে চলছে নানা ধরণের বেআইনি ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড। বস্তির এক শ্রেণির মহিলা দোকানদার কৌশলে চালাচ্ছে দেহ ব্যবসা, মাদক কেনা-বেচা। সেই সাথে চলছে সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশয়। এতে করে এলাকার সামাজিক পরিবেশ কলুষিত হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, মংলা-খুলনা মহাসড়কের দিগরাজ বাজার এলাকায় সড়ক ও জনপথের জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে বাড়ি-ঘর ও দোকানপাট। বিশেষ করে দিগরাজ পেট্টোল পাম্পের উল্টো পাশের রাস্তার পাশ দিয়ে গড়ে ওঠা চায়ের দোকানগুলো পরিচালনা করে থাকে মহিলারা। আর এ সকল দোকানের পিছনেই তারা বসবাস করে থাকে। সন্ধ্যার পর থেকে দোকানগুলোতে শুরু হয় নানা ধরণের অপকর্ম।

দোকানের পিছনের ঘরে বিভিন্ন ধরণের মাদক সেবনের পাশাপাশি চলে অসামাজিক কর্মকাণ্ড। রাত বাড়ার সাথে সাথে রাস্তার পাশের চারপাশসহ অন্যান্য দোকানের সামনে দেখা যায় সারিবদ্ধভাবে থাকা ট্রাক ও গাড়ির লাইন। এ সকল ট্রাক ও গাড়ির চালক ও হেলপাররা বিভিন্ন দোকানের পিছনে ও দোকানিদের বাড়িতে রাত্রি যাপনসহ উঠতি বয়সের মেয়েদের নিয়ে ফূর্তি করে থাকে। রাস্তার পাশের এই দোকানগুলোর মহিলারাই কৌশলে সেখানে সন্ত্রাসীসহ নানা ধরনের অপরাধী লোকজনকে আশ্রয় প্রশয় দিয়ে থাকে।

এলাকাবাসী জানায়, চা কিংবা অন্য কোন দোকানের আড়ালে ওই এলাকায় সবচেয়ে যিনি অসামাজিক কাজে লিপ্ত তিনি হলেন রাজিয়া। রাজিয়া বেগম বানীশান্তা পতিতাপল্লীর সর্দারনি ছিলেন। বানীশান্তা বসে রাজিয়া দেহ ব্যবসা করতেন আর অন্য মেয়েদের দিয়েও করাতেন। বানীশান্তা থেকে ফিরে বেশ কয়েক বছর আগে রাজিয়া ঘর তোলেন দিগরাজ মহাসড়কের রাস্তার পাশের সড়ক ও জনপথের জায়গায়। সেখানে বসে তিনি তার লোকজন নিয়ে শুরু করে সেই পতিতাবৃত্তি। তার দেখা দেখি ওই বস্তির প্রায় ঘরেই এখন চলছে দেহ ব্যবসা। মমতাজের চায়ের দোকানের মমতাজ ও ফাতেমা, ফরিদার দোকানের ফরিদা ভাড়াটিয়া মেয়ে দিয়ে করাচ্ছেন দেহ ব্যবসা। এ ছাড়া ছবি, শিউলি, রুমা, সুমির চায়ের দোকানে ও দোকানে পিছনে চলছে অসামাজিক কার্যকলাপ। সন্ধ্যার পর রাত বাড়ার সাথে সাথেই এ সব দোকানগুলোর চারপাশ দিয়ে কাপড়সহ বিভিন্ন আসবাব দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়। এরপর আসতে থাকে নানা ধরণের খদ্দের। কেউ আসে মাদক বিকিকিনি করতে কেউ আসে সেখানকার দোকানি ও দোকানিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা মহিলাদের সাথে রাত কাটাতে।

দিগরাজ বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ি ব্রেকিংনিউজকে জানান, ছোট ছোট এই চায়ের দোকানগুলো রাত ২/৩টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এ সব ঘরগুলোতে বেশির ভাগ এসে থাকে ট্রাক ড্রাইভাররা। রাতে রাস্তার পাশের এই সকল চায়ের দোকানের সামনে ট্রাকের জটলা পড়ে। ট্রাকে গিয়ে দেখা যায় তাতে কোন লোক নেই। এছাড়া এলাকার উঠতি বয়সের যুবকেরা ঝুকে পড়ছে অসামাজিক কার্যকলাপের দিকে। দোকানের বিভিন্ন বয়সের মহিলাদের সাথে গল্প করতে করতে এখানে আসা খদ্দেররা কৌশলে চলে যান যে যার পছন্দের মেয়ের সাথে তার ঘরে। এই চায়ের দোকানগুলোতে দিন রাতে সব সময়ই যেন ভিড় লেগেই থাকে।

স্থানীয় বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অনিবার্ন হালদার ব্রেকিংনিউজকে জানান, বিভিন্ন লোকজনের মাধ্যমে বস্তির অসামাজিক কার্যকলাপরে বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তিনি আরও বলেন, ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ট্রাক চালক ও হেলফাররা এই বস্তিতে অসামাজিকভাবে দিনের পর দিন রাত্রিযাপন করে আসছে। এ বিষয়ে এলাকাবাসী বিগত সময় বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগও দিয়েছে। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকজন এখানে আত্মগোপনে থাকতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

এ ব্যাপারে মংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইনচার্জ শেখ লুৎফুর রহমান ব্রেকিংনিউজকে জানান, বিষয়টি তার জানা নেই, খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ব্রেকিংনিউজ/প্রতিনিধি/এমই



আপনার মন্তব্য

অনুসন্ধান বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং