Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » সাক্ষাৎকার 

‘মোটরসাইকেল শিল্পে সরকারের দিকনির্দেশনার অভাব’

‘মোটরসাইকেল শিল্পে সরকারের দিকনির্দেশনার অভাব’
জোনায়েদ মানসুর ২১ ডিসেম্বর ২০১৪, ৪:৫৮ অপরাহ্ন Print

ঢাকা: একটি দেশের অবকাঠামো উন্নয়নের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা অন্যতম। বিশ্বের প্রতিটি দেশ উন্নয়নের বিষয়ে প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে পরিকল্পিত উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে সুষ্ঠু পরিবহণ ব্যবস্থা এখনও গড়ে ওঠেনি। তাই সরকারের তদারকির সমন্বয়ে পরিবহণ সেক্টরে সঠিক নীতিমালা প্রণয়নে কার্যকর ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা একান্ত প্রয়োজন। দেশে মোটরসাইকেল শিল্পের সমস্যা, সম্ভাবনাসহ নানা বিষয় নিয়ে ব্রেকিংনিউজের সাথে কথা হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি) সভাপতি, রানার গ্রুপ অব কোম্পানির চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খানের। তারই কিছু অংশ ব্রেকিংনিউজের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

মোটরসাইকেল ব্যবসায় কবে কীভাবে এলেন? প্রাথমিক পুঁজি কত ছিল?
হাফিজুর রহমান খান: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজনেস ম্যানেজমেন্টে পড়াশুনা করার কারণে ব্যবসার শখ হয়। ব্যবসায় শুরু ১৯৮৪ সাল থেকে। তবে রানার অটোমোবাইলসের যাত্রা ২০০০ সাল থেকে। চীনের ডায়াং মোটরসাইকেল বিপণনের মাধ্যমে অটোমোবাইলস ব্যবসায় প্রবেশ করি। এ ব্যবসার প্রাথমিক পুঁজি ছিল ১ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকা।

মোটরসাইকেল ইন্ডাস্ট্রি উন্নয়নের সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে কিছু বলুন।
হাফিজুর রহমান খান : মোটরসাইকেল ইন্ডাস্ট্রি উন্নয়নে সবচেয়ে বড় সমস্যার কথা যদি বলি তা হচ্ছে, সরকারের দিকনির্দেশনার অভাব। সরকারের তরফ থেকে কোনো নীতিমালা এখনও প্রণয়ন করা হয়নি, যে নীতিমালার হাত ধরে ধীরে ধীরে এ খাতের উন্নয়ন হতে পারবে। একটি সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও নীতিমালার মাধ্যমে অটোমোবাইলস, বিশেষ করে মোটরসাইকেল খাতকে এগিয়ে নেয়া উচিত। আর এ খাতে প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। দেশে জনসংখ্যা যেমন বাড়ছে, পণ্যের চাহিদাও তেমনি বাড়ছে। সে ক্ষেত্রে সম্ভাবনা বিশাল। সম্ভাবনা আছে বলেই এ শিল্পখাতে অনেক উদ্যোক্তা এগিয়ে এসেছে। সরকারের গাইড লাইন থাকুক আর না থাকুক এ খাতে সম্ভাবনা দেখেছে বলেই ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগেই অনেক ঝুঁকি নিয়েই পুঁজি বিনিয়োগ করেছে। এ খাতে আমরাসহ অনেক প্রতিষ্ঠানই এগিয়ে এসেছে। এ খাতে সরকারের বিচ্ছিন্ন কিছু সহযোগিতা রয়েছে।

অটোমোবাইল নীতিমালা নাকি মোটরসাইকেল নীতিমালা চান? এ ব্যাপারে কোনো সরকারের সাথে আলাপচারিতা হয়েছে কি?
হাফিজুর রহমান খান: নীতিমালার কথা সংক্ষেপে আগেই বলেছি। অটোমোবাইল নীতিমালা হলে তো সবচেয়ে মঙ্গল। অটোমোবাইলের সাথে অনেক কিছুর সংযোগ আছে। যা করাটা সরকারের জন্য সময়সাপেক্ষ, বেশ কঠিনও বটে। তবে মোটরসাইকেল নীতিমালা তৈরি করতে সরকারের জন্য অনেক সহজতর হবে। এর জন্যে বহুবার অনুরোধ করেছি। ২০১১ সালে তখনকার শিল্পমন্ত্রী (দিলীপ বড়ুয়া) বলেছিলেন ৬ মাসের (জুনের) মধ্যেই এর নীতিমালা হবে। এ পর্যন্ত ৪-৫ বার মন্ত্রণালয় মিটিং করেছি। এখন পর্যন্ত এর নীতিমালা হয়নি। ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশের (আইবিএফবি) পক্ষ থেকে এর জন্যে দিক নির্দেশনামূলক পেপার তৈরি করে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি। এক কথায় বলতে পারি আসলে সরকার এ বিষয়ে কাউকে দায়িত্ব দেয়নি যে এ কাজটা অমুকে করবে।

বর্তমানে এ খাতে কী কী প্রতিবন্ধকতা রয়েছে? এ ব্যাপারে কোন সরকারের সাথে আলাপচারিতা হয়েছে কি?

হাফিজুর রহমান খান: এ খাত এখন ট্রানজেকশন পিরিয়ডে আছে। যে কাঁচামালগুলো বা মেশিনগুলো আমদানি করা হয় তার কোয়ালিটি স্ট্যান্ডার্ড নির্দিষ্ট করা নেই। কোয়ালিটি টেস্ট করা হয় না। মোটরসাইকেলের শতভাগ কম্পোনেন্ট অমদানি করা হয়। তা এখানে জোড়া লাগানো হয়। আমরাসহ যারা কম্পোনেন্ট তৈরি করছি বা যারা তৈরি করতে যাচ্ছি তাদের বড় সমস্যা হচ্ছে টেস্টিংয়ের ক্ষেত্রে প্রচুর ব্যয় করতে হয়। একটা টেস্ট করতে ২-৩ লক্ষ টাকা খরচ করতে হয়। এটা বড় বাধা। সরকারের দেশে টেস্টিং ল্যাবরেটরি তৈরি করা উচিৎ।

মোটরসাইকেল রফতানির সম্ভাবনা কেমন? কোন কোন দেশে আপনারা রফতানি করতে যাচ্ছেন?
হাফিজুর রহমান খান: গার্মেন্ট শিল্পের মতো এ খাতের পণ্য বিশ্ববাজার দখলে সক্ষম হবে। রানার কারখানায় বর্তমান দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ৭০০ মোটরসাইকেল থেকে বাড়িয়ে ২০১৫ সালের মধ্যে ১ হাজারে উন্নীত করার কার্যক্রম হাতে নেয়া হচ্ছে। দেশের বাজারে বছরে ১৫ লক্ষ মোটরসাইকেল বিক্রির সুযোগ তৈরি হলেও রফতানির সম্ভাবনা এর দ্বিগুণেরও বেশি। বর্তমানে চীন ও ভারত প্রধান রফতানিকারক দেশ। আর রফতানির ক্ষেত্রে আমদানিকৃত পণ্য দেশি শিল্পের জন্য বড় বাধা। দেশি প্রতিষ্ঠান রক্ষায় অটোমোবাইলস আমদানিতে শুল্ক হার বাড়ানো উচিত।

বাজাজ, ইয়ামাহা, টিভিএস, ওয়াল্টন, হোন্ডা, সিঙ্গার, ইমা, চীনাবাইকের সাথে রানারের পার্থক্য কি?

হাফিজুর রহমান খান: পৃথিবীতে এমন কোন পণ্য নাই যা একা করেছে কেউ। সব ক্ষেত্রেই বাজারে প্রতিযোগিতা আছে। প্রত্যেকে পণ্যে আলাদা স্বকীয়তা আনতে চায় বা চাইবে। আমরাও চেয়েছি। আমরা উৎপাদনের মধ্য দিয়ে আমাদের পণ্যকে আলাদা করেছি, যা অন্যেরা করেনি। আমরাই বাংলাদেশে প্রথম কারখানায় কম্পোনেন্ট তৈরির মাধ্যমে মোটরসাইকেল উৎপাদন শুরু করি। আমরা সকল পেন্টশপ করছি। ২০১১ সালে রানার কারখানায় পানচিং, ওয়েলডিং, পেইন্টিং, অ্যাসেম্বলিং, টেস্টিং ইত্যাদি মেশিনারিজ স্থাপনের মাধ্যমে উৎপাদনও করে যাচ্ছি।

মোটরসাইকেল ব্যবসায় আপনাদের মূল লক্ষ্য কি?
হাফিজুর রহমান খান: মোটরসাইকেল ব্যবসায় আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে গ্রাহকদের সন্তুষ্টি অর্জন। এটি করতেই নতুন নতুন কম্পোনেন্ট, নতুন নতুন ডিজাইন তৈরি করছি। গ্রাহকদের সন্তুষ্টি অর্জন করেই বাজারে টিকে থাকতে চাই।

ভবিষ্যতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে কী কী পরিকল্পনা রয়েছে?
হাফিজুর রহমান খান: আমাদের কারখানায় ইতোমধ্যে মোটরসাইকেলের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ যেমন- চেসিস, ফ্রেম, রিয়ার ফর্ক, ফুয়েল ট্যাঙ্ক, মেইন স্ট্যান্ড, ফুট পেগ প্রভৃতি তৈরি হচ্ছে। আমরা এখন ইঞ্জিন সংযোজন করছি। আগামী ৩-৪ বছরের মধ্যে আমরা ইঞ্জিন উৎপাদনসহ পূর্ণাঙ্গ মোটরসাইকেল তৈরির যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ উৎপাদন করব। বর্তমানে এ খাতে ৯ শ’র বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করতে পেরেছি। বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি এ খাতে আরো কর্মসংস্থান তৈরি করব।

ব্রেকিংনিউজ/ জেএম/এফই



আপনার মন্তব্য

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং