Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » মুক্তমত 

দাবিগুলো কে বাস্তবায়ন করবেন

দাবিগুলো কে বাস্তবায়ন করবেন
মোশাররফ হোসেন মুসা ০২ অক্টোবর ২০১৫, ১:৫৮ অপরাহ্ন Print

যেভাবেই হোক ‘প্রথম আলো’ মধ্যবিত্ত সমাজে একটি শক্ত অবস্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছে। স্বাভাবিক কারণেই বড় দলগুলো চায় ‘প্রথম আলো’ তাদের পক্ষে থাকুক। প্রথম আলোর বক্তব্য- তারা নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকায় তাদেরকে বিভিন্ন চাপের মধ্যে থাকতে হয়। আওয়ামী লীগের পক্ষের একজন বুদ্ধিজীবী বহু আগে থেকেই বলে আসছেন, ‘প্রথম আলো একটি বর্ণচোরা পত্রিকা। ... ...পত্রিকাটি বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।’

‘প্রথম আলো’ তার পাঠকপ্রিয়তা ধরে রাখার জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় তারা বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় লোকদের সঙ্গে মতবিনিময় শুরু করেছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর ঈশ্বরদী ইক্ষু গবেষণা মিলনায়তনে দুটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। আমি বিকালের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে উপস্থিত ছিলাম। সম্পাদক সাহেব দর্শকের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা প্রথম আলোতে কী চান? আপনাদের এলাকার সমস্যাগুলো কী? এগুলো প্রথম আলো সঠিকভাবে ছাপছে কি না, প্রথম আলোর বিরুদ্ধে আপনাদের কোন অভিযোগ আছে কি না, এ বিষয়ে আমরা আপনাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতে চাই। ... ... আমরা দু’ঘণ্টার মধ্যে আলোচনাটি শেষ করবো। সেজন্য আপনারা দু’মিনিটের মধ্যে নিজ নিজ বক্তব্য শেষ করবেন।’

সভায় ৭-৮ জন বক্তা বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তাদের বক্তব্যে- ঈশ্বরদীতে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় না থাকা, ঈশ্বরদীতে শাক-সবজি ও ফল সংরক্ষণের জন্য হিমাগার না থাকা, ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনে মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনটি না থামা, ঈশ্বরদী পৌর এলাকার রাস্তা-ঘাটগুলো সংস্কার না করা ইত্যাদি বিষয় উল্লেখ ছিল। সম্পাদক সাহেবের মুখভঙ্গি প্রমাণ করে বক্তাদের বক্তব্যগুলো সম্পর্কে তিনি আগে থেকেই অবগত আছেন। দর্শকদের সন্তুষ্টির জন্যই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছেন মাত্র।

এখানে উল্লেখ্য, বক্তব্যগুলোকে আমরা দু’ভাগে ভাগ করতে পারি। তাহলো, স্থানীয় সমস্যা আর জাতীয় সমস্যা। সাধারণত স্থানীয় সমস্যাগুলো দূর করার জন্য স্থানীয় সরকার এবং জাতীয় সমস্যাগুলো দূর করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা থাকে। সেজন্য দাবিগুলো সেভাবে উত্থাপন হওয়া উচিত। কিন্তু সকলেই শুধু চাই-চাই করলেন, দাবিগুলো কে বাস্তবায়ন করবেন এবিষয়ে কারোর কোন বক্তব্য ছিল না। আধুনিক সংবাদপত্রের দায়িত্ব শুধু সংবাদ পরিবেশনই নয়, সচেতন নাগরিক শ্রেণি গড়ে তোলাও সংবাদপত্রের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

দুঃখজনক হলেও সত্য যে, সংবাদপত্রগুলোতে সরকার ব্যবস্থা সম্পর্কে সুস্পষ্ট কোন বক্তব্য পাওয়া যায় না। বাংলাদেশে কার্যত কোনো ‘স্থানীয় সরকার’ ব্যবস্থা নেই। সকল কাজ করার জন্য রয়েছে একাধিক কর্তৃপক্ষ। এসব কর্তৃপক্ষকে আবার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করছে দূরবর্তী কর্তৃপক্ষ।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় বলা যায়, একাধিক কর্তৃপক্ষ আর দূবরর্তী কর্তৃপক্ষ কোন কাজের কর্তৃপক্ষ নন। পূর্বে আমাদের পাঠ্যপুস্তকে আবেদনপত্র লেখার নিয়ম শেখানোর জন্য প্রশ্ন ছিল- একটি নলকূপ চেয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে দরখাস্ত লিখ। বর্তমানে সে আবেদনপত্র করা হচ্ছে জাতীয় সংসদ সদস্যের বরাবর (নামটি হওয়া উচিত স্থানীয় সংসদ সদস্য)। সেজন্য আমাদের চাওয়াগুলো যেন সঠিক ও সুস্পষ্ট হয় এ বিষয়ে সংবাদপত্রের ভূমিকা থাকা উচিত।

এ বিষয়ে সিডিএলজি’র বক্তব্য হলো- এদেশের আয়তন, ভৌগোলিক অবস্থান, ইতিহাস-ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ইত্যাদির বিবেচনায় দু’প্রকারের সরকার ব্যবস্থা-তথা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা ও কেন্দ্রীয় সরকার ব্যবস্থাই সমাধান দিতে পারে। সে ব্যবস্থায় জেলা সরকারগুলো এক হাতে নগর সরকার ও অন্য হাতে গ্রামীণ স্থানীয় সরকারগুলো নিয়ন্ত্রণ করবে। কেন্দ্রের সাথে শুধু জেলার সম্পর্ক থাকবে।

লেখক: গণতন্ত্রায়ন ও গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার বিষয়ে গবেষক।

ব্রেকিংনিউজ/এসএম

:: মুক্তমতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন ::



আপনার মন্তব্য

মুক্তমত বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং