Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » মুক্তমত 

সিরিয়া যুদ্ধে রাশিয়া কেন

সিরিয়া যুদ্ধে রাশিয়া কেন
সুমন দত্ত ০৯ অক্টোবর ২০১৫, ১০:৪২ অপরাহ্ন Print

ঢাকা: সিরিয়া যুদ্ধে রাশিয়ার আগমন নিয়ে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ভাবিয়ে তুলছে বিষয়টি। এতদিন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরবের মত চামচা রাষ্ট্রগুলোকে দিয়ে ছড়ি ঘুরিয়েছে। এখন তাতে বাধা দিচ্ছে রাশিয়া।

সৌদি আরব যদি যুক্তরাষ্ট্র ঘেঁষা দেশ হয় তবে সিরিয়া, ইরান রাশিয়া ঘেঁষা দেশ। এটা বিশ্ববাসীকে বোঝানোর জন্যই সিরিয়ার যুদ্ধে রাশিয়ার আগমন।

এছাড়া আরও কত গুলো কারণ রয়েছে সিরিয়া যুদ্ধে রাশিয়ার অংশগ্রহণ নিয়ে।

পূর্ব ইউক্রেনে রুশ বিদ্রোহীদের অবস্থান নিয়ে ইউক্রেন-রাশিয়া মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। ন্যাটো ইউক্রেনকে সব ধরনের সহায়তা দেবে জানিয়েছে। ইউক্রেনের সৈন্যদের প্রশিক্ষণে ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্র সেখানে প্রশিক্ষণার্থী সৈন্য পাঠিয়েছে। ন্যাটোর গোয়েন্দা বিমান গুলো পূর্ব ইউক্রেনে ও রাশিয়ার সীমান্ত অঞ্চলগুলোতে টহল দিচ্ছে। বলতে গেলে ইউক্রেনের সঙ্গের রাশিয়ার একটি যুদ্ধ বাধিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার তার সমর শক্তি প্রদর্শনের জন্য সিরিয়াতে বিমান হামলা চালাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে যুদ্ধ শুরু করে ঠিক একই কায়দায় সিরিয়াতে রাশিয়া সেভাবে যুদ্ধ শুরু করেছে। প্রথমে বিমান হামলা পরে ভূমিতে অভিযান।

আধুনিক যুদ্ধের রণ কৌশল হচ্ছে আগে আকাশ থেকে হামলা করে শত্রুর সকল সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করে দেয়া। এরপর ভূমিতে শত্রুর মোকাবিলা করা।

১৯৯০ সালের ইরাক যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সাদ্দামকে হটিয়ে দিতে প্রথমে বিমান আক্রমণ শুরু করে। তারপর কুয়েত ও সৌদি সীমান্ত দিয়ে স্থল অভিযান শুরু করে। পতন ঘটে ইরাকের।

যুক্তরাষ্ট্রের একই রকম যুদ্ধ কৌশল আমরা ২০০১ সালের ৯/১১ ঘটনার পর দেখি আফগানিস্তানে। সেখানে তালেবানরা ক্ষমতায় ছিল। সুন্নি তালেবানদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়েছিল সৌদি আরব, আরব আমিরাত ও পাকিস্তান।

যুক্তরাষ্ট্র আল-কায়দা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে ধরতে আফগানিস্তানে প্রথমে বিমান হামলা চালায়। পরে তালেবানদের হটাতে গিয়ে তালেবান বিরোধী নর্দার্ন এলায়েন্স, গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার, আহমেদ শাহ মাসুদের মত তালেবান বিরোধীদের সহায়তা নিয়ে ভূমিতে অভিযান চালায়।এতে যুক্তরাষ্ট্র সফল হয়।

ঠিক একই কৌশল এখন রাশিয়া নিয়েছে সিরিয়াকে বাঁচাতে। মধ্য প্রাচ্যে আইএসের (ইসলামিক স্টেট) মত জঙ্গিদের এতদিন সিআইএ এবং মোসাদ অস্ত্র ও অর্থ সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ইংগিতে। আবার আইএস সহায়তাকারী এসব দেশই বিশ্বে আইএসের নারকীয়তা প্রচার করছে বেশি বেশি করে। যুক্তরাষ্ট্র সবার কাছে বলে বেড়ায় তারা নাকি আইএসের ওপর বহু হামলা চালিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের চামচা ইউরোপীয় ইউনিয়নের এসব প্রচার যে মিথ্যা ছিল। তা এখন জলের মত পরিষ্কার হচ্ছে। রাশিয়ার বিমান হামলা থামানোর অনুরোধ তারই লক্ষণ মাত্র।

যুক্তরাষ্ট্রের আরেক চামচা রাষ্ট্র হচ্ছে তুরস্ক। বিদেশি আইএসদের এই তুরস্ক সীমান্ত দিয়ে ইরাক ও সিরিয়া প্রেরণ করছে। তুরস্ক সব দেখেও না দেখার ভান করছে। পরবর্তীতে তুরস্কের বিরুদ্ধে যখন আইএস মদদ দানের অভিযোগ ওঠে, তখন তুরস্ক আইএসের ওপর বিমান হামলার কথা ঘোষণা করে। পাশাপাশি তুরস্ক তাদের দেশের কুর্দি বিদ্রোহীদের দমন করার ঘোষণা দেয়। পরে দেখা যায় আইএসর নাম করে তুরস্ক পিকেকের ওপর হামলা চালাচ্ছে। আইএস নিয়ে তুরস্কের ভাঁওতাবাজি ধরা পড়তে বেশিদিন লাগেনি। তুরস্কের আইএস বিরোধী তথাকথিত চরিত্র প্রকাশ হয়ে পড়ে। মধ্যপ্রাচ্যে তুরস্কের এই ভূমিকা নিয়ে কার্টুন ছাপা হয়।
সেসব কার্টুনে দেখা যায় একদিকে তুরস্কের যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ-১৬ বিমান দিয়ে আইএসের গুলির বদলে ফুল বর্ষণ করছে। অন্যদিকে পিকেকের বিরুদ্ধে কামানের গোলা, রকেট, গ্রেনেড বোমা ছুড়ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে আইএস দমনের নামে যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, ইসরাইল ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের এসব শয়তানি ফাঁস করে দিতেই যুদ্ধে রাশিয়ার আগমন ।

এখন যখন সিরিয়ায় সত্যি সত্যি আইএস বিরোধী ও যুক্তরাষ্ট্রের মদদ দেয়া জঙ্গি গোষ্ঠীর ওপর বোমা হামলা হচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র ও তার চামচা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বুক ধড়ফড়ানি বেড়ে গেছে। এ যুদ্ধ দীর্ঘদিন চললে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক সব পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে তা নিশ্চিত।
এ কারণে তারা রাশিয়াকে বিমান আক্রমণ থামাতে বলছে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন বলেছে, সিরিয়া ও আইএস নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র ন্যাটো গোষ্ঠী যেসব মিথ্যাচার করছে তা উন্মোচন করে দিবেন তিনি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মিথ্যাচার উন্মোচন করতে ইরান সিরিয়াকে সহায়তা দেবে বলে জানিয়েছে। লেবানন ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনও সিরিয়ার আসাদ সরকারকে সহায়তা দেবে বলে জানিয়েছে।

রাশিয়া ও ইরানের সহায়তায় যদি সিরিয়ায় স্থিতিশীলতা ফিরে আসে তবে, সেটা হবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুখে উত্তম চপেটাঘাত। যা ভবিষ্যতে সময়ই বলে দেবে।

লেখক: আন্তর্জাতিক বিষয়ক সাংবাদিক
ব্রেকিংনিউজ/এসডি



আপনার মন্তব্য

মুক্তমত বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং