Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » মুক্তমত 

বৃষ্টি মানেই নগরজুড়ে চোখের জল

বৃষ্টি মানেই নগরজুড়ে চোখের জল
সালাহ উদ্দিন মাহমুদ ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ৪:২৯ অপরাহ্ন Print

‘বৃষ্টি মানেই বুকের ভেতর কর্ষিত মাঠ ওলোট পালোট।
হালট ডালট উপচে ওঠার ভরা কটাল।
… … …
কখনও বা দুঃখ ঝরে টাপুসটুপুস ভীষণ গোপন।
বৃষ্টি মানে সত্যি করে মন খারাপের প্রাচীন প্রহর।’ (বৃষ্টি মানে- মোফাজ্জল করিম)

কবির কথা সত্য কিনা জানি না। তবে আমার কাছে বৃষ্টি মানে নগড়জুড়ে চোখের জল। যাত্রীসমেত রিকশা উল্টে যাওয়ার ভয়। যানজটে বেহাল দশা। শান্তিনগর, বেইলি রোড, ডিআইটি রোড, মালিবাগ, মিরপুর ও ধানমন্ডিতে অশান্তির জল। যাত্রাপথে আতঙ্ক।

বলছিলাম আমাদের প্রিয় রাজধানী ঢাকা শহরের কথা। বৃষ্টি হলেই রাজধানীর বেশকয়েকটি সড়কে দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। এতে নাজেহাল হতে হয় নগরবাসীকে। অথচ এতদিনেও যথাযথ কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে যায়। রাস্তার অবস্থা খারাপ হওয়ায় খানাখন্দে উল্টে যায় যানবাহন। অফিস, দোকান ও স্কুলগামী মানুষকে ঝড়-জলে একাকার হয়েই গন্তব্যে পৌঁছতে হয়। প্রতিদিন যে কয়টি গাড়ি চিৎ-কাৎ হয়ে পড়ে তার পরিসংখ্যান তুলে আনার জন্য নতুন লোক নিয়োগ দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

গত মঙ্গলবার সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। সকাল সোয়া ১১টার দিকে শুরু হয় মুষলধারে বর্ষণ। প্রায় দুই ঘণ্টার ভারি বর্ষণে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি তলিয়ে যায় পানিতে। বিমানবন্দর সড়ক, মিরপুর সড়কের মতো প্রধান সড়কও ডুবে যায়। বিজয় সরণি মোড় থেকে আওলাদ হোসেন মার্কেটের সামনে কয়েকটি পথশিশুকে সাঁতার কাটতে দেখা যায়। ফলে জলমগ্ন সব সড়কে যানজট চলে যায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

দুপুর ১২টা ৭ মিনিটে অঝোর বর্ষণ শুরু হয় মিরপুর, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়াসহ আশপাশের এলাকায়। ৪০ মিনিটেই কাজীপাড়ায় রোকেয়া সরণি ডুবে যায়। অথৈ জলে যেন রাস্তায় ভাসছিল রিকশা, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা। বাস, মিনিবাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার অর্ধেক ডুবতে ডুবতে কোনো রকমে সামনে চলছিল। ইঞ্জিনে পানি ঢুকে বিকল হয়ে পড়ে ১০-১২টি গাড়ি।

জলাবদ্ধতার কারণে রাস্তায় সারি সারি গাড়ি থেমে থাকে। বিভিন্ন সড়কে পানি জমে ভয়াবহ যানজট দেখা দেয়। জলাবদ্ধতা আর তীব্র যানজট মিলে দুর্বিষহ অবস্থার সৃষ্টি হয়। এ যেন ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা’। বৃষ্টির কারণে ফার্মগেট থেকে সার্ক ফোয়ারা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে হাঁটুপানি জমে গিয়েছিল। এমনিতেই মগবাজার, মালিবাগ, মৌচাক, শান্তিনগর জলাবদ্ধ এলাকা হিসেবে পরিচিত।

রাজধানীতে বৃষ্টি একটু স্থায়ী হলেই চতুর্দিকে পানি আর পানি। প্রধান সড়কেও ছোট যানবাহনগুলো যেন পানির ওপর ভাসে। আর অলিগলি যেন খালের মতো প্রবাহমান। রাস্তায় যানজটে গাড়িগুলোকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। রাস্তা ডুবে যাওয়ার পাশাপাশি ফুটপাতও ডুবে যায়। এ কারণে হেঁটে চলাচল করাও সম্ভব হয়নি বেশির ভাগ রাস্তার ফুটপাত দিয়ে।

পানি নিষ্কাশনের দায়িত্বে থাকা ঢাকা ওয়াসাও বৃষ্টির পানিতে অনেকটা গা ভাসিয়েই চলছে। দিনে দিনে জলাবদ্ধতা প্রকট হচ্ছে। ঢাকার ২৫ ভাগ এলাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই। বছরে শত কোটি টাকা ব্যয়েও প্রভূত কোনো অর্জন নেই। ওয়াসার খামখেয়ালির জন্য নগরবাসীকে এ ভয়াবহ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র সম্প্রতি জলাবদ্ধতা নিরসনে পৃথক কর্তৃপক্ষ গঠনের ওপর জোর দিয়েছেন। তবে মনে হয় না খুব শিগগিরই এর সমাধান হবে।

ঢাকা শহর অচল হয়ে গেলেও কারো কোনো নজর নেই। বিভিন্ন সংস্থা আছে, আছে বহুবিধ পরিকল্পনা। কিন্তু তাতে কোনো সমন্বয় নেই। দুর্ভোগ যাদের জন্য তারা তো জনগণ। জনগণের দুর্ভোগে ক্ষমতাসীনদের কী আসে যায়। জলজট আর যানজট নগরবাসীর কাছে নতুন কিছু নয়। এটা চিরচেনা এক অভিজ্ঞতা। দুর্ভোগে দুর্ভোগে ক্লান্ত নগরবাসী এখন মুক্তি চায়। নাকানি-চুবানির পরিবর্তে নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছতে চায়। নগরপিতারা কি মেনে নেবেন হতভাগা জনগণের দাবিগুলো।

বুধবার নগরপিতারা জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তারা আশ্বাস দিয়েছেন, আগামী বর্ষার আগেই তারা জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করবেন। দুই মেয়রের নেতৃত্বে টাস্কফোর্স গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে ইউনিফর্ম পরা দল নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন নগরপিতারা। এখন সময়ের অপেক্ষায়। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর আরো কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। আগামী বর্ষা না হয় বাদই দিলাম, এ ক’দিনের দুর্ভোগ নিরসনে কে এগিয়ে আসবেন? নগরপিতারা কি নগরসন্তানদের দুর্ভোগ লাঘবে সচেষ্ট হবেন?

লেখক: কবি ও সাংবাদিক।

ব্রেকিংনিউজ/এসএম



আপনার মন্তব্য

মুক্তমত বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং