Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » মুক্তমত 

মোদির হাত ধরে সাম্প্রদায়িকতার আগুনে জ্বলছে ভারত

মোদির হাত ধরে সাম্প্রদায়িকতার আগুনে জ্বলছে ভারত
পরাগ আশিক ১৭ অক্টোবর ২০১৫, ৪:১২ অপরাহ্ন Print

ভারতে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদে গত চার-পাঁচ দিনে ৪১ জন লেখক-সাহিত্যিক সরকারি-বেসরকারি পুরস্কার ও সম্মাননা ফেরত দিয়েছেন। অনেকে মনে করছেন, বিভিন্ন রাজ্যে ও কেন্দ্রে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই অসহিষ্ণুতা মাত্রাছাড়া হয়ে গেছে।

প্রতিবাদী লেখক-লেখিকারা মনে করছেন, বিজেপির আমলে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর শক্তি বৃদ্ধি হচ্ছে, ভারতের বহুত্ববাদী চরিত্র নষ্ট হয়ে হিন্দুত্ববাদী হওয়ার পথে এগোচ্ছে। এঁরা মনে করছেন, গো-হত্যা নিষিদ্ধকরণ, যুক্তিবাদীদের হত্যা, ইকলাখ-হত্যাকাণ্ড, পাকিস্তানিদের অনুষ্ঠানে বাধা দান, সুধীন্দ্র কুলকার্নির মুখে কালি লেপে দেওয়া—এগুলো আদৌ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ভারতকে ক্রমশ হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত করার সার্বিক ছকের অঙ্গ এসব ঘটনা।

তবে, প্রথম দিকে চুপ থাকলেও অবশেষে বিজেপি এ ধরনের ঘটনা সমর্থন করে না বলে প্রধানমন্ত্রী মোদি দায়সারা একটি বিবৃতি দিয়েছেন।

সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কারজয়ী যুক্তিবাদী কন্নড় লেখক এম এম কুলবর্গি কর্ণাটকে নিজের বাড়ির কাছে খুন হন গত ৩০ আগস্ট। এর আগে খুন হয়েছেন যুক্তিবাদী লেখক গোবিন্দ পানসার ও নরেন্দ্র দাভোলকর। এছাড়া, সম্প্রতি গোমাংস খাওয়ার সন্দেহে মুহম্মদ ইকলাখ নামে একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

সনাতন সংস্থা নামে এক কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন এসব হত্যার পেছনে রয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থার সন্দেহ। সংগঠনের একাধিক সদস্যকে এ জন্য গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

বাক্-স্বাধীনতার ওপর এই আক্রমণ সত্ত্বেও সাহিত্য আকাদেমি প্রতিবাদ না জানিয়ে চুপ থাকায় বিশিষ্ট লেখিকা জওহরলাল নেহরুর ভাগনি নয়নতারা সায়গল সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার ফিরিয়ে দেন। ফেরত পাঠান এক লাখ রুপি পুরস্কারমূল্যও।

এরপর ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ভাষার ৪১ জন লেখক-লেখিকা সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার কিম্বা খেতাব ফেরত পাঠিয়ে সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়েছেন। এই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন আকাদেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত পশ্চিমবঙ্গের কবি মন্দাক্রান্তা সেন ও পাঞ্জাবি লেখিকা দলীপ কৌর তিওয়ানা।

লেখকেরা মনে করছেন, রাজ্যে রাজ্যে ও কেন্দ্রে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই অসহিষ্ণুতা মাত্রাছাড়া হয়ে গেছে। নয়নতারা সায়গল অথবা কন্নড় লেখক রহমত তারিকেরি কিংবা মন্দাক্রান্তা সেন উত্তর প্রদেশের দাদরি এলাকার বিসাদা গ্রামে গোমাংস খাওয়ার অপরাধে মুহম্মদ ইকলাখকে পিটিয়ে মেরে ফেলার প্রসঙ্গও তুলেছেন। তাঁরা মনে করেন, এই সহিংসতা বন্ধে শাসক দল ও রাষ্ট্রের যে ভূমিকা পালন করা দরকার, তা করা হচ্ছে না। নয়নতারার অভিযোগ, সাহিত্যিকদের হত্যা করা হচ্ছে অথচ সাহিত্য আকাদেমি নীরব দর্শক সেজে থাকবে, কোনো প্রতিবাদ পর্যন্ত করবে না, এটা মেনে নেওয়া যায় না।

সাহিত্যিক সালমান রুশদি নিজের বিরক্তি গোপন না করে বলেছেন, ‘আমি ভারতের কোনো রাজনৈতিক দলকেই সমর্থন করি না। বাক্-স্বাধীনতার ওপর সব ধরনের আক্রমণের নিন্দা করি। মনে হচ্ছে, ভারতে এক নতুন হিংসার রাজনীতি জন্ম নিয়েছে।’

এদিকে প্রতিবাদকে বিজেপি অবশ্য আমল দিচ্ছে না। বরং প্রধানমন্ত্রী মোদি গো-মাংস খাওয়ার সন্দেহে ইকলাখকে হত্যা অথবা পাকিস্তানি গজল গায়ক গুলাম আলীকে মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠান করতে না দেওয়াকে দুঃখজনক জানিয়ে মোদির প্রশ্ন, এসব ঘটনার সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের সম্পর্ক কী? তবে, বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে গো-মাংস ভক্ষণ নিষিদ্ধ করা ও দলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা গো-মাংস বিরোধী অবস্থান নিয়ে যে ধর্র্মীয় সহিংসতায় একরকম উস্কানি দিচ্ছেন তা নিয়ে কিছুই বলেন নি। বরং, ক্ষমতাসীন দলের সেইসব নেতারা প্রকাশ্যেই ধর্মীয় উস্কানীমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রতিক্রিয়া থেকে স্পষ্ট, বিজেপি এই প্রতিবাদকে রাজনৈতিক মনে করছে। তারা মনে করছে, কংগ্রেস আমলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যাঁরা ছরি ঘুরিয়ে এসেছেন, যাঁরা প্রকারান্তরে নেহরু-গান্ধী পরিবারের দাক্ষিণ্য পেয়েছেন, তাঁরাই আজ প্রতিবাদী। বিজেপি তাই রাজনৈতিকভাবে এই প্রতিবাদের মোকাবিলায় নেমেছে। বিজয় গোয়েল সে কারণেই বলেছেন, ‘আমরা চাই এই দাক্ষিণ্যভোগীরা দ্রুত পদ ছাড়ুন।’

এদিকে, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদ জানালেও সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার ফেরত দেওয়া নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের কয়েকজন লেখক ভিন্নমত জানিয়েছেন। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, শঙ্খ ঘোষ, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, সমরেশ মজুমদার, নবনীতা দেবসেন, সুবোধ সরকাররা মনে করেন, যে সরকার ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা বাড়াচ্ছে, তাদের আমলে তাঁরা সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার পাননি। তাই পুরস্কার ফেরত দেওয়ার প্রশ্ন ওঠে না। তাঁরা সবাই মনে করেন, সাহিত্য আকাদেমি কোনো সরকারি সংস্থা নয়। তাই পুরস্কার ফেরত দেওয়াটা সার্বিক অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঠিক পথ বলে তাঁরা মনে করেন না।

ব্রেকিংনিউজ/এসজে

:: মুক্তমতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন ::



আপনার মন্তব্য

মুক্তমত বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং