Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

সোমবার ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, পূর্বাহ্ন

প্রচ্ছদ » সাক্ষাৎকার 

অনলাইনে গল্প প্রকাশে শব্দের কোন লিমিটেশন নেই

অনলাইনে গল্প প্রকাশে শব্দের কোন লিমিটেশন নেই
সাক্ষাৎকার ডেস্ক ০১ মার্চ ২০১৫, ১:৪২ পূর্বাহ্ন Print

ঢাকা: এবারের বইমেলায় যে কজন তরুণ গল্পকার বাংলা সাহিত্যে তাদের গল্পের বুননে প্রতিশ্রুতিশীলতার পরিচয় দিয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন রিপনচন্দ্র মল্লিক। ঢাকার বাইরে থেকে লেখালেখি করে এবারের বইমেলায় এসেই পাঠকদের মনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। তার প্রথম গল্পগ্রন্থের পাণ্ডুলিপি ‘কাঠপরানের দ্রোহ’ দেশ পাবলিকেশন্সের ‘দেশ পাণ্ডুলিপি পুরস্কার-২০১৪’ পেয়েছে। পাণ্ডুলিপিটি গ্রন্থাকারে মেলায় প্রকাশ করেছে দেশ পাবলিকেশন্স। এরআগে ২০০৭ সালে ‘সুনীল সাহিত্য পুরস্কার’ পেয়েছেন। ব্রেকিংনিউজ ডটকম ডটবিডি’র পক্ষ থেকে এই প্রতিশ্রুতিশীল গল্পকারের সাথে বইমেলার লিটলম্যাগ চত্বরে বসে কথা বলেছেন সালাহ উদ্দিন মাহমুদ

ব্রেকিংনিউজ: আপনার লেখালেখির শুরুটা কখন হয়েছিল?
রিপনচন্দ্র মল্লিক: আমি আসলে লেখালেখি আগে শুরু করিনি। আমি প্রথমে বই পড়তেই শুরু করেছিলাম। মাদারীপুরের ইউনাইটেড ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে যখন ক্লাস সিক্সে ভর্তি হই, তখন বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের বই পড়া কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করি। তখন থেকেই মূলত আমার সাহিত্য জগতে প্রবেশ। অনেক প্রখ্যাত সাহিত্যিকদের মতো আমিও কবিতা দিয়ে শুরু করে ছিলাম। পরে ২০০৭ সালে ‘সুনীল সাহিত্য পুরস্কার’ এর জন্য গল্পের পাণ্ডুলিপি আহ্বান করলে, একটি গল্প লিখে জমা দেই। কয়েক মাস পরে, আমাকে অবাক করে দিয়ে পুরস্কার কমিটি আমার হাতে পুরস্কার তুলে দেয়। তারপর থেকে বুকের ভেতরে ছোটগল্প লেখার জন্য একটা তাড়না শুরু হয়েছে। যেটা এখনো হচ্ছে। আগামীতেও হবে (হা..হা..হা..)। ওই সুনীল সাহিত্য পুরস্কার পাওয়া গল্পটি কাঠপরানের দ্রোহ বইয়ে ‘সুখনগরে’ নামে রেখেছি।

ব্রেকিংনিউজ: ‘দেশ পাণ্ডুলিপি পুরস্কার’ পাওয়ায় অভিনন্দন।
রিপনচন্দ্র মল্লিক: ধন্যবাদ, ভাই। আমি আসলে জানতামই না যে আমি পুরস্কারটি পেয়েছি। আমি সেদিন সকালে পত্রিকা পড়তে গিয়েই পুরস্কার প্রাপ্তির খবরটি পত্রিকায় দেখি। পরে কর্তৃপক্ষ আমাকে ফোন দেয়।

ব্রেকিংনিউজ: তরুণদের মধ্যে যারা নিয়মিত বিভিন্ন গণমাধ্যমে গল্প লিখছেন। আপনি তো তাদের মধ্যে একজন। কোন মাধ্যমটি আপনি বেশি স্বাচ্ছন্দ মনে করেন?
রিপনচন্দ্র মল্লিক: আমার লেখা গল্প অনলাইন পত্রিকা, মুদ্রিত দৈনিক পত্রিকা, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক ও বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। সব মাধ্যমই আসলে পাঠকের কাছে পৌঁছে যায়। তবে বর্তমানে আমি অনলাইন মাধ্যমেই লিখতে বেশি পছন্দ করি। এই মাধ্যমে খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে সারা পৃথিবীর বাংলা ভাষাভাষি মানুষের কাছে লেখা উপস্থাপন করা যায়। তাছাড়া আমার কাছে মনে হয় আমরা যারা তরুণ লেখক আছি, আমাদের বেশির ভাগই অনলাইনে লেখালেখি করে। এখানে লেখালেখির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, গল্প প্রকাশে এখানে শব্দের কোন লিমিটেশন নেই। কাগজে মুদ্রিত দৈনিক পত্রিকাতে তরুণদের স্পেস পাওয়া খুবই কঠিন। সেই সুবিধাটি অনলাইন সংবাদপত্রে আমরা তরুণ লেখকরা পাচ্ছি।

ব্রেকিংনিউজ: লেখালেখিতে বাংলা সাহিত্যে প্রবীণ কালজয়ী লেখকদের সসম্মানে আলাদা রেখে, যদি বলি সমসাময়িক সময়ে কাদের লেখা আপনাকে বেশি অনুপ্রাণিত করেছে?
রিপনচন্দ্র মল্লিক : আসলে হাতের কাছে যার বই পাই, পড়ে ফেলতে আমার কোন অসুবিধা নেই। পড়ে ফেলি। বাংলা সাহিত্যে যারা কালজয়ী লেখক সবার লেখাই আমি পড়ার চেষ্টা করি। এখনো পড়ছি। আগামীতেও পড়ব। তবে নামগুলো ইচ্ছে করেই বলছি না। এখনো নাম প্রকাশ করে ফেলার মতো কোন অবস্থায় আমি পৌঁছে যাইনি। তবে সমসাময়িক সবার লেখাই পড়ার চেষ্টা করি এবং পড়িও।

ব্রেকিংনিউজ: মেলায় আপনার ‘কাঠপরানের দ্রোহ’ নিয়ে পাঠকদের মধ্যে কেমন প্রতিক্রিয়া দেখছেন?
রিপনচন্দ্র মল্লিক: আসলে আমার এই গ্রন্থের অনেক গল্পই পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। তাই এই গল্পগুলো সম্পর্কে অনেক পাঠক অবগত আছেন। তবে আশার কথা হচ্ছে, এবারের মেলায় গল্পের বই বেশ বিক্রি হয়েছে। আমার প্রকাশকও বইটি নিয়ে ভীষণ আশাবাদী। অনেকেই বইটি মেলা থেকে সংগ্রহ করেছেন। আর যারা মেলায় আসতে পারছেন না, তারা অনলাইনে রকমারি ডটকমে অর্ডার দিয়ে বই সংগ্রহ করছেন। এই খবরটিই আসলে আমার মত একজন তরুণ লেখকের কাছে অনেক বেশি অনুপ্রেরণার।

ব্রেকিংনিউজ: বর্তমানে কার লেখা পড়ছেন?
রিপনচন্দ্র মল্লিক: জাকির তালুকদারের এই মেলায় প্রকাশ হওয়া নতুন বই ‘গোরস্থানে জ্যোস্না’ পড়ে ফেলেছি। ভালো লেগেছে। এছাড়া এখন মুজতবা আহমেদ মুরশেদের ‘আঁধারখেকো প্রজাপতি’, আহমাদ মোস্তফা কামালের ‘অশ্রু ও রক্তপাতের গল্প’ এবং স্বকৃত নোমানের ‘নিশিরঙ্গীনি’ পড়ছি। তিনটি বই-ই গল্পের বই। তবে আলাদা আলাদা সময় করে পড়ছি। তবে মেলার জন্য ঢাকায় এসেছি, তাই আপাতত পড়াশোনা বন্ধ করে প্রিয় লেখকদের বই কিনছি।

ব্রেকিংনিউজ: সময় দেয়ার জন্য ব্রেকিংনিউজের পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ।
রিপনচন্দ্র মল্লিক: আপনাকে এবং ব্রেকিংনিউজের সকলকে আমার পক্ষ থেকে বসন্তের শুভেচ্ছা রইলো।

ব্রেকিংনিউজ/এসইউএম



আপনার মন্তব্য

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং