Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » সাক্ষাৎকার 

শ্রোতার হৃদয় ছুঁয়ে গেলেই শিল্পীর সার্থকতা

শ্রোতার হৃদয় ছুঁয়ে গেলেই শিল্পীর সার্থকতা
মাহীতাজ খান ২৪ ডিসেম্বর ২০১৪, ৩:০৪ অপরাহ্ন Print

ঢাকা: হতে পারতেন নৃত্যশিল্পী, কিংবা অভিনেত্রী। তা হননি, হয়েছেন গায়িকা। গানকে ভালোবেসে থেকে গেলেন গানের ভুবনে। বলছি এই প্রজন্মের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী তানজিনা রুমার কথা। সম্প্রতি ব্রেকিংনিউজের সঙ্গে এক আড্ডায় বসেছিলেন তিনি। গান নিয়ে অনেক কথার ফাঁকে বলেছেন নিজের হালহকিকত নিয়ে।

গানের পথে চলার শুরু গল্পটা কেমন?
তানজিনা রুমা: তখন আমি ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ি। মা আমাকে আলতাফ মাহমুদের একাডেমিতে গান শেখার জন্য ভর্তি করে দিলেন। সেই থেকে গানকে ভীষণ ভালোবেসে ফেললাম। এছাড়াও আমি নীলুফার ইয়াসমিন এবং ওস্তাদ ফুল মোহাম্মদের কাছে ধ্রুপদী সংগীতের তালিম নিয়েছি।

আপনি ছোটবেলায় নাচ করতেন?
তানজিনা রুমা: শুধু কী নাচ নাকি? নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তি ইত্যাদি সবই তো করতাম। স্কুলের প্রতিযোগিতাগুলোতে নিয়মিত অংশগ্রহণ করা ছাড়াও নতুন কুঁড়ি, জাতীয় শিশুকিশোরসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতাম। এসব কিছু করার মধ্যে নিজের অজান্তেই কখন যেন গানের সঙ্গে প্রেমের বন্ধনে জড়িয়ে গিয়েছি।

কোন ধরনের গান করতে আপনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন?
তানজিনা রুমা: নজরুল গীতির উপর আমার গানের তালিম নেয়া হলেও এখনও ধ্রুপদী গানের তালিম নিয়মিত নিচ্ছি। সাধারণত গানের কথা ও সুর যদি আমার হৃদয় ছুঁয়ে যায় তাহলে আমি যে কোনো ধরনের গান করতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। সেটা যেকোন ভাষার গানই হোক না কেন আমার সেই গান গাইতে কোনো আপত্তি নেই।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আয়োজিত কনসার্টগুলোতে সাধারণত কোন ধরনের গানগুলো দর্শকদের জন্য গাওয়া হয়?
তানজিনা রুমা: দেশের বাইরে বাঙালি কমিউনিটিগুলোর কনসার্টে গান গাওয়া হয় , সেখানে আমার অ্যালবাম ও সিনেমার গানগুলোর প্রাধান্যই বেশি থাকে। এছাড়াও ফোক ও পুরনো দিনের সিনেমার গানগুলোও গাওয়া হয়ে থাকে।

আপনার প্রকাশিত অ্যালবামগুলো নিয়ে কিছু বলুন...
তানজিনা রুমা: ২০০২ সালে এমটিভি'র ব্যানারে 'বন্ধু তুমি কোথায়' বাজারে আসে। এমটিভির সঙ্গে চুক্তি থাকার কারণে ৩ বছর বিরতির পরে ২০০৫ সালে বাজারে আসে সংগীতার ব্যানারে আসে আমার দ্বিতীয় অ্যালবাম 'ভালোবাসার প্রথম চিঠি'। এরপর একে একে বাজারে আসে সংগীতার ব্যানারে 'নীল জোছনা', এটিএন মিউজিকের ব্যানারে 'লুকোচুরি' আর সর্বশেষ সংগীতার ব্যানারে ২০১১ সালে প্রকাশিত হয় আমার পঞ্চম অ্যালবাম 'মেঘের দেশে'। এছাড়াও প্রায় ৪০টির মতো মিক্স অ্যালবামে গান করেছি।

এবার সিনেমায় প্লেব্যাক নিয়ে কিছু শুনতে চাইছি...
তানজিনা রুমা: ২০০৪ সাল সিনেমাতে গাইতে শুরু করেছি। সিনেমাতে আমি ৪ শতাধিক গান গেয়েছি। বলতে গেলে সিনেমার কাজ করতে গিয়ে নতুন-পুরনো মিলিয়ে অনেক সংগীত পরিচালকের সঙ্গেই আমার কাজ করা হয়েছে।

সিনেমায় 'আইটেম গান' করার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বাড়তি আনন্দ কি কাজ করে?
তানজিনা রুমা: শুনুন... আমরা যদি ভারতীয় সিনেমার দিকে তাকাই তাহলে দেখব বোম্বে, কলকাতা, ভোজপুরি, তেলেগু, তামিলসহ ওদের দেশের বাকি সিনেমা শিল্পের সবগুলোতেই আইটেম গান হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ওদের আইটেম গানের কথাগুলো যদি আমরা বাংলায় অনুবাদ করি তাহলে তা লেখা তো নয় বরং মুখেই উচ্চারণ করার মতো নয়। কিন্তু সেদিক থেকে ঢাকাই সিনেমার আইটেম গানগুলোর কথা অনেক সুন্দর ও পরিমার্জিত। একজন শিল্পীর সব ধরনের গান গাওয়ার যোগ্যতা ও মেধা থাকাটা খুবই প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। তাই আমি সিনেমাতে সব ধরনের গানেই কন্ঠ দিয়ে থাকি। এখানে বাড়তি কোনো আনন্দের ব্যাপার নেই।

হালের গানের শিল্পীদের গানের অ্যালবাম করার চেয়ে মিউজিক ভিডিও করার দিকে ঝুঁকে যাওয়ার প্রবণতাকে আপনি কিভাবে দেখেন?
তানজিনা রুমা: এখনকার সময়ে শ্রোতারা গান শোনার সঙ্গে তা টেলিভিশন কিংবা তার পছন্দের গেজেটের পর্দায় দেখতেই বেশি আগ্রহী। কিন্তু আমি মনে করি সবার আগে গান অবশ্যই ভালো হতে হবে। গান শোনার পর শ্রোতার হৃদয় ছুঁয়ে গেলেই শিল্পীর সার্থকতা। এরপর মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করা হলে তার গ্রহণযোগ্যতা আরো বেশি বেড়ে যায়। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই বেশি বাজেটের মিউজিক ভিডিও নির্মিত হলেও সেই গানগুলো শ্রোতাদের হৃদয় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ছুঁয়ে যেতে ব্যর্থ হয়েছে। কারণ তাদের গান শ্রোতার হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছে না।

প্রতিবছর বিভিন্ন উৎসবকে সামনে রেখে অনেক অ্যালবাম বাজারে প্রকাশিত হচ্ছে, কিন্তু সেখান থেকে সিংহভাগেরও বেশি গানগুলো হারিয়ে যাচ্ছে কেন?
তানজিনা রুমা: সবার প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, একটি গান হলো গীতিকার, সুরকার ও কন্ঠশিল্পীকে নিয়ে একটি সম্পূর্ণ টিম ওয়ার্কের ফল। আমার গানের ক্যারিয়্যারের শুরুতে টিমওয়ার্ক করেই আমাদের প্রজেক্টগুলো বাজারে ছেড়েছি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি এখন নানাবিধ কারণে সবার একই সঙ্গে বসে টিমওয়ার্ক করে কাজ করা হয়ে ওঠে না। ফলে অধিকাংশ গানগুলোই হারিয়ে যাচ্ছে।

আপনার দৃষ্টিতে নবীন শিল্পীদের মূল্যায়ন করুন...
তানজিনা রুমা: এখনকার নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা অনেক বেশি পরিশ্রমী। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত ওরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অনেক নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে কাজ করছে। কিন্তু আমি মনে করি ওরা যে কাজ করতে চায় সে ব্যাপারে খুব ভালো পড়াশোনা করে জেনে, শুনে, বুঝে করা উচিত। তাহলে আমাদের বাংলাদেশের সংগীতের ভুবনে নতুন দুয়ার উম্মোচিত হবে।

এ সময়ের ব্যস্ততা...
তানজিনা রুমা: শীতের মৌসুমটা যেহেতু স্টেজ শোয়ের, তাই এখন স্টেজ শো নিয়েই বেশি ব্যস্ততা। সঙ্গে সিনেমার প্লেব্যাক ও বিভিন্ন মিক্স অ্যালবামের কাজ চলছেই।

ব্রেকিংনিউজ/এমকে/এফই



আপনার মন্তব্য

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং