Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

বৃহস্পতিবার ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » সাক্ষাৎকার 

‘উচ্চতায় পৌঁছাতে বড় স্বপ্ন দেখতে হবে’

‘উচ্চতায় পৌঁছাতে বড় স্বপ্ন দেখতে হবে’
ছবি: ব্রেকিংনিউজ
অঞ্জন চন্দ্র দেব ১৯ আগস্ট ২০১৫, ১:৩১ অপরাহ্ন Print

ঢাকা: বর্তমান প্রজন্মকে প্রযুক্তির সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে প্রযুক্তি পণ্য ছাড়া কোন ভাবেই সম্ভব নয়। আমাদের দেশ প্রযুক্তিতে অনেক এগিয়ে যাচ্ছে কিন্তু দেশে প্রযুক্তি পণ্য তৈরি করে এমন প্রতিষ্ঠান খুব কম।

বাংলাদেশ সব ধরনের প্রযুক্তি পণ্য তৈরি করছে একমাত্র প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন। প্রতিষ্ঠানটি তাদের শ্রেষ্ঠ অবস্থান ধরে রেখেছে। তাদের শ্রেষ্ঠত্ব সর্ম্পকে বিস্তারিত তুলে ধরবেন অপারেটিভ ডিরেক্টর ক্রিয়েটিভ অ্যান্ড পাবলিকেশন কর্মকর্তা উদয় হাকিম।

ওয়ালটনের শুরু, পরিকল্পনা, সফলতা, ব্যর্থতা, তার জীবনের গল্প ইত্যাদি প্রভৃতি উঠে এসেছে ব্রেকিংনিউজের প্রতিবেদক অঞ্জন চন্দ্র দেবের নেয়া সাক্ষাৎকারে:

ব্রেকিংনিউজঃ আপনার সর্ম্পকে বলুন?
উদয় হাকিম: টাঙ্গাইল জেলায় আমার জন্ম। দরিদ্র পরিবারে জম্মগ্রহণ, প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকার কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যাই। ১৯৯০ সালে গ্রামের স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেই। তারপর এইচএসসি পাস করি ঢাকা কলেজ থেকে। তারপর সাংবাদিকতার উপর অনার্স ও মাস্টারস শেষ করি। তার আগে বলি, গ্রামে থাকা অবস্থায় আমি সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলাম। ওই সময় আমি দেয়াল পত্রিকা নামে একটি পত্রিকার সম্পাদনা করতাম। গ্রামে থাকা অবস্থায় আমি গ্রামের লাইব্রেরিতে থাকতাম, লাইব্রেরিতে রাত জেগে পড়াশোনা, এমনকি লাইব্রেরি পরিষ্কারের কাজও করতাম। কষ্ট দিয়েই জীবন শুরু করেছিলাম ।

ব্রেকিংনিউজ: আপনার কর্মজীবন সর্ম্পকে বলুন?
উদয় হাকিম: কর্মজীবনের শুরুটা আমার সাংবাদিকতা দিয়ে ১৯৯৯ সালে প্রথম আলোতে। প্রথম আলোতে কর্মজীবন শুরুর পর আমার দিগন্ত খুলে যায়। তারপর যুক্ত হই দৈনিক আমার দেশে, তারপর চ্যানেল আইতে। তারপর সিএসবি নিউজে কাজ শুরু করি। এসবের পাশাপাশি আমি ১৯৯৫ সালে বিটিভিতে উপস্থাপনা করতাম। এসময় আমার নিজের কিছু করার ইচ্ছে জাগে। তখন আমি মাত্র ৩০ হাজার টাকা দিয়ে ১টি ফার্মের ব্যবসা শুরু করি। ২০০৬ সালে আমি ফুলটাইম ওয়ালটনের সাথে যুক্ত হই। আর আমার ওই ফার্মের ব্যবসা পরিচালনা করছে আমার স্ত্রী।

ব্রেকিংনিউজ: ওয়ালটনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস সম্পর্কে যদি বলেন?
উদয় হাকিম: ১৯৭৭ সালে সাদাকালো টেলিভিশন দিয়ে ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ যাত্রা শুরু করে। ২০০৬ সালে কারখানা তৈরির কাজ শুরু হয়ে ২০০৮ সালে তা শেষ হয়। পণ্যে সম্পূর্ণ আমদানি নির্ভরতা থেকে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার প্রত্যয়ে ওয়ালটনের যাত্রা শুরু। যেই ভাবনা সেই কাজ। এরপর জমি কেনাসহ অবকাঠামো নির্মাণে প্রচুর বিনিয়োগ করতে হয়েছে ওয়ালটনকে। তখন ব্যাংক বা অন্য কোথাও থেকে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। খুব ঝুঁকিপূর্ণ হলেও এই বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করা হয়েছে। ওয়ালটনের লক্ষ্য ছিল দেশীয় কিছু করা, শত কষ্ট হলেও তা সম্ভব হয়েছে।

ব্রেকিংনিউজ: ওয়ালটন এ মুহূর্তে কি কি পণ্য উৎপাদন করছে?
উদয় হাকিক: ওয়ালটন প্রথমে ফ্রিজ ও টিভি উৎপাদনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে ডিভিডি প্লেয়ার, মোটরসাইকেল, মাইক্রোওভেন, স্টিম ওভেন, এনার্জি সেভিং বাল্ব, মোবাইল সেট, এয়ার কন্ডিশনার, আবাসিক ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল জেনারেটরসহ গৃহস্থালি কাজে ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক্স পণ্য তৈরি করছে।

ব্রেকিংনিউজ: কীভাবে এত অল্প সময়ে ওয়ালটনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করলেন?
উদয় হাকিম: ওয়ালটন দ্রুত সুপ্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার অনেক কারণ রয়েছে। প্রথমত আমরা মানুষের সমর্থন ও সহযোগিতা পেয়েছি। দেশি পণ্য হিসেবে ওয়ালটনকে গ্রহণ করেছে সবাই। এছাড়া আমরা দেশের মানুষের চাহিদা ও সামর্থ্যের দিকে নজর রেখেই পণ্য তৈরি করি। এর সঙ্গে তুলনামূলক কম দাম, রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টি, বিক্রয়োত্তর সেবা, দেশব্যাপি সার্ভিসিং নেটওয়ার্ক মানুষের কাছে সমাদৃত হয়েছে। আর গুণগত মানের দিক দিয়ে বিশ্বমানের পণ্য তৈরি করছে ওয়ালটন। তার পাশাপাশি সব চেয়ে গুরুর্ত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে মিডিয়া, বাংলাদেশের সকল মিডিয়া ওয়ালটনের সংবাদ প্রচার করেছে। ওয়ালটন স্বচ্ছ ব্যবসা করে থাকে, কর দেয়া থেকে শুরু করে সব কিছুতে আমরা স্বচ্ছ।

ব্রেকিংনিউজ: মানব সম্পদ উন্নয়নে আপনারা কি ধরনের ভূমিকা রেখে চলেছেন?
উদয় হাকিম: বাংলাদেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার লক্ষ্য নিয়ে ওয়ালটন কাজ করছে। এরই মধ্যে ওয়ালটনে ১০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হযেছে। ওয়ালটনের রয়েছে শক্তিশালী গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ। এ বিভাগ ওয়ালটনের পণ্যের বহুমুখিতা, বাজার চাহিদা, সক্ষমতা ও উন্নয়ন নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। আর উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত রয়েছে দেশি বিদেশি সর্বোচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন ইঞ্জিনিয়ার ও প্রযুক্তিবিদ। বর্তমানে ৫০ জনের বেশি ইঞ্জিনিয়ার ইউরোপে আছে সেখানে ট্রেনিং নিচ্ছেন। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ জনবল তৈরি করছি। দেশের মাটিতে তৈরি করা হচ্ছে টেস্টিং ল্যাব, বিদেশ থেকে আনা পণ্য ল্যাবে পরীক্ষা করা হবে। এরফলে যেমন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে তেমনি বাইরে থেকে আনা পণ্যের মান সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা যাবে।

ব্রেকিংনিউজ: ওয়ালটন সামাজিক কি কি কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে?
উদয় হাকিম: ওয়ালটন গরিব ছাত্রদের জন্য বিভিন্ন বৃত্তি দিয়ে থাকে। সড়ক দুর্ঘটনায় সচেতনতা সৃষ্টি করতে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ শিরোনামে একটি সামাজিক আন্দোলনের সহযোগিতা করছে ওয়ালটন। এই আন্দোলনের মাধ্যমে গাড়ি চালানো শিখানো হয় বিনামূল্যে। জাতীয় ক্রীড়া ও ক্রীড়াবিদদের স্পন্সর হওয়া, সরকারি কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করছে ওয়ালটন।

ব্রেকিংনিউজ: বাংলাদেশে আপনাদের কোন পণ্যর চাহিদা বেশি?
উদয় হাকিম: আমাদের সকল পণ্যর চাহিদা রয়েছে, এর মধ্যে বর্তমানে ওয়ালটনের মোবাইল ফোন ও ট্যাবের চাহিদা প্রচুর। আমরা মোবাইলের ডিজাইন, সফটওয়্যার ডেভলপমেন্ট ইত্যাদি কাজগুলো আমরা দেশে করে থাকি। চীন থেকে আমরা পণ্যটা তৈরি করে নিয়ে আসি। ওয়ালটনের এসি বাংলাদেশের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বাইরে রফতানি করা হচ্ছে। ওয়ালটন যখন যাত্রা শুরু করে তখন বাংলাদেশ শতভাগ আমদানি নির্ভর ছিল এখন বাংলাদেশের বাজারের ৮০ শতাংশ ওয়ালটনের দখলে।

ব্রেকিংনিউজ: আপনাদের কোন পণ্য সফলতার মুখ দেখেনি?
উদয় হাকিম: মোটরসাইকেলের তেমন সারা পাচ্ছি না, বাংলাদেশে প্রতি বছর ৩ লক্ষ মোটরসাইকেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ভারত ও জাপান থেকে ২ লক্ষ আমদানি করা হয়। আমি মনে করবো এই ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতা রয়েছে। বাইরের দেশে ব্যবসা করতে গেলে আমাদের প্রচুর ভ্যাট দিতে হয় অথচ বিদেশিরা আমাদের দেশে ব্যবসা করলে তাদের ভ্যাট কম দিতে হয়। সরকারের এখন সময় এসেছে আমদানি কমানোর, দেশের তৈরি পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো।

ব্রেকিংনিউজ: ভবিষৎ পরিকল্পনা কি?
উদয় হাকিম: ওয়ালটনের ভবিষৎ পরিকল্পনা হচ্ছে আন্তর্জাতিক মার্কেটে যাওয়া। তাদের সাথে প্রতিযোগিতা করতে চাই। অলরেডি আমরা বাংলাদেশের মাটিতে তাদের হারিয়েছি। আমরা প্রযুক্তির পণ্যের যেসব যন্ত্রাংশ তৈরি করছি সেগুলো আমরা বাইরের দেশে রফতানি করবো, কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে বিশ্বের ১৭টি দেশে ওয়ালটনের পণ্য রফতানি করা হচ্ছে। আমাদের পরিকল্পনা এর পরিধি আরও বাড়ানো।

ব্রেকিংনিউজ: তরুণ প্রজম্মের সর্ম্পকে কিছু বলুন?
উদয় হাকিম: প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন পড়াশোনা শেষ করে চাকরি করা। প্রত্যেকটা শিক্ষার্থীদের উচিত সামাজিক ব্যবসা করা। আমি মনে করি আমি যদি নিজের ব্যবসা শুরু না করতাম তাহলে ওয়ালটনে যুক্ত হওয়া সম্ভব হত না। আমাদের উচিত পড়াশোনা থাকা অবস্থায় ব্যবসা শুরু করা, হোক সেটা ছোট ব্যবসা। উচ্চতায় পৌঁছাতে বড় স্বপ্ন দেখতে হবে।

ব্রেকিংনিউজ: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ সময় দেয়ার জন্য।
উদয় হাকিম: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ, শুভ কামনা রইল ব্রেকিংনিউজ ডটকম ডটবিডি’র জন্য।

ব্রেকিনিউজ/এসিডিটি/এমএএস



আপনার মন্তব্য

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং