Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

সোমবার ১৭ জুন ২০১৯, ৩ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » খাবার-দাবার 

সুস্থ জীবনের জন্য চাই স্বাস্থ্যকর খাবার

সুস্থ জীবনের জন্য চাই স্বাস্থ্যকর খাবার
প্রতিবেদক ৩১ জানুয়ারী ২০১৬, ১:৫৪ অপরাহ্ন Print

ঢাকা: ‘স্বাস্থ্যই সুখের মূল’ একথা সবারই জানা। সবাই চাই সুস্থ-স্বাভাবিক সুন্দর জীবন। কারণ শরীর সুস্থ না থাকলে কোনো কিছুই ভালো লাগে না। যদিও আমাদের সে চাওয়া সব সময় পূর্ণ হয় না। অর্থাৎ আমরা প্রায় সময়ই অসুস্থ হয়ে পড়ি।

তবে আমরা প্রতিদিনের জীবনযাত্রার পাশাপাশি খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে সচেতন হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সুস্থ থাকতে পারি। রক্ষা পেতে পাড়ি অধিকাংশ শারীরিক সমস্যা ও রোগব্যাধি থেকে। এ জন্য প্রয়োজন খাবারের গুণাগুণ জানা ও লোভকে একটু সামলানো। সেইসাথে শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যয়াম বা হাঁটার অভ্যাস।

যদিও বর্তমানে কর্মব্যাস্ততা আর নানান সীমাবদ্ধতা চলে এসেছে আমাদের জীবনযাপনে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সুস্থ অভ্যাসগুলো মেনে চলতে পারি না অনেকে। আবার সঠিক ধারণা না থাকায় কখনো কখনো আমরা নিজেদের শরীরে রোগব্যাধির বাসা তৈরি করতে নিজেরাই সাহায্য করি। কিন্তু বয়স বা লিঙ্গ ভেদে সবারই উচিৎ স্বাস্থ্য ও সুন্দর জীবনের চর্চা করা।

আসুন জেনে নেই এক্ষেত্রে কিছু করণীয়-

পানি পান: সকালে ঘুম থেকে জেগেই খালি পেটে পানি পান করুন। যত বেশি সম্ভব বিশুদ্ধ পানি পান করুন। এতে সুস্থ মানুষের শরীরের উপকার ছাড়া কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই। একজন পুর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের জন্য দৈনিক অন্তত ৫ লিটার পানি পান করা উচিৎ।

বাধ্যতামূলক ব্রেকফাস্ট:
রোজ সকালে ব্রেকফাস্ট করতে হবে। ব্রেকফাস্ট একটি সুস্থ ও সমস্যা মুক্ত পেট বজায় রাখতে অাবশ্যক।

ব্রেকফাস্ট বা সকালের নাস্তায় যা খাবেন: ২ থেকে ৩ রুটি/পরোটা বা সাদা ভাত খেতে পারেন। সাথে একটি ডিম/মুরগির গোস্ত, ভর্তা/ভাজি। পরে মৌসুমী ফল খেতে পারেন। তবে সব কিছুই যেমন পরিমাণ মতো হবে হবে, পাশাপাশি ভেজালমুক্ত করে নেয়া অবশ্যই জরুরি।

এককথায় নাস্তা হতে হবে অবশ্যই স্বাস্থ্যসম্মত। এক্ষেত্রে বয়স ও শারীরিক অবস্থার উপর নির্ভর করে পরিমিত স্বাস্থ্যকর নাস্তা গ্রহণের বিকল্প নেই। নাস্তা গ্রহণের আগে পানি পান করুন। খাবর শেষ করে কখনই সাথে সাথে পানি পান করা ঠিক নয়। কমপক্ষে ১০ মিনিট পর পানি পান করা উচিৎ।

আর একটি বিষয় মনে রাখতে হবে। তা হচ্ছে, কর্মব্যস্তদের জন্য লাঞ্চের তুলনায় ব্রেকফাস্ট ভারি হওয়াই শ্রেয়।

লাঞ্চের আগে কিছু খাওয়া উচিৎ। অর্থাৎ প্রতি দু’ঘন্টা পর কিছু না কিছু খেতে হবে। অন্তত বিশুদ্ধ খাবার পানি পান করুন। এটা আপনার শরীরের জন্য খুবই উপকারি।

লাঞ্চ করা: আগেই বলেছি, কর্মব্যস্তদের জন্য লাঞ্চে কম খাওয়া ভালো। কারণ দুপুরে ভারি খাবার গ্রহণ করতে খাবারের শেষে কান্তি আপনাকে জেকে ধরতে পারেন। এতে ঘুম ঘুম ভাব চলে আসে এবং কাজের মানসিকতা ও আগ্রহ হ্রাস পায়।

তবে লাঞ্চ অবশ্যই করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রতিদিনের সময় ঠিক রাখা অত্যন্ত জরুরী। অর্থাৎ প্রতিদিন একই সময় লাঞ্চ করলে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি এবং অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা কম থাকবে। 

লাঞ্চের আইটেম পরিবর্তন হওয়া ভালো। অর্থাৎ একদিন রুটি খেলে অন্যদিন সাদা ভাত। অন্যদিন ভুনা খিচুরি তো পরের দিন পোলাও বা বিরিয়ানী। একদিন গোস্ত খেলে অন্যদিন মাস খাওয়া। এটা রুচির জন্য ও স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো। তবে তৈলাক্ত খাবার কম খাওয়াই উচিৎ। বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য এটা এড়িয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের পরিচয়।

বিকেল ৪-৫টার মধ্যে কিছু খেয়ে নিন। হোক সেটা সোস্ট বা বিস্কুট ও চা। অর্থাৎ কম করে খেতে হবে কিন্তু বার বার খেতে হবে। এটা সুস্থ্য থাকার জন্য জরুরী।

ডিনার গ্রহণ: রাত ৮ টার মধ্যে রাতের খাবার গ্রহণ করা বুদ্ধিমানের কাজ। তবে ৯টা অতিক্রম করা কোনোভাবেই ঠিক নয়। দুপুরের খাবারের মতোই রাতের ডিনার হতে পারে। তবে রাতে টক-ঝাল না খাওয়াই ভালো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে খাওয়াই যাবে না।

নিজের শরীরের অবস্থা ও বয়স অনুযায়ী স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রাকৃতিক পরিবেশ অর্থাৎ শীতকাল বা গরমের মৌসুম বুঝে খাবার খেতে হবে। কারণ সব মৌসুমে সব খাবার শরীরের জন্য উপযোগী নয়। নিয়মিত খাবারের সাথে মৌসুমী ফল ও পরিমাণ মতো মিষ্টি গ্রহণ করা যেতে পাড়ে।

সুস্থ শরীর ও সুন্দর মনের জন্য ভাল ঘুম প্রয়োজন। তাই রাতের খাবার গ্রহণের পর একটু হাঁটা-হাঁটি করে শুয়ে পরুন। প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য সাধারণত ৮ ঘণ্টা ঘুম পর্যাপ্ত। একটি ভালো ও শান্তিপূর্ণ ঘুম সুস্থ জীবনের জন্য অপরিহার্য। ৬ ঘণ্টার কম ঘুম যাতে না হয়, সেটা অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।

সর্বপরি বিষমুক্ত ফলমূল ও শাকসবজি সমৃদ্ধ খাবার বেশি খান। এতে শরীর ভালো থাকে। শরীরের অতিরিক্ত তেল চর্বি কমাবে এব স্মৃতি শক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করবে।

ব্রেকিংনিউজ/এএন/এইচএস



আপনার মন্তব্য

খাবার-দাবার বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং