Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » সাক্ষাৎকার 

অচলাবস্থা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ কার্যকরী সংলাপ

অচলাবস্থা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ কার্যকরী সংলাপ
বিশেষ প্রতিবেদক ১৫ জানুয়ারী ২০১৫, ১২:৩০ অপরাহ্ন Print

ঢাকা: চলতি বছরের ৫ই জানুয়ারী পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন গোটা দেশ। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সরকারের একগুঁয়ে মনোভাব, বিরোধী জোটের মরণপন সংগ্রাম সব মিলিয়ে এক ক্রান্তিকাল পার করছে বর্তমানের বাংলাদেশ।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ব্রেকিংনিউজের সাথে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য এবং বিএনপিপন্থি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) সভাপতি আ ফ ম ইউসুফ হায়দার।

৫ই জানুয়ারী পরবর্তী দেশের যে অবস্থা একে আপনি কিভাবে দেখছেন?
আ ফ ম ইউসুফ হায়দার: এর উত্তর দেয়াটা কিছুটা কঠিন। কারণ দেশের বর্তমান যে পরিস্থিতি তা প্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় আমরা ঠিকভাবে পাচ্ছি বলে আমি মনে করি না। তবে এক কথায় বলতে গেলে আমার কাছে মনে হচ্ছে দেশ একটি ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে। এবং অবশ্যই অবরোধের ফলে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘ্নিত হচ্ছে। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারীর পর তারানকোর মধ্যস্থতায় একটি আলোচনা হয়েছিল কিন্তু আমি এখনো বিস্মিত হই এটা ভেবে কেন সেই আলোচনা তখন ফলপ্রসু হয়নি। কিন্তু এটা তো সত্য ৫ই জানুয়ারীর ওই নির্বাচন ছিল অনৈতিক, অগ্রহণযোগ্য। তবে সেটা যদি প্রধানমন্ত্রীর তখনকার ভাষ্যমতে নিয়মরক্ষার বা সংবিধানরক্ষার নির্বাচন হয় তাহলে সেটা হয়ত ঠিক ছিল। কিন্তু সেই নির্বাচনকে পুরো ৫ বছর টেনে নিয়ে যাওয়ার চিন্তাটা সবচেয়ে অনৈতিক এবং দেশের মানুষের কাছে হাস্যকর। আপনি জানেন ওই নির্বাচন নিয়ে ফেমার পরিসংখ্যান বলেছিল নির্বাচনে ৫-১০ শতাংশ ভোট পড়েছিল, যদিও ফেমাকে অনেকে আওয়ামী ঘরানার মনে করেন তারপরও তারা সত্য পরিসংখ্যানই প্রকাশ করেছিল। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো ওই নির্বাচনকে নিয়মরক্ষার নির্বাচন বলে সরকার জনগনকে নির্বাচন পরবর্তী যে আশার আলো দেখিয়েছিল নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর তারা সেই ওয়াদা বেমালুম ভুলে যায়। এখন তারা সেই ওয়াদাকে অস্বীকার করছে। আমি মনে করি আওয়ামী লীগের মতো একটি দলের কাছে মানুষ এটা আশা করে না। আওয়ামী লীগ বা সরকারকে যারা এ বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন তারা আসলে দলটির প্রকৃত শুভাকাঙ্খী নয়। তারপরও যদি আওয়ামী লীগ জোড় করে ক্ষমতায় থাকতে চায় তাহলে দিন দিন তাদের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়বে এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নাই। কারণ তখন তারা ওয়াদার বরখেলাপকারী এবং মিথ্যাবাদী হিসেবে জনগণের কাছে প্রতিষ্ঠিত হবে। তার থেকে বড় কথা হলো কোন দল ক্ষমতায় এল সেটা আমার কাছে বড় বিষয় নয়, আমার কাছে বড় বিষয় হলো আমি আমার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলাম কি-না। সবকিছু মিলিয়ে এখন সাধারণ মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি হচ্ছে। তারপরও মানুষ কিন্তু আগের মতো, চোখে পড়ার মতো প্রতিবাদ করছে না। কিন্তু তাদের নিরব সমর্থন আছে বলে আমার কাছে মনে হয়। কারণ তারা জানে বিরোধী জোট একটি অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। তাই আন্দোলনে জনগণের সীমাহীন দুর্ভোগ হলেও তারা কিন্তু এটাকে অনেকাংশে মেনে নিয়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে দেশ একটি গভীর সংকটের মধ্যে দিয়ে চলেছে।

দেশে বর্তমান যে সমস্যা তা থেকে উত্তরণের পথ কি?
আ ফ ম ইউসুফ হায়দার: বর্তমান সমস্যা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হচ্ছে বিরোধী দলের সাথে কার্যকরী একটি সংলাপ করা। এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেশের মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের ব্যবস্থা করা। কিন্তু আমি একটি পত্রিকা মারফত জানলাম, আওয়ামী লীগ এখন সংলাপের জন্য প্রস্তুত নয়। কিন্তু বিএনপি যদি আন্দোলন তীব্রতর করে তাহলে হয়ত তারা সংলাপের আহবান করতে পারে। আমি আশ্চর্য হই, আওয়ামী লীগ বিএনপির আন্দোলন তীব্রতর হওয়ার আশায় বসে থাকবে কেন? এতে আসলে কার লাভ হবে? জনগণের কষ্ট লাঘব করা যেখানে সরকারের কাজ সেখানে তারা জনগণের সহ্যসীমার পরীক্ষা নিবে কেন সেটা বুঝতে পারছি না। জনগনকে কিছু সময়ের জন্য হয়ত বোকা বানানো সম্ভব কিন্তু সব সময়ের জন্য বোকা বানানো অসম্ভব। তাই এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আপাতত সংলাপের কোনো বিকল্প দেখছি না।

আপনি বেগম জিয়ার সাথে দেখা করেছেন, আন্দোলন নিয়ে তার চিন্তা-ভাবনা কি?
আ ফ ম ইউসুফ হায়দার: দেখেন আমরা শিক্ষক মানুষ। আমরা যখন উনার সাথে দেখা করি তখন রাজনীতি নিয়ে আমাদের মধ্যে তেমন কথা-বার্তা হয় না। আমরা যখন শুনলাম পিপার স্প্রে মারার ফলে উনার শরীর খারাপ হয়েছে এবং উনাকে কার্যত গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে, তখন উনার খোঁজ-খবর নেয়ার জন্য আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। তবে একটি জিনিস বুঝেছি, বেগম জিয়া আসলে মানুষের ভোটাধিকারের অধিকার ও নিশ্চয়তা চান। একই সাথে উনি চান দেশে যেন একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিরাজ করে।

সম্প্রতি অমিত শাহের সাথে খালেদা জিয়ার টেলিফোন সংলাপ যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে এ বিষয়ে আপনি কি বলবেন?
আ ফ ম ইউসুফ হায়দার: আমি অবাক হয়েছি খালেদা জিয়ার মুখপাত্র যখন জোড় দিয়ে বলছে অমিত শাহের সাথে কথা হয়েছে তারপরও অনেকে বলার চেষ্টা করছে তাদের মধ্যে কোনো কথা হয়নি। অথচ ভারতের আনন্দবাজার কিন্তু বলেছে কথা হয়েছে। আরো আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে অমিত শাহের মতো একজন মানুষ, যিনি রুলিং পার্টির ১ম সারির একজন নেতা, তার সাথে বাংলাদেশের কয়েকজন সাংবাদিক সহজেই কথা বলে ফেলল খালেদার সাথে টেলিফোন সংলাপের বিষয়ে। আর বিষয়টিকে সরকার এত গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করারও তো কোনো কারণ দেখি না। কথা যদি না-ই হয় তাহলে পরের দিনই শমসের মবিনকে গ্রেফতার করা হলো কেন?

দেশে স্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে আসার জন্য সরকারকে আপনি কি পরামর্শ দিবেন?
আ ফ ম ইউসুফ হায়দার: জানি না সরকার আমার পরামর্শ গ্রহন করবে কিনা। তবে আমি বলব আওয়ামী লীগ বুঝে বা না বুঝে হোক এরশাদের পথেই হাঁটছে। এরশাদের তখন যে পরিণতি হয়েছিল আওয়ামী লীগ ধীরে ধীরে সেই পথে যাচ্ছে। কিন্তু আমরা চাই না আওয়ামী লীগের অবস্থা জাতীয় পার্টির মতো হোক। কারণ সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য শক্তিশালী দলের প্রয়োজন। আর বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের জন্য কিন্তু এটা খুবই ক্ষতিকর। সাধারণ ও সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি মনে করি সময়ক্ষেপন না করে দেশে স্থিতিশীল অবস্থা নিয়ে আসার জন্য আওয়ামী লীগকে এখনই কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ব্রেকিংনিউজ/এমএএস/এফই



আপনার মন্তব্য

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং