Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » অনুসন্ধান 

ভাড়ায় মিলছে শ্রোতা

ভাড়ায় মিলছে শ্রোতা
ছবি: ফাইল ফটো
আহমদ নূর ০২ অক্টোবর ২০১৫, ৩:৫৬ অপরাহ্ন Print

ঢাকা: প্রতিদিনই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের অনুষ্ঠান হয়। জাতীয় প্রেস ক্লাব, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিস্টিটিউট মিলনায়তন, সিরডাপ মিলনায়তন, পাবলিক লাইবেরির মত স্থানে প্রতিনিই কোন না কোন অনুষ্ঠান থাকেই।

সাধারণ মানুষের কাছে কোন সামাজিক বা রাজনৈতিক সংগঠনের অনুষ্ঠান দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক অবস্থার চিত্র তুলে ধরার ধারণা থাকলেও মূলত এসব অনুষ্ঠান হয় লোকদেখানো। বিশেষ করে প্রেস ক্লাব ও রিপোর্টার্স ইউনিটির অনুষ্ঠানগুলোর অধিকাংশ এক নেতা এক দলের হয়ে থাকে। আর দর্শক- শ্রোতার আসনে বসে থাকেন ভাড়ায় আনা শ্রোতারা। শ্রোতাদের অধিকাংশ বিভিন্ন পেশার। রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য শোনা তাদের অতিরিক্ত আয়ের একটা অংশ হয়ে গেছে। পেশায় অনেকে রিকশা-ভ্যান চালক, সবজি বিক্রেতা, মোটর মেকানিক থেকে হকার পর্যন্ত। ব্রেকিংনিউজের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ভাড়ায় পাওয়া শ্রোতার বিভিন্ন তথ্য।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের ৩য় তলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের আয়োজনে ‘জঙ্গিত্ব আবিষ্কার! সংকট ও পরিণতি, মুক্তি কোন পথে’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছিলেন দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি অ্যাড. খন্দকার মাহবুব হোসেন। দর্শক- শ্রোতাদের পেছনের সারিতে বসা ৮-১০ যুবক। দেখেই সন্দেহ তৈরি হল। কাছে গিয়ে ‘এটা কার অনুষ্ঠান? প্রধান অতিথি কে?’- এমন প্রশ্ন করতেই সরল হাসিতেই তাদের সাধারণ উক্তি- ‘ভাই এইগুলা আমাদের জিগান ক্যান। বুঝেন না?’ খানিক আলাপেই বোঝা গেল এরা ভাড়ায় আসা শ্রোতা।

কথা প্রসঙ্গে কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা ফয়সল আহমেদ জানান, প্রতিদিন কোন না কোন অনুষ্ঠানে শ্রোতার ভূমিকায় তিনি অংশ নেন। বিনিময়ে এক অনুষ্ঠানে ৯০ টাকা থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত পান। সঙ্গে খাবার ও এক বোতল পানি। পাশ থেকে আরেকজন বলে উঠলেন, ২ ঘণ্টা সময় দিয়ে এর থেকে ভালো ইনকাম আর কোন কাজে নাই। এ জন্য অন্যান্য কাজ ফেলে তারা শ্রোতার ভূমিকায় কোন না কোন অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

এর সপ্তাহ খানেক আগের ঘটনা, জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ভাসানী সমর্থক গোষ্ঠীর এক অনুষ্ঠানে কথা হয় এমন কিছু শ্রোতার সঙ্গে। মূলত এ অনুষ্ঠানে বেশিরভাগ বক্তা ইংরেজিতে বক্তব্য রাখছিলেন। পেশায় ভ্যান চালক তুহিন নামের এক শ্রোতার কাছে জানতে চাওয়া হয় কি শুনছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হেরা (তারা) তাগর (তাদের) কথা কইব (বলবে)। আমি বুঝলেই কি আর না বুঝলেই কি। কথা প্রসঙ্গে তিনি স্বীকার করেন ১০০ টাকার বিনিময়ে তিনি এখানে নেতাদের বক্তব্য শুনতে এসেছেন। তার সাথে আরও ৪জন আছে। তবে তাদেরকে তিনি আগে কখনই দেখেননি। তুহিনকে যিনি ভাড়ায় এনেছেন বাকিরাও তার লোক।

কে নিয়ে এসেছে এমনটা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের এখানে রেখে তিনি বাহিরে গেছেন। পেমেন্ট দেওয়া হয়ে গেছে। অন্যদিন কাজে লাগলে আমাদের তিনি জানিয়ে দেবেন।

আফজাল নামের একজন আফসোস করে বলেন, টাকার পাশাপাশি আমরা যে খাবারটা পাই তা আগে প্রেস ক্লাবের সামনের দোকানগুলোতে বিক্রি করতে পারতাম। এখন দোকান নেই তাই নিজেদেরই খেতে হয়।

জাতীয় প্রেস ক্লাব ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির বেশিরভাগ অনুষ্ঠানের অয়োজক হলেন বঙ্গবন্ধু একাডেমী, নৌকা সমর্থক গোষ্ঠী, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, ভাসানী সমর্থক গোষ্ঠী, জিয়া আদর্শ বাস্তবায়ন কমিটিসহ নামে-বেনামে রাজনৈকি, সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠন। এমনও অনেক সংগঠন রয়েছে যাদের কার্যালয় পর্যন্ত নেই। এরা আবার বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে টাকার বিনিময়ে ক্রেস্ট বা সনদপত্র দিয়েও অনেককে সম্মাননা দেন।

নামসর্বস্ব সংগঠনের অনুষ্ঠান ও ভাড়ায় শ্রোতাদের ব্যাপারে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবীণ সাংবাদিক বলেন, প্রেস ক্লাব বা ডিআরইউতে প্রতিদিন কোন না কোন অনুষ্ঠান থাকে। অতিথির গুরুত্ব অনুধাবন করে আমরা সংবাদ সংগ্রহ করতে যাই। কিন্তু সব থেকে বেশি বিব্রতকর অবস্থায় পড়ি যখন দেখি অনুষ্ঠানে ভাল কোন শ্রোতাই নেই।

ব্রেকিংনিউজ/প্রতিবেদক/এমএইচ/এসএম



আপনার মন্তব্য

অনুসন্ধান বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং