Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » সাক্ষাৎকার 

বাংলাদেশে ৩৬৫ দিনই মানবাধিকার লঙ্ঘন দিবস

বাংলাদেশে ৩৬৫ দিনই মানবাধিকার লঙ্ঘন দিবস
মানিক মোহাম্মদ ১৬ ডিসেম্বর ২০১৪, ৪:২৫ অপরাহ্ন Print

ঢাকা: বাংলাদেশ জাতীয়তবাদী দল বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম। সম্প্রতি টেলিভিশন টকশোতে এই নামটি খুবই পরিচিত। তরুণ এই বিএনপি নেতা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন মানবাধিকার নিয়ে। চলতি মাসের ১০ ডিসেম্বর পালিত হলো বিশ্ব মানবাধিকার দিবস। বাংলাদেশের বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি ও চলমান রাজনীতি নিয়ে তিনি কথা বলেছেন ব্রেকিংনিউজের সাথে।

কোন পরিস্থিতিতে এবার বাংলাদেশে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালন হলো?
নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম: বাংলাদেশে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালন মানে কী! বাংলাদেশের তো বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালনের দরকার নেই। বাংলাদেশে বছরে ৩৬৫ দিনই মানবাধিকার লঙ্ঘন দিবস। বর্তমান সরকার যেভাবে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার কাজ করছে সেখানে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা নাই, আইনের শাসন নেই, সংসদীয় গণতন্ত্র নেই। যেখানে জনগণের প্রতিনিধি থাকার কথা সেখানে জনগণের প্রতিনিধি নেই। এ অবস্থায় মানবাধিকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার কথা নয়।

বাংলাদেশ মানবাধিকার পরিস্থিতি খারাপের কারণ কি?
নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম: ২০১০ সালে একটি রীট পিটিশন হয়েছিল ক্রস ফায়ার নিয়ে। সে সময়ে ৯৭০ বা ৯৭২ জন মানুষ বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে মারা গেছে। রীটের শুনানির জন্য এ পর্যন্ত সর্বাধিক এটর্নী জেনারেল অফিস থেকে টাইম নেয়া হয়েছে। এখনও সেই রীটের হেয়ারিং হয়নি। এখন প্রতিনিয়ত র‌্যাব সমালোচিত হচ্ছে। বিতকির্ত হলো নারায়নগঞ্জের ঘটনায়। এখন নিহতের সম্পর্কে বলা হচ্ছে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধ বা অমুক ডাকাতকে ছিনিয়ে নেয়ার সময় সহযোগীদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত হয়। এখনও বিভিন্ন নামে নিয়মিত ক্রস ফায়ার চলছে। বলতে পারেন বিএনপির সময়েও ক্রস ফায়ার ছিল, বিএনপির সময় র‌্যাব সৃষ্টি হয়েছিল। সে সময় র‌্যাব সৃষ্টির প্রেক্ষাপট ছিল। ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সন্ত্রাসের জনপদ ছিল। মানুষ নিরাপদে বের হতে পারত না। সেসময় মানুষ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিএনপিকে নির্বাচিত করেছিল। সন্ত্রাস দমনে জনগণের প্রতি বিএনপির একটি কমিটমেন্ট ছিল। যে কারণে আমরা র‌্যাব গঠন করেছিলাম। সে সময় র‌্যাব বন্ধের দাবি উঠেছিল। কিন্তু তখন র‌্যাবের পক্ষে মিছিল হয়েছিল। যে সমস্ত সন্ত্রাসীরা এনকাউন্টারে মারা গিয়েছে তাদের মৃত্যুর পর এলাকায় এলাকায় মিছিল হয়েছে। মিছিলটা পক্ষে হয়েছে। শান্তি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য মিছিল হয়েছে।

মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বা রাষ্ট্রের অন্যান্য উদ্যোগ কী যথেষ্ট মনে করছেন না ?
নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম : মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সাহেবকে আমি শ্রদ্ধা করি। তার আন্তরিকতা আছে। দেখা গেছে একজন লিমনের জন্য উনি ফাইট করলেন। কিন্তু দেখা গেছে মূলত লিমনের জন্য মিডিয়াগুলো ফাইট করেছে বেশি। যার কারণে লিমনের মতো একজন নিরীহ মানুষের মামলা প্রত্যাহারও হয়েছে। কিন্তু সে তার পা-টা হারিয়েছে। কোনো অপরাধ বা সন্ত্রাসের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা ছিল না। এখন মিডিয়া যখন তাকে হাইলাইটস করেছে তখন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানও এটির অংশীদার হতে এগিয়ে আসছেন। এরকম হাজার হাজার ঘটনা ঘটে চলেছে। কিন্তু তিনি বাস্তব কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে পারছেন না।

মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান তো বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছেন, বিবৃতি দিচ্ছেন, কাজ করছেন...
নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম: উনার যে কমিশন সেটার তদন্ত করার ক্ষমতা আছে? জনবল আছে? নামকা ওয়াস্তে একটা পোস্ট আছে। সেই পোস্টে একজনকে বসানো যাচ্ছে। একটা গাড়ি দেয়া হচ্ছে। মাস শেষে বেতন দেয়া হচ্ছে। যেটার কোনো কাজ নেই। কোনো কিছুই তিনি করতে পারেন না। সর্বোচ্চ উনি বিবৃতি দিতে পারেন এর বাইরে তিনি কিছু করতে পারেন না। উনি দেখতে যেতে পারেন এছাড়া তো তিনি কিছু করতে পারছেন না। মানবাধিকার লঙ্ঘন তিনি প্রতিরোধ করতে পারছেন? নাকি লঙ্ঘনের মাত্রা দিন দিন কমাতে পারছেন? এটা তো ব্যাপক থেকে ব্যাপকতর হচ্ছে। বেড়েই চলেছে।

এক্ষেত্রে কি মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠন করা উচিত?
নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম: অবশ্যই। সেটা তো করা উচিত। এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো তো সেভাবে গঠন করা হয়নি। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করতে পারে, গ্রেফতার করতে পারে, সব কিছু করতে পারে। দুদকের বর্তমান চেয়ারম্যানের আগের চেয়ারম্যান দুদককে ‘নখ দন্তহীন বাঘ’ বলেছিলেন। এখানে কালো বিড়াল ঢোকে, সাদা বিড়াল বের হয়। দেশ প্রেমিকের সার্টিফিকেট দেয়া হয়। উনারা রাজনৈতিক নেতাদের মতো বক্তৃতা দেন। এসব তো দুদকের কাজ না।

শুধু কী পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারছে না?
নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম : যদি আইনের শাসন না থাকে তবে জনবল থাকলেও পারবে না। আর আইনের শাসন যদি থাকে, গণতান্ত্রিক মূলবোধ যদি থাকে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যদি সহিষ্ণুতা থাকে, শ্রদ্ধাবোধ থাকে তাহলে মানবাধিকার কমিশনের দরকারই নেই। যেখানে আইনের শাসন থাকবে, সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মাত্রা তো থাকার কথাই না।

পার্শ্ববতী দেশের মানবাধিকার কমিশনের প্রতি সংশ্লিষ্টরা শ্রদ্ধা দেখায়। আর আমাদের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নিয়ে সমালোচনা হয় কেন?
নাসির উদ্দিন অসীম: যখন একটা প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা না হয়, কার্যকরীভাবে কাজ করতে না পারে, তখন সেটাকে হেয় করার একটা প্রতিযোগিতা সবার মধ্যে কাজ করে। এখন সে প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার জন্য ওই প্রতিষ্ঠানের যিনি চেয়ারম্যান থাকেন তার একার পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ স্যাংশনের ব্যাপার থাকে সরকারের কাছে। সরকার যদি লোকবল অনুমোদন না দেন, তদন্ত করার ক্ষমতা না দেয় তাহলে তো সমালোচনা হবেই।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক দলগুলোর যে ভূমিকা থাকার কথা তা কি রাজনৈতিক দলগুলো পালন করতে পারছে?

নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম: আপনি তো বলছেন মানবাধিকার কমিশন! রাজনৈতিক দলগুলো যে ক্ষমতায় যাবে সেই পদ্ধতিটা কী? সেটাইতো এখন বিতর্কিত। মানবাধিকার কমিশন তো পরের কথা।

মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি ব্যর্থ কি-না?
নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম: দল চেষ্টা করছে। রাতারাতি যেমন দুর্নীতি বন্ধ করা যাবে না, তেমনি মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করা যাবে না। ধরেন, আপনার বাড়িতে চোর এল চুরি করতে। সেখানে খুনোখুনী হয়ে যেতে পারে। হয়ত খুন করার উদ্দ্যেশ ছিল না কিন্তু সেটা হয়ে গেছে। রাজনৈতিক দলগুলো বা সরকার কি সেসব পাহারা দিয়ে রাখতে পারবে? পারবে না। কিন্তু কথাটা হচ্ছে আইন আছে। আইনের প্রয়োগ না হয়ে অপপ্রয়োগ হয়। আর যেখানে আইন আরো কঠোর করা দরকার সেখানে সে-ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। আইন যদি নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ করা যায় তবে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। এছাড়া আদালতের সংখ্যা, বিচারকের সংখ্যা বাড়াতে হবে। মানবাধিকার অনেক ব্যাপক একটা বিষয়। যেখানে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা থাকে সেখানে একটি দল বা একটি সরকার এ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে পারবে না। কিন্তু সরকার যদি মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িত থাকে তখন প্রশ্নটা আসে। বিএনপির শাসনামলের সাথে আওয়ামী লীগের শাসনামলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মাত্রাটা তুলনা করুন। তুলনা করলেই বুঝতে পারবেন।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে বিএনপি র‌্যাবের বিলুপ্তি দাবি করছে কেন?
নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম: বর্তমানে এই র‌্যাব পৃথিবীজুড়ে সমালোচিত। এই সরকার র‌্যাবকে ইউজ করেছে। এই সরকার প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছে।

এত দিনের একটি শক্তিশালী সংস্থার পুনর্গঠন না চেয়ে বিলুপ্তি দাবি কেন?
নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম: র‌্যাব যদি বিলুপ্ত হয় অন্যভাবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গঠন করা যেতে পারে। র‌্যাবের রিফর্ম হতে পারে। র‌্যাবকে আমার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিলুপ্তি করতে বলেছেন এই কারণে যে র‌্যাব নামটাই দূষিত হয়ে গেছে। এ কারণে উনি এটার পক্ষে না। বাংলাদেশের জনগণও র‌্যাবের পক্ষে না। রক্ষক হয়ে ভক্ষকের কাজ করবে? নিরাপত্তা না দিয়ে তাদের দিয়ে অপরাধ করিয়ে নেয়া হচ্ছে।

র‌্যাবের যে সকল সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া গেছে তাদের তো বিচার হচ্ছে।
নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম: তাদের বিচারটা কখন হচ্ছে? তাদেরকে কবে জেলে নেয়া হয়েছে? হাইকোর্ট থেকে যখন অর্ডার দেয়া হয়েছে। তার আগে রাষ্ট্র কিংবা আওয়ামী লীগ তাদেরকে গ্রেফতার করে নাই।

সরকার পরিবর্তন হলে কী মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে?
নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম: বর্তমানের চেয়ে আগের মানবাধিকার পরিস্থিতি ভালো ছিল। ৯৬-২০০১ পর্যন্ত চারদলীয় জোট সরকারকে মানুষ ভোট দিয়েছিল সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। তার মানেটা কী। এ সরকার এলে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি হয়। আমি তো মনে করি বিএনপির সরকার এলে নিশ্চয়ই পরিস্থিতির অভূতপূর্ব উন্নতি হবে। রাতারাতি হয়তো হবে না। তবে অনেক পরিবর্তন হবে।

ব্রেকিংনিউজ/এমএম/এফই



আপনার মন্তব্য

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং