Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

বৃহস্পতিবার ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, পূর্বাহ্ন

প্রচ্ছদ » লাইফস্টাইল 

ভালোবাসা বেঁচে থাকা

ভালোবাসা বেঁচে থাকা
সাজেদা আক্তার ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৬, ৮:১৩ পূর্বাহ্ন Print

ঢাকা: ‌‘ভালোবাসা'। একটি শব্দ। যার মানে জীবন, বেঁচে থাকা, স্বপ্ন দেখা। ভালোবাসা মানে আশা-ভয়। ভালোবাসা মানে বন্ধন, আস্থা, বিশ্বাস। ভালোবাসার সংজ্ঞা হয়তো এর কোনোটিই নয়। কিংবা এমন হাজারো শব্দের সম্মিলনে ভালোবাসার পূর্ণ পরিচয়।

ভালোবাসা নামের ৪ অক্ষরের ছোট্ট এই শব্দটির মাঝে লুকিয়ে আছে অনেক কিছু। পৃথিবীর সব বন্ধনের মাঝেই ভালোবাসা থাকে। ভালোবাসা থাকে শত্রুতার মাঝেও।

ভালোবাসা নিয়ে অসংখ্য কবিতা, গান, সাহিত্য, উপন্যাস, গল্প, চলচ্চিত্র, নাটক রচিত  হয়েছে। এতোকিছুর পরও সব সময়ই ভালোবাসা যেন অধরাই থেকে যায় অধিকাংশ মানুষের জীবনে।

মুসলিম ধর্মীয় পণ্ডিতরা বলেন, ‘ভালোবাসার মাত্র ১ শতাংশ পৃথিবীর সব জীবনের মধ্যে স্রষ্টা বণ্টন করেছেন। আর বাকি ৯৯ শতাংশই নিজের কাছে রেখেছেন তাঁর সৃষ্টিকে ভালোবাসার জন্যে।’

ভালোবাসা আসলে কী জিনিস? কেউ কি ভেবে দেখেছেন এর সত্যিকারের সংজ্ঞা কী? ভালোবাসার আসলে কোনো সংজ্ঞা নেই। ভালোবাসার রয়েছে কিছু বৈশিষ্ট্য এবং সত্য। যে সত্যগুলো সকল সত্যিকারের ভালোবাসার মধ্যেই থাকে। কিন্তু আজকালের ঠুণকো ভালোবাসার অভিনয়ের কারণে এই সত্যগুলো কেউ মনে রাখে না। ভুলে যায় অনেকেই। সে কারণেই আজকাল ভালোবাসার দাম নেই মোটেই। চোখে পড়ে না আগেকার সেই সত্যিকারের ভালোবাসা।

সব কিছু ছাপিয়ে আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি। বিশ্ব ভালোবাসা দিবস বা ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’। প্রেক্ষাপট হয়তো অনেকেরই জানা।

ভালোবাসার গল্পটি শুরু হয়েছিল সেই ২৬৯ খ্রিস্টাব্দে। রোমের চিকিৎসক তরুণ যাজক সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের চিকিৎসায় দৃষ্টি ফিরে পেয়েছিল নগর জেলারের দুহিতা। পরে দুজনের মধ্যে মন দেয়া-নেয়া হয়। সেই থেকে জন্ম নিয়েছিল তাদের ভালবাসার অমরগাথা। ভালবাসার অপরাধে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে ফাঁসিতে ঝুলতে হয় ফেব্রুয়ারির ১৪ তারিখে। তারপর এই ভালোবাসার স্বীকৃতি পেতে দুই শতাব্দী নীরবে-নিভৃতে পালন করতে হয়েছে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে।

৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে রোমের রাজা পপ জেলুসিয়াস এই দিনটিকে ভ্যালেন্টাইন দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। গ্রিক ও রোমান উপকথার মতই ভালোবাসা দিবসের উৎপত্তি নিয়ে আরো গল্প-কাহিনী ছড়িয়ে আছে ভুবনজুড়ে। কে এই ভ্যালেন্টাইন তাও রহস্যাবৃত।

ক্যাথলিক এনসাইক্লোপিডিয়া অনুসারে আমরা তিনজন সেন্ট ভ্যালেন্টাইন বা ভ্যালেন্টিনাসের সন্ধান পাই। তারা সবাই ১৪ ফেব্রুয়ারিতে আত্মদান করেন।

উনিশ শতকেই উত্তর আমেরিকায় ভ্যালেন্টাইন ডে পালিত হয় ব্রিটিশ অভিবাসীদের মাধ্যমে। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক হারে ভ্যালেন্টাইন কার্ড বিনিময় শুরু হয় ১৮৪৭ সালে ম্যাসাসুয়েটসের অরকেস্টারে। ইতিহাসবিদদের ভাষায়, দুটি প্রাচীন রোমান প্রথা থেকে এই উৎসবের সূত্রপাত।

চীনে ভালোবাসা প্রকাশের সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। ভ্যালেন্টাইন ডে পালনের আগে তারা বছরের দুই দিন পালন করতো ভালোবাসা দিবস। এখন তো চীনে ব্যাপক হারে দিবসটি পালিত হয়। পশ্চিমা ধাঁচে ১৪ ফেব্রুয়ারিই তারা ভালোবাসা দিবস পালন করে।

ইউরোপের সব দেশেই মহাসমারোহে তরুণ-তরুণীরা এ দিবস পালন করে। মার্কিনিদের মধ্যে ভ্যালেন্টাইন ডে পালনের হার বেশি। জরিপে দেখা গেছে, চার মার্কিনির মধ্যে তিনজনই দিবসটি পালন করে। আমেরিকায় এ দিনে ১৬ কোটি কার্ড, ১৩ কোটি গোলাপ বিনিময় হয়।

ভারতেও ভালোবাসা দিবস পালিত হয় উৎসবের আমেজে। তবে আমাদের দেশের মতো ভারতেও তরুণ-তরুণীরাই এ দিবস পালন করেন বেশি।

আজ সারা দিন মুঠোফোনে, ফেসবুকে, টুইটারে শুভেচ্ছা বিনিময় চলবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, চারুকলা, বাংলা একাডেমি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ধানমন্ডির রবীন্দ্রসরোবর, সংসদ ভবন চত্বর, রমনা বটমূল, চন্দ্রিমা উদ্যান মুখর থাকবে সারা দিন।

শুধু ঢাকায় কেন, থাকবে দেশব্যাপী প্রেমিক-প্রেমিকা ও দম্পতিদের ভাব বিনিময়।

তবে শুধু একজনের জন্য নয়, ভালোবাসা হোক পরিবারের সবার জন্য। ভালোবাসা হোক মানবজাতির জন্য, ভালোবাসা হোক সব সৃষ্টি জগতের প্রতি। নিঃশর্ত ভালোবাসার বন্ধন সৃষ্টি হোক এবং অটুুট থাকুক দেশ মাতৃকার প্রতি। একদিনের জন্য নয়, নির্মোহ এ ভালোবাসা চাই সারা জীবনের জন্য।

ব্রেকিংনিউজ/এইচএস



আপনার মন্তব্য

লাইফস্টাইল বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং