Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » সাক্ষাৎকার 

‘আপগ্রেড ইউর সেলফ’

‘আপগ্রেড ইউর সেলফ’
সাক্ষাৎকার ডেস্ক ১৬ এপ্রিল ২০১৫, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন Print

ঢাকা: সমকালীন সময়ের তুর্কি নির্মাতাদের একজন ইমরাউল রাফাত। বেশ খানিকটা সময় ধরে কাজ করেছেন টেলিভিশন ফিকশন নির্মাণে। সম্প্রতি নতুন ধারাবাহিক নাটক ‘কলিংবেল’ এর সেটে ক্যারিয়ার ও নির্মাণের নানা প্রসঙ্গ নিয়ে ব্রেকিংনিউজের সঙ্গে কথা হলো রাফাতের। সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন মাহীতাজ খান।

ব্রেকিংনিউজ: নির্মাণে আসার পেছনের গল্পটা কেমন?
রাফাত: মিডিয়ায় আমার কাজের হাতেখড়ি হয়েছিলো নির্মাতা আশফাক নিপুনের সহযোগী হিসেবে। ২০০৭ সালে মিডিয়ায় কাজ করার ভূত চেপে বসে মাথায়। সেই সময় নিপুন ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করার জন্য প্রায় তাকে ফোন দিতাম। তার এক বছর পরে ২০০৮ সালে একটি ভোগ্যপণ্যের বিজ্ঞাপনে তার সহযোগী হিসেবে কাজ শুরু করি। সেই থেকে ২০১১ সাল পযর্ন্ত তার সঙ্গে কাজ করেছি।

ব্রেকিংনিউজ: মিডিয়ায় নির্মাতা হিসেবে প্রথম অভিষিক্ত হওয়ার গল্পটা একটু শুনি-
রাফাত: ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে নির্মাণ করি আমার প্রথম ফিকশন ‘দূরত্ব বজায় রাখুন’। এর চিত্রনাট্য আমার হলেও এর গল্প লিখেছিলেন নিয়াজ নাদরিত। যেখানে অভিনয় করেছিলেন মোশারফ করিম ও তিশা। বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে বৈশাখী টিভিতে ফিকশনটি প্রচারিত হয়েছিলো।

ব্রেকিংনিউজ: কোন কাজটি আপনাকে মিডিয়ায় নির্মাতা হিসেবে খ্যাতি কিংবা চলার পথে নতুন কিছু এনে দিয়েছিলো বলে আপনি মনে করেন?
রাফাত: আমি এ পর্যন্ত ৪৪টির মতো ফিকশন নির্মাণ করলেও ‘মেইড ইন চিটাগাং’ ফিকশনটি আমার কপালে তারকা পরিচালকের তকমা লাগিয়ে দিয়েছিলো। আর ২০১১ সালে আন্ডারগ্রাউন্ড গানের দলের উপর নির্মিত ‘ফ্ল্যাশব্যাক’ ফিকশনটি আমার নির্মাণের চলার পথে নতুন মোড় এনে দিয়েছিলো। ফিকশনটি যৌথভাবে আমি ও মাবরুর রশিদ বান্নাহ পরিচালনা করি।

ব্রেকিংনিউজ: কিভাবে ‘মেইড ইন চিটাগাং’ ফিকশনটি নির্মাণের আইডিয়া পেয়েছিলেন?
রাফাত: কোন এক অলস দুপুরে পথে একলা পায়চারি করছিলাম। হঠাৎ মনে হলো আচ্ছা সবাইতো পাবনা, নোয়াখালী কিংবা পুরনো ঢাকার ভাষা নিয়ে কাজ করে তাহলে আমি কেন চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা নিয়ে কাজ করছি না। যেই মাথায় এলো তেমনিই কাজে নেমে গেলাম। যদিও এই ফিকশনটি নির্মাণ করতে গিয়ে আমার নিজের পকেটের চল্লিশ হাজার টাকা লোকসান গুণতে হয়েছে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো এই ফিকশনটি যে এত জনপ্রিয়তা পাবে তা আমার কোন স্বপ্ন কিংবা কল্পনাতেও ছিলো না। ফিকশনটি প্রচারে সকল টিভি চ্যানেল অনীহা প্রকাশ করলেও একমাত্র গাজী টিভি ফিকশনটি প্রচার করেছিলো।

ব্রেকিংনিউজ: ইমরাউল রাফাতের কাছে নিজের কোন কাজগুলো উল্লেখযোগ্য কিংবা পছন্দের কাজ কোনগুলো?
রাফাত: পিতার কাছে তার সব সন্তান যেমন প্রিয় ঠিক তেমনি আমার নির্মাণ করা সবগুলো কাজই আমার প্রিয়। তবে দুর্ভাগ্যবশত আমার পছন্দের কোন কাজই জনপ্রিয়তা পায়নি। এগুলোর মধ্যে একজন অন্ধ নৃত্যশিল্পীর কাহিনি নিয়ে নির্মিত ফিকশন ‘নূপুর’ যা ২০১২ সালে কোরবানীর ঈদে এনটিভিতে প্রচারিত হয়েছিলো। আর দেশ টিভির প্রতিষ্ঠাবাষির্কীতে প্রচারিত ‘সম্পর্কের আড়ালে’ ও এনটিভির জন্য নির্মিত ‘শেষ ইচ্ছা’ ফিকশন দুটো।

ব্রেকিংনিউজ: বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তরুণ নির্মাতাদের প্রথম কাজ কেন মানসম্মত হয় না?
রাফাত: এর অন্যতম কারণ হলো আমাদের এখানে পরিচালনার কাজটি এখনো গুরুমুখি বিদ্যা। ফলে আমারাতো খুব বেশি ভালোভাবে প্রশিক্ষিত না। ফলে আমাদের অবস্থা হলো মিস্ত্রীর মতো। যারা কাজ করতে করতে একটা সময়ে গিয়ে কাজে দক্ষতা লাভ করে। যদিও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান হয়েছে কিন্তু এখনও এগুলো সেই পর্যায়ে পৌঁছায়নি যেখান থেকে প্রশিক্ষণ শেষেই একজন নির্মাতা ভালো ও মানসম্মত কাজ করতে পারবেন।

ব্রেকিংনিউজ: আপনিও তো গুরুমুখি বিদ্যার অধিকারী, সেক্ষেত্রে কোন কাজটি করার পরে আপনার মনে হয়েছে যে এতদিনে আপনি একটি মানসম্মত কাজ করতে পেরেছেন?
রাফাত: ২০১৩ সালে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে চ্যানেল২৪ এর জন্য ‘চুম্বক’ ফিকশনটি আমি নির্মাণ করি। মূলত এই কাজটি করার পরেই আমি নিখুঁতভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেই। এই কাজটি করার পরে আমার মনে হয়েছে এখন থেকে কাজের মানের ক্ষেত্রে কোন ধরনের আপোষ করা যাবে না। যদিও আমরা অনেক সময়ই নানাবিধ কারণে কাজের কিছুটা কম্প্রমাইজ করতে বাধ্য হই। কিন্তু ‘চুম্বক’ ফিকশনটি বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যে থেকেও শেষ করার পরে আমার ভিতরে একজন নির্মাতার জায়গা থেকে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে।

ব্রেকিংনিউজ: একটু পেছনে ফিরে যাই। আশফাক নিপুনকে তো আপনি অনেক আগে থেকেই চিনতেন। সেক্ষেত্রে তার সঙ্গে কোন মজার স্মৃতি কি আমাদের সঙ্গে বিনিময় করা যায়?
রাফাত: এখানে একটা মজার গল্প রয়েছে। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই আমি আশফাক নিপুন ভাইকে চিনতাম। যদিও আমরা দু’জনে একই স্কুলে পড়তাম না এবং তিনি আমার সিনিয়র ছিলেন। তবে আমরা একই ক্লাবে ক্রিকেট খেলতাম। সেই থেকে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত আমরা একই সঙ্গে খেলাধুলা ও অনেক আড্ডাবাজি করেছি। কিন্তু পরবর্তীতে আমরা আবারো নির্মাণের জগতে একই সঙ্গে পথ চলবো তা কখনোই ভাবিনি।

ব্রেকিংনিউজ: ফিকশন নির্মাণে হাফ সেঞ্চুরির প্রায় কাছাকাছি। সেক্ষেত্রে রাফাত সংখ্যায় নাকি মানসম্মত কাজে বিশ্বাসী?
রাফাত: আমি কাজের সংখ্যায় নয় বরং কাজের মানে বিশ্বাসী। প্রতিটি মুহূর্তে কাজের মাধ্যমে আমি নিজেকে আপগ্রেডে বিশ্বাসী। কোন একটি কাজ ভালো হয়েছে আর সেই কাজের প্রশংসা পেয়েই আমি খুশীতে আত্মহারা হয়ে ওই একটি জায়গায় নিজেকে বেঁধে রাখার মতো মানুষ আমি নই। যদি আগের ধারাবাহিক নাটকের সঙ্গে নতুন ধারাবাহিকের কোন পার্থক্য না থাকে তাহলে দর্শকতো অন্য টিভি চ্যানেল দেখবেই। তাই আমি সব সময়ই নিজের ও সবার জন্য একটা কথাই বলি এবং বিশ্বাস করি আপগ্রেড ইউর সেলফ।

ব্রেকিংনিউজ: মিডিয়ার কাজের ক্ষেত্রে সিনিয়র নির্মাতাদের প্রতি আপনার কোন অভিযোগ কিংবা অনুরোধ কি রয়েছে?
রাফাত: জুনিয়রদের তুলনায় সিনিয়ররা ফিকশন নির্মাণের জন্য বেশ ভালো বাজেট পেয়ে থাকেন। আমাদের সবাইকেই জীবিকা নির্বাহ করতে হবে মানে এই নয় যে, একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের বাজেটের টাকা থেকে প্রথমেই নিজের জন্য কিছু টাকা সরিয়ে রেখে বাকি টাকা দিয়ে যা নির্মাণ করা যায়। যেহেতু আপনি ভালো বাজেট পাচ্ছেন তাই আপনি বাজেটের টাকাটার সদ্ব্যবহার করুন। সব সময়ই বাজেট স্বল্পতার অজুহাত দেখিয়ে তো কোন লাভ নেই। তাই আমাদের সিনিয়র নির্মাতাদের যেমনি একটি দায়বদ্ধতা রয়েছে তেমন আমারও রয়েছে এমনকি জুনিয়রদেরও রয়েছে বলে আমি বিশ্বাস করি। ভালো বাজেট পাওয়ার পরেও যদি কোন সিনিয়রের কাজের মান কম বাজেটপ্রাপ্ত কোন জুনিয়রের কাজের মানের সমান হয় তাহলে এখানে যে প্রশ্নটা আসে তা আমি পাঠকের জন্যই ছেড়ে দিলাম।

ব্রেকিংনিউজ: মিডিয়ায় কাজের ক্ষেত্রে রাফাতকে এখনও কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়?
রাফাত: আমাদের এখানে ভালো চিত্রনাট্যকারের বড়ই অভাব। যার ফলে আমাকে বাধ্য হয়েই আমার নিজের নাটকের গল্পের চিত্রনাট্য করতে হয়। ভিজ্যুয়াল রাইটিংয়ের বিষয়টি বেশিরভাগ চিত্রনাট্যকারই জানেন না। তাদের মনে রাখা উচিত একটি উপন্যাস ও একটি নাটকের চিত্রনাট্য কখনোই এক জিনিস নয়। কিন্তু এই পার্থক্যটুকু অনেকেই জানেন না। হাতেগোণা দশজনের মতো সিনিয়র চিত্রনাট্যকার ছাড়া আর কেউই ‘আমি-তুমি-সে’ এই গণ্ডির বাহিরে বেরিয়ে আসতে পারেন নাই। এখানে আমিও দায় স্বীকার করে নিচ্ছি যে, আমিও সেই গণ্ডির ভিতরেই রয়েছি। এছাড়াও শুটিং লোকেশনেরও ক্ষেত্রেও বেশ প্রতিবন্ধকতা রয়েছে বিধায় একই লোকেশনে আমরা বহুবার শুটিং করছি।

ব্রেকিংনিউজ: ‘আমি-তুমি-সে’ এই গণ্ডির বাহিরে যাওয়ার কোন চেষ্টা তাহলে কেন করছেন না?
রাফাত: আমি চেষ্টা করেছি কিন্তু বাংলাদেশের দর্শকরা সব সময় বিনোদন নিতে চায় কারণ তাদেরকে প্রতিটি মুহূর্তে অনেক ধরনের চাপ সহ্য করতে হয়। তাই তারা প্রেমের গল্প কিংবা কৌতুক নির্ভর নাটক দেখতে চায়। ফলে এর বাহিরে কোন গল্প হলে তাদের গ্রহণ করতে কষ্ট হয়। তাই আমিও এই গড্ডালিকায় গা ভাসিয়ে দিয়েছি। তবে আমার উপস্থাপনায় ভিন্নতা আনার চেষ্টা সব সময়ই করার চেষ্টা করে থাকি।

ব্রেকিংনিউজ: আপনার কি মনে হয় আমাদের টিভি চ্যানেলগুলোতে আদৌ দর্শকের চাহিদা ও মানসম্পন্ন কমেডি কিংবা প্রেমের নাটকগুলো নির্মিত হচ্ছে?
রাফাত: এই বিষয়টা নির্ভর করছে দর্শকের রুচিবোধের উপর। কারণ সবার রুচিবোধ যেহেতু একই রকম নয় সেহেতু সবার সব ধরনের নাটক পছন্দ না হওয়াটাই স্বাভাবিক। তাই এক্ষেত্রে কোন সীমারেখা টানা যায় না কারণ টেলিভিশন হলো সকলের জন্য। তাই আমি মনে করি, এক্ষেত্রে একটা গ্রেড থাকার পাশাপাশি সব ধরনের নাটক ও সিনেমা নির্মাণ করা উচিত।

ব্রেকিংনিউজ: কোন ধরনের নাটক নির্মাণে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?
রাফাত: খণ্ড নাটকে, কারণ ধারাবাহিক নাটক নির্মাণে আমি মোটেও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না।

ব্রেকিংনিউজ: কবে নাগদ সিনেমা নির্মাণ করছেন এবং কোন ধরনের সিনেমা নির্মাণ করবেন?
রাফাত: এখনো সেই যোগ্যতা আমার হয় নাই। আমার কাছে ধ্রুপদী কিংবা বাণিজ্যিক সিনেমা বলে কিছুই নেই। আর আমার কাছে সিনেমা মানে সিনেমা। রোমান্টিক, হরর, কমেডি, অ্যাকশন ইত্যাদি যেকোনো জেনার সিনেমা হতে পারে এমনকি শিশুতোষ সিনেমাও হতে পারে। যেই সিনেমাই হোক না কেন তাতে পুরো মাত্রায় বিনোদন থাকতে হবে। তাই দর্শকের কথা মাথায় রেখেই সিনেমা নির্মাণ করবো।

ব্রেকিংনিউজ: এসময়ের ব্যস্ততা?
রাফাত: প্রতি রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার রাত ৯ টা ৪৫ মিনিটে দেশ টিভির পর্দায় প্রচারিত হচ্ছে আমার গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় নাটক ‘কলিংবেল’। এখন চলছে এই নাটকের নতুন পর্বের শুটিং। বতর্মানে আমার এই নাটকের শুটিং নিয়েই সকল ব্যস্ততা।

ব্রেকিংনিউজ/এফএম



আপনার মন্তব্য

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং