Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

বৃহস্পতিবার ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » সাক্ষাৎকার 

‘মন্ত্রণালয়ের কেনাকাটা ই-কমার্স’র আওতায় আনতে হবে’

‘মন্ত্রণালয়ের কেনাকাটা ই-কমার্স’র আওতায় আনতে হবে’
অঞ্জন চন্দ্র দেব ১২ মার্চ ২০১৬, ৭:২৯ অপরাহ্ন Print

ঢাকা: ২০১৪ সালে কয়েকজন উদ্যোক্তা মিলে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) প্রতিষ্ঠা করেন। যা এরই মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে স্বীকৃতি পেয়েছে। সংগঠনটি এফবিসিসিআই’র সদস্য পদও পেয়েছে। যা উদ্যোক্তাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা তৈরি করেছে। তবে এর উন্নয়নে সরকারের সব মন্ত্রণালয়ের কেনাকাটা ই-কমার্স’র আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট রাজিব আহমেদ।

রাজিব আহমেদ শুরু থেকেই ই-ক্যাব এর সাথে কাজ করছেন। বাংলাদেশের ই-কমার্স সেক্টরের সমস্যা, সম্ভাবনা এবং ই-ক্যাব’র কর্মকাণ্ড সম্পর্কে রাজিব আহমেদ ব্রেকিংনিউজের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন। তার একান্ত সাক্ষাৎকারটি ব্রেকিংনিউজের পক্ষ থেকে গ্রহণ করেছেন অঞ্জন চন্দ্র দেব। সাক্ষাৎকারের অংশবিশেষ তুলে ধরা হলো।

ব্রেকিংনিউজ: এই মুহূর্তে বাংলাদেশের ই-কমার্স সেক্টরের অবস্থা সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কি?

রাজিব আহমেদ: বাংলাদেশের ই-কমার্স সেক্টরের সার্বিক অবস্থা নিয়ে আমি মোটামুটি সন্তুষ্ট। এতে কোন সন্দেহ নেই যে, আমাদের বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। তবে একই সঙ্গে সম্ভাবনাও রয়েছে।

একটি বড় সমস্যা হচ্ছে, সরকারি পর্যায়ে ই-কমার্সের কোন পৃষ্টপোষকতা পাওয়া যাচ্ছে না। এটা ই-কমার্স ব্যবসার উন্নয়নে একান্ত প্রয়োজন। তাই সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর এক্ষেত্রে দৃষ্টি দেবে বলে আমার বিশ্বাস।

অন্যদিকে যদি চিন্তা করি তাহলে দেখা যাবে যে, ই-কমার্সের বাজার একটু একটু করে বাড়ছে এবং এটা বাড়তেই থাকবে। অনেক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সরকারি নীতিমালা এবং পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে আমাদের দেশের ই-কমার্স সেক্টর বিশ্বের অন্যান্য দেশ এমনকি প্রতিবেশী দেশ ভারতের তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছে।

ব্রেকিংনিউজ: ২০১৫ সালে এই সেক্টরে ইতিবাচক নেতিবাচক কী ঘটনা ঘটেছে?

রাজিব আহমেদ: ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের স্বীকৃতি পাওয়ার ফলে এ সেক্টরের জন্যে একটি অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক সংগঠন এফবিসিসিআই’র সদস্যপদ লাভ করেছি।

আরেকটি ইতিবাচক দিক হিসেবে আমি বলব, সাধারণ মানুষের মধ্যে অনলাইন কেনাকাটা সম্পর্কে একটু একটু করে আস্থা বেড়েছে। সংখ্যাটা সঠিক কতটা বেড়েছে এ নিয়ে আসলে তেমন কোন গবেষণা বা জরিপ নেই। তবে আমরা বুঝতে পারছি ফেইসবুকের মাধ্যমে কেনাকাটা বেড়েছে এবং আমাদের সদস্যদের থেকেও জানতে পারছি, অনেক ওয়েবসাইটেই কেনাবেচা বেড়েছে।

তবে কয়েকটি ঘটনা বেশ নেতিবাচক ছিল। চলতি অর্থ বছর বাজেটে প্রথম অনলাইনে কেনাকাটার উপরে ৪শতাংশ মূল্য সংযোজন কর আরোপ করার ঘোষণা প্রদান করে। এ ঘোষণা ই-কমার্স সেক্টরের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের খানিকটা হতাশ করেছে।

ব্রেকিংনিউজ: দেশের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালটি ই-কমার্সের জন্যে কেমন হবে বলে আপনি মনে করছেন?

রাজিব আহমেদ: ২০১৬ সালটি দেশের ই-কমার্স সেক্টরের জন্যে একটি তাৎপর্যপূর্ণ বছর হবে বলে আমি মনে করি। বাংলাদেশের ই-কমার্সের জন্যে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে- ডেলিভারি বা কুরিয়ার। আমরা আশাবাদী যে, এ বছর সমস্যার পুরোটা না হলেও অন্তত ৯০শতাংশ সমাধান হবে। ২০১৬ সালে বাংলাদেশের ই-কমার্স সেক্টরে ভালো প্রবৃদ্ধি ঘটবে বলে আমার মনে হয়।

ব্রেকিংনিউজ: একজন ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা এবং প্রযুক্তি নির্বাহী হিসেবে আমাদের দেশে ই-কমার্স সেক্টরের বিকাশের জন্যে আপনার সুপারিশ কী?

রাজিব আহমেদ: ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা হিসেবে নয়, ই-ক্যাব’র সভাপতি হিসেবে আমি কিছু সুপারিশ রাখছি সরকারের প্রতি। প্রথম, সরকারের সমস্ত মন্ত্রণালয়কে ই-কমার্সের অধীনে নিয়ে আসা। এসব মন্ত্রণালয়ের যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয় ই-কমার্সের মাধ্যমে সম্পাদন করার দাবি থাকবে। ই-কমার্স কিছু ধনি লোকের শখের জিনিস নয়, একে দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে সম্পৃক্ত করতে হবে।

আমরা যদি খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসার মতো মৌলিক বিষয়গুলোকে ই-কমার্সের অধীনে আনতে পারি, তাহলেই কিন্তু দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে একধাপ এগিয়ে যাবে।

দ্বিতীয়, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ই-কমার্সকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তাহলে এই প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা ই-কমার্সের ভালো দিকগুলো সম্পর্কে এখন থেকেই ওয়াকিবহাল থাকবে এবং ভবিষ্যৎ একটি প্রজন্ম গড়ে উঠবে, যারা ই-কমার্স সম্পর্কে জানবে।

তৃতীয়, ই-কমার্সকে ঢাকার বাইরে ছড়িয়ে দেয়ার জন্যে যা যা করা দরকার তার সবকিছুই আমাদের করতে হবে।

চতুর্থ, আমাদের ই-কমার্স সেক্টরে বর্তমানে যে দুই তিনটি মৌলিক সমস্যা আছে যেমন-ডেলিভারি, অনলাইন কেনাকাটায় আস্থাহীনতা, এসব ব্যাপারে সরকারের সাহায্য করতে হবে।

পঞ্চম, অনলাইনে কেনাকাটা করার সুবিধা সম্পর্কে জানানো এবং সাধারণ মানুষকে কেনাকাটায় উৎসাহিত করার জন্যে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা প্রয়োজন। যা একমাত্র সরকারই করতে পারে।

ব্রেকিংনিউজ: ই-কমার্সকে দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেবার জন্যে আর কী করা উচিত বলে আপনি মনে করেন।

রাজিব আহমেদ: এক্ষেত্রে যেসব ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনগুলো রয়েছে, যেমন- বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস), বেসিস এবং আমরা ই-ক্যাব অথবা বাক্য এবং আইএসপিএবি তাদের সঙ্গে সরকারি সহযোগিতা আরো বৃদ্ধি করতে হবে। তাদেরকেও যেমন এগিয়ে আসতে হবে, তেমনি সরকারের মধ্যেও এক ধরনের সদিচ্ছা বা আন্তরিকতা থাকতে হবে।

আইসিটি পণ্যকে দেশের ৬৪ হাজার গ্রামের প্রতিটি গ্রামের মানুষের কাছে পৌঁছে দেব আমরা। এই আন্তরিকতা থাকলে এই কাজটি এক-দুই বছরের মধ্যে করা সম্ভব। ছোট্ট একটা উদাহারণ দেই, দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ১০০ কম্পিউটার নিয়ে একেকটা ল্যাব হতে পারে। যেখানে সেই ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্ত গ্রামগুলোর মানুষ নামমাত্র বা সম্ভব হলে বিনামূল্যে কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবে।

এই একটি কাজ ঠিক মতো করতে পারলেই কিন্তু আইসিটি পণ্যের ব্যবহার অনেক বৃদ্ধি পাবে। আর একই সঙ্গে ট্যাবলেট পিসি বা স্মার্টফোনের মতো যেসব ডিভাইস রয়েছে, সেগুলো গ্রামের মানুষের কাছে ভর্তুকি দিয়ে হলেও কিছুটা কম মূল্যে পৌঁছে দেবার ব্যবস্থা করা উচিত।

ব্রেকিংনিউজ: দেশে ই-কমার্স সেক্টরের উন্নয়ন ই-ক্যাব কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে?

রাজিব আহমেদ: ই-কমার্স সেক্টরের উন্নয়নের লক্ষ্যেই ই-ক্যাব সৃষ্টি করা হয়েছে। আমরা একটি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন এবং আমাদের কাজ হচ্ছে- এই সেক্টরের সব সমস্যা নিয়ে কাজ করা এবং এ খাতে সরকারকে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করা। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের প্রজেক্ট বাস্তবায়নে সহায়তা করা।

ব্রেকিংনিউজ: ই-কমার্সকে সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেবার জন্যে আরও কী উদ্যোগ নেয়া উচিত?

রাজিব আহমেদ: সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে ই-কমার্স নিয়ে সদিচ্ছা, সচেতনতা, এবং আন্তরিকতা দরকার। আমরা যদি ২০১৬ সালকে ই-কমার্সের বিনিয়োগের বছর হিসেবে ধরে নেই, তাহলে ২০২১ সালের মধ্যে ব্যাপক সাফল্য পাব।

সরকার শিক্ষা ব্যবস্থায় ই-কমার্সকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচারণার ব্যবস্থা করতে পারে। কুরিয়ার সম্পর্কিত সমস্যাগুলো নিয়ে আমাদের সাহায্য করতে পারে। এসব কাজ সরকার যদি করতে পারে, তাহলে আমরা অনেক বছর ধরে এর সুফল পাব।

ব্রেকিংনিউজ: ই-কমার্সের মাধ্যমে পণ্য কিনে অনেকেই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এর বিরুদ্ধে আপনারা কী ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছেন?

রাজিব আহমেদ: ই-ক্যাব সদস্য প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য ক্রয় করে যদি কেউ ভোগান্তির শিকার হন বা প্রতারিত হন, তাহলে আমাদের কাছে অভিযোগ জানাতে পারবে। ই-ক্যাব পুলিশ বা আদালত কোনটাই নয়। আমরা যেটা করতে পারি তা হলো, আমাদের কোন সদস্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ পেলে আমরা উক্ত সদস্যকে কারণদর্শাও নোটিশ দিয়ে তাকে কালো তালিকাভুক্ত করতে পারি। এমনকি আমরা তার সদস্যপদ বাতিল করতে পারি।

ব্রেকিংনিউজ: ডেলিভারিতে ভোগান্তি কমাতে ই-ক্যাব কি কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে?

রাজিব আহমেদ: এই মুহূর্তে ই-কমার্সের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, পণ্য ডেলিভারি বা কুরিয়ার সার্ভিস। এই সমস্যার সমাধান করতে পারলেই আমাদের ৭০-৮০শতাংশ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তাই যেসব প্রতিষ্ঠান কুরিয়ার সেবা প্রদান করছে, তাদেরকে আন্তরিক হতে অনুরোধ করতে চাই।

এছাড়াও বাংলাদেশ ডাক বিভাগের সাথে আমরা একটি চুক্তি করতে যাচ্ছি খুব শিগগিরই। যার ফলে ই-ক্যাব সদস্যরা বাংলাদেশ ডাক বিভাগের বিশেষ সেবা পাবেন।

ব্রেকিংনিউজ: অনলাইনে অর্থ লেনদেনে অনেক ঝামেলা সৃষ্টি হয়। এ ব্যাপারে কী উদ্যোগ গ্রহণ করছেন আপনারা?

রাজিব আহমেদ: অনলাইনে মানুষ টাকা-পয়সা লেনদেন করতে এখনো ভয় পায় এবং কিছুটা আস্থাহীনতা রয়েছে। আরেকটা ব্যাপার হলো অনলাইনে আপনি মূল্য পরিশোধ করতে হলে আপনাকে তিন শতাংশ সার্ভিস চার্জ দিতে হচ্ছে।

এক হাজার টাকায় একটি পণ্য ক্রয় করলে তার সাথে আরো ৩০ টাকা দিতে হবে। অথচ ক্যাশ-অন-ডেলিভারিতে এসব ঝামেলা নেই। এক্ষেত্রে এক ধরনের সমস্যা রয়েছে এবং এ সমস্যা সমাধানে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের সদস্যদের জন্যে আমরা বিশেষ মূল্যে বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট, আইএফআইসি মোবাইল ফিন্যান্স, ওয়ান ব্যাংকের মোবাইল ফিন্যান্স, পেইজা অ্যাকাউন্টসহ এ ধরনের বেশ কিছু সার্ভিসের ব্যবস্থা করেছি। তাছাড়া এসএসএল কমার্সের মতো অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়েগুলো ই-ক্যাব’র সদস্যদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে থাকে।

ব্রেকিংনিউজ: আমাদের সময় দেয়ার জন্যে ধন্যবাদ।

রাজিব আহমেদ: আপনাকেও ধন্যবাদ।

ব্রেকিংনিউজ/এসিডিটি/এইচএস



আপনার মন্তব্য

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং