Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » মুক্তমত 

যে কারণে প্রকাশ্যে চুমু খাওয়া অপরাধ নয়

যে কারণে প্রকাশ্যে চুমু খাওয়া অপরাধ নয়
মেহেরুন্নিছা জুবাইদা ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৬, ৩:৩১ অপরাহ্ন Print

আজ নাকি বাংলাদেশে এক দল প্রকাশ্যে চুমু দিবে বলে ঘোষণা করেছে। আরেক দল সেটা আটকাবে। ঘোষণা দেয়া দল নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। কিন্তু যারা আটকাবে বলে ঘোষণা দিয়েছে- তাদের নিয়ে বলার আছে।

আজ প্রকাশ্যে চুমু আটকানোর কেন এত জোড়? এই সব পোলাপান তো আজ রাস্তা যারে তারে চুমু দিচ্ছে না, তারা একটা জায়গা দখল করে যেখানে দুজনের সম্মতিতেই চুমু দিচ্ছে। এই চুমু তো তারা নাইট পার্টিসহ আরো অনেক জায়গায় দিয়েছিলো। তখন তো কিছু বলেননি!

এই চুমু যারা দিবে তারাতো কারো না কারো সন্তান। তাদের বাবা-মাকে যেয়ে বলেন যে, তাদের বাচ্চা কাচ্চারা আজ প্রকাশ্যে চুমু দিচ্ছে। এতে সেই সব বাপ-মায়ের যদি কিছু আসে না যায়- আপনাদের এতে সমস্যা কি? তারা তো আপনার সিটিংরুমে এসে চুমু দিচ্ছে না!

রাগান্বিত হচ্ছেন? এই ঘটনা গতকাল ঘটেনি। এই ঘটনা শুরু হয়েছে বহু আগে থেকে। আপনারা যারা দ্বি-মুখী জীবন বোধে বিশ্বাসী ছিলেন তাদের আশকারায়ই হয়েছে। আপনাদের ব্যর্থতায় হয়েছে। হয় আপনারা যা বলেন তা নিজেরাও বিশ্বাস করেন না, আর না হয় আপনারা এই সব মানুষদের কাছে পৌঁছাতে পারেননি। কারণ আপনারা তাদের মানুষ মনে করেননি।

আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। তথাকথিত হুজুরদের একটা লেবাস আছে- নবাবি লেবাস। উনারা যখন হাটতেন তখন উনাদের পোশাক আশাক চলন বলন বলে দিতো উনারা গণমানুষের মতো না। উনারা যখন হাটতেন তখন রাজা বাদশার মতো ভঙ্গি নিয়ে হাটতেন। যখন সালাম দিতেন তখন সালামকে একটু বেশিই আরব দেশের সালাম বানিয়ে ফেলতেন। ফলে চারপাশের মানুষেরা কখনোই উনাদের কাছে ফেরার যোগ্য মনে করতেন না। কারণ সেই সালামের আরবী ব্যবহার করে উত্তর দেয়ার সামর্থ্য কোনো গণমানুষের ছিলো না। ছিলো তাদের মতো আরেক বাদশাহী হুজুরের। কিন্তু সমাজের সবারতো রাজা বাদশা হওয়ার তওফিক থাকে না। তাই এই বাদশাহী জীবনকে অর্জন করা যে সবার জন্য সম্ভব না, এটা মানুষেরা ভালোই বুঝেছিলো। ফলে তারা তাদের ‘আবুইল্লা’ জীবনেই বেশি স্বাছন্দকর মনে করেছিলো।

আর সেই সব আবুলদের কেউ কেউ কষ্ট করে বড়লোক হয়েছে। বড় চাকরি পেয়েছে। তাদের ছেলেময়েদের তারা কীভাবে বড় করবে, কীভাবে বড় করলে সমাজে তাদের এককালের গরিবীপনা কোনভাবে টের পাবে না। অনেকে এবিষয়ে বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। ফলে শুরু হয় সন্তান “বড়” করার কম্পিটিশিন।

নিজেরা যেখানে ঘরে বাইরে মার খেয়ে নামাজ রোজা শিখেছে, সেখানে তাদের বাচ্চা-কাচ্চারে পিটিয়ে না পিটিয়ে ইংরাজি শিখিয়েছেন। হালচাল যেহেতু বাংলাদেশের আর ১০জনের মতো হতে পারবে না, তাই তাদের পোশাক আশাক পড়ানো হয়েছে অন্যরকম, প্রয়োজনে ক্লাউনিশ। তাদের মধ্যে নানারকম ভোগপণ্য ধরিয়ে দেয়া হয়েছে বন্ধু-বান্ধব আর আত্মীয়দের সাথে গর্ব করার জন্য। প্রয়োজনের জন্য নয়। তাদের যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে পড়ানো হয়েছে, সেটা লেখাপড়া করে মানবিক হওয়ার জন্য নয়, বরং বাদবাকী মানুষদের যা সামর্থ নেই তাদের যে তা আছে- এটা দেখানোর জন্য।

সবাই যখন বাংলা নাটক দেখে, তারা তখন হিন্দিও দেখে না, টপকে ইংরেজি দেখে। তাদের কেউ কেউ আপন চাচা ফুফুদের নাম না বলতে পারলেও সদ্য রিলিজ হওয়া ইংরেজি মুভিতে ক’জন অভিনয় করেছে, তাদের কার বয়স কত। কার কটা বিবাহ হয়েছে, কে এখন কার সাথে ডেটিং করে- সবই নখদর্পনে। আর সেই বড়লোক আবুল বাবা মায়েরা তারা কেখনো গর্ব করে, কখনো ঠিক বুঝতে পারে না কাজটা ঠিক হয়েছে কিনা বা কতটুকু ঠিক হয়েছে।

এই সব ছেলে-পিলের পরিবর্তনতো আজ শুরু হয়নি!
আরেকটি দল আছে সম্পূর্ণ বিপরীত। তারা আর্থিক দিক থেকে অন্য মেরুর মানুষ। তারা শিশুবেলা থেকেই অর্থাপোর্জনে নিবেদিত। একেকটা শিশুই শ্রম দিয়ে টেনে নিয়ে যায় একেকটা পরিবার। ফলে সে নিজেকে মনে করে নিজের রাজা, পরিবারের রাজা। কোন দিক-নির্দেশনা নেই জীবনের। মানুষ বলে তার এটাই মূল্য- অর্থ উপার্জন করতে হবে। অর্থ আছে তো মূল্য আছে।

যখন বাংলাদেশে গেলাম তাদের কতককে দেখলাম গাউসিয়া মার্কেটে। তাদের বয়ষ দেখে মনে হলো আট থেকে দশ-বারো। তাদের কথার বলার ঢং ভিন্ন। তাদের আচড়ণ স্বাভাবিক নয়। অবস্থা দেখে মনে হয়েছে, তারা হয় শারীরিক বা মানসিক নিপীড়নের শিকার এক জনগোষ্ঠী। অথবা নিজের হাতে উপার্জন করে সেই টাকা দিয়ে অন্যায় পথে গমনকারী এক দল। তাদের পোশাক-আশাকও স্বাভাবিক না। ঠিক সদ্য টাকার মালিকের সন্তানদের মতো। পার্থক্য শুধু তারা কাজ করে খেটে খায়, আর বাকীগুলো বাবা মায়ের ব্যালেন্স ধ্বংস করে।

যারা আজ ধর্মের কথা বলেন, বলেন এইসব ছেলে-পিলের কর্মকাণ্ড অনুমতি অযোগ্য, তারা কতটুকু পৌঁছাতে চেয়েছিলেন এই সব ছেলে-পিলেদের কাছে?

কিন্তু এই জনগোষ্ঠীদের একটা বড় গুণ আছে। একটা আলো এখনো তাদের অন্তরে পিটপিটে জ্বলে- তার দ্বি-মুখী বা হিপোক্রিট নয়। তারা যা বিশ্বাস করে তাই করে।

আজ যদি তাদের কাজ খারাপ মনে হয়, এ খারাপের দায় আপনাদের কোনো অংশে কম নয়। আপনারা আপনাদের নিজেদের কারণেই দূরে সরে গেছেন এই দল থেকে। তাই ভালো হবে মনে হয়, যদি তাদের কাজের বিরোধিতা না করে সরে যান। তারা যাকে চুমু দিবে তারা তাকে আরো দিয়ে আসছে। হয়তো আপনার চোখের আড়ালে। সেদিন যেহেতু ফিরাতে চাননি, আজ হঠাৎ করে ফিরাতে পারবেন না। তাদের কাজ আজ যেমন হারাম সেদিনও কিন্তু তেমন হারাম ছিলো। আর যদি তারা চুমু দেয়ার সম্পর্কের মধ্যে থাকে তাহলে এটা আপনার বিষয় না তারা কোথায় বসে চুমু দিবে। আপনার দেখতে খারাপ লাগলে আপনি সেখানে চুমু দেখতে কেন যাবেন?

অবশ্য আমি অনেক লোকদের দেখেছি যারা মন্দ জিনিস দেখে, প্রচার ও প্রসার করে এবং বলে তারা এটা ঘৃনা করেন।

যাই হোক, আপনারা বলতে পারেন যে আপনাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের কী হবে তাহলে? আসলে কিছুই হবে না। আগে হতো গোপনে, এখন হয়তো হবে প্রকাশ্যে। যারা যেমন ছিলো তারা তেমনই থাকবে। এই প্রজন্ম যদি আপনাদের পছন্দ না হয়, তাহলে জেনে নিন- এটা আপনাদের মতো “ভদ্র” প্রজন্মের ফসল। তাদের পরবর্তী প্রজন্ম যে তাদের মতোই হবে এমন কোনো নিশ্চয়তাও নেই। এসব বিষয়ে আপনারা যত বেশি প্রতিক্রিয়া দেখাবেন বিষয়গুলো ততটাই বাড়বে। এরা যদি আপনাদের ক্ষেপিয়ে তুলতেই এই কাজ করে থাকে, তাহলে যে কাজগুলোতে আপনাদের বেশি ক্ষেপবেন, সেই কাজগুলোই এরা বেশি করবে। অন্যথায় হতদ্যম হয়ে বাদ দিয়ে দিবে।

এবার আপনারা ঠিক করেন আপনারা কী চান?

লেখিকা: নিউ ইয়ার্ক প্রবাসী

ব্রেকিংনিউজ/এইচএস



আপনার মন্তব্য

মুক্তমত বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং