Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » সাক্ষাৎকার 

হত্যাযজ্ঞ ও সংলাপ এক সঙ্গে চলতে পারে না

হত্যাযজ্ঞ ও সংলাপ এক সঙ্গে চলতে পারে না
মোহাম্মদ রুবেল ২৮ জানুয়ারী ২০১৫, ৬:২৯ অপরাহ্ন Print

ঢাকা: বিএনপি ২০ দলীয় জোট হরতাল-অবরোধ দিয়ে সারা দেশে অসংখ্য নিরীহ মানুষকে হত্যা করছে। একদিকে মানুষ হত্যা অন্যদিকে সংলাপ এক সঙ্গে চলতে পারে না। ব্রেকিংনিউজের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এমন কথাই বলেছেন। বুধবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে মন্ত্রীর সাথে কথা বলেন ব্রেকিংনিউজের এ প্রতিবেদক।

গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে খালেদা জিয়া সংলাপের কথা বলছেন। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কি?
শাজাহান খান: বিএনপি ২০ দলীয় জোট চলতি বছর ৫ জানুয়ারি থেকে গণতন্ত্র রক্ষার নামে হরতাল-অবরোধ দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করছে। এ জন্য তারা সারা দেশে চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে পেট্রোল বোমা মেরে, আগুনে পুড়িয়ে বাস-ট্রাকের চালক-হেলপার ও যাত্রীসহ অসংখ্য নিরীহ মানুষকে হত্যা করছে। খালেদা জিয়া যদি গণতন্ত্রই চাইতেন তাহলে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সংলাপে বসেননি কেন? আপনি একদিকে সংলাপ চাচ্ছেন, অন্যদিকে পেট্রোল বোমা মেরে আপনার ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা মানুষ হত্যা করছে। হত্যাযজ্ঞ ও সংলাপ এক সঙ্গে চলতে পারে না।

সরকার কি শিগগির কোনো নির্বাচনের কথা ভাবছে?
শাজাহান খান: না, ভাবছে না। সংবিধান অনুযায়ী ২০১৯ সালেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই একাদশ নির্বাচন হবে। এর আগে দেশে আর কোনো নির্বাচন নয়।

চলমান হরতাল-অবরোধ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কি?
শাজাহান খান: বেগম খালেদা জিয়া আসলে দেশকে পাকিস্তানে পরিণত করতে চান। নিজের ছেলের মৃত্যুতে শোকাহত হলেও অন্যের সন্তানদের প্রতি তার দরদ নেই। হরতাল-অবরোধের নামে পেট্রোল বোমা মেরে অন্যের সন্তানদের হত্যা করছে তার ভাড়া করা সন্ত্রাসীরা। এক নিষ্ঠুর রাজনৈতিক খেলায় মেতেছেন খালেদা জিয়া। উনি আসলে গণতন্ত্র রক্ষার জন্য কিছুই করছেন না। তিনি চাচ্ছেন যুদ্ধপরাধীদের রক্ষা করে ক্ষমতায় বসতে। ২০১৩ সাল থেকেই জামায়াত-শিবির-বিএনপি তথা স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি সারাদেশে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টির প্রচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছিল, যা বর্তমানেও অব্যাহত রয়েছে।

হরতাল-অবরোধের ফলে দেশের পরিবহণ, পোশাক ও কৃষি খাতের অবস্থা এখন কেমন?
শাজাহান খান: দেশের চলমান পরিস্থিতিতে সড়ক পরিবহণ সেক্টরের ৩৫ লক্ষ শ্রমিক, গার্মেন্টস সেক্টরে ৪০ লক্ষ শ্রমিকসহ নানা পেশাজীবী মানুষের জীবন-জীবিকা আজ হুমকির মুখে। কৃষি খাতকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করতে গভীর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। যা চলমান নাশকতার সাথে জড়িত।

হরতাল-অবরোধে মানুষের মৃত্যু ও ক্ষয়-ক্ষতির পরিসংখ্যান কি সরকারের কাছে আছে?
শাজাহান খান: গণতন্ত্র রক্ষার অজুহাতে ক্ষমতায় আসার জন্য বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট এ পর্যন্ত শিশু-নারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পরিবহন শ্রমিকসহ নিরীহ ৩০ জন মানুষকে হত্যা করেছে। একই সময়ে সারাদেশে ৫ শ’ ৭২টি যানবাহনে আংশিক অগ্নিসংযোগসহ ৬৫টি সম্পূর্ণভাবে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ভাংচুর করা হয়েছে ৩ হাজার ২ শ’ ৩১টি। বিআরটিসির ৫০টি বাসে অগ্নি সংযোগসহ ৩ শ’ ১৭টি বাস ধ্বংস করা হয়েছে।

চলমান অবস্থা মোকাবেলা করতে সরকারের চিন্তা-ভাবনা কী?
শাজাহান খান: বিএনপি-জামায়াত দেশকে ধ্বংস করে অকার্যকর ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার এক গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। চলমান অবস্থা মোকাবেলায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর হতে বলা হয়েছে। এছাড়া এ অবস্থা মোকাবেলায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী কৃষক-শ্রমীকসহ সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

ব্রেকিংনিউজ/এমআর/এফই



আপনার মন্তব্য

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং