Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

সোমবার ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, পূর্বাহ্ন

প্রচ্ছদ » অনুসন্ধান 

৩০ টাকায় প্রত্যয়ন ২০ টাকায় সত্যায়ন

৩০ টাকায় প্রত্যয়ন ২০ টাকায় সত্যায়ন
চারিত্রিক সনদ ও সত্যায়িত ছবি
সোনিয়া ইসলাম ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ২:১৭ অপরাহ্ন Print

ঢাকা: চাকরি, শিক্ষা কিংবা সরকারি অনেক কাজেই প্রয়োজন হয় সনদপত্রের সত্যায়ন। সত্যায়িত করা লাগে ব্যক্তির ছবিও। এছাড়া চাকরি প্রার্থীদের জন্য অবশ্য প্রয়োজনীয় আরেকটি দরকারী সনদ হল প্রত্যয়নপত্র। সত্যায়ন করার ক্ষমতা রাখেন সরকারের যে কোন প্রথম শ্রেণির গ্যাজেটেড কর্মকর্তা। আর চারিত্রিক সনদপত্র দিয়ে থাকেন নির্বাচিত যে কোন জনপ্রতিনিধি, যেমন-চেয়ারম্যান, মেম্বার, কমিশনার, উপজেলা চেয়ারম্যান।

কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্যের কথা, এমন গুরুত্বপুর্ণ বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের নাকের ডগায় ব্যবসা ফেঁদে বসেছে নীলক্ষেতসহ রাজধানীর বেশকিছু এলাকায় সংঘবদ্ধ চক্র।

রবিবার রাজধানীর নীলক্ষেতে সরেজমিনে ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। সেখানে সনদপত্র ও প্রত্যয়ন বাণিজ্য চলছে দেদারছে। কেউ লুকিয়ে, কেউ ডেকে প্রত্যয়নপত্র ও সনদপত্র বিক্রির কাজ করছে। তারা অবলীলায় প্রায় প্রকাশ্যে এমন রমরমা ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে।

কেন এখানে? জানতে চাইলে যাত্রাবাড়ী থেকে আসা ইসমত আরা ব্রেকিংনিউজকে জানান, আমি একটি অফিসে চাকরির জন্য জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছিলাম, এখন ওরা ওগুলোর সাথে চারিত্রিক সনদপত্রও চাচ্ছে। তাই নীলক্ষেতে চলে এলাম চারিত্রিক সনদপত্রের জন্য। তিনি আরও জানান, তার বন্ধুদের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন নীলক্ষেত থেকে খুব সহজেই প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র তৈরি করা যায়। তাই এখানে আসা।

এ সময় দেখা গেছে, চক্রটি মাত্র ৩০ টাকার বিনিময়ে প্রস্তুত করে দিচ্ছে চারিত্রিক সনদপত্র আর ২০ টাকার বিনিময়ে সত্যায়িত করে দিচ্ছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। শুধু তাই নয় ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য খুব স্বল্পমূল্যে প্রস্তুত করে দিচ্ছে সীলও। ১শ’থেকে ১শ’৫০ টাকার বিনিময়ে তৃণমূল পর্যায়ের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে কমিশনারের সীল পর্যন্ত  বানিয়ে দিচ্ছে। যেখানে চারিত্রিক সনদপত্র, সত্যায়ন, সীলের মাধ্যমে একজন চাকরিপ্রার্থীর অবস্থান আর কাগজপত্রের সত্যতা নির্ণয় করার কথা সেখানে এটা তাদের কাছে পরিণত হয়েছে এক রমরমা বাণিজ্যে।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এখন যেন একজন মানুষকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রটাও বাণিজ্যের আওতায় চলে এসেছে। আর বিষয়গুলো যদি এমনই হয় তাহলে কেন দরকার এসবের। ডিটিজাল বাংলাদেশে সবার আগে এই বিষয়গুলো ডিজিটালাইজ করতে পারলে বিষয়গুলোর সত্যতা নিয়ে যেমন প্রশ্ন থাকবে না, তেমনি কমবে মানুষের ভোগান্তিও।

ঘটনাটির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য এ সময় ব্রেকিংনিউজের পক্ষ থেকেও একটি চারিত্রিক সনদপত্র আর একটি ছবিতে ৫০ টাকার বিনিময়ে সত্যায়ন করে নিয়ে আসা হয়।

ব্রেকিংনিউজ/ এসআইপি/এমএএস



আপনার মন্তব্য

অনুসন্ধান বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং