Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » সাক্ষাৎকার 

মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলেই লড়াইটা জমে

মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলেই লড়াইটা জমে
মাহীতাজ খান ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৫, ১২:২৭ অপরাহ্ন Print

ঢাকা: তরুণ নির্মাতা হিসেবে ২০০৮ ও ২০০৯ সালে শখের বসেই নির্মাণ করেন ‘হত্যা আত্মহত্যা’ ও ‘ইসলাম’ নামে দুটি স্বল্পদৈঘ্য চলচ্চিত্র। পরবর্তীতে ‘না শুনতে রাজি না’ ‘লুকোচুরি’, ‘আমি মুক্তিযোদ্ধা’, ‘সমানে সমান’ ও ‘পুলিশ’ নাটক নির্মাণের মাধ্যমে সকল শ্রেণির দশর্কের নজর কেড়েছেন হালের জনপ্রিয় নির্মাতা ইমেল হক। সম্প্রতি তিনি ব্রেকিংনিউজের সঙ্গে ক্যারিয়্যারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মেতে উঠে ছিলেন এক আড্ডায়।

মিডিয়ায় কাজের শুরু হলো কিভাবে?
ইমেল হক: পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াকালীন আমার থিয়েটারে হাতেখড়ি। পরবর্তীতে ২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পযর্ন্ত নাগরিক নাট্যাঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। দলে থাকাকালীন অনেক সিনিয়রের সঙ্গে কাজ করলেও ২০০৯ সালে আশফাক নিপুনের ‘মুকিম ব্রার্দাস’-এ কাজের মাধ্যমে আমার নির্মাণের হাতেখড়ি। পরবর্তীতে ‘অ্যাডভোকেট হাশেম আলী’, ‘ডাকাতিয়া বাঁশি’, ‘ল্যান্ডফোনের দিনগুলিতে প্রেম’, ‘দিয়াশলাই কাঠি’, ‘ক্লোজআপ কাছে আসার গল্প’, ‘মুখোশ’ ইত্যাদি ফিকশনগুলোতে তার প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করেছি।

আপনার নির্মিত প্রথম কাজটি সম্পর্কে কিছু বলুন
ইমেল হক: ২০১২ সালে একটি টুথপেষ্টের বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণের মাধ্যমে শুরু করলেও ২০১৩ সালের রোজার ঈদে চ্যানেল ২৪-এ ‘না শুনতে রাজি না’ নাটকটি প্রচারের মাধ্যমে র্নিমাতা হিসেবে আমার অভিষেক ঘটে।

মিডিয়ায় কাজের ক্ষেত্রে তরুণ নির্মাতা হিসেবে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন?
ইমেল হক: বাজেট স্বল্পতা এবং বিশেষ দিবসগুলোর বাহিরে ‘একক নাটক’ নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রতিকূলতা ছাড়াও বেশিরভাগ প্রযোজক ও টিভি চ্যানেলগুলোর তরুণ নির্মাদের উপর যথেষ্ট পরিমাণে বিশ্বাসের ঘাটতি রয়েছে। একইসঙ্গে ‘একক নাটক’ নির্মাণের ক্ষেত্রে আগের মতো ফিকশন নির্মাণের আগে সিনোপসিস দেয়ার সুযোগটাও এখন বেশিরভাগ টিভি চ্যানেলগুলোর ক্ষেত্রে নেই বললেই চলে। ফলে পুরো বছর জুড়েই সিনিয়র নির্মাতারা ধারাবাহিক নিয়ে ব্যস্ত থাকায় আমার মতো তরুণ নির্মাতাদের ইচ্ছা থাকা সত্বেও কাঙ্ক্ষিত অভিনয় শিল্পীর সিডিউল মেলাতে না পারার কারণে ভালোমানের একক নাটক নির্মাণে ব্যর্থ হচ্ছি।

বতর্মানে অনেক অভিনয় শিল্পীই পরিচালক বনে যাচ্ছেন, এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কি?
ইমেল হক: মিডিয়ায় যারা অগ্রজ তাদের যারা দীর্ঘ সময় অভিনয়ের পরে নাটক কিংবা টেলিফিল্ম নির্মাণ করছেন তাদের ব্যাপারে আমার কোনো ধরনের অভিযোগ নেই। কারণ তাদের কাজ দেখে আমি প্রতিটি মুহূর্তে নির্মাণের কৌশলগুলো আয়ত্ব করি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে, অনেক অভিনয় শিল্পীই একজন ভালো চিত্রনাট্যকারের চিত্রনাট্য ও একজন ভালো ভিডিওগ্রাফার নিয়ে নির্মাণের কোনো ধরনের জ্ঞান আয়ত্ব করা ছাড়াই ‘অ্যাকশন’ আর ‘কাট’ বলে নির্মাতা বনে যাচ্ছেন। যা খুবই হতাশাজনক।

নাটক নির্মাণে বিভিন্ন এজেন্সির এগিয়ে আসার বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
ইমেল হক: তরুণ নির্মাতাদের জন্য এটি নব দিনের সূচনা করেছে। কারণ এর আগে নিরিক্ষাধর্মী কাজ করাটা তরুণ নির্মাতাদের জন্য সম্ভব ছিল না। এজেন্সিগুলো ফিকশন নির্মাণের আগেই মোট বাজেটের অর্ধেক এবং শুটিং শেষের দিন বাকি অর্ধেক টাকা পরিশোধ করে দিচ্ছে। ফলে নির্মাণের বাজেট কিংবা টাকা পয়সা নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকা যাচ্ছে। অন্যদিকে টিভি চ্যানেলগুলোতে এমন ধরনের সুবিধা নেই। এর পাশাপাশি হাতেগোনা কয়েকটি টিভি চ্যানেল ছাড়া বেশিরভাগ টিভি চ্যানেলগুলোর ক্ষেত্রেই ফিকশন বিক্রির টাকা তোলাটাও বতর্মানে বেশ কষ্টসাধ্য।

ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলো বন্ধ করে দেয়ার ব্যাপারে আপনার কি মতামত?
ইমেল হক: যখন বাংলাদেশের কোনো নির্মাতার নাটক প্রচারিত হচ্ছে তখন সেই সময়েই বলিউড কিংবা হলিউডের সিনেমাও টিভিতে প্রচারতি হচ্ছে। দর্শক সেই সময়ে বিদেশি টিভি চ্যানেল না দেখে দেশি চ্যানেলগুলোতে আমাদের নাটক কিংবা টেলিফিল্মগুলো দেখছে। অনেক আগে থেকেই এমন প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়েই আমাদের নাটকের ইন্ড্রাস্ট্রি বড় হয়ে আজকের এই অবস্থানে এসেছে। তাই ভারতীয় কিংবা যে কোনো দেশের চ্যানেল বন্ধ কিংবা চালু রাখা নিয়ে আমার কোন আপত্তি নেই। বরং মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলেই লড়াইটা জমে। আমার মূল ভয় হচ্ছে বিজ্ঞাপন। কারণ একমাত্র মাত্রাতিরিক্ত বিজ্ঞাপন প্রচারের কারণেই আমরা দর্শক হারাচ্ছি। বিজ্ঞাপন প্রচারের ব্যাপারে নির্দিষ্ট সময় বাধা না থাকার কারণে দেশীয় টিভি চ্যানেলগুলো সঠিক সময়ে অনুষ্ঠান প্রচার করতে বেশিরভাগ সময়েই ব্যর্থ হচ্ছে।

তারকা নাকি গল্পনির্ভর- কোন ধরনের কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?
ইমেল হক: দৃশ্যকল্পে আমার গল্পের চরিত্রগুলোকে সত্যিকার অর্থে জীবন্ত করার স্বার্থে যাকে প্রয়োজন তাকেই সব সময় কাস্টিং করে থাকি। কারণ গল্পই তারকা সৃষ্টি করে, তারকা কখনোই গল্প সৃষ্টি করে না।

নির্মাতা থেকে অভিনেতা বনে গেলেন কিভাবে?
ইমেল হক: অম্লান বিশ্বাসের ‘যাও পাখি’ ধারাবাহিকে ঘটনাক্রমে আমার প্রথম অভিনয় করা হয়েছিল। সেখানে একটি চরিত্রে মাথায় বড় চুলের একজন প্রয়োজন ছিল। তখন আমার মাথার চুল বড় ছিল বিধায় আমাকে সেই চরিত্রে কাস্টিং করা হয়েছিল। এছাড়াও আশফাক নিপুনের ‘দিয়াশলাই কাঠি’ নাটকে তিশার বিপরীতে এবং সম্প্রতি ইমরাউল রাফাতের ‘রাব্বু ভাইয়ের বউ’ নাটকে পুলিশের চরিত্রে অভিনয় করেছি। বলতে গেলে অভিনয় করতে বাধ্য হয়েছি।

চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন কবে?
ইমেল হক: সিনেমা নির্মাণই চূড়ান্ত লক্ষ্য। তবে সব কিছু ঠিকঠাক মতো এগিয়ে গেলে ২০১৬ সালের শেষ নাগাদ আমার প্রথম সিনেমা নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এর আগে কিছু প্রস্তুতিরও ব্যাপার আছে। নিজেকে প্রস্তুত না করে সিনেমা নির্মাণে যেতে চাই না।

‘ধ্রুপদী’ নাকি ‘বাণিজ্যক’ কোন ধরনের সিনেমা নির্মাণে আগ্রহী?
ইমেল হক: আমার কাছে ‘ধ্রুপদী’ ও ‘বাণিজ্যিক’ বলতে কিছু নাই। বরং আমি বিশ্বাস করি আমরা যারা সিনেমা নির্মাণ করতে আসছি এটাই হলো আর্ট। তবে অনেকেই বিএফডিসি ও এর বাহিরের ঘরানা- এই দুটোতে অহেতুক পাথর্ক্য টানে। আমার কাছে সিনেমা মানে সিনেমাই। আমার একটাই কথা, আমার প্রযোজকের লগ্নি করা টাকাটা আমাকে মুনাফাসহ তুলে আনতে হবে এবং দর্শক যেন তার পকেটের টাকা খরচ করে বারবার টিকেট কিনে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে আমার সিনেমা দেখে এবং বলে ‘আহ! একি দেখলাম!’

এ সময়ের ব্যস্ততা?

ইমেল হক: সম্প্রতি ইমরাউল রাফাতের ‘রাব্বু ভাইয়ের বউ’ ধারাবাহিক ও ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে ক্লোজআপ আছে আসার সাহসী গল্পে ‘প্রতিক্ষা’ নাটকে রাফাত ভাইয়ের প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করেছি। এছাড়া নিজেরও কিছু নতুন ফিকশনের প্রি-প্রোডাকশনের কাজ চলছে।

ব্রেকিংনিউজ/এমকে/এফই



আপনার মন্তব্য

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং