Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » মুক্তমত 

উপজেলা পরিষদে হস্তান্তরিত বিভাগসমূহের আর্থিক বিষয় ন্যস্তকরণ: নৈর্ব্যক্তিক বিশ্লেষণ

উপজেলা পরিষদে হস্তান্তরিত বিভাগসমূহের আর্থিক বিষয় ন্যস্তকরণ: নৈর্ব্যক্তিক বিশ্লেষণ
আবুল বাশার মো. ফখরুজ্জামান ৩১ অক্টোবর ২০১৫, ১২:২৯ অপরাহ্ন Print

উপজেলা পরিষদে হস্তান্তরিত ১৭ টি দপ্তরের কর্মকর্তাদের বেতন-বিলে উপজেলা নির্বাহি অফিসারদের স্বাক্ষরের প্রতিবাদে ইউএনও ব্যতিত অন্য ১৬ টি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ ও ২৬ বিসিএস ক্যাডার সমন্বয় পরিষদের চলমান আন্দোলনের যোক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গত ৩১ আগস্ট, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ তারিখে মন্ত্রিসভা একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে উপজেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮ এর ২৪ ধারা মোতাবেক উপজেলা পরিষদে হস্তান্তরিত ১৭ টি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা উপজেলা পরিষদে হস্তান্তর করা হবে। এ সিদ্ধান্তটি পত্রিকা মারফত জানার পর থেকেই ১৬ টি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগন ও বিসিএস সমন্বয় পরিষদ আন্দোলনে নামে এটি বাতিলের দাবিতে।

গত ১৪ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ এ সিদ্ধান্তটি অফিস স্মারক নং- ০৪.০০.০০০০.৫১২.৮২.০৪৮.১৪-৪০২ এর মাধ্যমে “উপজেলা পরিষদে হস্তান্তরিত বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণকে উপজেলা পরিষদের ব্যবস্থাপনায় ও নিয়ন্ত্রণে ন্যস্তকরণ এবং তাদের বেতন ভাতাদি বাবদ সরকার প্রদেয় অর্থ পরিষদ তহবিলে স্থানাস্তর সংক্রান্ত” শিরোনামে জারি করে। স্মারকটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় যে, এ স্মারকের বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বর্ণিত ব্যবস্থা সম্পর্কে অবগত না হয়েই সম্পূর্ণ স্পেকুলেশন এর ভিত্তি করে এ বিষয়ে ধারণা পোষণ করা হচ্ছে। এ স্মারকের কয়েকটি অনুচ্ছেদ নিচে বিশ্লেষণ করা হলঃ

অনুচ্ছেদ ৫- “উপজেলা পরিষদের ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে ন্যস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ পরিষদে ন্যস্ত হওয়ার তারিখ থেকে তাদের বেতন-ভাতা এবং এতদসংক্রান্ত অন্যান্য ব্যয়ের অর্থ স্ব স্ব উপজেলা পরিষদ তহবিল থেকে গ্রহণ করবেন। এ ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ উপজেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮-এর ৩৫ ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ সরাসরি উপজেলা পরিষদের অনুকূলে বরাদ্দ করবে এবং এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অবহিত করবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ এ সংক্রান্ত বাজেট প্রণয়ন, বরাদ্দ সংগ্রহ, অর্থছাড়করণ ও হিসাবরক্ষণ নিশ্চিত করবে।”

এ সংক্রান্ত উপজেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮ এর ৩৫ (২) (গ) ধারাতে বলা হয়েছে এ আইনের ২৪ এর অধীনে পরিষদের নিকট হস্তান্তরিত প্রতিষ্ঠান বা কর্ম পরিচালনাকারী জনবলের বেতন, ভাতা এবং এতদসংক্রান্ত অন্যান্য ব্যয় নির্বাহি বাবদ সরকার প্রদত্ত অর্থ দ্বারা পরিষদের তহবিল গঠিত হবে। অর্থাৎ ১৯৯৮ সালে প্রণীত মূল আইনে বিধান রাখা হয়েছিল যে হস্তারিত বিভাগসমূহের জনবলের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য ব্যয়ের অর্থ উপজেলা পরিষদ তহবিলে ন্যস্ত করা হবে। এটি নতুন কোন বিধান নয়।

অনুচ্ছেদ ৬ এ হস্তান্তরিত ১৭ টি বিভাগের রাজস্ব খাত ও অনুচ্ছেদ ৭ এ উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ কিভাবে ব্যয় করা হবে সেবিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে-

অনুচ্ছেদ ৬- “উপজেলা পরিষদে ন্যস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের বেতন-ভাতা ও আনুষঙ্গিক ব্যয়ের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগের রাজস্ব বাজেট থেকে প্রদত্ত অর্থ পি এল একাউন্ট Personal Ledger Account) – এ রক্ষিত হবে এবং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের যৌথ স্বাক্ষরে এ হিসাব পরিচালিত হবে।”

অনুচ্ছেদ ৭- “মন্ত্রণালয়/বিভাগের উন্নয়ন বাজেট থেকে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য থোক উন্নয়ন বরাদ্দ (Block Development Assistance) বাবদ উপজেলা পরিষদকে প্রদত্ত অর্থ অপর একটি পি এল একাউন্টে রক্ষিত হবে এবং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের যৌথ স্বাক্ষরে এ হিসাব পরিচালিত হবে।”

উপজেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮ এর ৩৫ ধারা মোতাবেক গঠিত উপজেলা পরিষদ তহবিলের দু’টি অংশ রয়েছেঃ (১) রাজস্ব তহবিল (২) উন্নয়ন তহবিল। এ দু’টি তহবিল পরিচালিত হয় উপজেলা পরিষদের (কার্যক্রম বাস্তবায়ন) বিধিমালা, ২০১০ এর ১৮ বিধি মতে। যেটিতে বলা হয়েছেঃ পরিষদের তহবিল চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার কর্তৃক যৌথভাবে পরিচালিত হবে। বর্তমানে উপজেলা পরিষদে এ দু’টি তহবিলই পরিচালনা করা হয় চেয়ারম্যান ও ইউএনওর যৌথ স্বাক্ষরে।

মজার ব্যাপার হল বিভিন্ন দপ্তর উপজেলা পরিষদের রাজস্ব বা উন্নয়ন খাত হতে যখন বরাদ্দ চায় বা খাতওয়ারি বরাদ্দ পায় (যেমনঃ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি, এডিপি বা উন্নয়ন খাত হতে কৃষি ও সেচ খাত ১০-১৫%, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ ৫-১০%, শিক্ষার উন্নয়ন ১০-১৫%, স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ ১০-১৫%, জনস্বাস্থ্য ১০-১৫%), সেটি উপজেলা পরিষদের রাজস্ব বা উন্নয়ন তহবিল হতেই প্রদান করা হয়ে থাকে। আর সে বরাদ্দের অর্থ অনুমোদন হয়ে থাকে চেয়ারম্যান ও ইউএনওর যৌথ স্বাক্ষরে। এ বিধান দীর্ঘদিন ধরে চলে এলেও এতে কোন সমস্যা হয়নি। কিন্তু একই ধরনের একাউন্টের বিষয়টি উল্লেখ করা সত্ত্বেও আপত্তির বিষয়টি নতুন নয় বিধায় বোধগম্য নয়।

উপজেলায় ১৩ টি মন্ত্রণালয়ের ১৭ টি দপ্তরের কার্যক্রম বা আর্থিক বিষয় উপজেলা পরিষদে ন্যস্ত করা হলেও এ স্মারকের ৮ ও ৯ নং অনুচ্ছেদে কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত প্রকল্পসমূহের আর্থিক বিষয় ও আনুষঙ্গিক ব্যয় পূর্বের ন্যায় ইউএনও এবং দপ্তর প্রধানের যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হবে মর্মে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বর্তমান চলমান বিধান অনুযায়ী মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয় বা যে কোন মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত প্রকল্পের অর্থ এ দু’জনের যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হয়।

অনুচ্ছেদ ৮- “কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত প্রকল্পসমূহের বিভাজনযোগ্য অংশ (Divisible Component) এর অনুদান বাবদ উপজেলা পরিষদকে প্রদত্ত অর্থ পি এল একাউন্টে স্বতন্ত্র রেজিস্টারে স্কিম-ওয়ারি রক্ষিত হবে। এই পি এল একাউন্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর-প্রধানের (Functional Heads) যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হবে। এক প্রকল্পের তহবিল কোনভাবেই অন্য প্রকল্পের তহবিলে স্থানান্তর করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট দপ্তর-প্রধানগণ অর্থ আহরণ ও ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব সংরক্ষণ করবেন।”

অনুচ্ছেদ ৯- “সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ আনুষঙ্গিক কার্যাবলি (Functional Contingency)- এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সরাসরি উপজেলা পরিষদকে প্রদান করবে। উক্ত অর্থ পি এল একাউন্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগওয়ারি রক্ষিত হবে। এই পি এল একাউন্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর-প্রধানের যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর-প্রধানগণ অর্থ আহরণ ও ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব সংরক্ষণ করবেন।”

উপরে বর্ণিত এ স্মারকের ৮ ও ৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমানে চলমান ব্যবস্থার কোন পরিবর্তন করা হয়নি।
সবচেয়ে গুরুতর যে বিষয়টি নিয়ে ১৬ টি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ আপত্তি জানিয়েছেন সেটি হল যে, এই স্মারক বাস্তবায়িত হলে উপজেলায় কর্মরত জ্যৈষ্ঠ কর্মকর্তাগণ বিশেষ করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তাগণসহ অন্যান্যদের তাঁদের বেতন বিলে ইউএনওর স্বাক্ষরের জন্য প্রেরণ করতে হবে। আদতে বিষয়টি এমন নয়। এ বিষয়টি এ স্মারকের ১০(ঙ) এ বলা হয়েছেঃ

অনুচ্ছেদ ১০(ঙ)- “উপজেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় দপ্তর-প্রধানগণ তাঁদের আওতাধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের বেতন-ভাতার বিল প্রচলিত পদ্ধতিতে ও ফরমে উপজেলা পরিষদের হিসাবরক্ষণ অফিসে দাখিল করবেন। পি এল একাউন্ট থেকে চেকের মাধ্যমে এ সকল বিল পরিশোধ করা হবে। অর্থ কর্তন ও অগ্রিম আদায়ের রসিদের দু’টি কপি ইস্যু করা হবে, যার একটি উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস যথাযথভাবে প্রত্যয়নপূর্বক বেতন গ্রহণকারী বরাবর প্রেরণ করা হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আদায়কৃত অর্থ একত্র করে প্রতি মাসে ট্রেজারিতে জমা দিবেন।”

১৬ টি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিসিএস ২৬ ক্যাডার সমন্বয় ফোরামের চলমান আন্দোলনে আরেকটি আপত্তি হচ্ছে ভ্রমন ও অন্যান্য ভাতায় ইউএনওর স্বাক্ষরের প্রতিবাদে। এ স্মারকের অনুচ্ছেদ ১০(ঝ) ভাতা সংক্রান্ত বিষয়ে বলা হয়েছেঃ

অনুচ্ছেদ ১০(ঝ)- “উপজেলা পরিষদে ন্যস্ত কর্মকর্তাগণের ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান কর্তৃক এবং পরিষদে ন্যস্তকৃত কর্মচারীগণের ক্ষেত্রে হস্তান্তরিত বিষয়-সংশ্লিষ্ট দপ্তর-প্রধান কর্তৃক অনুমোদিত ভ্রমণসূচি ও ভ্রমণ বিল অনুযায়ী ভ্রমণ ভাতার দাবিকৃত অর্থ চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। ভ্রমণ ভাতা খাতে বরাদ্দ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নিয়ন্ত্রিত হবে।”

অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে যে, উপজেলা পরিষদে ন্যস্ত কর্মকর্তাগণের ভ্রমণ বিবরণীতে উপজেলা চেয়ারম্যান এবং কর্মচারীদের ক্ষেত্রে দপ্তর-প্রধান ভ্রমণ বিবরণী অনুমোদন করবেন। এ সংক্রান্ত খাতে বরাদ্দ থাকা সাপেক্ষে দাবিকৃত অর্থ চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে। এখানে ইউএনওর স্বাক্ষরের কোন বিষয়ই নেই।
সর্বোপরি এ স্মারকের অনুচ্ছেদ ১২ এ বলা হয়েছে যে এ স্মারকে বর্ণিত নির্দেশনাসমূহ বাস্তবায়নে কোন সমস্যা দেখা গেলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কাছে বিষয়টি স্পষ্টীকরণের জন্য প্রেরণ করা যেতে পারে।

অনুচ্ছেদ ১২ - “উপর্যুক্ত নির্দেশনাসমূহ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোন সমস্যা দৃষ্টিগোচর হলে কিংবা কোন বিষয় স্পষ্টীকরণের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অবহিত করতে পারে।”

বর্ণিত স্মারকটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, উপজেলা পরিষদ আইনে বর্ণিত ক্ষমতাবলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য সদাশয় সরকার যে বিধানটি অনুমোদন দিয়েছে, এতে প্রকৃতপক্ষে উপজেলা পরিষদ ব্যবস্থার ক্ষমতায়ন হবে। এতে করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের ক্ষমতা বাড়েনি। অন্য ১৬ টি দপ্তরের মত ইউএনওর বেতন-ভাতাও পিএল একাউন্টে যাবে এবং নতুন বিধান অনুযায়ী উপজেলা চেয়ারম্যানদের স্বাক্ষর এতে প্রয়োজন হবে।

এ বিশ্লেষণে কয়েকটি বিষয়টি প্রণিধানযোগ্যঃ

-নতুন জারী করা এ অফিস স্মারক ১৪ অক্টোবর, ২০১৫ জারী করা হলেও আন্দোলন শুরু হয় আদেশ জারীর বহু পূর্বে।

-উপজেলা পর্যায়ে হস্তান্তরিত ১৬ টি দপ্তর ও ২৬ ক্যাডার বিসিএস সমন্বয় ফোরামের যৌথ ব্যানারে পরিচালিত হলেও উপজেলা পর্যায়ে ২৬ টি ক্যাডারের অস্তিত্ব তো নেই, মাত্র ৫/৬ টি ক্যাডার রয়েছে। যেমনঃ কৃষি, স্বাস্থ্য, মৎস্য, প্রাণি সম্পদ, পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডার। তাহলে ২৬ ক্যাডারের অন্যান্য ক্যাডার অফিসারগণ কেন চলমান আন্দোলনে যোগ দিলেন? এটি কি সরকারকে অস্থিতিশীল করার জন্য? যখন দেশে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংক্রান্ত মামলায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য জাতি অপেক্ষা করছে। যখন দেশ একটি স্থিতিশীল অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে যাচ্ছে তখন আদৌ চিলে কান নিয়েছে কিনা সেটা না জেনেই বা না যাচাই করেই চিলের পেছনে ছোটা বৃথা পন্ডশ্রম।

-৮ম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সিলেকশন গ্রেড ও টাইম-স্কেল বাদ দেয়া নিয়ে যে আন্দোলন চলছে সেটির বিষয়ে বলা হচ্ছে আমলারা বিশেষ করে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাগণ এ বিধান বাদ দেয়ার পেছনে জড়িত। যারা দাবি করছেন তাঁদের দাবিটি অত্যন্ত সাধারণীকরণ। কারণ এগুলো বাতিল হওয়ায় প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাগণ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কারণ প্রশাসন ক্যাডারের মাত্র ৫-১০% কর্মকর্তা হয়ত ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ পদ সচিব হতে পারেন। এছাড়া বলা হয়ে থাকে যে অর্থ বিভাগের আমলাগণ এটি বাতিলে ভূমিকা রেখেছেন। আমার একটি ছোট অনুরোধ-অনুগ্রহ করে আন্দোলনকারীগণ যদি তথ্য নিয়ে দেখেন সেখানে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা ব্যতীতও অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তা রয়েছেন।

লেখাটির উদ্দেশ্য কাউকে খাটো করা নয়, বরং প্রকৃত বিষয়টি উপস্থাপন করা।

[মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক জারীকৃত অফিস স্মারকটি cabinet.gov.bd এ ওয়েব সাইটে পাওয়া যাবে। ]

লেখকঃ উপজেলা নির্বাহি অফিসার, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা

:: মুক্তমতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন ::

ব্রেকিংনিউজ/এমএএস



আপনার মন্তব্য

মুক্তমত বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং