Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » মুক্তমত 

ভাষা, রাজনীতি ও আধিপত্য

ভাষা, রাজনীতি ও আধিপত্য
আহমেদ স্বপন মাহমুদ ৩১ অক্টোবর ২০১৫, ১২:৩৬ অপরাহ্ন Print

ঢাকা: কেবল এই মুল্লুকে নয়, ভাষা লইয়া সর্বত্রই একটা জবরদস্তি লক্ষ করা যায়। এই জবরদস্তি অরাজনৈতিক নহে। বরং বেশি মাত্রায় রাজনৈতিক। ভাষা, কেবল ভাষা বলতে কিছু নাই, তার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অভীপ্সা ছাড়া।

বাংলা ভাষার কথা যদি বলেন, খুব খেয়াল কইরা, তাইলে এইটা একটা জবরদস্তিমূলক ভাষা, সন্দেহ নাই। আপনি যখন আপনার ভাষার আধিপত্য জারি রাখতে চান, রাজনৈতিকভাবেই তা রাখতে চান, অন্যের ভাষাকে আক্রমণ করে, দখল করে তা যেন জারি রাখতে হয়। আদিবাসীদের দিকে তাকালেই তা স্পষ্ট হইয়া ওঠে। গারো, তঞ্চইঙ্গা, চাকমা, মারমা ইত্যাদি বহু ভাষা খোদ বাংলা ভাষার অাক্রমণের কারণে নাই হইয়া যাইতেছে। আমরা কি তা দেখতে পারতেছি না!

ভূখণ্ডের রাজনীতি ভাষাকে ভাষা হইতে দেয় এবং দেয় না, ভাষার উপর প্রভাব জারি রাখে এবং রাখে না। পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার ভাষা আর বাংলাদেশের ভাষার রাজনীতিকে এক বইলা ধইরা নেয়ার কোনো কারণ নাই, কখনো কখনো মিল থাকলেও। ভাষার আধিপত্য রাজনীতিরই আধিপত্য। এইটা কি বাংলা ভাষার সাথে গারো ভাষার, বা পশ্চিমবঙ্গের বাংলা ভাষার সাথে বাংলাদেশের ভাষার তুলনামূলক রাজনীতির অংশ নহে!

আবার এ্রকই ভাষার নানা রূপ থাকে। ভাষা বাংলা বটেন, কিন্তু সিলেট, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ বা বরিশালের ভাষার বিভিন্নতা ভাষার বৈচিত্র ও জীবনধারারই অংশ, যে জীবনপ্রবাহ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্য থিকা বিচ্ছিন্ন নয়।

ভাষার আধিপত্যই ভাষাকে জীবিত রাখে, অন্য অর্থে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব ও বিস্তার ভাষাকে ভাষা হিসেবে জারি রাখে। কলকাতার দিকে তাকালেই বুঝা যায়, হিন্দি ভাষার আগ্রাসন সেখানে কতটা। ইংরেজি ভাষার প্রভাব ও বিস্তার অরাজনৈতিক নয়, সারা দুনিয়া তা টের পাইতেছে।

সাহিত্যের ক্ষেত্রে, ভাষা এক হইলেও সাহিত্য এক না। ইংরেজি সাহিত্য বলতে আমরা অস্ট্রেলিয় সাহিত্যকে বুঝি না। অস্ট্রেলিয়া, গ্রেট ব্রিটেন ও আমেরিকার ভাষা ইংরেজি। কিন্তু আমেরিকান সাহিত্যকে কেবল ভাষার অভিন্নতার কারণে ব্রিটিশ সাহিত্য বলি না। পশ্চিমবঙ্গের বাংলা সাহিত্য বলা তাই তেমন কোনো দোষের নয়। কারণ ভারতের প্রদেশ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ও অর্থনৈতিক অভীপ্সা ভারতের আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলন করে তার ভাষা দিয়েই, যেমনটা বাংলাদেশও।

তবে শিল্প-নন্দন গুণাগুণ দেশকালের বাইরে, সে কথা অামরা জানি। ভাষা যখন তার অন্তরমর্মে পৌঁছে তখন ভাষা লুপ্ত হয়ে কেবল সুর ছড়ায়; যে কারণে সাহিত্যিকের বড়ত্ব ও মহত্ব, মহৎ শিল্পকর্ম দেশকালের সীমারেখা মানে না কোনোদিন।

কেউ কেউ দেশভাগের মর্মপীড়ায় বাংলাদেশের ভাষা (ও) সার্বভৌমত্বকে যদি ভারতের হাতে তুলে দেয়াকে সমাধান মনে করেন, বা ভাষার ঐক্যকেই রাজনীতি ও সম্প্রীতির মূলমন্ত্র হিসেবে মনে করেন, তারা ভূগোলোর রাজনীতি ও সময়ের দায়কেই অস্বীকার করতে চান, এদেশের মর্ম ও স্বাধীনতাকেও তারা অস্বীকৃতি জানাতে চান বলে মনে করি। স্বাধীন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব যে কারণে উজ্জ্বল, ভাষার রাজনীতিও সেই কারণে আলাদা, সাহিত্যও। তবে ইতিহাস ভাষার দায় নেয় সময় সময়।

লেখক: কবি ও সাহিত্যিক

[মুক্তমতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন]

ব্রেকিংনিউজ/এমআর



আপনার মন্তব্য

মুক্তমত বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং