Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » মুক্তমত 

উইন্ডোজ ১০ বদলাবে ডিজিটাল যন্ত্রকে

উইন্ডোজ ১০ বদলাবে ডিজিটাল যন্ত্রকে
মোস্তাফা জব্বার ১০ আগস্ট ২০১৫, ২:৩০ অপরাহ্ন Print

২০১৫ সালের জুলাই মাসের ২৯ তারিখে বিশ্বখ্যাত সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট তাদের ব্যবসার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটা নিয়ে অপারেটিং সিস্টেমের দুনিয়াতে আবির্ভূত হয়েছে। ঐদিন তারা বিশ্বের ১৯০টি দেশে উইন্ডোজ ১০ প্রকাশ করেছে। যদিও এখনও পণ্যটি বাজারে কিনতে পাওয়া যায়না, তথাপি বিদ্যমান ও.এস কে আপডেট করা ও কম্পিউটার যন্ত্রে প্রিলোড করা অবস্থাতে এই অপারেটিং সিস্টেমটি পাওয়া যায়। আমিও আমার ও.এসকে আপডেট করে নতুন অপারেটিং সিস্টেমটি ব্যবহার করছি। প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে বাংলাদেশে এটি সামনের অক্টোবর মাসে পাওয়া যেতে পারে। প্রাপ্ত তথ্য মতে এই অপারেটিং সিস্টেমটির ডেস্কটপ সংস্করণ প্রকাশিত হলেও ফোন সংস্করণ প্রকাশিত হবে অক্টোবরে। সর্বশেষ হিসাব অনুসারে ১ কোটি ৮৫ লাখ ব্যবহারকারীর ডিজিটাল যন্ত্রে ইন্সটল হয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখেনা এতো অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ ইন্সটল বেজ মোটেই কম নয়। আমি মনে করি ডিজিটাল যন্ত্রে এন্ড্রয়েড ও আই ও.এস-এর আধিপত্য ও পিসিতে উইন্ডোজ সেভেন-এর দাপটের মাঝে উইন্ডোজ ১০ একটি ইতিবাচক সূচনা করতে সক্ষম হয়েছে। তবে সামনের দিনগুলোতে বিশেষত ট্যাব ও স্মার্টফোনে এর প্রয়োগ হবার পর ডিজিটাল দুনিয়াটি কেমন হবে সেটি লক্ষ্য করার মতো বিষয় হবে।

১৯৮১ সালে মাইক্রোসফট যখন ডস তৈরি করে তখন ও.এস-এর জগতে দুনিয়া একটি নতুন পথের সন্ধান পায়। এর আগে প্রো ডস জমানাতে কম্পিউটার ব্যবহার সহজ হলেও ডস বস্তুত সেই পরিধিটাকে অনেক বেশি সম্প্রসারিত করে। এরপর মাইক্রোসফট উইন্ডোজ প্রকাশ করে। কিন্তু সেটি এ্যাপল-এর ম্যাক ও.এস এর পাশে দাঁড়াতে পারেনি। তবে ১৯৯৩ সালে মাইক্রোসফট যখন উইন্ডোজ ৩ প্রকাশ করে তখন সারা দুনিয়াতেই একটি প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিলো। আমার নিজের মতে উইন্ডোজ ১০-এর প্রকাশ সেই ৯৩ সালের পর একটি বড় ধরনের মাইলফলক ঘটনা। আমি অবাক হয়েছি এজন্য যে, বাংলাদেশের উইন্ডোজ ব্যবহারকারীরা এখনও বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি। মিডিয়ায় এর তেমন গুরুত্ব ছিলোনা। সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্কেও তেমন কোন আলোচনা ছিলোনা। প্রায় দেড় দশক যাবত উইন্ডোজ ব্যবহার করে, দুনিয়ার বিদ্যমান অন্য সকল অপারেটিং সিস্টেমের ব্যবহারের প্রক্রিয়া ও বিকাশ থেকে আমার এই ধারনাটি জন্মেছে যে, মাইক্রোসফট ৯৩ সালের পর এই প্রথম তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অপারেটিং সিস্টেম সম্পর্কে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আমরা লক্ষ্য করেছি যে, ইতিপূর্বে কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম মেইনফ্রেম ও মিনিফ্রেম কম্পিউটারের হাত ঘুরে প্রথমে ডস (প্রো ডস-এমএস-ডস) ও পরে ম্যাক (লিজা-ম্যাক) ও.এস এবং উইন্ডোজ নামে ব্যবহৃত হতে থাকে। পিসি বা পার্সোনাল কম্পিউটারের এসব অপারেটিং সিস্টেমের পর ট্যাবলেটে আই-ও.এস ও এন্ড্রয়েড রাজত্ব করতে শুরু করে। কালক্রমে স্মার্ট ফোনেও এই দুটি প্রধান অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে বিরাজ করতে থাকে। বর্তমানে ডেস্কটপ পিসিতে শুধুমাত্র উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহৃত হয় শতকরা ৯০.৯০ ভাগ (সেপ্টেম্বর ২০১৪-এর হিসাব)। অন্যদিকে ম্যাক ও.এস (ও.এস ১০) ব্যবহৃত হয় শতকরা ৬.৩৮ ভাগ। লিনাক্সের ব্যবহার শতকরা ১.৬৪ ভাগ মাত্র। কিন্তু নেট এ্যাপ্লিকেশনের চিত্রটাই আলাদা। সেখানে উইন্ডোজ-এর ব্যবহার ৫৭.১২, লিনাক্সের ব্যবহার ২০.১২ এবং এ্যাপল-এর ও.এস -এর ব্যবহার ১৮.০৪।

ট্যাবলেট পিসিতে এ্যাপলের আধিপত্য একতরফা। তাদের দখলে ৭২.৯০ এবং এন্ড্রয়েড-এর দখলে ২৪.০২ ভাগ। উইন্ডোজ এখানে কার্যত নেই। সার্ভারের ক্ষেত্রে ইউনিক্স জাতীয় অপারেটিং সিস্টেমের ব্যবহার শতকরা ৬৭.৪ এবং উইন্ডোজ এর ব্যবহার ৩২.৬ ভাগ। ২০১৫ সালে এই অবস্থাটি বদলেছে। এর মাঝে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন হচ্ছে যে মোবাইল ফোনে এন্ড্রয়েড-এর জনপ্রিয়তা বেড়েছে। সারা দুনিয়ার ডিজিটাল যন্ত্রের শিপমেন্টের তালিকায় দেখা যায় ২০১৩ সালে যেখানে এন্ড্রয়েড-এর মার্কেট শেয়ার ছিলো মাত্র ৩৮.৫১ ভাগ সেখানে ২০১৪ সালে সেটি ৪৮.৬১ ভাগে উন্নীত হয়েছে। উইন্ডোজ ২০১৩ সালে যেখানে ১৩.৯৮ ভাগ ছিলো সেটি ২০১৪ সালে ১৪ ভাগে ওঠেছে। অন্যদিকে ২০১২ সালে উইন্ডোজের বাজার দখল শতকরা ১৫ ভাগে ছিলো। অন্যদিকে ডেস্কটপ পিসির চিত্রটা আলাদা। এতে সবচেয়ে জনপ্রিয় উইন্ডোজ ৭। এর বাজার দখল ৫৮.৩৯ ভাগ। উইন্ডোজ এক্সপির বাজার দখল ১৫.৯৩ ভাগ। উইন্ডোজ ৮.১ এর বাজার দখল মাত্র শতকরা ১১.১৬ ভাগ। এর বাইরেও পিসিতে উইন্ডোজ ৮ শতকরা ৩.৫ ও উইন্ডোজ ভিস্তা ১.৯৫ ভাগ রয়েছে। সব মিলিয়ে উইন্ডোজ-এর বাজার দখলের হার ৯০.৯৩। লিনাক্সের হার শতকরা ১.৫২ এবং ম্যাক ওসের হার ৭.৩৬ ভাগ। এটি এপ্রিল ২০১৫-এর হিসাব। প্রশ্নটা খুবই স্বাভাবিক যে মাইক্রোসফট কি ডেস্কটপের এই প্রাধান্যের বিপরীতে অন্যান্য প্লাটফরমে তার আধিপত্য পুরোই হারিয়ে ফেলবে। কোন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান সম্ভবত এটি ভাবতেও পারেনা। সম্ভবত এই ভাবনাতেই উইন্ডোজ ১০ এর জন্ম।

এমন একটি বিচিত্র অবস্থায় আমাদের দেশের জন্য একটি বড় বিবেচনার বিষয় হচ্ছে যে, আমাদের তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার কি প্রচলিত ধারার বাইরে চলে যাচ্ছে? আরও বিবেচনার বিষয় যে, উইন্ডোজ ১০ আসলে দুনিয়ার জন্য নতুন কোন বাণীটি নিয়ে এসেছে?

আমি মনে করি, উইন্ডোজ ১০ দুনিয়ার ডিজিটাল ডিভাইসের জগতটাকে আবারও সমন্বিত করবে। এখন যেভাবে ডেস্কটপ-ল্যাপটপ এক ধরনের অপারেটিং সিস্টেম (প্রধানত উইন্ডোজ ও ম্যাক ও.এস) এবং ট্যাবলেট ও স্মার্টফোন অন্য ধরনের অপারেটিং সিস্টেম (যেমন আই ও.এস ও এন্ড্রয়েড) ব্যবহার করছে সেটির বদলে উইন্ডোজ ১০ স্মার্ট ফোন থেকে ডেস্কটপ পিসি পর্যন্ত সব কিছুতেই ব্যবহৃত হতে পারবে। এটি কি ছোট খাটো ঘটনা? অনেকের কাছেই মনে হবে-এটা আর কি? এন্ড্রয়েড ও আই ও.এস যথারীতি ট্যাবলেট-পিসির জগতে রাজত্ব করবে আর উইন্ডোজ পিসির জগতে রাজত্ব করবে। তারা হয়তো মনে করেন যে, কেউ কারও সীমানা অতিক্রম করতে পারবেনা।

কিন্তু বিষয়টি সম্ভবত এমন নয়। ঘটনাটি এমন হতে পারে যে, আগামী এক দশকে দুনিয়ার সকল মানুষ ইন্টারনেটে যুক্ত হবে। এর মানে দাড়াবে যে কমপক্ষে ৮০০ কোটি বা তার কাছাকাছি ডিজিটাল ডিভাইস দুনিয়াতে সক্রিয় থাকবে। এইসব ডিভাইসের সিংহভাগ থাকবে হাতের তালুতে। তবে ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ পিসি একেবারেই বিলুপ্ত হয়ে যাবেনা। আমরা বর্তমানের সংজ্ঞায় যেসব যন্ত্রকেগুলোকে স্মার্ট ফোন বা ট্যাবলেট বলি সেগুলোর প্রাধান্য বাড়বে। এসব যন্ত্র যদি ডেস্কটপ বা ল্যাপটপের সক্ষমতা নিয়ে কাজ করতে পারে তবে তথ্যপ্রযুক্তির জগৎটা কতোটা বদলে যাবে? বিশাল পরিবর্তনের যুগে আমরা পা দিতে পারি। দুনিয়ার এখনকার প্রবণতা হচ্ছে ডেস্কটপ পিসির বিক্রি কমে যাওয়া। দিনে দিনে ল্যাপটপ পিসির বিক্রি ডেস্কটপকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আবার ট্যাবলেট পিসি ল্যাপটপের বাজারে ভাগ বসিয়েছে। বাংলাদেশের বাজারে র্যা পটপের বাজারও কমেছে। তবে সবেচেয় বড় টুকরাটা এখন স্মার্ট ফোন নিয়েছে। ঘটনাচক্রে এই দুনিয়াতে মাইক্রোসফট একেবারেই অসহায়। উইন্ডোজ ১০ এনে মাইক্রোসফট ফোনের জগতে একটি দৃঢ় অবস্থান তৈরি করার সেই সম্ভাবনাটিকেই উস্কে দিয়েছে।

আমি যদি তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশের ইতিহাসটার দিকে তাকাই তবে এটি আমাকে বিবেচনায় নিতে হবে যে বিষয়টি এমন থাকবেনা। মাইক্রোসফটও ভেবেছিলো যে তারা ট্যাবলেট ও স্মার্ট ফোনের জন্য আরও দুটি আলাদা অপারেটিং সিস্টেম প্রচলিত করবে। দুটি অপারেটিং সিস্টেম তারা বাজারে ছেড়েছিলোও। প্রধানত অপারেটিং সিস্টেমগুলোর দুর্বলতা এবং এন্ড্রয়েড ও আই-ও. এস-এর দাপটে তারা উইন্ডোজ ফোন অপারেটিং সিস্টেম দিয়ে ফোনের জগতের বস্তুত কোন মার্কেট শেয়ারই দখলে নিতে পারেনি। বলা যেতে পারে, এক ধরনের বাধ্য হয়েই তারা তাদের কৌশল পরিবর্তন করেছে। এই কৌশলটির সুফল তারা পেতে পারে। এর মূল ভিতটা হলো ব্যবহারকারীরা উইন্ডোজ ব্যবহারের সাথে সমিলতা রেখে যদি ট্যাবলেট ও ফোন ব্যবহার করতে পারে তবে মাইক্রোসফট তার নিবেদিতপ্রাণ গ্রাহকদের কাছ থেকে আনুগত্য পেতে পারে। এই কৌশলটির আরও একটি প্রভাব তথ্যপ্রযুক্তির জগতে পড়তে পারে। এ্যাপলকে তাদের দুটি অপারেটিং সিস্টেমকে সমন্বিত করতে হতে পারে। এমনকি এন্ড্রয়েডকেও ডেস্কটপ পিসির উপযোগী করতে হতে পারে। ফলে ডিজিটাল ডিভাইসের আকার ভিন্ন হলেও অপারেটিং সিস্টেম তার অবয়ব এক রাখতে পারে। এছাড়াও সকল ধরনের ডিভাইসেই একই গোত্রীয় এ্যাপ চলতে পারে। তথ্যপ্রযুক্তির জগতটা ডেস্কটপ-ল্যাপটপের ভুবন ছেড়ে হাতের মুঠোতেও স্থায়ীভাবে চলে যেতে পারে। যতোদূর জানা গেছে মাএিক্রাসফট তার অ্যাপগুলোকে সকল ডিবাইসে চলার উপযোগী করার কথাও ভাবছে। এটিও একটি যুগান্তকারী ঘটনা হতে পারে।

এবারে একটু তলিয়ে দেখা যেতে পারে যে উইন্ডোজ ১০ কেমন হয়েছে। আমরা উইন্ডোজ ১০ কে ট্যাবলেট পিসি, ডেস্কটপ এবং ল্যাপটপে ইন্সটল করেছি। কিছু ড্রাইভারের বিষয় ছাড়া তেমন কোন বড় সমস্যা এতে আমরা দেখিনি। মোটামুটি ভালভাবেই এটি কাজ করছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, এটি বস্তুত উইন্ডোজ সেভেন ও এইটের সমন্বিত রূপ। খুব সঙ্গতকারণেই এটি প্রথমত মাইক্রোসফটের বিদ্যমান গ্রাহকদের প্রাথমিক চাহিদা পূরণ করবে। দ্বিতীয়ত এটি ট্যাবলেট বা স্মার্ট ফোনের গ্রাহকদের টাইলস-টাচস্ক্রিণ প্রবণতাকেও কাজে লাগাবে। উইন্ডোজ ১০ বিষয়ে মাইক্রোসফটের বড় প্রতিশ্রুতি হলো যে এতে নিরাপত্তার বিষয়টিকে অনেক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

আমাকে যদি কেউ প্রশ্ন করে যে, আপনি উইন্ডোজ ১০ এর আবির্ভাবকে ইতিবাচক ঘটনা হিসেবে কেন দেখছেন তাহলে ইতোপূর্বে বর্ণিত কথাগুলোতো আমি বলবোই, সাথে আরও একটি বিষয়ের কথা বলবো। আমরা লক্ষ্য করেছি যে, মাইক্রোসফট তার অপারেটিং সিস্টেম বিকাশের ক্ষেত্রে যে পথে হেটেছে তাতে তাদের কোন একটি অপারেটিং সিস্টেম জনপ্রিয় হলেও পরেরটা-পরের একাধিকটা ব্যবহারকারীরা পছন্দ করেনা। সাম্প্রতিককালে মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ৮ প্রকাশ করেছে। এটি ব্যবহারকারীরা নানা কারণে পছন্দ করেনি। এরপর ৯ প্রকাশিত না হয়ে সেটি ১০ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। আমি মনে করি, এটি ব্যবহারকারীরা পছন্দ করছে। ফলে উইন্ডোজ ৮-এর ব্যর্থতা মাইক্রোসফট কাটিয়ে ওঠতে পারবে।

আমি নিজে অপেক্ষা করছি কবে আমি আরও দুটো যন্ত্র নিজে ব্যবহার করবো। আমার বন্ধু বান্ধবরা সবাই আইপ্যাড-আইফোন বা এন্ড্রয়েড ফোন নিয়ে মাতামাতি করছে। কিন্তু আমি এর কোনটাই ব্যবহার করতে পারিনা। এক ধরনের প্রযুক্তি প্রতিবন্দ্বীতা আমার মাঝে কাজ করে। আমি এক সময়ে যখন ম্যাক ব্যবহার করতাম তখন কেবলি ম্যাক ব্যবহার করেছি। এরপর যখন উইন্ডোজ ব্যবহার করতে শুরু করেছি তখন সেটাই করে আসছি। নতুন করে আই-ও.এস বা এন্ড্রয়েড শেখার ইচ্ছা হচ্ছেনা। আমার নিজের ধারনা টাচ স্ক্রিনের জন্য আমার আঙুলগুলো অনেক বড়। আবার আমি দেখেছি আমাদের বিজয় পরিবারের সর্বকনিষ্ঠা সৃজনশীল মানুষ ১৪ বছর বয়সী পরমা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে উইন্ডোজ, আই ও.এস এবং এন্ড্রয়েড ব্যবহার করছে। দুনিয়ার তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানীগুলোর একটি বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এই দুই প্রজন্মকে এক সূত্রে বাধা। আমার মতো যারা নানা যন্ত্রে নানা ধরনের ইন্টারফেস ব্যবহার করতে চান না তারা নিশ্চয়ই উইন্ডোজ ১০ দেখে খুশি হবেন। তবে আমি এখনও অপেক্ষা করছি যে, এই অপারেটিং সিস্টেম ও মাইক্রোসফটের অ্যাপগুলোর ডেস্কটপ-ল্যাপটপ-ট্যাবলেট ও স্মার্টফোনে ব্যবহার করতে পারি। বড় কথা আমি যেন সবখানেই বিজয় বাংলা ব্যবহার করতে পারি।

এখন পর্যন্ত উইন্ডোজ ১০ হচ্ছে দুই প্রজন্মকে এক সাথে সকল ডিজিটাল যন্ত্রে সমন্বিত করার উদ্যোগ। কামনা করি মাইক্রোসফটের এই উদ্যোগ সফল হোক। একই সাথে এ্যাপল ও গুগলকে মাইক্রোসফটের পথে হাটতে শুরু করার জন্য অনুরোধ করছি।

লেখক: তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, কলামিস্ট, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর চেয়ারম্যান, সাংবাদিক, বিজয় কীবোর্ড ও সফটওয়্যার-এর জনক।

ব্রেকিংনিউজ/এমএএস



আপনার মন্তব্য

মুক্তমত বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং