Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » সাক্ষাৎকার 

বিএনপির মাঠকর্মীর ভাবনা

আবারও বিএনপির কৌশলে ভুল

আবারও বিএনপির কৌশলে ভুল
প্রতিবেদক ০৬ জানুয়ারী ২০১৫, ১২:৫৮ অপরাহ্ন Print

ঢাকা: ৫ই জানুয়ারী ইস্যু পরবর্তী উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপট নিয়ে বিএনপির কর্মকৌশল, করণীয় এবং সর্বোপরি দলটি ও তাদের নেতাদের ঘর ভিত্তিক রাজনৈতিক হুংকার সর্বস্ব ভূমিকা নিয়ে ব্রেকিংনিউজ কথা বলেছে দলটির মাঠে সক্রিয় থাকা কিছু নেতা-কর্মীর সাথে। যারা দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দের দেয়া কর্মসূচিতে নিজেরা মাঠে থাকেন কিন্তু কর্মসূচি ঘোষণা করা নেতাদের দেখা পান না।

এমনই এক নেতা বিএনপির কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক এসকে সাদী কথা বলেছেন ব্রেকিংনিউজের সাথে

গত নির্বাচনে বিএনপির অংশ না নেয়াটা কি বিএনপির কৌশলগত ভুল ছিল?
এসকে সাদী: আমি মনে করি সেখানে কৌশলে কোনো ভুল ছিল না, তবে ভুল ছিল হঠাৎ করে আন্দোলন থেকে সরে আসায়। আমাদের উচিত ছিল সেই আন্দোলনকে দীর্ঘায়িত করা। তাহলে হয়ত ফলাফল ভিন্ন হতো।

আবারও ৫ই জানুয়ারী ২০১৫। কিন্তু এবারও আন্দোলনের ডাক দিয়ে ব্যাপক লোকসমাগম ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি। আপনি এটাকে কিভাবে দেখছেন?
এসকে সাদী: লোকসমাগম ঘটাতে ব্যর্থ হয়নি। যারা বিএনপির রাজপথের কর্মী ছিল তারা গতবারের মতো এবারও রাজপথে ছিল এবং এখনও আছে। কিন্তু মাঠে যেহেতু নেতৃত্ব দেয়ার কাউকে পাওয়া যায় না তাই আমরা সংঘবদ্ধভাবে সেটা প্রকাশ করতে পারি না। আপনি শুনে অবাক হবেন, গত ৫ই জানুয়ারী (২০১৫) চেয়ারপারসনের ডাকা সমাবেশে যোগ দিতে আমাদের হাজার হাজার কর্মী মাঠে ছিল। তার মধ্যে অনেকে আবার কৌশলগত কারণে আওয়ামী লীগের মিছিল সমাবেশে অবস্থান নিয়েছিল। আমরা সবাই শুধুমাত্র একটি মাত্র ডাকের অপেক্ষায় ছিলাম, আমাদের কোনো নেতা যদি রাজপথে নেমে আসতেন তাহলে হাজার হাজার কর্মী অবশ্যই তাকে অনুসরণ করত।

আপনি বলছেন আপনারা যারা মাঠের কর্মী তারা সব সময় মাঠে থাকেন। কিন্তু আপনাদের নেতাদের বরাবরই ঘরভিত্তিক রাজনৈতিক চর্চা করতে দেখা যায়। এটাকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
এসকে সাদী: নেতারা তো কাল নির্বাচনে জয়ী হলে পরশু মন্ত্রী-মিনিষ্টার হবে। সেজন্যই হয়ত তারা জীবনের রিস্ক নিতে চান না। তারা চান কর্মীদের রক্তের উপর দিয়ে ক্ষমতাকে উপভোগ করতে। আর কর্মীরা এখন বিশ্বাস করতে শুরু করেছে এইসব সুবিধাবাদী নেতারাই ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকবে আর কর্মীরা কর্মীই থাকবে। এছাড়া ধনাঢ্য কিছু অরাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ দলটির গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার কারণে তারা রাজপথের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতাই রাখে না। আপনি হয়তো বিশ্বাস করবেন না, এই দলে এমন নেতার সংখ্যা এখন অনেক যারা তোষামোদী পেতে পছন্দ করেন, আর তারা কমিটি দেয়ার সময় সেটাকেই বিবেচনায় রাখেন। ফলে তোষামোদী করে পদ পাওয়া ওই ব্যক্তিকে দলের প্রয়োজনে রাজপথে পাওয়া যায় না।

আপনাদের চেয়ারপারসন সমাবেশ করতে না পেরে দেশব্যাপী অনির্দিষ্ট কালের জন্য অবরোধের ডাক দিয়েছেন। এই কর্মসূচিকে আপনারা কিভাবে দেখছেন?
এসকে সাদী: আমি প্রথমেই বলতে চাই, এটা আমাদের দলের জন্য কৌশলগত বিরাট একটি ভুল। চেয়ারপারসনের উচিত ছিল এই সমাবেশকেই টেনে নিয়ে যাওয়া। উনি যেটা ৫ তারিখ করতে পারেননি সেটা ৬ তারিখ করার ঘোষণা দিবেন, সেদিন না পারলে প্রতিদিন সেটা করার চেষ্টা করবেন। দেশবাসী দেখতে চায় এই সরকার কতদিন আমাদেরকে সমাবেশ করতে না দেয়। তাছাড়া এর ফলে জনজীবনে যে ভোগান্তীর সৃষ্টি হত তা কিন্তু সরকারের উপরই যেত। কিন্তু অবরোধ কর্মসূচীর ফলে সেটা এখন বিএনপির উপর যাচ্ছে। আমি এটাকে বড় ধরনের কৌশলগত ভুল বলব।

আপনাকে ধন্যবাদ।
এসকে সাদী: আপনাকেও ধন্যবাদ।

ব্রেকিংনিউজ/এমএএস/এফই



আপনার মন্তব্য

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং