Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » অনুসন্ধান 

অচল ল্যাম্পপোস্টে সচল অপরাধী

অচল ল্যাম্পপোস্টে সচল অপরাধী
শাফি উদ্দিন আহমদ ০৭ অক্টোবর ২০১৫, ৬:১১ অপরাহ্ন Print

ঢাকা: রাজধানীর বেশ কিছু এলাকার ল্যাম্পপোস্টে বাতি না থাকায় সন্ধ্যা নামলেই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলো অন্ধকারে ডুবে যায়। অলি-গলির রাস্তাগুলোর অবস্থা আরো ভয়াবহ। দোকান আর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের আলোয় রাতের প্রথমভাগে সড়ক কিছুটা আলোকিত থাকলেও দোকানপাট বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব এলাকায় নামে অন্ধকার। এ সুযোগে ছিনতাইসহ নানা অপকর্ম করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায় অপরাধীরা। রাত ১০টার পর শহরের অন্ধকার রাস্তাগুলো থাকে ছিনতাইকারী, পতিতা সহ অপরাধীদের দখলে। চলে মাদক সেবন, ঘটে খুনের ঘটনাও।

নবনির্বাচিত দুই মেয়র নগর ভবনে তাদের প্রথম সংবর্ধনায় নিজ মুখে স্বীকার করেছিলেন নগরীর শতকরা ৮০ ভাগ লাম্পপোস্ট অকার্যকর। ঐ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্টদের গত শবে বরাতের আগেই বাতিগুলো সচল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের (দক্ষিণ) মেয়র সাঈদ খোকন। কিন্তু নির্দেশ পালনে কোনো মাথাব্যাথা নেই কর্তৃপক্ষের।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, রাজধানীর ফার্মগেট থেকে তেজতুরীপাড়া যেতে সড়কের পূর্বদিকে রাস্তার অধিকাংশ বাতি জ্বলে না। সাতরাস্তার মোড় থেকে ফার্মগেট যাওয়ার রাস্তাটিরও একই অবস্থা। কাকরাইলের আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের সামনের সড়কের অনেক পোস্টে বাতি নেই। মালিবাগ রেলগেট থেকে রামপুরা পর্যন্ত মূল সড়কটির অবস্থাও একই। ওয়াপদা রোড, হাজীপাড়া, মালিবাগ চৌধুরীপাড়ায়ও বেশির ভাগ এলাকায় সড়কের অধিকাংশ বাতি নেই। খিলক্ষেত, বনশ্রী, যাত্রাবাড়ী, কমলাপুর, মানিকনগর, মতিঝিল, গোপীবাগ, লালবাগ, কোতোয়ালি, জুরাইন, গেণ্ডারিয়া, ধোলাইরপাড়, পোস্তগোলা, লক্ষ্মীবাজার, বাসাবো, মুগদা, চকবাজার, বাড্ডা, শহীদবাগ, গোড়ান, মিরপুর কাজীপাড়া, ইব্রাহীমপুর, পল্লবী, মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ ও মিরপুর বেড়িবাঁধ সড়কেও অনেক ল্যাম্পপোস্ট বাতিহীন অকার্যকর।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মোড় থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত ২০টি ল্যাম্পপোস্টে বাতি জ্বলে না। আগারগাঁও ক্রসিং থেকে নতুন রাস্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংলগ্ন সড়কে কমপক্ষে ১৪টি ল্যাম্পপোস্টে বাতি নেই। আবার মিরপুর ১ নম্বর সেকশন থেকে ২ নম্বর পর্যন্ত ও ২ নম্বর হয়ে চলন্তিকা মোড় দিয়ে ১১ নম্বর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত আটটি ল্যাম্পপোস্ট অচল অবস্থায় পড়ে আছে দীর্ঘদিন। মিরপুরের শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পাশ দিয়ে যাওয়া রাস্তাটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। খিলগাঁও রেলগেট থেকে মালিবাগ হয়ে রামপুরা ব্রিজ পর্যন্ত ২২টি ল্যাম্পপোস্টে বাতি জ্বলে না।

কাকরাইলের প্রধান বিচারপতির বাসভবন থেকে মগবাজার মোড় পর্যন্ত ৪টি পোস্টে বাতি নেই। একই অবস্থা সাতরাস্তা থেকে মহাখালী পর্যন্ত দুপাশের অন্তত ২৫টি ল্যাম্পপোস্টের। সেগুলোতেও বাতি জ্বলে না দীর্ঘদিন। অথচ সড়ক বাতির জন্য ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বার্ষিক বাজেটে দেয়া হয় পর্যাপ্ত অর্থ। তবে বরাদ্দকৃত অর্থের আংশিক সড়কে খরচ করে বাকিটা ভাগবাটোয়ারা করে নেয় সংশ্লিষ্ট লোকজন। বছরের পর বছর ধরে সিটি করপোরেশনের সড়ক বাতির নামে চলছে এ লুটপাট।

জিগাতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে ট্যানারি মোড় পর্যন্ত ২৬টি সড়ক বাতির মধ্যে সচল মাত্র ১০টি। এগুলোর মধ্যে আবার ৬টিতে লাগানো হয়েছে বিদুৎ সাশ্রয়ী (এনার্জি) বাতি। আর চারটিতে আছে সোডিয়াম বাতি। আবার জিগাতলা মিষ্টির দোকান মোড় থেকে ট্যানারি মোড় পর্যন্ত ১৮টি সড়ক বাতির মধ্যে মাত্র ৬টি সচল, এর মধ্যে একটি সোডিয়াম বাতি। বাকিগুলো এনার্জি বাতি। এ সড়কে দোকানও কম। পর্যাপ্ত আলো না থাকায় তাই সন্ধ্যা হলেই নামে অন্ধকার। সেই সঙ্গে মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের আনাগোনাও বাড়ে বলে জানায় ওই এলাকার ব্যবসায়িরা।

এ ব্যাপারে উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বি এম এনামুল হক ব্রেকিংনিউজকে বলেন, আমরা বাতির বিষয়ে অতি শীঘ্রই পরবর্তী যথাযথ ব্যবস্থা নেবো।'

উল্লেখ্য, ঢাকার প্রতিটি সড়কের ল্যাম্পপোস্টে এনার্জি সেভিং বাল্ব ও সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে এনার্জি বাল্ব লাগানোর কথা থাকলেও তা আংশিক কার্যকর হয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে তা কাগজ-কলমে দেখিয়ে দিচ্ছেন। চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দক্ষিণ সিটির বরাদ্দ ৬৮ কোটি ৯৯ লক্ষ টাকা। আর উত্তর সিটির জন্য বরাদ্দ ৪৬ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা। তবে যথেষ্ট অর্থ বরাদ্দ থাকলেও অন্ধকার সড়কগুলো আলোকিত হচ্ছে না এখনো।

এদিকে বছরের পর বছর ধরে ভুয়া ভাউচার আর গোপন টেন্ডারের মাধ্যমে চলছে লুটপাট। দুই করপোরেশনেই ক্রয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা, ১০ আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যুৎ প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে সিন্ডিকেট। করপোরেশনের ছোট-বড় কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে এলাকাভিত্তিক ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিও রয়েছে সিন্ডিকেটে। করপোরেশনের মনিটরিং না থাকায় সড়ক বাতির নামে লুটপাট চললেও তা দেখার কেউ নেই।

রাজধানীর বেশ কিছু রাস্তায় সিটি করপোরেশন সৌরবাতি লাগিয়েছে। কিন্তু মাত্র দুই বছর আগে লাগানো এসব বাতি এখন খুব একটা কাজে আসছে না। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এ প্রকল্পের আওতায় রাজধানীর কাকরাইল, আরামবাগ, বাংলামোটর, গুলশান, হাতিরঝিল, নাবিস্কো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ বিভিন্ন রাস্তায় এসব সৌরবাতি লাগানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সফল হলে পর্যায়ক্রমে রাজধানীর অন্যান্য রাস্তায়ও প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। কিন্তু সোলার প্যানেলের অধিকাংশ বাতি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। কোনো কোনো জায়গায় অল্প আলো জ্বললেও তা কোনো কাজে আসে না।

সড়ক বাতির অনিয়মের ব্যাপারে উত্তর সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (অঞ্চল-৫) প্রণব কুমার ঘোষ ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘সোয়া ৪৬ কোটি টাকার পুরোটা বাতির জন্য না। এর বেশ কিছু অন্য কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে। আমরা বাতি কিনি না। ভাণ্ডার থেকে এনে তা লাগিয়ে দিই। এ ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্নীতির সুযোগ থাকে না। এর পরও কেউ যদি আমার অঞ্চলে বাতির ব্যাপারে অনিয়ম করে তা খতিয়ে দেখবো।’

ব্রেকিংনিউজ/এসইউএ/এমআর



আপনার মন্তব্য

অনুসন্ধান বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং