Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » সাক্ষাৎকার 

‘ভাড়ার টাকা দিয়েই ভাড়াটিয়াদের বাড়ির মালিক করে দেবো’

‘ভাড়ার টাকা দিয়েই ভাড়াটিয়াদের বাড়ির মালিক করে দেবো’
রশিদ আল রুহানী ০৪ এপ্রিল ২০১৫, ৪:০৬ অপরাহ্ন Print

মো: বাহারানে সুলতান বাহার, ঢাকা দক্ষীণের সিটি মেয়র প্রার্থী হিসেবে তিনি স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করবেন। তিনি বৃহত্তর নোয়াখালীর এক সম্ভান্ত পরিবারের সন্তান। পেশায় তিনি একজন ট্রেইলারীং ব্যবসায়ী। এছাড়া তিনি সার্বক্ষনিক বিভিন্ন সামাজিক সেবা মুলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত। তিনি একাধারে ভাড়াটিয়া পরিষদ, জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন এবং আমাদের সংঘ সামাজিক সাংস্কৃতিক সোসাইটি’র সভাপতি। আবার বাংলাদেশ ছিন্নমূল হকার শ্রমিকের সহসভাপতি, গণ অধিকার পার্টির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ-ভারত পিপলস ফোরাম এর সাংগঠনিক সম্পাদক। এছাড়াও তিনি আরও কয়েকটি সামাজিক সংগঠনের সাথে দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করে আসছেন। আসন্ন সিটি নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হলে সবার আগে ভাড়াটিয়াদের সুযোগ-সুবিধা দিতে সবরকম কাজ করবেন। আসন্ন সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি ব্রেকিংনিউজকে একটি সাক্ষাতকার প্রদান করেছেন। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন ব্রেকিংনিউজের স্টাফ রিপোর্টার রশিদ আল রুহানী

ব্রেকিংনিউজ: ব্রেকিংনিউজ এর পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগমত।

বাহারানে সুলতান বাহার: আপনাকেও আন্তরিক শুভেচ্ছা।

ব্রেকিংনিউজ: দিক্ষণ সিটি মেয়র নির্বাচিত হলে আপনি ঢাকাবাসীর জন্য সবার আগে কোন কাজটি করবেন?

বাহারানে সুলতান বাহার: মেয়র নির্বাচিত হওয়া মানে সে এই নগরের পিতা। পিতা হিসেবে সব সমস্যার সমাধানই আমাকে করতে হবে। যেহেতু আমি ভাড়াটিয়া পরিষদের সভাপতি এবং আমি একজন প্রার্থী। সুতরাং প্রথম যে কাজটি করবো তা হলো, ঢাকা শহরের ভাড়াটিয়ারা বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হয়, বিশেষ করে বাড়ির মালিকদের দ্বারা। আমি ভাড়াটিয়াদের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধার দেয়ার জন্য যা করা প্রয়োজন আমি করবো।

ব্রেকিংনিউজ: এতকিছু বিষয় রেখে আপনি কেন ভাড়াটিয়া পরিষদ গঠন করলেন এবং ভাড়াটিয়াদের পক্ষে কাজ করছেন কেন?

বাহারানে সুলতান বাহার: আমি ঢাকায় আসার পর থেকে এখনও ভাড়াটিয়া। আমি নিজে ভাড়াটিয়া হিসেবে মালিকের অমানুষিক ব্যবহারের ভুক্তভুগি । দিনের পর দিন ভাড়া ভাড়ানো, হুট হাট করে বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দেয়া, গেষ্ট আনতে বাধা, ঠিকমত পানি গ্যাস না দেয়া, বিদ্যুৎ বিল যা হবে তার থেকে কয়েকগুন বেশি নেয়া এই সকল ঘটনা ঘটে আমি দেখেছি। বাড়ি ভাড়া আইন থাকলেও এর কোন বাস্তবায়ন নেই। তাই আমি এর পক্ষে কাজ করি। আমি নির্বাচিত হলে আমি সঠিকভাবে এটি বাস্তবায়ন ঘটাবো।

ব্রেকিংনিউজ: ভাড়াটিয়াদের সুযোগ-সুবিধার জন্য কি ধরনের কাজ করবেন?

বাহারানে সুলতান বাহার: ঢাকা শহরে ৯৫ ভাগ ভাড়াটিয়া। প্রতিটি পরিবার যা আয় করে তার ৭৫ ভাগই শেষ হয়ে যায় বাড়ি ভাড়া টানতে গিয়ে। বাড়্ওয়িালাদের দ্বারা ভাড়াটিয়ারা অনৈতিকভাবে নির্যাতিত হচ্ছে। এই নির্যাতনের হাত থেকে তাদেরকে আমি রক্ষা করবো। অর্থাৎ বাড়িভাড়া আইন নিয়ন্ত্রনের কাজটি দিয়েই আমার ১ম কাজ শুরু করবো। এরপর পরিকল্পনা হচ্ছে, লক্ষাধিক ভাড়াটিয়াকে প্রতিমাসে ভাড়ার টাকা পরিশোধ করার মাধ্যমে বাড়ির মালিক করে দেবো।

ব্রেকিংনিউজ: ভাড়া দেবার মাধ্যমে বাড়ির মালিক হবে, কিভাবে সম্ভব হবে বলে আপনি মনে করেন?

বাহারানে সুলতান বাহার: প্রতিমাসে ভাড়াটিয়া তার ভাড়ার টাকা ব্যংকে জমা রাখবে এবং দশ থেকে ১৫ বছর পর সে যে ফ্লাটে থাকে সেই ফ্লাটের মালিক হয়ে যাবেন। প্রায় লক্ষাধিক ভাড়াটিয়াকে ফ্লাটের মালিক করে দিতে পারবো বলে আমি মনে করি। এছাড়া ঢাকা দক্ষিণের সকল নাগরিকের ডাকাবেজ তৈরি করবো। যাতে তাদের সমস্যা সঠিকভাবে নির্ণয় সম্ভব হয়।

এছাড়া বাড়ি ভাড়া আইনে বলা আছে ভাড়া দেবার সময় ভাড়াটিয়াকে চুক্তিপত্র দিতে হবে। ভাড়াটিয়ার পরিচয় পত্র রাখতে হবে। মোট কথা আমি বাড়ি ভাড়া আইন বাস্তবায়ন করবো।

ব্রেকিংনিউজ: আপনি ভাড়াটিয়াদের পক্ষে কাজ করেন বা মেয়র হলে করবেন তাতে মালিকদের চোখে কি শত্রু হবে না?

বাহারানে সুলতান বাহার: আমি দীর্ঘ ৪৩ বছর এই ঢাকার নির্বাচনী এলাকায় ভোট দিয়ে আসছি। এতদিন পরে ঢাকার ভাড়াটিয়াদের পক্ষে আমি একমাত্র অধম ভোটে দাড়িয়েছি। এর জন্য আমার অনেক বাড়িওয়ালা অনেক বাজে বাজে কথা শুনিয়েছে। তারা বলেন আমি নাকি বেকুব, অপদার্থ, অধম। কারণ আমার অপরাধ আমি ভাড়াটিয়াদের পক্ষে কাজ করি। সেই কারণে আমিও বলবো ঢাকার ভাড়াটিয়াদের, ভাইয়েরা আমার আমার পাশে থাকুন। আমাকে ভোট দিন। আমি আপনাদের অধিকার নিয়ে এ যাতৎ কাজ করে আসছি মেয়র নির্বাচিত হলে আমি তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করবো।
আমি দীর্ঘদিন ধরে বাড়িভাড়া আইন সঠিকভাবে প্রয়োগ করার জন্য এবং আপনাদের সুবিধার কথা চিন্তা করে অনেক মিটিং, মিছিল, মানবন্ধন, আন্দোলন এমনকি প্রধানন্ত্রী বরাবর স্বারকলিপি দিয়েছি। কিন্তু কিছুই করেনি সরকার। তাই আমি চাই আমাকে মেয়র নির্বাচিত করুন তাহলে আমি আপনাদের পাশে আমি দাঁড়াবো।

ব্রেকিংনিউজ: ভাড়াটিয়াদের জন্য এতকিছু করবেন, মালিকদের জন্য কিছু করবেন না?

বাহারানে সুলতান বাহার: অবশ্যই করবো, মালিকদের জন্য যেটা করবো তা হচ্ছে, বাড়ির মালিকদের বাড়ি বাবদ ট্যক্স অর্ধেক করে দিবো। বাড়ি ভাড়ার ব্যবসাটাকে শতভাগ ট্রেডলাইসেন্স এর আওতায় আনবো। তারা যেন ভালভাবে ব্যবসা করতে পাওে সে ব্যবস্থা করবো। পরিবেশ ওক্ষার কাজে প্রতিটি বাড়ির ছাদে গাছ লাগতে হবে বাধ্যতামূলক।

ব্রেকিংনিউজ: বর্তমান সময় তো তথ্য প্রযুক্তির সময়। ঢাকা শহরকে এ দিক দিয়ে আরো আধুনিক করার কি ধরনের পরিকল্পনা আছে কি?

বাহারানে সুলতান বাহার: অবশ্যই আছে। একটি দেশ টিকে থাকে বর্হি:বিশ্বেও সাথে তাল মিলিয়ে। আমি তথ্য প্রযুক্তির দিক দিয়ে সবার সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে রাখবো ঢাকাকে।

ব্রেকিংনিউজ: আপানার পরিকল্পনার মধ্যে আরও কোন কোন বিষয় আছে

বাহারানে সুলতান বাহার: বর্জ্যব্যবস্থাপনা চাকরিতে যারা অস্থায়ী আছে তাদের চাকরিতে স্থায়ী করণ করবো। প্রতিটি মহল্লায় মসজিদ, মন্দির, গির্জায় যারা প্রধান ভূমিকা পালন করেন তাদেরকে মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করে দিবো। কারণ আমি জানি তারা অবহেলিত থাকে। তাদেরকে মাসিক সম্মানিভাতা হিসেবে ১৫ হাজার করে টাকা দিবো।

মেয়রের সকল সরকারি সুবিধা আমি ভোগ করবো না। আমি আর দশটা সাধারণ নাগরিকের মতই চলাফেরা করবো। মেয়রের নাগরিক সেবার অফিস সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে কারণ যারা চাকরি করেন তারা চাকরি ফেলে অফিস টাইমে যেন সেবা নেবার জন্য অফিসে ধর্ন্না দিতে না হয়। বিনামূল্যে মৃত ব্যক্তিদের দাফনের ব্যবস্থা করবো। ঢাকা শহরের কয়েকটি কবরস্থান আছে যেগুলির সংরক্ষণ করা হয়না ঠিকমত। আমি এগুলি ভালভাবে সংরক্ষণ করবো। সিটি কর্পোরেশন এখন পর্যন্ত ২শত ৩১ কোটি টাকা দেনা আছে। আমি এই দেনা পরিশোধ করে দেবো।
ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় যেসকল বস্তিবাসী আছে তাদের বসবাসের জন্য ভাল পরিবেশ তৈরি করে দিবো। তাদের যেন বস্তিতে থাকতে না হয়। তাছাড়া তাদের মৌলিক অধিকারগুলি ফিরিয়ে দিবো। বুড়িগঙ্গা নদীতে সুন্দর পরিবেশ তৈরি করবো যাতে সাধারন মানুষের দূগর্ন্ধে কষ্ট ভোগ না করতে হয়। এর জন্য বিশাল একটি প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করবো।
জন্মনিবন্ধন করতে গেলে এখন খরচ হয় কিন্তু আমি উল্টো এই সকল শিশুকে পাঁচ হাজার করে টাক দিবো। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রনের জন্য কাজ করবো। তবে আগের তুলনায় ঢাকা শহরে আনুপাতিক হারে জনসংখ্যা কমছে। কারণ বাড়ি ভাড়া প্রতিনিয়ত বাড়ার কারণে, ভাড়ার রোষাণলে পড়ে তারা এখন ঢাকা ছেড়ে দিয়েছে। এর অন্যতম কারণ রয়েছে এই শহরে দুর্নীতিবাজ, কালোটাকার মালিক, ঘুষখোর এসবের কারণে ঢাকা ছেড়ে দিয়েছে। এরা সরকারি খাসজমি দখল করে আজ বাড়ির মালিক হয়েছে। তাছাড়া প্রতি বছর বাড়ি ভাড়া বাড়ালে দশ বছর পরে যে ভাড়া হবে সেই টাকা ভাড়াটিয়ারা দিবে কোথা থেকে। তাই তারা এখন ঢাকা ছেড়ে দিয়েছে। ঢাকা শহরে ভিআইপি এলাকায় গরীব মানুষের জন্য এখন একটুকরা জায়গা নেই। তাই গরিবদের নিজের একটুকরো জায়গা করে দেবার চেষ্টা করবো।

ব্রেকিংনিউজ: আচ্ছা, ভাইয়া আপনার মূল্যবান সময় দেবার জন্য অসংখ্যা ধন্যবাদ।

বাহারানে সুলতান বাহার: আপনাকে এবং ব্রেকিং নিউজকেও ধন্যবাদ। এছাড়া আমার সাক্ষাৎকারটি যারা পড়বেন তাদেরকেও ধন্যবাদ।


ব্রেকিংনিউজ/আরএআর/এফএম



আপনার মন্তব্য

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং