Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

বৃহস্পতিবার ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » মুক্তমত 

আমার বসন্ত

আমার বসন্ত
মেহেরুন্নিছা জুবাইদা ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৬, ৯:২৪ পূর্বাহ্ন Print

দেশের বাইরে কি দেশে, সব খানে আজ কেমন একটা আবেশময় অনুভুতি। শূন্যের নীচে তাপমাত্রা নিয়েও এই আমেরিকাও কেমন একটা উৎসব মুখর। স্কুলগুলো টানা নয়দিন বন্ধ এখানে। দুই প্রেসিডেন্টের জন্মদিনসহ ক’টা ধর্মীয় দিনও পরেছে এর মধ্যে। বসন্ত এসেছে বাংলাদেশে। আর আমাদের বাঙালীদের জন্যও কাজ হয়েছে। এই বন্ধের মধ্যেই পরেছে বাসন্তী উৎসব এবং আন্তার্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

ষড়ঋতুর সব কটি আমার প্রিয় হলেও হেমন্ত আর বসন্ত একটু বেশি প্রিয়। এখানে ওখানে কোকিলের ডাক, সদ্য তাজা সব্জি ক্ষেতে কমলা বা লাল রংয়ের টমেটো, সিম, লাল লাল কাঁচা মরিচ- খাওয়ার চেয়ে দেখাটাই যেনো বেশি আনন্দের।

আমরা ছোটরা স্কেলে যাওয়ার আগে যে টমেটো বা মরিচ গাছগুলোর গোড়ায় বিন্দু বিন্দু পানি দিতাম, সেই সব গাছগুলো কি তাজা আর ফলে পরিপূর্ণ! মসজিদে যাওয়ার পথে তুলা আর পুকুরপাড়ের মান্দার গাছের দিকে তাকালে কোথায় যেনো হাহাকার করে উঠতো- কিসের এক ডাক- অতি পবিত্র রঙের ডাক। ঝড়ে পড়া মান্দার গাছের গাড় লাল ফুলগুলো তুলেনিতাম হাতে। এত কোমল ফুল যে খুব সতর্কতার সাথে ধরতে হতো- পাছে সামান্য হাতের ছোঁয়ায় নেতিয়ে পরে। কার্পেটের মতো পড়ে থাকতো ফুলগুলো।

কখনো কখনো তুলে নিতাম কয়টা ঝড়ে পরা তুলা ফুল। পাটের আঁশে রসি বানিয়ে সেই ফুলের মালা গেঁথে গলায় পরে কি নবাবি হাটা-চলা আমাদের!

বাড়ির পিছনে পুকুর পাড়ে মাঝে মাঝে বের হতো ডাহুক। সাথে ছোট ছোট তুলতুলে কুচকুচে শিশু। আমরা গাছের আড়াতে লুকিয়ে দেখতাম কিভাবে মা পাখিকে ঘিরে শিশু পাখিগুলো দলবেধে সামনে আগায়। কখনো কখনো দুষ্ট আমরা হঠাৎ করে সামনে পরে যেতাম আর অমনি পুচকি পুচকি পাখিগুলো এদিক সেদির দৌড়ে পালাতো। কি যে আনন্দ ছিলো সেই দৃশ্যে!

শীত চলে গেলেও পুরোটা যায়নি তখনো। আমরা হালকা কার্ডিগান গায়ে নিয়ে হাজির হতাম হুজুরের কাছে আরবী পড়তে। সকালবেলা মায়ের পাঠানো লাল রং চা আর মুড়ি খেতে মনে হতো পৃথিবীর সবচেয়ে সুস্বাদু খাবার!

হালকা শিশির তখনো মাঝে মাঝে হতো। আমরা লুকিয়ে পা থেকে জুতো ফেলে দিয়ে খালি পায়ে ঘাসের উপর হাটাহাটি করতাম। তারপর ঘরে ফেরার আগে আবার জুতো পরে নিতাম। সেই সব শিশিরের ছোঁয়াও যেনো ছিলো কত অমৃত!

শীতের সময় থেকেই শুরু হতো বাগানে নতুন গাছের যত্ন। বনফুল, মোরগ জবা, কসমচ, ডালিয়া, গাধাসহ আরো কত ফুল। নানারঙের ফুলের গাছগুলো সবচেয়ে বেশি ফুলে ফুলে ভরে উঠতো এই বসন্তে। নানা রঙের ফূল। কিন্তু কেমন করে যেনো সব ফূলগুলো তাদের জৌলুস হারালো, বেঁচে খাতলো কেবল হলুদ ফুলগুলো। সবাই কেন যেনো আজ বসন্ত বরণ বলতে কেবল হলুদ ফুলের বরণ মনে করে। কী দোষ অন্য ফুলগুলোর?

আবার মনে হয় ভালোইতো হলো অন্য ফুলগুলোর! অনুষ্ঠানের নামে তাদের ছিঁড়ে কেউ আর খোপায় পরে না। তারা কটা দিন বেশি শান্তিতে কাটাতে পারে ডালে!

আজ বসন্তের প্রথম দিনে সেই সব পুরানো ফুলেল দিনের কথা খুব মনে পরে। খুব!

লেখিকা: নিউ ইয়ার্ক প্রাবাসী

ব্রেকিংনিউজ/এইচএস



আপনার মন্তব্য

মুক্তমত বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং