Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » সাক্ষাৎকার 

‘সততার সাথে নগরবাসীর জন্য সর্বোচ্চ ভাল কাজ করবো’

‘সততার সাথে নগরবাসীর জন্য সর্বোচ্চ ভাল কাজ করবো’
সাক্ষাৎকার ডেস্ক ০৫ এপ্রিল ২০১৫, ১২:৫৫ অপরাহ্ন Print

হাজী সাইফুদ্দিন আহম্মেদ মিলন। একজন রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী এবং জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য। রাজনীতি করলেও তার রিয়েল এস্টেট, চামড়া শিল্প ও আমদানী-রফতানীসহ আরও কয়েকটি ব্যবসা রয়েছে। আসন্ন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে তিনি মেয়র পদপ্রার্থী। তিনি মেয়র নির্বাচিত হলে সর্বোচ্চ চেষ্টার সাথে নগরবাসীর বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকাণ্ড করবেন। গত শনিবার বংশাল নিজস্ব ব্যবসায়িক কার্যালয়ে তিনি ব্রেকিংনিউজকে একান্ত সাক্ষাৎকার প্রদান করেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ব্রেকিংনিউজের স্টাফ রিপোর্টার রশিদ আল রুহানী

ব্রেকিংনিউজ: ব্রেকিংনিউজ এর পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগমত।
সাইফুদ্দিন আহম্মেদ মিলন: আপনাকেও আন্তরিক শুভেচ্ছা।

ব্রেকিংনিউজ: এই নির্বাচনে আপনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনগণের জন্য কি কি প্রতিশ্রুতি দিবেন?
সাইফুদ্দিন আহম্মেদ মিলন: প্রতিশ্রুতি বলতে আমি নগরবাসীর ভালোর জন্য যা যা করতে চাই, তাই আমার প্রতিশ্রুতি। আমি নির্বাচিত হলে নগরবাসীর সব ধরনের সেবামূলক কর্মকা- গুলোকেই গুরুত্বসহকারে করবো।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন দেনার ভারে জর্জরিত। নির্বাচিত হবার পরে সরকারের সহযোগিতা নিয়ে দক্ষিণের সকল সমস্যা দূর করতে চাই। আমি সৎ মানুষ, আমি দীর্ঘ ৩২ বছর সততার সাথে রাজনীতি করছি। তাছাড়া আমি একজন বিজনেস ম্যান। মানুষ আমার সম্পর্কে জানে। আমি যা কিছু করেছি সততার মাধ্যমেই করেছি। সততাই আমার পুঁজি। সততার সাথে নগরবাসীর জন্য সর্বোচ্চ ভাল কাজ করে যাব। যেই সরকার প্রধান হোক সে কিন্তু চায় তার সিটি, তার রাজধানী সুন্দর হোক। সরকার প্রধান যদি সঠিকভাবে সহায়তা না করে তাহলে একা মেয়রের পক্ষে দেনার বোঝা কাধে নিয়ে সবকিছু করা সম্ভব নয়। সুন্দর একটি সিটি আমি উপহার দিবো, তবে সরকারকে অবশ্যই সঠিকভাবে সহায়তা করতে হবে।

এই শহরে প্রচুর সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, দুনীর্তিবাজ রয়েছে। সাধারণ মানুষ এদের নির্যাতনে নির্যাতিত। আমি মনে করি, প্রশাসন যদি সৎ ভাবে চালানো যায় তাহলে দুর্নীতিমুক্ত করা সম্ভব, চাঁদাবাজি দূর করা সম্ভব। আমি আগেই বলেছি, আমি সৎ মানুষ। সুতরাং ঘুষ, দুর্নীতি আমার পাশে ভিড়তেই পারবে না। যখন ঘুষ নেব না তখন আমার আশেপাশে যারা থাকবে তারাও সতর্ক থাকবে। আমি এই নগরীকে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, ঘুষ, দুর্নীতি মুক্ত একটি নগরীতে পরিণত করতে চাই।

আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি। আমি প্রতিদিন ফজর নামাজের পর খুব কাছ থেকে ঘুরে ঘুরে জনগণের সমস্যাগুলি পর্যবেক্ষণ করবো। জনগণের সমস্যা অনুযায়ী সমাধান করবো। তাদের দাবির জন্য নিজেই রাস্তায় বসে যাব। জনগণের কথা সরাসরি শোনার জন্য থানা বা ওয়ার্ড ভিত্তিক ডাকবাক্স চালু করবো। এর পরেও যদি কোনো সমস্যার সমাধান না করতে পারি তাহলে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগ করবো। এটা বাংলাদেশের জন্য নতুন ইতিহাস হবে। সত্যের ওপর নির্ভর করে আমি প্রতিষ্ঠিত হয়েছি। কিন্তু মানুষ রাজনীতিবিদের সম্পর্কে বিরূপ ধারণা পোষণ করেন। জনগণ আমাকে শেষবারের মত বিশ্বাস করে দেখুক। আমি জনগণকে ধোকা দেব না।

ঢাকায় বৃষ্টি হলে অধিকাংশ রাস্তা-ঘাটে পানি জমে থাকে। ড্রেনের ময়লা রাস্তার ওপর দিয়ে ভাসে, এতে মানুষের চলা-ফেরায় সমস্যা হয়।

অনেক অলি-গলিতে লাইট জ্বলে না। এসব সমস্যা আগে সমাধান করবো। এছাড়া বিনোদনের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। এ এলাকায় খোলা-মেলা ঘুরাঘুরির তেমন কোন পার্ক নেই। আমি কোন একটি খোলা জায়গা পেলে বিনোদনের জন্য সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করবো। আমাদের শহরের একটি ঐতিহ্যবাহী বুড়িগঙ্গা নদী কিছু অসাধু ব্যক্তি দখল করে নিয়েছে। আমি মেয়র নির্বাচিত হলে বুড়িগঙ্গা নদীর পাশে হাতিরঝিলের মতো বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তুলবো। এছাড়া হাসপাতাল যা আছে তা দিয়ে রোগীদের সেবা ঠিক হয় না। নতুন নতুন স্কুল-কলেজ যেভাবে নির্মাণ হওয়ার কথা সেভাবে হয়নি। এসকল সমস্যার সমাধান করবো ইনশাআল্লাহ।

ব্রেকিংনিউজ: আপনার পরিকল্পনার মধ্যে আরও কোন কোন বিষয় আছে?
সাইফুদ্দিন আহম্মেদ মিলন: ঢাকা শহরের বড় সমস্যা তীব্র যানজট। এই যানজট নিরসনে কঠিন ভাবে কাজ করবো। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেখেছি ফ্লাইওভার তিন-চার ধাপে রয়েছে। নিচ দিয়ে গাড়ি চলে, উপরেরটি দিয়ে চলে ট্রেন। কিন্তু বর্তমানে ঢাকা শহরে যে সকল ফ্লাইঅভার রয়েছে সেগুলির উপর দিয়ে আদৌ আরও একটি করা সম্ভব কিনা তা নিয়ে আমি সন্দিহান। আমি নির্বাচিত হলে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে যানজট নিরসন করবো। নির্দিষ্ট জায়গায় গার্মেন্টস কারখানা স্থাপন থেকে শুরু করে আন্ডারগ্রাউন্ড ট্রেন লাইন চালু করবো।

সিটি করপোরেশন থেকে ট্রেডলাইসেন্স, জন্ম সনদপত্র নিতে আসা নগরবাসী যাতে ভোগান্তির শিকার না হয় সে বিষয়ে নজর দেয়া হবে। নিরাপত্তার জন্য কাউকে সঙ্গে নিয়ে ভোরে নগর ভ্রমণে বের হব। যারা নগর পরিকল্পনাবিদ রয়েছেন তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে সবুজ-পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলার চেষ্টা করবো। তাছাড়া আমি নতুন নতুন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রজেক্ট তৈরি করবো যেখানে শিক্ষিত বেকার যুবকদের বেকারত্ব দূর হবে।

১৯৯০ সালের পর থেকে যারাই এমপি-মন্ত্রী হচ্ছেন তাদের আগের সম্পদের সঙ্গে পরের সম্পদের কোনো মিল নেই। আমি মেয়র হলে আমার সম্পদ কমে যাবে। কারণ আমার ব্যবসার দিকে সঠিক ভাবে মনোযোগ দিতে পারবো না। এছাড়া সিটি করপোরেশন থেকে ৫ বছর কোনো ভাতা নেব না।

ব্রেকিংনিউজ: নির্বাচিত হতে আপনি কতটুকু আশাবাদী?
সাইফুদ্দিন আহম্মেদ মিলন: ইতোমধ্যে জনগণ অনেক মেয়র প্রার্থী দেখেছে। তাদের কর্মকাণ্ড ও যোগ্যতা সম্পর্কেও জনগণ অবগত। মানুষ আমাকে যোগ্য-দানশীল ব্যক্তি হিসেবে চেনে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আমার কোনো খারাপ সংবাদ নেই। মানুষ আমাকে মেয়র হিসেবে দেখতে চায়। ভোটাররা দল-মতের বাইরে ভাল প্রার্থীদেরকে ভোট দিতে চায়। নির্বাচিত হওয়ার ৩ মাস পর সিটি করপোরেশনে দুর্নীতিমুক্ত করতে পারব। ভোটাররা যদি ভাল মানুষকে ভোট দেয় তাহলে আমি শতকরা শতভাগ আশাবাদি নির্বাচনে জয় লাভ করবো।

ব্রেকিংনিউজ: আপনার বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে- এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কি?
সাইফুদ্দিন আহম্মেদ মিলন: গত শুক্রবারে পুরান ঢাকার একটি মসজিদে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাথে একসাথে নামাজ পড়ি। কিন্তু সেখানে সাঈদ খোকনের মত নির্বাচনী প্রচারণামূলক কোন কিছুই করা হয়নি। আমরা নামাজ পড়ে যে যার মত চলে আসি, এরশাদ কারও সাথে আমাকে আলাদা করে পরিচয় করিয়ে দেননি। তবে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার আগে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে আমার পোস্টার লাগায় আমার সমর্থিত জনসাধারণ। সেগুলি উঠিয়ে ফেলার পরও কোথাও কোথাও রয়ে যেতে পারে। কারণ কোথায় কোন পোস্টার লাগানো হয়েছিল সেটা সঠিকভাবে খোঁজ করে তুলে ফেলা কিছুটা মুশকিল। তবে আমি সিটি নির্বাচন কমিশনকে সঠিক সময়ের মধ্যে লিখিতভাবে নোটিশের জবাব দিব।

ব্রেকিংনিউজ: আপনার মূল্যবান সময় দেবার জন্য ব্রেকিংনিউজ এর পক্ষ থেকে আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
সাইফুদ্দিন আহম্মেদ মিলন: আপনাকে এবং ব্রেকিংনিউজকেও ধন্যবাদ।

ব্রেকিংনিউজ/আরএআর/এফএম



আপনার মন্তব্য

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং