Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

সোমবার ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, পূর্বাহ্ন

প্রচ্ছদ » সাক্ষাৎকার 

পরিশ্রম করার মানসিকতা থাকতে হবে

পরিশ্রম করার মানসিকতা থাকতে হবে
প্রতিবেদক ১০ ডিসেম্বর ২০১৪, ৬:১৩ অপরাহ্ন Print

ঢাকা: পরিশ্রম সাফল্যের চাবিকাঠি। বিশ্বের বিখ্যাত ও সফল ব্যক্তিরা সবাই পরিশ্রমী। তাদের কাতারেই পড়েন এ.এম. ইশ্তিয়াক সারোয়ার। সামান্য বেতনের চাকরি দিয়ে শুরু করে তিনি এখন ৪টি কোম্পানির মালিক। একজন উদ্যেক্তা হিসেবে তার পথচলার আরম্ভ থেকে শুরু করে সফলতা, ব্যর্থতা, পরিকল্পনা প্রভৃতি উঠে এসেছে ব্রেকিংনিউজের সাথে এই একান্ত সাক্ষাৎকারে-

একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার গড়ে ওঠার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি
এ.এম. ইশ্তিয়াক সারোয়ার: আমি পড়াশুনা করেছি চট্টগ্রামের বিএসসি ইন সিএসআইটি এবং এমএসসি ইন সিএসআইটি সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে। ক্যারিয়ার শুরু করেছি ২০০৩ সালে আমার ইউনিভার্সিটিতেই লাইব্রেরী ইনফরমেশন অফিসার হিসেবে খন্ডকালীন চাকরী দিয়ে। তখন বেতন পেতাম ২ হাজার ৫০০ টাকা। ঠিক এর ১ বছর আগে থেকে আমি ওয়েব ডেভেলপমেন্ট নিয়ে আগ্রহী হই এবং আমার ওয়েবের পথ চলা শুরু হয়। ১ বছরের সাধনায় আমি নিজের স্কীল লেভেল অনেকটাই স্ট্রং করে নিয়ে প্রথম ওয়েবসাইট হিসেবে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট তৈরী করি। এটাই ছিল আমার প্রথম বাণিজ্যিক ওয়েবসাইট। ওই কাজটি প্রশংসিত হওয়ায় আমি সাহস পাই। তখন নিজে নিজে আরো কিছু সাইট বানানোর এবং তখনকার ট্রেন্ডগুলো শেখার চেষ্টায় নিজেকে শতভাগ নিয়োজিত করি। এর ফলশ্রুতিতে তখন গোল্ডেন ওয়েব অ্যাওয়ার্ডের জন্যে আমি আমার তৈরী করা ৩টি সাইট পাঠাই এবং তা মনোনীত হয়। সেটা আমার কাজের ২য় বড় স্বীকৃতি, যা আমাকে আমার পথ ঠিক করে নিতে সাহায্য করে। আমি পাস করে বের হবার আগেই ২টি চাকরি করে ফেলি। ক্যারিয়ারের ১১টি বছর পার করে দিলাম। অনেক কিছু অর্জন করেছি, জেনেছি, শিখেছি। তবে এখনও অনেক কিছুই করার আছে।

কিভাবে এই উদ্যোগ নিতে আগ্রহী হলেন? এর পিছনে কারও উৎসাহ ছিল?
এ.এম. ইশ্তিয়াক সারোয়ার: আমার এই উদ্যোগ নেয়ার পিছনে আমার বাবার অনেক উৎসাহ ছিল। তিনিই এই স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সারাজীবন চাকরি করে তুমি চলতে পারবে না, তোমাকে স্বাবলম্বী হতে হবে। যেন তুমি কারো বোঝা না হও। তখন আমি বললাম, কি করব তাহলে? তখন উনিই আমাকে আমার প্রথম উদ্যোগের নাম ঠিক করে দিলেন ‘সফট টেক ইনোভেশন’। সেদিনের সেই নামকরণের পরে আমার বাবা আমাকে এই উদ্যোগের জন্যে লাইসেন্স করে দেয় প্রায় ১বছর পরে, ২০০৫ সালের ৭ই জুলাই।

শুরুটা কিভাবে করলেন?
এ.এম. ইশ্তিয়াক সারোয়ার: প্রথম শুরু হয়েছিল চীনের গুয়াংজু প্রদেশের একটা ট্রেডিং কোম্পানির জন্যে ডেস্কটপ বেজড মিনি ইআরপি সফটওয়্যারের অর্ডার নিয়ে। যার মুল্য ছিলো ৫ হাজার ডলার। প্রথম কন্ট্রাক্ট সাইন করার সময় তারা দিয়েছিলো ২ শ' ডলার সাইনিং মানি। এই প্রজেক্টের ধারাবাহিকতায় আমার টীমের যিনি টীম লিডার ছিলেন তাকে ১ মাসের জন্যে চীনে পাঠানো হয়েছিল প্রশিক্ষণ নিতে। যেটার জন্যে ঐ কোম্পানি সফট টেকের নামে আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছিল। এরপরে অনেক বেশি সাহস এবং উৎসাহ উভয়ই চলে আসে আমার মধ্যে।

কোনো প্রতিবন্ধকতা এসেছে কি?
এ.এম. ইশ্তিয়াক সারোয়ার: আমার প্রথম প্রতিবন্ধকতা ছিল পুঁজি। পুঁজি ছাড়াই আমি ব্যবসায়ে নেমেছি। নিজে চাকরি করেছি, পাশাপাশি ব্যবসায়কে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছি। নেটওয়ার্ক এবং পরিচিতি গড়ে তুলতে বেশি সময় নিয়েছি। পরিচিতি বাড়াতে প্রজেক্ট এবং অর্ডার পেতে থাকায় সেখান থেকে আসা আয় এবং লাভের অংশ দিয়ে ব্যবসায়ে পুনর্বিনিয়োগ করে করে এগিয়েছি। খুব বড় কোনো তহবিল কোনো দিন পাইনি। বড় তহবিল না পাওয়ায় আমার যে সময়ে যে প্রগ্রেস পাওয়া উচিত ছিল তা পেতে বেশি সময় লেগেছে। বেশি ইনভেস্টমেন্ট থাকায় অন্যরা যা আমার আগেই অর্জন করেছে। তবে মূলধনের অভাব থাকার পরেও আমি থেমে থাকিনি। নিজের মতো করে কাজ করে গিয়েছি। এর ফলাফল পাচ্ছি ধীরে ধীরে।

কিভাবে এগিয়ে গেলেন?
এ.এম. ইশ্তিয়াক সারোয়ার: আমার ব্যবসায়ের প্রথম দিককার দিনগুলো কেটেছে চট্টগ্রামে। আমি আইএসপি-তে জব করার সুবাদে অনেক মানুষের সাথে পরিচিত হবার সুযোগ পাই এবং সেই সুযোগগুলোকে কাজে লাগিয়ে, আমি আমার ব্যবসায়ে নতুন নতুন গ্রাহক পেতে শুরু করি ২০০৫ সালের পরের দিকে। তখন আমার ছোট টীম ছিল। ট্র্যাডিশনাল প্রমোশন কখনও করতে হয়নি। রেফারেন্সের উপর ভিত্তি করেই আমার অনেকগুলো আনঅফিসিয়ালি রিসেলার বা এজেন্ট তৈরী হয়ে যায়। এছাড়া ফ্রিল্যান্সার মার্কেটপ্লেস freelancer.com থেকে নিয়মিত ভালো কিছু গ্রাহক পেয়ে যাওয়াতে ওয়েবের উপর ভিত্তি করে আমার কাজ এগোতে থাকে।

আপনার সফলতাগুলো কি কি? বর্তমানে ব্যবসার অবস্থা কেমন?
এ.এম. ইশ্তিয়াক সারোয়ার: বর্তমানে সফট টেক ইনোভেশন লি.-এর অনেকগুলো সার্ভিস উইং আছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগগুলোর একটি হলো সফট টেক ইনোভেশন লি.। এর মাধ্যমে বর্তমানে প্রায় ৪ শ'র বেশি গ্রাহককে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছি। নিজেদের ডেডিকেটেড সার্ভারে প্রায় ৯০০ ডোমেইন হোস্ট আছে।

আরেকটি উদ্যোগ হলো মুঠোফান। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত মোবাইল ম্যাসেজিং এবং কন্টেন্ট সার্ভিস দেয়ার প্রত্যয় নিয়ে যাত্রা শুরু করে মুঠোফান। বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ম্যাসেজিং সার্ভিস দিচ্ছে, সেই সাথে পুশ পুল ম্যাসেজিং, সাবস্ক্রিপশন সার্ভিস শর্ট কোড এর মাধ্যমে দিয়ে যাচ্ছে, বাল্ক এবং লোকেশন বেজড ম্যাসেজিং সার্ভিস দিয়ে সুনামের সাথে বিজনেস করে যাচ্ছে প্রায় ১০০-এর বেশি গ্রাহকদের আস্থা নিয়ে।
ইবিপনন ডট কম হলো আমার আরেকটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ। ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইবিপনন আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে অনলাইন রিটেল স্টোর হিসেবে। শুরুতে আমরা সব ধরনের প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করলেও সম্প্রতি নতুন ওয়েবসাইটে যাওয়ার পরে আমরা ইস্টোর ফ্যাসিলিটি যোগ করেছি যার ফলে কোন সাপ্লায়ার কে আমাদের কাছে আর আলাদা করে মেইল করে প্রোডাক্ট আপলোড করতে হবে না, সে নিজেই পারবে আপলোড করতে।

আমার পে আমার আরেকটি উদ্যোগ। ২০১৩ ও ১৪ সালে এই প্রজেক্টটি বাস্তবায়নে গতি এনে এখন শেষ পর্যায়ে আছি। ব্যাংক গুলোর সাথে সংযোগ হয়ে গেলেই আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে এর যাত্রা শুরু করব।

কোনো উদ্যোগ নিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন কখনও?
এ.এম. ইশ্তিয়াক সারোয়ার: হ্যাঁ, ২০০৯ সালে রেডিও বিজয় নামে একটা অনলাইন রেডিও স্টেশন করেছিলাম। ভালো রকম বিনিয়োগ করে প্রচারণা এবং পরিচিতিও পেয়েছিলাম। কিন্তু দক্ষ জনবল, মার্কেট প্রস্পেক্ট না থাকায় রেডিও স্টেশনটা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হই।

এছাড়া আইএসপি-তে কাজ করার সুবাদে ভিওআইপি সার্ভিস নিয়ে বেশ কিছুদিন কাজ করার চেষ্টা করেছিলাম, তবে আমি এই ব্যবসায়ের গভীরে যেতে না পারায় এটাও বেশি দিন টিকেনি।

প্রচারণার ক্ষেত্রে কি করছেন?
এ.এম. ইশ্তিয়াক সারোয়ার: 'ওয়ার্ড অব মাউথ'-এর এডভান্টেজ নিয়েছি এবং এটাই আমাকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। এছাড়া স্বল্প পরিসরে ফেসবুক প্রমোশন, এসএমএস প্রমোশন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিজের সোশ্যাল মিডিয়াকে কাজে লাগিয়েছি, যা আমার ব্যবসায়ের প্রমোশনের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

আগামীতে আর কি কি পরিকল্পনা আছে?
এ.এম. ইশ্তিয়াক সারোয়ার: আগামীতে পরিকল্পনা হচ্ছে আমাদের বর্তমান যেসব সার্ভিস উইং আছে সেগুলোকে আরো ভালোভাবে কাজে লাগানো এবং গ্রাহককে ওয়ান স্টপ সলিউশন অফার করা- যা গ্রাহকের ভোগান্তি অনেক অংশে কমিয়ে ফেলবে। যেহেতু আমরা গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করেছি তাই আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে তা ধরে রাখা এবং বর্তমান সার্ভিসকে আরো উন্নত করা।

ভবিষ্যতে আপনার প্রতিষ্ঠানকে কোন অবস্থানে দেখতে চান?
এ.এম. ইশ্তিয়াক সারোয়ার: অবশ্যই দেশের প্রথম সারির আইটি এনাবল্ড সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। যেহেতু আমাদের সবগুলো ব্র্যান্ডই সার্ভিস ওরিয়েন্টেড তাই আমাদের লক্ষ্য নিজেদের সবচেয়ে ভালোভাবে উপস্থাপন করে মার্কেট লিডার হওয়া।

নতুন যারা এই ব্যবসায়ে আসতে চান তাদের কি করা উচিত?
এ.এম. ইশ্তিয়াক সারোয়ার: নিত্য নতুন আইডিয়া আসবে তবে তা যদি বাস্তবায়ন করতে না পারা যায় তবে সেই আইডিয়ার কোন মূল্য নেই। টাকা নেই তাই ব্যবসায় করা যাবে না এমন ধারণাও ভুল। আগে শুরু করে দিতে হবে এরপরে অবশ্যই একটা না একটা পথ বের হয়ে আসবে। লেগে থাকার, পরিশ্রম করার মানসিকতা থাকতে হবে, না হলে যা করতে চাইছেন তাতে সাফল্য আসবে না।

ব্রেকিংনিউজ/এসিডি/এফই



আপনার মন্তব্য

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং