Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » মুক্তমত 

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় বাংলাদেশের অবস্থান ঈর্ষণীয়

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় বাংলাদেশের অবস্থান ঈর্ষণীয়
ড. আতিউর রহমান ২৭ জুলাই ২০১৫, ১২:১৮ অপরাহ্ন Print

[ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট ২০১৪ এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানের বক্তব্য]

‘ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট ২০১৪’ এমন সময়ে প্রকাশিত হচ্ছে যখন উন্নয়নশীল অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কিছুটা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন, উদীয়মান অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির ধারা নিম্নমুখী এবং উন্নত অর্থনীতির সন্তোষজনক অগ্রগতি লক্ষ্যণীয়।

আপনারা জানেন, ‘ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট’ বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থার পাশাপাশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দিয়ে থাকে। মূলত আর্থিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর মূল প্রবণতা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতায় সেগুলোর প্রভাব সংক্রান্ত বিশ্লেষণ তুলে ধরাই এই রিপোর্টের মূল প্রতিপাদ্য। আর্থিক খাতের সম্ভাব্য ঝুঁকি ও দুর্বলতা নিরূপণ এবং এর নজরদারিতে ম্যাক্রোপ্রুডেন্সিয়াল নীতি গ্রহণের পাশাপাশি ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণে বাংলাদেশ ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এ রিপোর্টে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মূলধন পর্যাপ্ততা, সম্পদের গুণগতমান, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার নির্দেশকগুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এছাড়া, আর্থিক ব্যবস্থার অন্যান্য অংশ যেমন মূলধন বাজারের সূচকগুলোর গতিধারা তুলে ধরার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে একটি নতুন অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

২০১৪ সালে বাংলাদেশের আর্থিক ব্যবস্থা সার্বিকভাবে স্থিতিশীল ও অভিঘাত সহনক্ষম ছিল। গুটিকয়েক ব্যাংকে কর্পোরেট সুশাসনজনিত ঘাটতি কিছুটা উদ্বেগ সৃষ্টি করলেও তা আমাদের সচেতনতাও বৃদ্ধি করেছে। তা সত্ত্বেও এসব প্রতিষ্ঠান তথা ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা ধরে রাখা খুবই জরুরি। মনে রাখতে হবে, সামনে ব্যাংকগুলোকে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিজনেস মডেল প্রচলনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হতে পারে। এছাড়াও, আমাদের সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখা। আশার কথা হচ্ছে, নানা প্রতিকূলতার মাঝেও আমাদের আর্থিক খাত সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে এবং গড়ে ৬.২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন সক্ষম হয়েছে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিচারে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ঈর্ষণীয়। বিশ্বের নামকরা রেটিং এজেন্সিগুলো (এসঅ্যান্ডপি ও মুডি’স) টানা ছ’বার ধরে আমাদের আর্থিক খাতের স্থিতিশীল অবস্থানের স্বীকৃতি দিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া, প্রথমবারের মতো ফিচ্ রেটিং এজেন্সিও বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ‘স্থিতিশীল’ বলে আখ্যায়িত করেছে। জাতিসংঘের অর্থনেতিক ও সামাজিক বিষয়ক প্রকাশনা ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক সিচ্যুয়েশন অ্যান্ড প্রসপেক্টস ২০১৫’ অনুযায়ী ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অনেক বেশি প্রবৃদ্ধি আশা করা হচ্ছে। সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সময়োচিত নীতি-পদক্ষেপের কারণে নানা প্রতিকূলতার মাঝেও আমরা সামষ্টিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সব সূচকে অগ্রগতির ধারা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছি। বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ সকল রেকর্ড ভেঙে ২৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে- যা সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। বর্তমান রিজার্ভ প্রায় ৭ মাসের আমদানি ব্যয় মেটাতে সক্ষম। অর্থনীতির এ ধারাবাহিক সাফল্য আমাদের জন্য নিশ্চয়ই আনন্দের। রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়ছে। বাড়ছে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিও- যা দেশে বিনিয়োগ বাড়ার ইঙ্গিত বহন করছে। মাথাপিছু আয় এখন ১৩১৪ ডলার। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে।

উন্নয়নশীল অনেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিক ব্যবস্থায় অস্থিতিশীলতা ও ভারসাম্যহীনতার ঝুঁকি মোকাবেলায় সামাজিক দায়বোধ প্রণোদিত অন্তর্ভুক্তিমূলক ও পরিবেশবান্ধব টেকসই খাতগুলোতে অর্থায়ন উদ্বুদ্ধকরণের প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। এটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বলাবাহুল্য, উন্নত অর্থনীতির কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তারল্য প্রবাহ বৃদ্ধির মাধ্যমে আর্থিক প্রসারণের প্রচলিত ধারার বাইরে এখনো যেতে পারেনি যা ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা, অস্থিতিশীলতা এবং সর্বোপরি মন্দার বীজ আবারো বপণ করতে পারে। অথচ বিশ্বব্যাপী মন্দার মধ্যেও বাংলাদেশে সন্তোষজনক জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করে চলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়ন উদ্যোগের কারণে এসএমই এবং নতুন উদ্যোক্তাদের ব্যবসা চালু করতে অর্থায়ন পেতে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়নি। বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক স্থিতিশীলতার গুণগতমান এবং গতিশীল প্রবৃদ্ধি দ্রুত দারিদ্র্য হ্রাসে সহায়তা করছে। দেশের আনাচে কানাচে জনগণের কাছে কম মূল্যে এবং দ্রুততার সাথে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা পৌঁছাতে ‘এজেন্ট ব্যাংকিং’ গাইডলাইন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের জন্য বাংলাদেশ সম্প্রতি ‘আ্যালায়েন্স ফর ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন পলিসি’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে। এছাড়া, সম্প্রতি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বার্ষিক সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর বাজেটের ১০ শতাংশ নিজস্ব জলবায়ু ঝুঁকি তহবিলের জন্য বরাদ্দ রাখার নিদের্শনা দেয়া হয়েছে।

ব্যাংকিং খাতে ২০১৪ সালে পর্যাপ্ত তারল্য পরিস্থিতি ছিল। ব্যাংকগুলোর হাতে যথেষ্ট পরিমাণে ঝুঁকিহীন সরকারি সিকিউরিটিজ থাকায় ব্যাসেল-৩ অনুসারে আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম মানদণ্ডে তারল্য সংরক্ষণে ব্যাংকগুলো উল্লেখযোগ্য মাত্রায় সক্ষমতা প্রদর্শন করছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংক এ বছর থেকেই ব্যাসেল-৩ এর বাস্তবায়ন শুরু করেছে। বর্তমানে ব্যাংকগুলোকে নতুন বিনিয়োগ সৃষ্টিতে আরো মনোযোগ দিতে হবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের আর্থিক খাতের মতো বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতও সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত ও বিস্তৃত হয়েছে। এর সাথে সঙ্গতি রেখে গত কয়েক বছরে আর্থিক মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের সুপারভিশন ও রেগুলেশনের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। গত পাঁচ-ছয় বছরে ব্যাংকিং খাতের মূলধন ভিত্তির ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। ব্যাংকগুলোর মুনাফার একটি বড় অংশ মূলধনে স্থানান্তর, পুনর্মূলধনীকরণ ও প্রভিশন ঘাটতি কমার ফলে ব্যাংকিং ব্যবস্থার ভিত্তি আরো শক্তিশালী হয়েছে। বর্তমানে কলমানি মার্কেট স্থিতিশীল রয়েছে। ব্যাংকে সুশাসন এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ব্যাংক নজরদারি আরো বাড়িয়েছে। এ নজরদারি আরো বাড়ানোর জন্য নতুন কয়েকটি পরিদর্শন বিভাগ স্থাপন করা হয়েছে। এ বিভাগগুলোকে বৈদেশিক উৎস থেকে নেয়া ঋণ, পুনঃঅর্থায়নসহ সকল ঋণ সত্যিকার ব্যবহার বা ‘এন্ড ইউজ’ নিশ্চিত করার জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রধান নির্বাহীর অঙ্গীকারনামাসহ যা যা করা দরকার তা যেন করা হয় সেদিকে আমাদের নজর রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই আর্থিক খাতের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। আামদের এসব উদ্যোগ এ বছর সার্বিকভাবে ব্যাংকিং ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি উন্নত ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি। তবে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ আমাদের জন্য এখনো উদ্বেগের বিষয়। আর সেজন্য আমাদেরকে নিরলস প্রয়াস চালাতে হবে যাতে খেলাপি ঋণের হার দ্রুত সহনীয় মাত্রায় নামিয়ে আনা যায়। খেলাপি ঋণ আদায়ের হারের সাথে ঋণ মঞ্জুরির যৌক্তিক সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়টি নিয়ে ভাববার সময় এসেছে বলে আমার মনে হয়।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো কোনো সিস্টেমিক ঝুঁকির সম্মুখীন হয়নি। এমনকি বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার চরম পর্যায়েও তা ঘটেনি। কেননা আমাদের অর্থনীতির বহির্খাত এখনো সীমিত মাত্রায় উন্মুক্ত এবং তা সচেতন ব্যবস্থাপনার আওতাধীন। কিন্তু এতে আমাদের আত্মতুষ্টির অবকাশ নেই। আমাদের আর্থিক খাত আরো উন্মুক্ত হলে যেসব অভিঘাত দেখা দিতে পারে তা মোকাবেলায় বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রমাগত তার সামর্থ্য বৃদ্ধি করে চলেছে। এরই মধ্যে আর্থিক খাতের সমন্বিত তদারকির কাঠামো প্রণয়নের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। এছাড়া, ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকি ও নাজুকতা নিরূপণের লক্ষ্যে বিভিন্ন আধুনিক হাতিয়ার, যেমন ফাইন্যান্সিয়াল প্রজেকশন মডেল, ইন্টারব্যাংক ট্রানজ্যাকশন ম্যাট্রিক্স, ব্যাংক হেলথ ইনডেক্স বা হিট ম্যাপ, কন্টিনজেন্সি প্ল্যানিং এবং ব্যাংক রেজ্যুলেশন ফ্রেমওয়ার্ক ডেভেলপ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম নীতির আলোকে ডমেস্টিক সিস্টেমিক্যালি ইম্পর্টেন্ট ব্যাংকস (D-SIBs) চিহ্নিতকরণ ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে- যা আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। কেননা, সংখ্যায় স্বল্প হলেও এসব প্রতিষ্ঠান তাদের আকার, কার্যপরিধি ও আন্তঃসম্পর্কের মাধ্যমে ঝুঁকি কেন্দ্রীভূত করে আর্থিক ব্যবস্থাকে চরম সংকটের মধ্যে নিপতিত করতে পারে। আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি আর্থিক খাতে অবদান রাখে এমন প্রতিষ্ঠানের ভূমিকাও অনস্বীকার্য। এসব প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়। আবার একই প্রতিষ্ঠান একাধিক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অধীনে থাকে। এ দ্বৈততা (duplicity/overlapping) হ্রাস বা পরিহার করার লক্ষ্যে ‘সমন্বিত নজরদারি’ কাঠামো প্রবর্তনের কাজ বর্তমানে পুরোদমে এগিয়ে চলেছে- যা বাংলাদেশের আর্থিক খাতকে আরো স্থিতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিগত কয়েক বছর যাবত আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বিষয়ক বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল্যায়ন আপনাদের কাছে বার্ষিক ভিত্তিতে তুলে ধরা হচ্ছে। সম্প্রতি ত্রৈমাসিক ভিত্তিতেও আর্থিক স্থিতিশীলতা মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে যার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বছরের মধ্যবর্তী সময়ে আর্থিক ব্যবস্থার বিভিন্ন সূচকের গতিধারা এবং এর বিভিন্ন ঝুঁকিগুলো স্টেকহোল্ডারদের নিকট তুলে ধরে তাদেরকে আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়তা করা। ইতোমধ্যে মার্চ ২০১৫ ত্রৈমাসিকের প্রতিবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে। একটি বিষয়ে আমি আপনাদের সবিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাই। বাংলাদেশ ব্যাংকের যেকোনো বিশ্লেষণমূলক রিপোর্ট সময়ানুগভাবে প্রকাশের একটি অন্যতম পূর্বশর্ত হচ্ছে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য উৎস থেকে নির্ধারিত সময়ে তথ্য বা প্রতিবেদন প্রাপ্তি। কিন্তু, কিছু কিছু ক্ষেত্রে আপনাদের পক্ষ থেকে তথ্য পেতে বিলম্ব হয়। আমি আশা করবো ভবিষ্যতে আপনারা যথাসময়ে যাচিত তথ্য দাখিলে সচেষ্ট থাকবেন।

আর্থিক খাতের অভিঘাত সহন ক্ষমতা বৃদ্ধি ও আর্থিক মধ্যস্থতা প্রক্রিয়াকে সচল রাখার লক্ষ্যে আমাদের নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে এবং থাকবে। আপনাদের সক্রিয় সহযোগিতাও এক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকিং খাতের সম্ভাব্য বিভিন্ন ঝুঁকি ও নাজুকতা বিবেচনায় রেখে আপনাদেরকে আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে যাতে আর্থিক ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা কোনোভাবে নষ্ট না হয়। আমি আপনাদেরকে আবারো অনুরোধ করবো, আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানে কর্পোরেট সুশাসন নিশ্চিত করবেন। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় যাতে কোনো ত্রুটি বা ঘাটতি না থাকে সে ব্যবস্থাও গ্রহণ করবেন। ব্যাংক ঋণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ যাতে গুটিকয়েক গ্রাহকের মধ্যে কেন্দ্রীভূত না হতে পারে সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখবেন।

আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই, বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের- যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট ২০১৪ প্রকাশের কাজকে সার্থক করেছেন। আশা করি, আমাদের বিশ্লেষণ ও মূল্যায়নগুলো আর্থিক ব্যবস্থার সুবিধাভোগীদের মধ্যে ঝুঁকি সচেতনতা সৃষ্টি করবে এবং সম্ভাব্য অভিঘাতের বিষয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ ও তার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সহায়তা করবে।

লেখক: গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্রেকিংনিউজ/এসইউএম

:: মুক্তমতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন ::



আপনার মন্তব্য

মুক্তমত বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং