Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » খাবার-দাবার 

ঝিনাইদহে জমে উঠেছে শীতের পিঠার ব্যবসা

ঝিনাইদহে জমে উঠেছে শীতের পিঠার ব্যবসা
আরাফাতুজ্জামান ২৭ ডিসেম্বর ২০১৫, ১০:০১ পূর্বাহ্ন Print

ঝিনাইদহ: বছর ঘুরে বাংলার প্রকৃতিতে এসেছে শীত। সে সাথে কমে এসছে দিনে রোদের প্রখরতা। প্রকৃতিতে যেন লেগে রয়েছে এক ধরনের হিমেল পরশ। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে হিমেল হাওয়ার প্রভাবের তীব্রতা আারো বেড়ে যায়। এ কারণে শীতের কাপড়-চাদর, লেপ ও কম্বলের যেমন কদর বেড়েছে, সেই সাথে কদর বেড়েছে নানা রকম শীতের পিঠারও।

শীত এলেই মনে হয়ে যায় শীতের পিঠার কথা। শীত যেন বাঙালীর জীবনে এনে দেয় নতুন আমেজ। আর শীতের পিঠার ভিন্ন স্বাদ সবার জীবনে এনে দেয় নতুন মাত্রা।

এই শীতের পিঠা নিয়ে বাংলা সাহিত্যে কত গান-কবিতা রচিত হয়েছে। কবি সুফিয়া কামাল ‘পল্লী মায়ের কোল’ কবিতায় গ্রাম বাংলার পৌষ পার্বণে শীতের পিঠা খাওয়ার শাশ্বত রূপ অঙ্কন করেছেন এভাবেই- “পৌষ পার্বণে পিঠা খেতে বসি খুশিতে বিষম খেয়ে/ আরো উল­াস বাড়িয়াছে মনে মায়ের বকুনি পেয়ে।”

শীতের সকালে কাঁপতে কাঁপতে মায়ের উনূনের পাশে বসে পিঠা খাওয়া গ্রামের অতি পরিচিত দৃশ্য। কিন্তু শীতের পরিচিত এই দৃশ্যটি আর আগের মতো ঝিনাইদহে দেখা যায় না। ব্যস্ত নাগরিক জীবনে ঘরে ঘরে পিঠা বানানোর সময় মেলা ভার। এ জন্য বর্তমানে বাইরের দোকানের পিঠাই একমাত্র ভরসা। আর সে কারণেই ঝিনাইদহে বিভিন্ন জায়গায় গড়ে ওঠেছে ভ্রাম্যমাণ শীতকালিন পিঠার দোকান।

শীতের এই পিঠার ব্যবসা করে যেমন সংসারের অভাব দুর করছেন অনেকে। সেই সাথে শহরের অভিজাত গৃহবধূদের মুক্তি দিয়েছে পিঠা তৈরির কষ্ট থেকে।

শীতকালে গ্রাম থেকে শহরের সকল পরিবারেই মাঝে পিঠার চাহিদা থাকে। কিন্তু এ পিঠা তৈরিতে নানা ঝক্কি-ঝামেলা সামলাতে হয়। প্রয়োজন পড়ে নানা উপকরণ। সেই সাথে লাগে অভিজ্ঞতা। সব মিলে অন্যসব খাবারের মতো সহজে তৈরি করা যায় না শীতের পিঠা।

তবে কোনো ঝামেলা ও অভিজ্ঞতা ছাড়াই শীতের পিঠা খাওয়ার একমাত্র মাধ্যম হল ভ্রাম্যমাণ পিঠার দোকান। এ সকল দোকানে প্রতিদিন ভোর ৫ টা থেকে সকাল ৯ টা এবং বিকাল ৪ থেকে শুরু হয়ে রাত ৮ পর্যন্ত চলে রমরমা বেচা-কেনা।

ঝিনাইদহে শেখপাড়া বাজারের পিঠা বিক্রেতা রহমত আলী ব্রেকিংনিউজকে জানান, শীতের পিঠার ব্যবসাটা লাভজনক হওয়ায় বছরের এই সময়টায় তিনি পিঠা ব্যবসা করে থাকেন। এই ব্যবসায় তার ৫ জনের সংসার ভালো ভাবেই চলে যাচ্ছে।

তিনি জানান, প্রতিদিন সকাল ও বিকালে তিনি শেখপাড়া বাজারে পিঠার দোকান দেন। তিনি এখানে ভাপা পিঠা বা ধুপি বিক্রয় করেন। চালের গুড়া, খেজুরের পাটালি, নারিকেল ও লবণের মিশ্রণে তৈরি হয় এ পিঠা।

প্রতিদিন তিনি ১৫ কেজি চাউলের গুড়া, ৫/ ৬ কেজি খেজুরের পাটালি ও ৪টা নারিকেল ব্যবহার করে থাকেন পিঠা তৈরিতে। প্রতিটি পিঠা ৫ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। যা থেকে তার প্রতিদিন লাভ হয় ৪ থেকে ৫ শ টাকা।

রহমত আলীর মতো আরও অনেকে মৌসুমী পিঠা ব্যবসায়ী রয়েছেন এখানে। এসব দোকানে ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, কুলি পিঠা, সাজের পিঠা, পাটি সাপ্টাসহ বিভিন্ন ধরনের বাহারী ও মজাদার পিঠা পাওয়া যায়। যা বিক্রি করে সবার সংসার ভালো ভাবেই চলছে।

হারুন-অর-রশিদ নামে এক জন পিঠা খেতে খেতে বললেন, ব্যস্ততার কারণে বাড়িতে পিঠা খাওয়ার সময় হয়ে ওঠে না। তাই এখানে সেই স্বাদ নেয়ার চেষ্টা করছি। শীতের এই পিঠা খেয়ে অন্য রকমের মজা পেয়েছি। সত্যিকার অর্থে যেটা বুঝিয়ে বলে যাবে না।

ব্রেকিংনিউজ/এইচএস



আপনার মন্তব্য

খাবার-দাবার বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং