Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

সোমবার ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, পূর্বাহ্ন

প্রচ্ছদ » সাক্ষাৎকার 

‘সকলের জন্য বাসযোগ্য ঢাকা গড়বো’

‘সকলের জন্য বাসযোগ্য ঢাকা গড়বো’
ছবি: ব্রেকিংনিউজ
সাক্ষাৎকার ডেস্ক ১০ এপ্রিল ২০১৫, ১০:৪৪ অপরাহ্ন Print

ঢাকা: আসন্ন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সিপিবি-বাসদ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী বজলুর রশীদ ফিরোজ। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিস্বরূপ তিনি ঢাকাকে একটি আধুনিক শহর হিসেবে গড়তে চান। শুধু ধনীদের নয় সকলের জন্য বাসযোগ্য ঢাকা গড়বেন তিনি। ঢাকাকে ঘিরে তিনি তার স্বপ্ন এবং স্বপ্নের বাস্তবায়ন নিয়ে ব্রেকিংনিউজের কাছে একান্ত সাক্ষাৎকার প্রদান করেছেন। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন ব্রেকিংনিউজ প্রতিবেদক রশিদ আল রুহানী

ব্রেকিংনিউজ: মেয়র নির্বাচিত হলে ঢাকা দক্ষিণের জনগণের জন্য কি ধরনের সেবা প্রদান করবেন?
বজলুর রশীদ ফিরোজ: সম্রাট আকবরের পরে সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময়ে ১৬০৮ খিষ্টাব্দে এই ঢাকার কার্যক্রম শুরু হয় এবং সেই থেকে এখন পর্যন্ত অনেক দিন পার হয়ে গেছে। ঢাকাকে বলা হয় প্রাচ্যের ভেনিস শহর। এই শহর গড়ে উঠেছিল মাত্র ২ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে। কিন্তু এখন প্রায় ৪শ’ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত হয়েছে। এখন মানুষ বেড়েছে, স্থাপনা বেড়েছে, প্রতিষ্ঠান বেড়েছে। শুধু বাড়েনি মানুষের সুযোগ-সুবিধা। আইন সম্মতভাবে, বিধি সম্মতভাবে নগরবাসীর যতটুকু প্রাপ্য সেই অধিকারটুকুই যদি বাস্তবায়ন হয় তাহলে নগরবাসী সন্তুষ্ট থাকবে।

প্রথমত, নগরবাসীর প্রথম চাহিদা হচ্ছে জানমালের নিরাপত্তা। সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র প্রশাসনের সাথে নগর প্রশাসন সমন্বয় করে নাগরিকের নিরাপত্তা দিতে পারে। সেই কাজটি সেভাবে আসলে হয় না। দ্বিতীয়ত, নাগরিকের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাগুলি। এই নগরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা বা পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না। রাস্তার পাশে আবর্জনা ঠিকমত পরিষ্কার করা হয় না। এনিয়ে প্রচুর দুর্ভোগে থাকে মানুষ। তৃতীয়ত, ঢাকার আশেপাশে মোট ৪৩টি খাল ছিল। কিন্তু এখন আছে মাত্র ১৮টি। তাও আবার নর্দমার মত, অনেকটা ড্রেনের মত হয়ে গেছে। সবই প্রায় দখল হয়ে গেছে। আপনারা জানেন, ঢাকায় ৪টি নদী- বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষা, তুরাগ ও বালু। কিন্তু এখন সেগুলি কল-কারখানার বর্জ্য ও পয়োবর্জ্যে বড় নর্দমার মত হয়ে গেছে। প্রাচ্যের ভেনিস এই শহরটি আর আগের মত সুন্দর নেই। ৪শ’র মত জলাশয় এবং পুকুর ছিল। কিন্তু দখলের কবলে পড়ে এগুলি সবই হারিয়ে গেছে।

ঢাকা দক্ষিণে মাত্র ২০টি পাবলিক টয়লেট আছে। যা খুবই অপর্যাপ্ত এবং অপ্রতুল। এমনকি যেগুলি আছে সেগুলিতে প্রবেশের কোন পরিবেশ নেই। এগুলি ব্যবহার অনুপযোগী। মহিলাদের জন্য তো এই পরিবেশ একদমই নেই। বাথরুমে যেতে হবে এই ভয়ে রাস্তার মধ্যে নারীরা পানি খেতে চায় না। ফলে তাদের কিডনীর সমস্যা হয়ে যায়। ছেলেরা রাস্তায় যেখানে সেখানে তাদের বাথরুমের কাজটি করতে পারে। কিন্তু মেয়েরা তো সেটা পারে না। এই সমস্যা থেকে রেহাই দিতে চাই নগরবাসীকে।

ব্রেকিংনিউজ: ঢাকার দখলকৃত খেলার মাঠ উদ্ধার ও সুন্দর পরিবেশ দেবার প্রতিশ্রুতির বিষয়ে কি বলবেন?
বজলুর রশীদ ফিরোজ: এদিকে শিশুদের জন্য খেলার মাঠ নাই। এই শহরে প্রায় ২৮টির মত খেলার মাঠ ছিল। কিন্তু এখন আছে মাত্র ৮টি। বাকি সবই দখল হয়ে গেছে। তার প্রায় সবই স্থানীয় প্রভাবশালী ও ক্ষমতাশীলরা দখল করে নিয়েছে। এগুলো দখলমুক্ত করবো। যদিও খুবই কঠিন। কারণ এসকল প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধরদের কাছ থেকে দখলমুক্ত করা খুবই কঠিন। তবুও চেষ্টা করবো নগরবাসীর জন্য। যদি নাগরিকদেরকে সচেতন করার মাধ্যমে প্রভাবশালীদেরকে চাপের মুখে ফেলেই কেবল এগুলি দখলমুক্ত করা সম্ভব।

তাছাড়া মেয়র না থেকেও আমরা নগরের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সবসময়ই জাগ্রত থেকেছি। চেষ্টা করেছি সুস্থ নগর তৈরি করার। সুতরাং মেয়র হলে এই কাজটি আরও বেশি করে করতে পারবো।

ব্রেকিংনিউজ: শুধু ধনীদের নয় সকলের জন্য বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার বিষয়ে আপনার পরিকল্পনা।
বজলুর রশীদ ফিরোজ:
এই ঢাকায় মোট ১ কোটি ৬৪ লক্ষ মানুষ বাস করে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষই শ্রমজীবী গরিব মানুষ। এই শহর কি শুধুই ধনীদের জন্য হবে? যেমন তিলোত্তমা নগরী গড়তে যদি চাই, তাহলে কি শুধুই ধনীদের নিয়ে এই শহর হবে? কিন্তু এই শহরে যত গরিব আছে, এই ঢাকা শহর উন্নয়নের জন্য কত যে অবদান রয়েছে তার কিন্তু অনেক নমুনা রয়েছে। গার্মেন্টস শ্রমিক, রিকশাচালক, কল-কারখানার শ্রমিকদের উপর ভর করেই এই শহরের ধনীরা দাঁড়িয়ে রয়েছে। অথচ তাদের থাকার ভালো জায়গা নেই। তাদের ঘরে পানি নেই, বিদ্যুৎ নেই, গ্যাসের সরবরাহ নেই, পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই। এই ভাবে তারা ভুক্তভোগী হচ্ছে। তাই আমি চাই এই ঢাকায় শুধু ধনীরা নয় বসবাসের ভালো পরিবেশ তৈরি করবো গরিবদের জন্যও।

ব্রেকিংনিউজ: সরকারের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করার বিষয়ে আপনার বক্তব্য।
বজলুর রশীদ ফিরোজ:
কেন্দ্রীয় সরকার আইন ও নীতিমালা প্রনয়ণ করে। রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, বাণিজ্যনীতি, শিল্পনীতি ইত্যাদি বিষয়গুলি। আর সেগুলি বাস্তবায়ন হয় স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে। ইউনিয়ন পরিষদ, জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন, বিভাগীয় পরিষদ, প্রশাসন ইত্যাদি এই আইন ও নীতিমালা বাস্তবায়ন করে। নাগরিকের চাহিদা মত আইনসম্মতভাবে এই স্থানীয় সরকার এসব বাস্তবায়ন করে। কিন্তু এই স্থানীয় সরকার প্রশাসনে দেখা যায় দুর্নীতিতে ভরা। তারা দলীয়করণের মধ্যে পড়ে কোন কাজই করতে পারে না। আবার সিটি করপোরেশন নির্বাচন নির্দলীয় ভাবে গঠিত হলেও পরবর্তীতে এটিকে দলীয়ভাবে পরিচালিত করা হয়। ফলে জনগণের চাহিদা পূরণ হয় না। সে কারণে আমি চাই এটিকে দলীয়করণমুক্ত এবং দুর্নীতিমুক্ত জনগণের সেবাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলবো। এই প্রতিশ্রুতি নিয়ে আমি নির্বাচন করবো।

ব্রেকিংনিউজ: সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, ছিনতাইকারী রোধে আপনার পদক্ষেপ।
বজলুর রশীদ ফিরোজ: সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, ছিনতাই, মাস্তানি, দুর্নীতি বেশি বেশি হবার মূল কারণগুলিই কিন্তু এখানকার আর্থসামাজিক অবস্থা, দুর্নীতিগ্রস্ত অর্থনীতি, অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন। এই অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নকে দূর করলেই কেবল সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজী দূর হবে। আর এই সব দুর্বৃত্তায়ন দূর করতে হলে সামাজিক আন্দোলন, নাগরিক আন্দোলন, রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তোলা দরকার। আর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এই আন্দোলনকে পৃষ্ঠপোষকতা করতে হয়, উৎসাহিত করতে হয়। জনসচেতনতার মাধ্যমেই এই সব ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড জনগণকে সাথে নিয়ে করতে হবে।

ব্রেকিংনিউজ: ঢাকার যানজট নিরসনে কী করবেন?
বজলুর রশীদ ফিরোজ: নগর উন্নয়ন কখনই একমাত্র মেয়রকে দিয়ে হয় না। এই নগর উন্নয়ন করতে হলে উন্নয়নবিদ, পরিকল্পনাবিদ, গবেষক ও বিশেষজ্ঞ লাগবে এবং নগর কাউন্সিলরদের সাথে নিয়েই কেবল এই নগর উন্নয়ন সম্ভব। ঢাকা সিটির যে যানজট তা নিয়ন্ত্রণের জন্য কতই না পরিকল্পনা হচ্ছে। উড়াল সেতু হচ্ছে কিন্তু যানজট কমছে না। কেন কমছে না সেই কারণ আগে খুঁজে বের করতে হবে। প্রতিদিন নতুন নতুন গাড়ি ঢুকছে এই ঢাকায়। গাড়ি বাড়বেই কিন্তু যানজট বাড়তে দেয়া যাবে না। দেখা যায়, উড়াল সেতুর উপর দিয়ে খুব সহজেই গাড়ি যাতায়াত করছে। কিন্তু সেতুর উপর থেকে মূল রাস্তায় নামার সাথে সাথেই আবার যানজটে পড়ে। তাহলে কি উড়াল সেতুর কোন কার্যকারিতা থাকলো? থাকলো না। সে কারণে কিছু কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। যেমন, ধীরগতির গাড়ির লেন এবং দ্রুতগতির গাড়ির লেন অবশ্যই আলাদা থাকতে হবে। তার জন্য রাস্তা সম্প্রসারণ করতে হবে। নিয়মগতভাবে, প্রশাসনগতভাবে, স্থানীয় সরকারের সহযোগিতায় এই রাস্তা প্রসারণের কাজটি যদি করা সম্ভব হয় তাহলে যানজট নিরসন সম্ভব হবে। তাছাড়া আমাদের শহরের রাস্তাগুলি কিন্তু আড়াআড়ি আছে, লম্বালম্বি রাস্তা নেই। এই পদ্ধতিও কাজে লাগবে। এই কাজগুলি আমি করার চেষ্টা করবো। মেট্রো রেলের যে পরিকল্পনা হয়েছে তা অতিদ্রুত বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবো। এমন আরও কয়েকটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে যানজট নিরসন সম্ভব।

ব্রেকিংনিউজ: বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন বিষয়ে কিছু বলুন।
বজলুর রশীদ ফিরোজ: এছাড়া বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণটি কার্যকর করবো। এটি আমার একটি অন্যতম বিষয়। মালিক এবং ভাড়াটিয়া সবার কথা মাথায় রেখে এমন একটি নীতিমালা তৈরি করবো এবং সেই নীতি কার্যকর করবো। যাতে ভাড়াটিয়া এবং মালিক দুপক্ষই যেন তাদের সমস্যা থেকে রেহাই পান।

ব্রেকিংনিউজ: তথ্যপ্রযুক্তিকে এগিয়ে নেবার বিষয়ে কি করণীয় আছে?
বজলুর রশীদ ফিরোজ: যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ঢাকাকে তথ্যপ্রযুক্তির আওতায় আনবো। নগরকে তো আর পিছিয়ে রাখতে পারি না। আধুনিকতার ছোঁয়া থেকে তো ঢাকাকে কখনই দূরে রাখতে পারি না। তথ্য প্রযুক্তি ছাড়া আজ তো কোন কিছুই কল্পনা করা যায় না। এটি না করলে তো আমরা পিছিয়ে পড়বো। ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে ওয়াইফাই জোনের আওতায় আনবো।

ব্রেকিংনিউজ: শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরো উন্নত করা যায় কীভাবে?
বজলুর রশীদ ফিরোজ: শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও বেশি উন্নত করবো। এই নগরে যতগুলি স্কুল-কলেজ আাছে তা পর্যাপ্ত নয়। নতুন করে যেখানে যেখানে এগুলি প্রয়োজন হবে অবশ্যই করা হবে। গরিব ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া করার শতভাগ ব্যবস্থা করবো। যাতে শতভাগ শিক্ষিত মানুষ এই নগরীতে পাওয়া যায়। তাছাড়া হাসপাতালের সেবার মান বাড়াবো। ডাক্তার, নার্স এবং চিকিৎসার জন্য উন্নত যন্ত্রপাতি বাড়াবো। নগরের সকল জনসাধারণের স্বাস্থ্য যেন ভালো থাকে সেবিষয়ে সবসময় খেয়াল রাখবো। সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে ওয়ার্ডভিত্তিক কমিউনিটি ক্লিনিক করে জনসাধারণের সেবাকে আরও উন্নত করবো।

ব্রেকিংনিউজ: আপনাকে ব্রেকিংনিউজের পক্ষ থেকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
বজলুর রশীদ ফিরোজ: আপনাকে ও ব্রেকিংনিউজকে ধন্যবাদ।

ব্রেকিংনিউজ/আরএআর/এসআই/এসইউএম



আপনার মন্তব্য

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং