Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, পূর্বাহ্ন

প্রচ্ছদ » বিজ্ঞান বিশ্ব 

মহাকাশ থেকে প্রাচীন সভ্যতার খবর দিলো টেলিস্কোপ!

মহাকাশ থেকে প্রাচীন সভ্যতার খবর দিলো টেলিস্কোপ!
বিজ্ঞান বিশ্ব ডেস্ক ০২ নভেম্বর ২০১৫, ৪:০৮ অপরাহ্ন Print

ঢাকা: পৃথিবীতে মানুষই একমাত্র প্রাণী যার কৌতুহলের কোনো শেষ নেই। জানার এই ব্যাকুলতাই মানুষকে পৌঁছে দিয়েছে উন্নতির শীর্ষদেশে। প্রতিনিয়তেই মানুষ নতুনকে জানতে চায়। জানতে গিয়ে প্রাণ হারায়। তবু আগ্রহের বিচ্যুতি হয় না। মানুষের এই আগ্রহের কারণেই আদিম পৃথিবী আজ আধুনিক বিশ্বে পরিণত হয়েছে। আর সেক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছেন বিজ্ঞানীরা।

মহাবিশ্বের কাছে পৃথিবীর অস্থিত্ব একেবারেই ক্ষুদ্র। যেন হাতির পিঠে বসে থাকা পিঁপড়া। অথচ আমরা যেখানে পৃথিবীর খবরই ঠিক মতো বলতে পারিনা সেখানে মহাবিশ্ব নিয়ে গবেষণা কতটা উচ্চতর বিষয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর সে কাজটিই দীর্ঘদিন যাবৎ সুচারু রূপে করে আসছে নাসার বিজ্ঞানীরা।

হাজার হাজার বছর ধরে এই বিশ্বে যা চোখের আড়ালে ছিল, তা নজরে এল মহাবিশ্বে গিয়ে! পৃথিবীর বহু প্রাচীন সভ্যতার বিচিত্র কারুকাজের সন্ধান পেল বহুদূরে মহাকাশে নাসার পাঠানো উপগ্রহের টেলিস্কোপ! হারানো সভ্যতার সেই চোখ-ধাঁধানো কারুকাজের হদিশ মিলল কাজাখস্তানে। যেগুলি কম করে ৮ হাজার বছরেরও বেশি পুরনো।

মহাকাশ থেকে নাসার টেলিস্কোপের নজরে এল প্রাচীন সভ্যতার কোন কোন কারুকাজ? সরল রেখা, বৃত্ত, ত্রিকোণ, চতুষ্কোণ, বর্গক্ষেত্র, আয়তক্ষেত্র, রম্বাস! ছোট বেলায় আমাদের শেখা প্রায় সব জ্যামিতিক চিত্রই।

এখানেই চমকের শেষ নয়। ওই জ্যামিতিক চিত্রগুলি রয়েছে কয়েকশো হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে। কোথাও আবার সেগুলি এক একটা আন্তর্জাতিক মাপের ফুটবল মাঠের মতো। জ্যামিতিক চিত্রগুলি অতটা এলাকা জুড়ে না থাকলে তো তাদের অত দূরে মহাকাশ থেকে দেখাই যেত না! নিল আর্মস্ট্রং যেমন চাঁদে গিয়ে চীনের প্রাচীর আর এভারেস্টের চুঁড়া দেখেছিলেন, ঠিক তেমনই মহাকাশ থেকে ওই জ্যামিতিক চিত্রগুলিকে দেখতে পেয়েছে নাসার উপগ্রহের টেলিস্কোপ।

এ ধরনের জ্যামিতিক কারুকাজের একটি বিশেষ নাম হচ্ছে ‘জিওগ্লিফ্‌স’। মাটির ওপর খোদাই করা জ্যামিতিক চিত্রাবলি। কোথাও কোথাও বানানো হয়েছে মাটির স্তুপ। অনেকটা পিরামিডের মতো। উত্তর কাজাখস্তানের তুর্গাই এলাকায় এমন অন্তত ২৬০টি ‘জিওগ্লিফ্‌সে’র হদিশ পেয়েছে নাসার উপগ্রহ।

কিন্তু এত দিন সেগুলির হদিশ কেন পাননি প্রত্নতত্ত্ব বা পুরাতত্ত্ববিদরা? কেন তা নজরে পড়েনি ভূতাত্ত্বিকদের? নাসা তার দু’টি কারণ দেখিয়েছে। এক, যে এলাকা জুড়ে ওই সুবিশাল জ্যামিতিক চিত্রগুলি ছড়িয়ে রয়েছে, তা কিছু দিন আগেও ছিল গভীর বনাঞ্চল। একসময় সেই বন কেটে ফেলা হয়েছিল বসতি গড়ে তোলার তাগিদে। তাই ওই জ্যামিতিক চিত্রগুলিকে এখন দেখা যাচ্ছে। দুই, চিত্রগুলি এতটাই বিশাল যে, কোথাও তার একাংশ দেখা গেলে, তার থেকে সেটা ত্রিভূজ না কি বর্গক্ষেত্র তা বুঝে ওঠা সম্ভব নয়। একমাত্র মহাকাশ থেকেই যাদের সার্বিক চেহারাটা বোঝা সম্ভব হয়।

২০০৭ সালে এক বার কাজাখস্তানের অর্থনীতিবিদ ও শখের পুরাতত্ত্ববিদ দিমিত্রি দে’র নজরে পড়েছিল ওই সব জ্যামিতিক চিত্রের কিছু কিছু অংশ। কিন্তু তখন এই সবের আগাগোড়া কিছুই বুঝতে পারেননি তিনি। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।

ব্রেকিংনিউজ/এমআর



আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞান বিশ্ব বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং