Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » সাক্ষাৎকার 

যারা পালিয়েছিলেন তারাই আজ বড় মুক্তিযোদ্ধা

যারা পালিয়েছিলেন তারাই আজ বড় মুক্তিযোদ্ধা
মানিক মোহাম্মদ ০৮ ডিসেম্বর ২০১৪, ৫:৫০ অপরাহ্ন Print

ঢাকা: ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চাকুরী ছেড়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর। যুদ্ধে সফলতার সাথে অংশ নিয়ে তিনি বীরউত্তম খেতাব অর্জন করেন। সর্বশেষ তিনি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে আইন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বর্তমানে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা। বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে স্বাধীনতার যুদ্ধ চলাকালীন সময়ের বিভিন্ন প্রেক্ষাপট ও বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন ব্রেকিংনিউজের সাথে।

কোন প্রেক্ষাপটে আপনি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন?

ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর: জাতি চেয়েছিল তাই নিজের উপলব্ধি থেকেই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন আমি পাকিস্তান আর্মিতে ছিলাম। সেসময় দেখেছি যেসব কর্মকতা পূর্ব বাংলা তথা বর্তমান বাংলাদেশে আসতেন তারা ফেরার পর ব্রিফকেস ভর্তি টাকা নিয়ে পাকিস্তানে ফিরে আসতেন। আবার পূর্ব পাকিস্তান থেকে অনেকে মেয়েদেরকে ধরে নিয়ে আসতেন। বিবেকের তারনায় তাদের এসব কর্মকাণ্ড মেনে নিতে পারিনি। তাই আমরা দুই বন্ধু পাকিস্তান আর্মি থেকে বাংলাদেশে এসে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেই। তখন আমাদেরকে ৯ নং সেক্টর তথা বরিশাল অঞ্চলে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল।


যে চেতনা নিয়ে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলন তার প্রত্যাশা-প্রাপ্তি কেমন দেখছেন?
ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর: স্বল্প সময়ে প্রত্যাশা পূরণ হয় না। পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হতে অনেক সময় লাগে। তবে সময়ের সাথে সাথে গণতন্ত্র উন্নত হবে। বর্তমানে ধনী দেশে এক ধরনের গণতন্ত্র আবার গরীব রাষ্ট্রে আরেক ধরনের গণতন্ত্র পৃথিবীতে বিরাজমান। তবে আমরা এখনো উন্নয়নশীল দেশের মতো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি।

স্বাধীনতা অর্জনের পর লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে কি?
ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর: দেখুন, চল্লিশ বছর কোনো সময়ই না। তবে স্বাধীনতার সুফল আমরা পাচ্ছি। হাইকোর্ট এখন সুপ্রীম কোর্টে পরিণত হয়েছে। রাজধানীতে সরু পথগুলো এখন হাইওয়ে হয়েছে। যুদ্ধ চলাকালীন মাত্র ৪ টি পত্রিকা ছিল কিন্তু এখন অনেক মিডিয়া হয়েছে। এভাবে অনেক কিছুই আমরা অর্জন করতে পেরেছি। এগুলো স্বাধীনতা লাভ করার কারণেই সম্ভব হয়েছে।

স্বাধীনতা বিরোধীদের নিয়ে আ. লীগ-বিএনপি যে রাজনীতি করছে তা কি স্বাধীনতা চেতনার পরিপন্থী?
ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর: যারা স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধী ছিল তারা দেশের শত্রু। তবে যারা বিরোধিতা করেছিল তাদের নাগরিকত্ব কিন্তু বাদ দেয়া হয়নি। তারা এখন এই দেশের ভোটার। নিজামীকে এদেশের নাগরিকরাই কিন্তু ভোট দিয়ে নেতা নির্বাচিত করেছে। যেহেতু এখনো স্বাধীনতা বিরোধীদের নাগরিকত্ব রয়ে গেছে সেহেতু আমরা সবাই ব্যর্থ। সেসময় আমরা হয়তো চেতনা সৃষ্টি করতে পারিনি। এজন্য বিএনপি ও আওয়ামী লীগ তথা হাসিনা ও খালেদা দু'জনেই দায়ি। শুধু তারা দুজনাই নয় আমি, আমরা সবাই দায়ি।

স্বাধীনতার পর দেশ গঠনে ব্যক্তিগতভাবে আপনার ভূমিকা কি ছিল?

ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর: দেশকে শত্রু মুক্ত করে নির্বাচিত সরকারের হাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছি। তবে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে কেউ চেতনা নিয়ে বসে থাকেনি। সবাই নিজেদের কাজে ব্যস্ত হয়ে গেছি।

প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা কি আজ যথাযথভাবে মূল্যায়িত হচ্ছেন?
ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর: বর্তমান অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের নেতা মাহবুবুল আলম হানিফ ও মহিউদ্দিন খান আলমগীর বীরপ্রতীক ও বীরশ্রেষ্ঠ। যারা সেসময় পালিয়েছিলেন তারা আজ বড় মুক্তিযোদ্ধা। আর আমাদের মতো জীবন বাজি রেখে যারা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল আজ তারা অধম। তবে প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধাদের কেউ বাদ দিতে পারবে না।

স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে আপনার বক্তব্য কি?

ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর: স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। তারা এটাকে টুইস্ট করেছে। জিয়াউর রহমান কখনও বলেননি আমি যুদ্ধ ঘোষণা করছি বা মুজিব কেউ না। জিয়াউর রহমান আইএস'র চর ছিলেন কামরুল এসব কথা বলতে পারেন না। কারণ তার ভাই রাজাকার ছিল এটা অনেকের কাছেই পরিস্কার। কামরুল যদি যুদ্ধ করেই থাকে তার কোন সেক্টর ছিল, অস্ত্র নম্বর কত, এসব বিষয় নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করা উচিত। তাজউদ্দিন, ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বলেছেন জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা করেছেন। তাদের এই বক্তব্যের পর আর অন্য কোনো প্রমাণের প্রয়োজন হয় না। এমনকি স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু নিজেও জিয়াউর রহমান সম্পর্কে এরকম কোন বক্তব্য দেননি। অসভ্য, বর্বর ও ইতর লোকেরা নিজেদের অপকর্ম ঢাকতেই এমন বক্তব্য দিচ্ছেন। অবশ্য, শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমানকে নিয়ে সমালোচনা করার মতো কোনো লোক নেই।

ব্রেকিংনিউজ/এমএম/এফই



আপনার মন্তব্য

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং