Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

বুধবার ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » স্বাস্থ্য 

কুষ্ঠ মরণব্যাধি নয়, সঠিক চিকিৎসায় ভালো হয়

কুষ্ঠ মরণব্যাধি নয়, সঠিক চিকিৎসায় ভালো হয়
জোনায়েদ মানসুর ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৬, ২:২৮ অপরাহ্ন Print

ঢাকা: কুষ্ঠ কোনো মরণব্যাধি নয়, চিকিৎসা আছে। সঠিক চিকিৎসায় কুষ্ঠ ভালো হয়। এ জন্য প্রয়োজন সচেতনতা।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, অবহেলা ও সচেতনতার অভাবে বিকলাঙ্গ, কুষ্ঠ রোগের কারণে রোগীর অন্ধত্ব,বন্ধ্যত্ব, কিডনি সমস্যা, পায়ের নিচের ক্ষত ও নাক দিয়ে রক্ত ঝরাসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।

বাংলাদেশে অনেকেই এ রোগের সঠিক জ্ঞানের অভাবে অভিশপ্ত রোগ বলে মনে করছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে এ রোগ নিয়ে আন্দোলন করেও নির্মূল সম্ভব হয়নি। এর ফলে প্রতিনিয়ত কুষ্ঠরোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

সমাজে এখনও এ রোগকে ছোঁয়াচে ও ঘাতক রোগ মনে করা হয়। দেখা হয় কুষ্ঠকে ঘৃণার চোখে। কিন্তু কুষ্ঠ অন্য রোগের মতোই একটি রোগ। এ রোগ হলে কোনোভাবেই রোগীকে ঘৃণা করা ঠিক নয়। রোগীকে কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। বরং তাদের সঠিক চিকিৎসা ও উপযুক্ত সেবা দিয়ে সুস্থ করে তুলতে হবে।

দি লেপ্রসি মিশন ইন্টারন্যাশনালের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে কুষ্ঠরোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ৯শ’ ৩৩ জন। প্রতি বছর নতুন ৪ হাজার কুষ্ঠরোগী শনাক্ত হচ্ছে। তারপরও কুষ্ঠ রোগ নির্মূলে সাফল্য দেখছে সংগঠনটি।

কুষ্ঠ রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সানাই পি. ত্রিপুরা ব্রেকিংনিউজকে বলেন, কুষ্ঠ একটি জীবাণু বাহিত সংক্রামক রোগ। হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়। যথা সময়ে চিকিৎসা নিলে রোগী ভালো হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বাংলাদেশে প্রতি ১০ হাজারে শূন্য দশমিক ৬ জন এ রোগে আক্রান্ত।

২০১৪ সালে বাংলাদেশে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার নতুন কুষ্ঠ রোগী সনাক্ত হয়েছে। ২০০৮ সালে এই সংখ্যা ছিল ৫,২৪৯ জন। কুষ্ঠ রোগ নিয়ে কাজ করে দেশের ৭ থেকে ৮টি সংগঠন।

দি লেপ্রসি মিশন ইন্টারন্যাশনাল ও ডেমিয়েন ফাউন্ডেশন এরমধ্যে অন্যতম। ডেমিয়েন ফাউন্‘বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস’ ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০১২ সালে কুষ্ঠ রোগীর সংখ্যা ছিলো ৩ হাজার ৬৮৮ জন। আর তা ২০০২ সালে ছিলো ৯ হাজার ৮শ’ ৪৪ জন।

জানা গেছে, ২০‌১৬ সালের ২৫ জানুয়ারি ছিলো ৬২তম বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস। প্রতি বছর জানুয়ারি মাসের শেষ রবিবার  (‘বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস’) বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশও যথাযথ মর্যাদা ও সচেতনতার সঙ্গে দিবসটি পালন করে থাকে। কিন্তু এ বিষয়ে আরও সচেতনতা জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

দি লেপ্রসি মিশন ইন্টারন্যাশনাল প্রতিষ্ঠাকালীন পরিচালক রিচার্ডাস বলেন, কুষ্ঠরোগ সনাক্ত, চিকিৎসা ও নিরাময়ের ক্ষেত্রে স্নায়ুবৈকল্যের যোগাযোগ খুঁজে বের করার বিষয়টি এ কেন্দ্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের কনসালট্যান্ট, চর্ম ও যৌন ডা. সমরেশ হাজরা ব্রেকিংনিউজকে বলেন, এখন পর্যন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে কুষ্ঠ রোগ প্রতিরোধের কোনো কার্যকর টিকা নেই। সে জন্য কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে।

তবে দেশে কুষ্ঠ রোগীর সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার পরিকল্পনায় কাজ করছে সরকার।  বর্তমানে কুষ্ঠ রোগীর সংখ্যা ৩ হাজারের কিছু বেশি।

জানা গেছে, এটি দীর্ঘমেয়াদি জীবাণুঘটিত সংক্রামক রোগ। যা মাইকোব্যাকটেরিয়াম লেপ্রি দিয়ে হয়। এ রোগে মূলত প্রান্তিক স্নায়ু আক্রান্ত হয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চামড়ার মাধ্যমে এ রোগের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। প্রান্তিক স্নায়ু ও ত্বক ছাড়াও এ রোগে অন্যান্য অঙ্গ যেমন নাকের শ্লেষ্মা ঝিল্লি,অস্থি আক্রান্ত হয় এবং প্রান্তিক স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে স্নায়ু কর্তৃক সরবরাহকৃত মাংসপেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অকার্যকর হয়ে পড়ে। চোখের পাতার মাংসপেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে কুষ্ঠ রোগীর দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

লেপ্রসি মিশন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. জেমস তাসে দাস বলেন, কুষ্ঠ একটি নিরাময়যোগ্য ব্যাধি। এর চিকিৎসা ও ওষুধ সহজলভ্য। আমরা সারাদেশেই কাজ করছি। আশা করি এ কাজে আমাদের সফলতা আসবে।

কুষ্ঠ নিয়ে কাজ করছে লেপ্রসি মিশন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। সংগঠনের পরিচালক (অ্যাডভোকেসি ও প্রমোশন) মার্টিন অধিকারী বলেন, ১৮৯৮ সালের লেপার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা যাতে রোগ ছড়াতে না পারে, সে জন্য সাধারণ মানুষ থেকে আলাদা রাখার বিধান আছে। কুষ্ঠমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে এ আইন বাতিল করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে অন্যান্য রোগের পাশাপাশি কুষ্ঠ রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা থাকা উচিত।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত ব্রেকিংনিউজকে বলেন, কুষ্ঠ একটি প্রাণঘাতী রোগ। এ রোগে আক্রান্ত রোগীদের অধিকাংশই নারী। এটি এই রোগে পা থেকে মাথা পর্যন্ত যে কোনো অঙ্গই আক্রান্ত হতে পারে এবং চিকিৎসা না করলে মৃত্যুও হতে পারে। কুষ্ঠ সম্পর্কে আমাদের দেশের অনেকেরই ধারণা নেই। দেশের অনেক ডাক্তারও এ রোগ সম্পর্কে ভালো ধারণা নেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না।

ব্রেকিংনিউজ/জেএম/এইচএস



আপনার মন্তব্য

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং